পুরুষতন্ত্র কোনো সাধারণ সমস্যা নয়, এটা একটা সামাজিক ক্যানসার যা সমাজকে ভেতর থেকে পচিয়ে দিচ্ছে।
একজন পুরুষ হয়েও আমি আজ দ্ব্যার্থহীনভাবে ঘোষণা করছি যে, পুরুষালি অহংকার আর দাপট দেখানোর দিন শেষ। তথাকথিত এই ‘মর্দানি’ আসলে কাপুরুষতার নামান্তর যা নারীকে দাবিয়ে রেখে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায়। এই পচা মানসিকতাকে সপাটে লাথি মেরে সমাজ থেকে বের করা এখন সময়ের দাবি।
নিজেদের অনেক বড় শক্তিশালী ভাবা ওই পুরুষদের দম্ভ এবার চূর্ণ করার পালা।
যে নিয়ম নারীকে ছোট করে দেখে, সেই নিয়মকে পায়ে পিষে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে হবে।
যারা মনে করেন নারী মানেই ঘরের কোণে পড়ে থাকা সেবা করার যন্ত্র, তাদের সেই ভুল ধারণা ভেঙে চুরমার করে দেওয়ার সময় এসেছে। নারীরা কারো পায়ের জুতো নয় যে সারাজীবন নিচে পড়ে থাকবে, বরং তারা আজ ক্ষমতার শীর্ষে বসার যোগ্য।
বিশেষ করে যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে বা লোকলজ্জার ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন, তাদের বলছি আপনার এই নমনীয়তা বা চুপ থাকা আসলে পুরুষতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করছে। আর কতকাল অন্যের ইশারায় চলবেন? আর কতকাল নিজেদের ওপর হওয়া অবিচারকে কপাল বলে মেনে নেবেন? এবার গর্জে উঠুন, নিজের অধিকার বুঝে নিন এবং দাপটের সাথে নিজের রাজত্ব কায়েম করুন।
যারা আপনাকে ডমিনেট করতে চায়, তাদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে শিখুন। ভীরুতা ঝেড়ে ফেলে নিজের ভেতরে থাকা সুপ্ত শক্তিকে বের করে আনুন। সমাজ বা পরিবারের তথাকথিত কর্তাদের দয়া নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে নিজের শক্তিতে টিকে থাকা অনেক বেশি সম্মানের।
পুরুষতন্ত্রের এই বিষবৃক্ষকে উপড়ে ফেলে দিতে কোনো দয়া বা নমনীয়তা দেখানোর প্রয়োজন নেই। এই লড়াই সম্মানের, এই লড়াই বাঁচার এবং এই লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে কঠোর হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
About the Author
চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি
মজদুরের নিয়মিত লেখকছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
সাধারণ সম্পাদক - সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ময়মনসিংহ জেলা শাখা।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন