সম্পর্ক ও আত্মহত্যা
কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যম...
কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যম...
মাটিলডা ইফেক্ট হলো সেই অন্ধকার ইতিহাস যেখানে নারী বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কারের কৃতিত্ব অন্যায়ভাবে পুরুষ সহকর্মীদের দেওয়া হয়েছে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ দীর্ঘকাল ধরে নারীদের মেধা ও যোগ্যতাকে অস্বীকার করে বিজ্ঞানকে কেবল পুরুষদের ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে।
মাস্টার্স ডিগ্রিধারী রাবেয়া খাতুনের বাস চালানোর ঘটনাটি কেবল সাহসের গল্প নয়, বরং দেশের ভঙ্গুর কর্মসংস্থান ব্যবস্থার এক কঠোর বাস্তবতা। উচ্চশিক্ষিত তরুণরা এখন বাধ্য হয়ে নিম্নপদের চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন, যা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতাকে সামনে এনেছে।
নারীর সংগ্রাম শুরু হয় মায়ের গর্ভে আসার মুহূর্ত থেকেই, যেখানে লিঙ্গ-পরিচয় গোপন করার এক অলিখিত যুদ্ধ তাকে লড়তে হয়। সমাজ, ধর্ম এবং পুঁজিবাদের বেড়াজালে নারী আজ কেবল পণ্য বা সন্তান উৎপাদনের যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
ক্ষমতার দাপটে দরিদ্র ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের শোষণের ঘটনা কেবল নৈতিক স্খলন নয়, এটি গুরুতর অপরাধ। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অসম্ভব।
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের প্রগতিশীল আদর্শ আজও রক্ষণশীল সমাজের কাছে এক গভীর অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির আড়ালে থাকা এই নীরব আক্রোশ মূলত পুরুষতান্ত্রিক ক্ষমতার ভিত নড়ে যাওয়ার ভয় থেকে উৎসারিত।
ভাষা কেবল মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম নয়। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যায়, ভাষা অনেক ক্ষেত্রেই আধিপত্য বিস্তার এবং দুর্বল...
নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা কেবল আইনি অধিকার নয়, বরং নিজের জীবন ও স্বপ্ন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। আধুনিক বিশ্বে নারীরা সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেও, আজও অনেক নারী সামাজিক কুসংস্কার ও মানসিক শৃঙ্খলে বন্দী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের আরোপিত সীমাবদ্ধতা তাদের মুক্ত চিন্তার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে নারীর শরীর ও যৌনতাকে ক্রমাগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা কেবল প্রতিপক্ষকে অপমান করার মাধ্যম নয়, বরং এটি পুরো রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধর্ষণকামী করে তুলছে। জুলাই গণআন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীর শরীরকে যুদ্ধক্ষেত্র বানানোর প্রবণতা স্পষ্ট।
নারীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার দাবিকে লিঙ্গবৈষম্য হিসেবে দেখা একটি ত্রুটিপূর্ণ যুক্তি। পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গড়তে যে পরিমাণ প্রতিকূলতা ও সামাজিক বাধার সম্মুখীন হন, তা ছেলেদের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। বিয়ের পর সংসার ও সন্তান লালনপালনের দ্বিমুখী চাপে অনেক মেধাবী ছাত্রীর পড়াশোনা মাঝপথে থমকে যায়।
সমাজই যখন ধর্ষক তৈরির কারখানা
Shama Mধর্ষণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি আমাদের দীর্ঘদিনের অসুস্থ সংস্কৃতির এক অনিবার্য পরিণতি। পরিবার থেকে শুরু করে শিল্পসাহিত্য ও ধর্মীয় বয়ান পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নারীকে ভোগ্যবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের কোমল আবেগ দমন করে তাদের মধ্যে নিষ্ঠুরতা ও নারীবিদ্বেষ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
নারীর অধিকার ও বাংলাদেশ
Mahtab Uddinবাংলাদেশে এখন যেরকম বহুমুখী বহুধাবিভক্ত শিক্ষা আছে, সেটাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনা জরুরি। আবার, শিক্ষার পাশাপাশি পাঠদানেও পরিবর্তন দরকার। দরকার প্রতিটা উপজেলায়, শিল্প ঘনত্ব বিবেচনায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ডে কেয়ার সেন্টার। তবে, নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বৃন্দ, এবং গণমাধ্যম।
এই লড়াই সম্মানের, এই লড়াই বাঁচার এবং এই লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে কঠোর হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
আমাদের লড়াইটা হওয়া উচিত সেই সিস্টেম বা কাঠামোর বিরুদ্ধে যা মানুষকে ছোট করে, কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের বিরুদ্ধে নয়।
প্রথম পক্ষ যখন "পুরুষ" শব্দটি ব্যবহার করেন, তখন তিনি রক্ত-মাংসের কোনো ব্যক্তি বা আপনার পরিচিত কোনো নিরপরাধ মানুষকে নির্দেশ করেন না। সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় এখানে ‘পুরুষ’ একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো বা ‘সিস্টেম’। এই সিস্টেমটি হাজার বছর ধরে ক্ষমতার এমন এক সমীকরণ তৈরি করেছে যেখানে আধিপত্য, শক্তিমত্তা এবং আবেগহীনতাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়।
রোকেয়ার আধুনিকতা: 'স্ত্রীজাতির অবনতি' প্রবন্ধের আলোকে পুনর্পাঠ
Shahed Mahmudপ্রবন্ধের শুরুতেই রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন চিহ্নিত করছেন নারীজাতি পুরুষজাতির ‘সহচরী’ কিংবা ‘সহধর্ম্মিনী’ না হয়ে দাসী হয়ে পড়েছে। এর কারণকে তিনি বিশ্লেষণ করছেন সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায়। সভ্যতার শুরুতে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা নারীরা কীভাবে সভ্যতার ক্রমবিকাশের ধারায় পিছিয়ে পড়েছে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। সভ্যতার ধারায় তাকালে আমরা দেখতে পাই নারীর হাতে সূচনা হওয়া কৃষিও নারীর কাছ থেকে হাতছাড়া হয়ে যায় কৃষিতে ভারী যন্ত্রের ব্যবহার শুরুর সাথে সাথে। মাতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা রূপান্তরিত হলো পিতৃতান্ত্রিক সমাজে, নারী হয়ে পড়লো ক্ষমতাহীন। নারী ক্ষমতাহীন হওয়ার সাথে সাথে পুরুষ ধীরে ধীরে ভূস্বামী, গৃহস্বামী থেকে হয়ে উঠলো স্বামী এবং নারীজাতি হয়ে উঠলো তাদের দাসী (‘একজনকে স্বামী, প্রভু কিংবা ঈশ্বর বলিলে অপরকে দাসী না বলিয়া কি বলিতে পারেন?’) কিংবা পুরুষের গৃহপালিত পশুপাখি বা মূল্যবান সম্পত্তির সমান।
একটা মেয়ে মুভি রিভিউ করলো।আমার দেখা সেরা রিভিউ। গঠনমূলক সমা?...
নারীর প্রতি সহিংসতা,নারীকে ধর্ষণ, প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখি...
অ্যাকাউন্ট নেই?
ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্ট আছে?