নারীবাদ মানে সমঅধিকার আর সম্মানের লড়াই, এটা কোনো লিঙ্গের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর লাইসেন্স না। আমি যেমন নারীবিদ্বেষী বা মিসোজিনিস্টদের দুচোখে দেখতে পারি না, ঠিক একইভাবে যারা পুরুষবিদ্বেষ বা মিসঅ্যান্ড্রি ছড়ায়, তাদেরও আমি চরমভাবে ঘৃণা করি। ঘৃণা দিয়ে কোনোদিন মুক্তি আসে না, বরং বৈষম্য আরও বাড়ে। যারা নারীবাদের নাম ভাঙিয়ে পুরুষ জাতিকে ঢালাওভাবে ছোট করে বা ঘৃণা ছড়ায়, তারা আসলে নারীবাদের মূল আদর্শটাকেই অপমান করছে।
নারীবাদ আমাদের শিখিয়েছে মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের মর্যাদা সমান। এখানে একজন পুরুষ হয়ে আমি যেমন পুরুষতন্ত্রের বিষাক্ত থাবা উপড়ে ফেলতে চাই, তেমনি চাই এমন একটা সমাজ যেখানে কোনো পুরুষকেও তার লিঙ্গের কারণে বিনা দোষে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে না।
উগ্রতা বা ঘৃণা কখনো কোনো আন্দোলনের সমাধান হতে পারে না। যারা মনে করে পুরুষকে ঘৃণা করাই নারীবাদের কাজ, তারা আসলে ভুল পথে হাঁটছে। আমাদের লড়াইটা হওয়া উচিত সেই সিস্টেম বা কাঠামোর বিরুদ্ধে যা মানুষকে ছোট করে, কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের বিরুদ্ধে নয়।
আসল নারীবাদ হলো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলার নাম। এখানে দাপট দেখানোর কারবার থাকবে না, থাকবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা। আমি কট্টরপন্থি কমিউনিস্ট হিসেবে যেমন শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার, ঠিক তেমনি যে কোনো ধরণের অন্ধ বিদ্বেষের বিরুদ্ধেও আমার অবস্থান পরিষ্কার। অন্ধ ঘৃণা যারা ছড়ায় তারা সমাজরে আরও বিষাক্ত করে তোলে। তাই নারীবিদ্বেষী হোক কিংবা পুরুষবিদ্বেষী, উভয়কেই সপাটে বর্জন করা দরকার। সুন্দর একটা সমাজ গড়তে হলে ঘৃণার বদলে ন্যায়ের শক্তিতে বিশ্বাস রাখা জরুরি। আকাশটা যেমন সবার, এই অধিকারের লড়াইটাও ঠিক তেমনি সবার জন্য সমান হওয়া চাই।
About the Author
চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি
মজদুরের নিয়মিত লেখকছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
সাধারণ সম্পাদক - সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ময়মনসিংহ জেলা শাখা।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন