সম্প্রতি এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে অভিযোগ রয়েছে যে চাকরির সুপারিশের আশ্বাসের বিনিময়ে একজন কিশোরীকে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। মেয়েটিকে দেখেই মনে হচ্ছিল, সে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। সদ্য এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তার বয়স ১৮ বছরের কমও হতে পারে। যদি তা সত্য হয়, তবে এটি শুধু অনৈতিক নয়, সম্ভাব্যভাবে একটি গুরুতর অপরাধ।
কিছুদিন আগে আবার এমন অভিযোগও শোনা গেছে যে, একটি রাজনৈতিক দলের এক কেন্দ্রীয় নেতার সফরের জন্য ১৫-১৬ বছর বয়সী মেয়ে খোঁজা হচ্ছিল। এ ধরনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিশু সুরক্ষা এবং আইনের শাসনের প্রশ্ন।
যখন কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক বা সামাজিক ক্ষমতা ব্যবহার করে দুর্বল, দরিদ্র বা অপ্রাপ্তবয়স্ক কাউকে শোষণ করে, তখন সেটিকে শুধু "ব্যক্তিগত বিষয়" বলে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। ক্ষমতার সঙ্গে জবাবদিহিও থাকতে হয়। কোনো দলের পরিচয়, পদ বা প্রভাব কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে তুলে দিতে পারে না।
দুঃখজনকভাবে, আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়, এমন অভিযোগ উঠলে প্রথমে অস্বীকার করা হয়, পরে "ব্যক্তিগত বিষয়" বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা হয়, আর জনচাপ বাড়লে সর্বোচ্চ সাময়িক বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৃত ন্যায়বিচার তখনই নিশ্চিত হবে, যখন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে তার রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশু ও নারীর নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। যে-ই অপরাধ করুক, যে দলেরই হোক, তার পরিচয় নয়, তার অপরাধই বিচার্য হওয়া উচিত। নীরবতা বা দলীয় আনুগত্য কখনোই শোষণ ও নির্যাতনের ঢাল হতে পারে না।
About the Author
RAJIN AHAMMED SAMI
মজদুরের নিয়মিত লেখকপ্রগতিশীল লেখক ও এক্টিভিস্ট
কলম ধরেছি অবহেলিতের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। নীরব মানুষের কথা বলাই আমার দায়িত্ব।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন