কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে ক্রিমিনাল অফেন্স। বাংলাদেশ সহ সমগ্র বিশ্বের যে কোনো দেশের আইন এই ধরনের “প্রেম ভালোবাসার নামে প্রতারণা ও নির্যাতন” সমর্থন করে না।
এমন গল্পের শেষের দিকে এসে সিনেমার মতো সুন্দর সমাপ্ত পড়ি! - বাস্তবে এমন ঘটনাগুলো সুন্দর সমাপ্তের দিকে যায় না। “সমাজে নারীদের যতো অসুখী অসুন্দর জীবন যাপন আছে - তার পেছনে আছে এমন প্রেমের গল্প”। এই প্রেমগুলো মানুষের জীবন ধ্বংস করে দেয়। ভালো জীবন খুবই কম, খুবই সামান্য দিতে পেরেছে যা কোনোভাবেই উদাহরণযোগ্য নয়। অন্ধকার জগতের যতো নারী আছে, তাদের জীবনের শুরুটা এই ধরনের আবেগতাড়িত প্রেম ভালোবাসার গল্প দিয়ে শুরু হয়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। সুন্দর সমাপ্তের দিকে যেতে পারেনি।
এই ধরনের গল্পে সমাজের বাস্তব চিত্র উঠে আসেনা। এই গল্পগুলো যারা লিখেন তারা অনেকাংশে আবেগতাড়িত হয়ে গল্প লিখেন। যেই গল্পে সমাজের কোনো উপকার বা স্বার্থকথা নেই। গল্প বা সিনেমায় প্রায়ই দেখা যায়, চরম ব্ল্যাকমেইল বা আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে শুরু হওয়া সম্পর্কগুলো শেষ পর্যন্ত এক অলৌকিক উপায়ে ‘সুখী পরিবারে’ রূপ নেয়। কিন্তু বাস্তবতা ফিকশনের চেয়ে অনেক বেশি নিষ্ঠুর।
আইনি বাস্তবতা ও অপরাধ - জোরপূর্বক, ব্ল্যাকমেইল করে বা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা কোনো রোমান্টিকতা নয়, এটি স্পষ্ট মানসিক নির্যাতন এবং এক ধরনের ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Offense)। বাংলাদেশের আইনসহ বিশ্বের কোনো আধুনিক আইনি ব্যবস্থাই একে বৈধতা দেয় না। সম্মতির (Consent) অনুপস্থিতিতে যে কোনো সম্পর্কই আসলে একটি খাঁচা।
অসুখী দাম্পত্য ও মানসিক ট্রমা - যে সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে ভয়, অপরাধবোধ (Guilt-Tripping) আর মানসিক ব্ল্যাকমেইলের ওপর, সেই সম্পর্ক কখনো সুস্থ হতে পারে না। সমাজে আজ অনেক নারীর এবং পুরুষেরও যে অসুখী ও বিষাদময় জীবন, তার পেছনে রয়েছে এই তথাকথিত আবেগের ফাঁদ। এই ধরনের বিয়েতে আজীবন সঙ্গী হিসেবে থেকে যায় তীব্র ক্ষোভ, অবিশ্বাস এবং মানসিক ট্রমা।
অন্ধকারের পথ ও ট্র্যাজেডি - আবেগতাড়িত হয়ে ভুল মানুষের হাত ধরে অনেক তরুণ-তরুণী নিজের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে ফেলে। ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে একবার মাথা নত করলে, সেই চক্র থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বহু সম্ভাবনাময় জীবন এভাবে শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায়, যার পরিণতি কখনোই কোনো সিনেমার মতো সুন্দর হয় না।
শেষ কথা - লেখকদের সামাজিক দায়বদ্ধতাসাহিত্য বা নাটক-সিনেমার কাজ শুধু সাময়িক বিনোদন দেওয়া নয়। সমাজকে সঠিক বার্তা দেওয়াও তাদের অন্যতম দায়িত্ব। যখন লেখকেরা আবেগতাড়িত হয়ে এই বিষাক্ত সম্পর্কগুলোকে (Toxic Relationships) ‘রোমান্টিক’ বা ‘পবিত্র প্রেম’ হিসেবে গ্ল্যামারাইজ করে উপস্থাপন করেন, তখন তরুণ সমাজ বিভ্রান্ত হয়। তারা বাস্তব ও কল্পনার তফাত করতে পারে না। এমন গল্প আসলেই সমাজের কোনো উপকারে আসে না, উল্টো ক্ষতিকর মানসিকতাকে উস্কে দেয়। বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে তৈরি হওয়া এই কাল্পনিক ‘সুখ’ আসলে বিষাক্ত।
About the Author
ঠাকুরমাহমুদ
Business
তুমি কেমন করে গান করো হে গুনী, আমি অবাক হয়ে শুনি, কেবল শুনি ।।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন