১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যতগুলো শাসক পেয়েছে সবচেয়ে আলোচিত ও কলুষিত ব্যক্তিত্বের স্থানে যদি বিবেচনা করা হয় সে শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র- নাশকতার দিক দিয়ে হাসিনার মতো ২য় ব্যক্তি নেই। ভারতের সেবাদাসী ও স্বাধীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের পরিকল্পনাকারী এই ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের বৈধতা দেওয়া থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থা ধ্বংসকারী সবখানে তিনিই সেরাদের সেরা। ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত শুধু হাসিনার জন্মদিন তাই। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য অবস্থান বিবেচনা করে তাকে উপাধি দেওয়া যায় "রাজনৈতিক ভাইরাস।" উপাধিটির ভিত্তি হিসেবে তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অপকর্মের কথা উল্লেখযোগ্যঃ
১) ২০০৪ সালের নাটকীয় গ্রেনেড হামলাঃ এই গ্রেনেড হামলার ঘটনাটি মূলত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারকে বহির্বিশ্বের চাপে ফেলতে ঘটানো হয়। সেখানে আইভি রহমানের মৃত্যু ঘটে যেটা পরিকল্পনার অংশ। কারণ আন্দোলনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে আন্দোলন সকলের কাছে বৈধতা পায়। মায়ের মৃত্যুর বিনিময়ে তার ছেলে পাপন আজীবন বিসিবি সভাপতি পদে স্থায়ী করার চুক্তি নিয়ে নেন। এই পুরোটই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা "র" এর পরিকল্পনা ছিলো। - বিশ্লেষণীর সুত্র: "ভারতের বুকে খালেদার চাবুক" "খালেদাকে হটাতে র এর ২০০ কোটি টাকা বাজেট" পত্রিকাঃ সাপ্তাহিক উদয়ের পথে, সংখ্যাঃ ২১।
২) ২০০৬ সালের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর ১৯ অক্টোবর ২০০৬ ইং তারিখ থেকে সারাদেশের রেলস্টেশন, সড়ক ও জনপদে অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী হামলা শুরু হয় যেখানে জড়িত ৯০ শতাংশ ব্যক্তি আওয়ামী লীগের ছিলো।
৩) স্থল-মাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তিঃ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তের নিরাপত্তার জন্য সেট করা স্থলমাইনগুলো " স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি" তে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা হয়। তৎপরবর্তীকালে বিএসএফ এর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড (উল্লেখযোগ্য: ফেলানি হত্যা) এটাই প্রমাণ করে যে বিএসএফ কে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই ঐ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিলো। এটি একটি স্বাধীন ও সামরিক অস্থিতিশীল রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরুপ।
৪) ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে দেশের সামরিক কাঠামোকে দুর্বল করতে শতাধিক সামরিক অফিসারকে নাটকীয়ভাবে হত্যা করা হয়। এখানে সরকারের ইন্ধনের বিষয়টিকে চাপা দিতে কয়েকজন নির্দোষ ব্যক্তির উপর দায় চাপিয়ে তাদেরকে রিমান্ডের নামে অত্যাচার এবং পারিবারিক সদস্যদের জীবননাশের হুমকি প্রদান করে দায় স্বীকার করানো হয় এবং প্রহসনের বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয়। যার মূলহোতা ছিলো ফ্যাসিস্ট হাসিনা।
৫) ২০১৩ সালের শাপলা ট্রাজেডিঃ বিশ্ববরেণ্য আলেম জনাব দেলোয়ার হোসেন সাইদি সাহেবকে "আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল" এর মাধ্যমে ফাঁসির রায় দেয় আওয়ামীলীগে পালিত বিচারপতিরা। ২০১৩ সালের ৫ই মে রায় দেওয়াকে কেন্দ্র কর প্রতিবাদে শাহবাগে অবস্থান নেয় বাংলাদেশের আলেমসমাজ এবং সচেতন নাগরিকবৃন্দ থেকে শুরু করে অসংখ্য মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও লেখক। রাতের অন্ধকারে তাদের উপর তৎকালীন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, আওয়ামী নেতৃবৃন্দ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী বাহিনি। হত্যার পর লাশ গুম করা হয় নিহতদের।
৬) টেলিভিশনের লাইসেন্স বাতিলঃ ২০১৩ সালের ৫ ই মে- এর সেই হত্যাযগ্যের সম্প্রচার করে দিগন্ত টেলিভিশন। সেখানে উপস্থিত দিগন্ত টেলিভিশনের প্রতিনিধিদের উপরেও হামলা করে সন্ত্রাসীরা। ফটো সাংবাদিক আরাফাত সাদিক অভ্র (ছদ্মনাম) কে গুম করা হয় সেদিন। মধ্যরাতে রাষ্ট্রীয় হুমকির মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং পরদিন লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এছাড়া একুশে টিভির কয়েকটি সম্প্রচার কার্যক্রম, পিস টিভি সহ আরো অনেকগুলো গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করে। যা মূলত স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং "জাতীয় তথ্য অধিকার আইন" এর পরিপন্থী।
৭) জাতীয় নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলঃ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় আধিপত্য বজায় রাখতে সংবিধান সংশোধনের নামে "নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার" ব্যবস্থাকে বাতিল করা হয়। উল্লেখ্য যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুষ্ঠু রাখতে, জনগনকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা দিতে সর্বোপরি নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য সংবিধানে " নির্বাচনকালীন তত্তাবধায়ক সরকার" বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছিলো। যা বাতিল করা একইসাথে গণতন্ত্র ধুলিস্যাৎ ও নিরপেক্ষতা ধ্বংসের বিষয়টি স্পষ্ট করে। তারপর ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের লোক দেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অর্থ অহেতুক খরচ করে হাসিনার সরকার।
