একটা মেয়ে মুভি রিভিউ করলো।
আমার দেখা সেরা রিভিউ। গঠনমূলক সমালোচনা, অল্প কথায় একদম টু দ্যা পয়েন্ট কোপ মারা রিভিউ। যেটা আসলে কয়েক সেকেন্ডের আলাপেই মুভিটাকে মাইনাস রেটিং করে। বড় কথা হচ্ছে তার কাছে যে সিনেমা টা ভালো লাগেনাই সেটার অন পয়েন্ট কারনটা সে তুলে ধরতে পারছে। এবং নির্মাতা সমাজকে এই সমালোচনা গুলো হজম করতে হবে, এই ক্রিটিসিজমগুলোকে বিট করেই আগাইতে হবে নইলে দর্শকদেরকে প্রতিবছর কথিত মেগাস্টার এর মতো গার্বেজই খাওয়াইতে হবে।
যাইহোক, আলাপটা হচ্ছে...
কিছুদিন আগে ধর্ষণ নিয়া জনতা খুবই সরব ছিলো। পোস্ট, ব্যানার, বিক্ষোভ, মিছিল অনেক কিছু। ধর্ষকের সাজার ব্যাপারে অনেক আলাপ কিন্তু আসলে ধর্ষককে শাস্তি দেওয়ার মধ্য দিয়া কি সমাজের ধর্ষক পশুটা মরে?
পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এইটা নারী হেনস্তা, নারীর ক্ষমতাহীনতা, ভোগবাদের সর্বোচ্চ পণ্য হিসেবে নারীকে পণ্যায়িত করা বা নারীর প্রতি একচেটিয়া রক্ষনশীলতার একটা দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিসের ঘনীভূত রূপ। যেখানে একজন ধর্ষক শাস্তির আওতায় আসলেও সমাজে হাজার হাজার ধর্ষক ভেতরে একই পশুত্ব পুষে নিয়ে বসে থাকে, আনকনসাসলি।
এই সামাজিক দর্শনে নারীর প্রতি সাধারণত যেই প্রশ্নগুলো রাখা হয় সেগুলো কখনোই ধর্ষণের সীমারেখা নির্ধারণ করে না। বরং সমাজে নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ার পর তার নারীলিঙ্গ ছাড়া কোন পোষাক, স্থান, বয়স কোনকিছুই ধর্ষকের কাছে মেটার করে না। তবুও সমাজ প্রশ্নগুলো রাখে যে
*কেন তার পোশাক আলাদা
*কেন একা বের হয়েছিলো
*পুরুষ অধ্যুষিত এলাকায় সে কেন গেলো
ইত্যাদি ইত্যাদি... কিন্তু এই দর্শন কখনো পুরুষের প্রতি রক্ষণশীল প্রশ্ন রাখে না।
এই ফিলোসোফির একটা প্র্যাকটিকাল সীন হচ্ছে এই মুভি রিভিউয়ের ভিডিওটা।
দেখেন, বাচ্চা একটা মেয়ে। সে তার কালচার ওউন করে বের হয়েছে। এখন ক্যামেরার সামনে আসার পর থেকে মেয়েটা কি পরিমাণ স্লাটশেমিংয়ের শিকার হচ্ছে পেইজগুলোর পোস্ট আর কমেন্ট দেখে বুঝা যায়।
এই হেনস্তাকারী নেটিজেনরা কি আপনার মনে হয় ধর্ষকের পক্ষের লোক?
না!
ওদের প্রত্যেকের আইডি ঘুরে দেখা যাবে প্রায় সবাই ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে সরব। শরিয়া আইন চাওয়া অনেকজনকেউ পাওয়া যেতে পারে।
কিন্তু এখানে তারাও মূলত নিজেকে দায়মুক্তি দিয়ে ওই বাচ্চা মেয়ের পাব্লিক প্লেসে আসা, ওর শর্ট ওয়েস্টার্ন ড্রেস, কিংবা গরগর করে কথা বলার ধরনটাকে শ্লাটশেমের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। এবং এটাই নারীকে ধর্ষণযোগ্য করে তোলার ভয়াবহ পর্যায়।
সমাজে যতদিন পর্যন্ত এই পজেটিভনেসটা না আসবে ততদিন আসলে কোন নারী নিরাপদ না৷ সে যেই পোষাক বা পরিস্থতিতিতেই থাকুক না কেন। আর সমাজে সিস্টেমেটিকলি পজিটিভ পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত প্রকাশ্য ধর্ষক এবং ভেতরে পশুত্ব পুষে রাখা গুপ্ত ধর্ষক উভয়ের বিরুদ্ধে লড়াইটা জেন্ডার ইকুয়াল এমপাওয়ারমেন্টের মধ্য দিয়েই করতে হবে।
About the Author
Imtear Rakib
Unemployed bhai😞
A student Of Journalism at Chittagong University and a Marxist comrade. Marching to Unite the majdur of the world.
প্রোফাইল দেখুন
মন্তব্য মুছবেন?
এটা বাতিল করা যাবে না।
আলোচনায় অংশ নিন
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন
সাইন ইন করুন