প্রজাতন্ত্রের শবাগারে নিরাপত্তার কীর্তন
Muhammadullah Bin Mostofaপ্রজাতন্ত্রের শবাগারে নিরাপত্তার কীর্তন
অধিকারহীনতার রাষ্ট্রতত্ত্ব, পুরুষতান্ত্রিক নীতিশাস্ত্র এবং সভ্যতার ছদ্মবেশে ক্ষমতার ইতরামি
প্রজাতন্ত্রের শবাগারে নিরাপত্তার কীর্তন
Muhammadullah Bin Mostofaঅধিকারহীনতার রাষ্ট্রতত্ত্ব, পুরুষতান্ত্রিক নীতিশাস্ত্র এবং সভ্যতার ছদ্মবেশে ক্ষমতার ইতরামি
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের নাম, যাকে তার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের জন্য রাজনৈতিক ভাইরাস হিসেবে অভিহিত করা যায়। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা থেকে শুরু করে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ট্রাজেডি তার দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রমাণ।
জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট নির্বাচনে উগ্র-দক্ষিণপন্থী এএফডির উত্থান কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং প্রচলিত বুর্জোয়া রাজনীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন। গণতন্ত্র রক্ষার নামে বামপন্থী দলগুলোর সিডিইউ-র মতো রক্ষণশীল শক্তির সাথে সমঝোতা করার প্রবণতা ১৯৩২ সালের ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।
ফ্যাসিবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে বুর্জোয়া শক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গড়া শ্রমিকশ্রেণির স্বাধীন অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলে। ইতিহাসের শিক্ষা হলো, শ্রমিকশ্রেণির নিজস্ব রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নেতৃত্বকে কোনো জাতীয় বা গণতান্ত্রিক শক্তির অধীনস্থ করলে তা সংকটের মুহূর্তে শ্রমিকদের বিরুদ্ধেই ঘুরে দাঁড়ায়।
আরএসএস কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন নয়, বরং ঔপনিবেশিক মডেল অনুসরণকারী এক প্রতিক্রিয়াশীল ক্যাডার-ভিত্তিক শক্তি। ভারতীয় পুঁজিবাদের গভীর সংকট, বেকারত্ব ও মধ্যবিত্তের অনিশ্চয়তাকে পুঁজি করেই এই অতি-দক্ষিণপন্থী রাজনীতি সমাজের মূলধারায় জায়গা করে নিয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বে ফুটবল বিশ্বকাপের যে রূপ, সেই নগ্নরূপ ফিরে এসেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের বিপরীতে ফিফা প্রেসিডেন্টের ডোন্ট ডিস্টার্ব পলিসি! ইতিহাসে এই কলঙ্ক লিখে রাখা জরুরি। এই ঘটনা সর্বত্র কর্তৃত্ববাদী আগ্রাসনের নিদর্শন হয়ে থাকবে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সংবিধানের ভারত না অপসাংস্কৃতিক আধিপত্যের ভারত?ও আবেন্দকরের স্বপ্ন বনাম মৌলবাদী আরএসএস
সোহম || سوہم || SOHAMড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের স্বপ্নের ভারত আজ মৌলবাদী আরএসএস-এর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। সংবিধানের সমতা ও ন্যায়বিচারের আদর্শকে পাশ কাটিয়ে একরৈখিক পুরুষতান্ত্রিক জাতিরাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা চলছে।
২০২৬ সালের ভারতবর্ষে যে ঘটনাগুলি একের পর এক সামনে এসেছে, সেগুলিকে বিচ্ছিন্ন “আইনশৃঙ্খলার সমস্যা” বা “স্থানীয় উত্তেজনা” বলে ব্যাখ্যা করা ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠছে। বৈজ্ঞানিক সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে এগুলি একটি বৃহত্তর ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার লক্ষণ, পুঁজিবাদী সংকট, বেকারত্ব, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ভিতরে মালিকশ্রেণির ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের উপর নির্ভরশীলতা। এই প্রক্রিয়ায় মুসলিম, দলিত ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কাল্পনিক শত্রু হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাষ্ট্র, মিডিয়া, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাস্তার মব, সবকিছুকে এক সুসংহত মতাদর্শিক কাঠামোর প্রভাবাধীন করা হচ্ছে।
ফ্যাসিবাদী বা কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার মোকাবিলার দায়িত্ব যদি সংবিধান, আদালত, নির্বাচন বা বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে তা পরাজয় ডেকে আনতে বাধ্য। জার্মানির সমাজ-গণতন্ত্রীরা বিশ্বাস করেছিল যে সাংবিধানিক কাঠামোই শেষ পর্যন্ত বিপদকে ঠেকাবে; বাস্তব ইতিহাস ভিন্ন ফল দেখিয়েছে।
এই ভোট ব্যবস্থা আমাদের পেটের ভাত পরনের কাপড় থাকার জায়গা শিক্ষা আর চিকিৎসার মতো আসল সমস্যাগুলোকে আড়াল করে রাখে। ভোটের সময় বড় বড় নেতারা ধর্মের নামে বা নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে মারামারি লাগিয়ে দেয়। মেহনতি মানুষকে তারা এক হতে দেয় না। এর ফলে গরিব মানুষ যখন নিজেদের মধ্যে কাটাকাটি করে তখন বড়লোকেরা শান্তিতে আমাদের শ্রম লুট করে।
সাংস্কৃতিক আধিপত্য এমনভাবে কাজ করে যে শাসক শ্রেণির বিশ্বদৃষ্টি এবং তা প্রতিফলিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে ন্যায়সঙ্গত, বৈধ এবং সবার মঙ্গলার্থে তৈরি বলে উপস্থাপন করা হয়; যদিও বাস্তবে এই কাঠামোগুলি মূলত শাসক শ্রেণিরই উপকারে আসে।
অ্যাকাউন্ট নেই?
ইতিমধ্যে অ্যাকাউন্ট আছে?