৮) সংকটের মধ্যে মুজিব শতবর্ষ পালনঃ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০ তম জন্মবার্ষিকী পালনের জন্য ২০০ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয় যার বেশিরভাগ হয়েছিলো অপ্রয়োজনীয় মুরাল স্থাপন, দলীয় সভা সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে। মূলত এটিই ছিলো চলমান বৈশ্বিক সংকট করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের যতাযত পদক্ষেপ গ্রহণ না নিতে পারার কারণ।
৯) ট্যাগিং ও গনহত্যাঃ রাজনৈতিক মতবিরোধ ও ভিন্নমত দমনে জঙ্গি ও নাশকতাকারী ট্যাগ দিয়ে গ্রেফতার, ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনা অসংখ্য ঘটেছিলো বিগত ১৭ বছরে। ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের নাতিপুতি বলে অসম্মান করা এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে নরকীয় গণহত্যা চালানো। যেখানে সহস্রাধিক হত্যাকান্ড এবং কয়েকহাজার আহত করা হয়েছে যার মূলহোতা ফ্যাসিস্ট হাসিনা।
১০) দলীয় নিয়োগ ও নির্বাচিতকরণঃ দেশের বিভিন্ন স্থানে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র কাঠামোকে অযোগ্য করে ফেলেছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য; শতভাগ ব্যর্থতার পরেও পাপনকে বিসিবি সভাপতি পদে বহাল রাখা, সংসদে অশিক্ষিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকা স্বত্তেও মমতাজকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান, কয়লা ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী নাহিদকে শিক্ষা মন্ত্রী, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের রাজনীতিকে বৈধতা দেওয়া, প্রশিক্ষণের নামে দলীয় সমর্থকদের রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে বিদেশ সফর, দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতি চাপা দেওয়া, ইসলামী ব্যাংককে এস আলমের হাতে তুলে দেওয়া ইত্যাদি।
১১) উন্নয়নের নাম করে বৈদেশিক ঋণঃ পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল ইত্যাদি প্রকল্প থেকে বড় অংকের অর্থ দলীয় নেতাদের পকেটে ট্রান্সফার করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এসকল প্রকল্পের অর্থায়ন করা হয়েছিলো বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে যা মাথাপিছু ঋণের একটি বোঝা রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসকল অপরিশোধ্য ঋণের কিস্তি জনগণের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। যার কারণে ২০২৪ সালের আগস্টে দেশ থেকে পালানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচিত সরকার উভয়কেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেন্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
১২) বিদ্যুত খাতে ধ্বসঃ আদানির সাথে করা বিদ্যুত চুক্তি বাংলাদেশকে আাদানির উপর নির্ভরশীল করার একটি প্রক্রিয়া ছিলো। শতভাগ বিদ্যুৎ এর নামে সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে পাওয়ার হাউজ প্রকল্প কিংবা সৌরবিদ্যুত প্রকল্প সীমিত আকারে করে দীর্ঘমেয়াদী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যেটা বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশকে দেউলিয়াত্বের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে। প্রতিনিয়ত লোডশেডিং এই অনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনার ফলাফল।
১৩) বিভিন্ন উস্কানিমূলক নির্দেশনাঃ ২০২৪ সালে দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে অবস্থান নেওয়ার পর থেকে একের পর এক সাংঘর্ষিক নির্দেশনা প্রদান করছে হাসিনা। তন্মধ্যে ২০২৪ সালে সেনাবাহিনীর গাড়িবহরে হামলা, আনসার বিদ্রোহ, চুরি-ছিনতাই-ধর্ষণ-নাশকতা, ২০২৫ সালের ওসমান হাদি হত্যা, গুপ্ত হামলার নির্দেশনা দিচ্ছে হাসিনা ও আওয়ামী লীগ।
উপরোক্ত বিষয়গুলো চিন্তা করলে তাকে "রাজনৈতিক ভাইরাস" বলাটা যুক্তিযুক্ত।
About the Author
মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত
মজদুরের নিয়মিত লেখকশিক্ষার্থী
"জগতের যত মাজলুম আমরা তোমাদেরই কণ্ঠস্বর" আমি মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত। জন্ম গোপালগঞ্জ জেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। নিজেকে সবসময় ডানপন্থীদের রাজনীতির বাহিরে রাখতে চেয়েছি।কারণ রাজনৈতিক প্রহসনের রাষ্ট্রে সরাসরি ডানপন্থী রাজনীতিতে যোগদান করার অর্থ- স্বচক্ষে ভাইয়ের খুন হতে দেখার পরেও পুতুলের মতো বসে থাকা। একমাত্র সাংগঠনিক পরিচয় "আমি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন সদস্য।" বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া বিপ্লবীদের একটি সংগঠন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুথানে সর্বাত্মক সহযোগীতার পরেও অন্যান্য দলগুলোর মতো গোগ্রাসে গিলে ফেলেনি সাধারণের অধিকার। এই অনুপ্রেরণায় আমি এই সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। নিয়মের বেড়াজালে আমাদের বন্দী করে, অন্যায়ভাবে যারা মাজলুমের ঘাড়ে কুঠারের আঘাত করে, তাদের বিরুদ্ধে সদা সর্বদা জাগ্রত আমরা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জিন্দাবাদ
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন