সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

জার্মানিতে উগ্র-দক্ষিণপন্থীদের জয় এবং ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ মেনশেভিক রাজনীতি

জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট নির্বাচনে উগ্র-দক্ষিণপন্থী এএফডির উত্থান কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং প্রচলিত বুর্জোয়া রাজনীতির ব্যর্থতার প্রতিফলন। গণতন্ত্র রক্ষার নামে বামপন্থী দলগুলোর সিডিইউ-র মতো রক্ষণশীল শক্তির সাথে সমঝোতা করার প্রবণতা ১৯৩২ সালের ঐতিহাসিক ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

Sankalpa
Sankalpa মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 9 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 1 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 2 জন পাঠক পড়েছেন
জার্মানিতে উগ্র-দক্ষিণপন্থীদের জয় এবং ‘গণতন্ত্র রক্ষার’ মেনশেভিক রাজনীতি

জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে অল্টারনেটিভ ফ্যুর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি) ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২১ সালে তাদের ভোট ছিল ২০.৮ শতাংশ। ৮৩ আসনের বিধানসভায় এএফডি পেয়েছে ৩৯টি আসন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে মাত্র তিনটি কম। অন্যদিকে, ২০১১ সাল থেকে রাজ্যটির ক্ষমতায় থাকা খ্রিস্টান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) ৩৭.১ শতাংশ ভোট থেকে নেমে এসেছে মাত্র ১৭.২ শতাংশে। এসপিডি, গ্রিনস এবং ডি লিংকা, এই তিন দল, যাদের মধ্যে ডি লিংকা নিজেকে জার্মান বামপন্থার প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে, একত্রে পেয়েছে ২৬.৮ শতাংশ ভোট, অর্থাৎ এএফডির চেয়ে ১৭ শতাংশ কম।

এই ফলাফলের পর যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তা খুব একটা বিস্ময়কর নয়। ডি লিংকার নেতৃত্বের একাংশ, বিশেষত বুন্ডেস্টাগের উপ-সভাপতি বোডো রামেলো, বিষয়টিকে ‘গণতন্ত্র বনাম কর্তৃত্ববাদ’-এর সংকট হিসেবে তুলে ধরছেন। সেই যুক্তি থেকেই তারা সিডিইউ-র সঙ্গে এক ধরণের সহযোগিতার পথ খুঁজছেন, যাতে এএফডি সরকার গঠন করতে না পারে।

‘সর্বদলীয় ঐক্য’-র এই রাজনীতি, যা জার্মান বামের একাংশ ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করছে, আসলে এক পুরনো কৌশলেরই নতুন সংস্করণ। আর সেই কৌশল ইতিমধ্যেই ভুল প্রমাণিত হয়েছে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতায়।

যে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে

১৯৩২-৩৩ সালের ওয়াইমার জার্মানি এবং ২০২৬ সালের জার্মানির মধ্যে যান্ত্রিকভাবে একটি সমীকরণ টানা অবশ্যই ভুল হবে। এএফডি এখনও নাৎসি পার্টির মতো একটি গণ-ফ্যাসিস্ট আন্দোলন নয়। তাদের নাৎসি এসএ-র মতো কোনো আধা-সামরিক বাহিনীও নেই। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সেই সময়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে।

১৯৩০ সালে হাইনরিশ ব্রুনিং-এর সরকার যখন জরুরি অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশ শাসন করছিল, তখন এসপিডি নেতৃত্ব সেই সরকারকে ‘লেসার ইভিল’ হিসেবে মেনে নিয়েছিল। তাদের যুক্তি ছিল, নাৎসি পার্টির উত্থান তার চেয়েও বড় বিপদ। অথচ সেই সময় এসপিডি এবং কমিউনিস্ট পার্টি কেপিডি দুই দল মিলিয়ে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ শক্তি ছিল। শ্রমিক শ্রেণির সাংগঠনিক শক্তিও ছিল বিপুল: ট্রেড ইউনিয়ন, কারখানা কমিটি এবং বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সংগঠন মিলিয়ে তাদের শক্তি নাৎসিদের তুলনায় বেশি ছিল।

তারপরও শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব শ্রেণিসংগ্রামের ওপর নির্ভর না করে রাষ্ট্র, সংবিধান এবং আইনের ওপর নির্ভর করার পথ বেছে নেয়। ১৯৩২ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এসপিডি হিটলারকে ঠেকানোর জন্য ‘সংবিধান রক্ষা’-র নামে হিন্ডেনবুর্গকে সমর্থন করেছিল। অথচ ১৯২৫ সালে এই হিন্ডেনবুর্গকেই তারা নিজেরা চরম প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। মাত্র এক বছরের মধ্যেই সেই হিন্ডেনবুর্গ হিটলারকে চ্যান্সেলর নিযুক্ত করেন।

এসপিডি নেতৃত্ব শ্রমিক শ্রেণিকে স্বাধীনভাবে সংগঠিত করে সংকটের সমাধান নিজেদের হাতে তুলে নিতে ভয় পেয়েছিল। বিপ্লবের তুলনায় তারা ফ্যাসিবাদকে কম ভয়ঙ্কর মনে করেছিল। কারণ ফ্যাসিবাদ পুঁজির সম্পত্তিকে অক্ষত রাখে; বিপ্লব তা করে না। অন্যদিকে, কেপিডি নেতৃত্বও কোনো কার্যকর বিকল্প দিতে পারেনি। স্তালিনের নির্দেশে তারা ‘সামাজিক-ফ্যাসিবাদ’ তত্ত্ব অনুসরণ করে এসপিডিকেই ‘প্রকৃত ফ্যাসিস্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। ফলে শ্রমিক শ্রেণির ঐক্য আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফল হয়েছিল সর্বনাশা।

আজকের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’: একই ফাঁদের পুনরাবৃত্তি

আজকের জার্মানিতে এসপিডি এবং ডি লিংকা, এমনকি ট্রেড ইউনিয়ন আমলাতন্ত্রও, একই ধরনের যুক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু গত তিন দশক ধরে এই বিশ্বাসঘাতক দলগুলিই পুঁজির সংকটের বোঝা শ্রমিক শ্রেণির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কাজে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আইজি মেটাল ইউনিয়ন শ্রমিকদের পেছনে রেখে ফোক্সভাগেনে ৭৫ হাজার চাকরি ছাঁটাইয়ের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এসপিডি মের্ৎস সরকারের প্রতিরক্ষা, অর্থ এবং শ্রম মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করছে এবং যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামাজিক ব্যয়সংকোচনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, ডি লিংকা এবং তার পূর্বসূরি পিডিএস গত ৩৫ বছর ধরে পূর্ব জার্মানির যেসব রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল, সেখানে চাকরি ছাঁটাই এবং গণপরিষেবার বেসরকারিকরণে সরাসরি অংশ নিয়েছে। ফলে যখন এই দলগুলো ‘এএফডিকে ঠেকাও’ বলে স্লোগান তোলে, শ্রমিক শ্রেণির বড় অংশের কাছে তা নিছক ভণ্ডামি বলে মনে হতে পারে।

এক তথ্য অনুযায়ী এএফডির ভোটারদের মাত্র ২০ শতাংশ সরাসরি চরম দক্ষিণপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী; আরও ১৮ শতাংশের মধ্যে স্পষ্ট দক্ষিণপন্থী ঝোঁক রয়েছে। বাকি ৬২ শতাংশের ক্ষেত্রে এএফডিকে ভোট দেওয়া মূলত ফেডারেল সরকারের যুদ্ধনীতি এবং ব্যয়সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। তারা প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর আস্থা হারিয়েছে, কারণ সেই দলগুলো বাস্তবে পুঁজির স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করে এসেছে।

এই রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যেই এএফডি নিজেকে ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী’ শক্তি হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। অথচ বাস্তবে তারাই প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার প্রথম প্রস্তাবকদের অন্যতম, ঋণসীমা কঠোরভাবে বজায় রাখার পক্ষে এবং পুঁজির স্বার্থের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি। ট্রাম্প ও মাস্কের অভিনন্দনবার্তাও এই বাস্তবতাকে যেকোনো নির্বাচনী স্লোগানের চেয়ে স্পষ্ট করে দেয়।

‘গণতন্ত্র রক্ষা’-র রাজনীতি কেন ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করে

এখানেই স্তালিনবাদী-মেনশেভিক রাজনীতির মৌলিক দুর্বলতাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘গণতন্ত্র রক্ষা’-র রাজনীতির মূল যুক্তি হলো, ফ্যাসিবাদ এক ধরনের নৈতিক বিচ্যুতি। উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুতি। তাই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে মূলত ‘মধ্যপন্থী’ রাষ্ট্র, সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করা।

এই দৃষ্টিভঙ্গি ফ্যাসিবাদকে শ্রমিক শ্রেণি ও নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুঁজির পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিক্রিয়াশীল পাতি-বুর্জোয়া গণআন্দোলন হিসেবে দেখে না। বরং মের্ৎসের উদারনৈতিক রাজনীতির দক্ষিণে যা কিছু রয়েছে, তাকেই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড় করানো হয়। এর রাজনৈতিক পরিণতি হলো রাষ্ট্রের কাছেই ফ্যাসিবাদবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন। পুলিশ, আদালত, সংবিধান রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে দক্ষিণপন্থীদের দমন করার দাবি।

কিন্তু যে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার মধ্য থেকেই, যেই ব্যবস্থার স্বার্থেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়, সেই ব্যবস্থার রক্ষক রাষ্ট্রের কাছেই ফ্যাসিবাদ-বিরোধী সংগ্রামের দায়িত্ব অর্পণ করা আসলে জল্লাদের কাছেই ফাঁসির দড়ি খুলে দেওয়ার আবেদন করার মতো। আরও গভীরভাবে দেখলে, ‘গণতন্ত্র রক্ষা’-র রাজনীতি শ্রেণিসংগ্রামকে দুর্বল করে। আর এই দুর্বলতাই ফ্যাসিবাদের বিকাশের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।

১৯৩০-৩৩ সালে এসপিডি নেতৃত্ব শ্রমিক শ্রেণিকে সক্রিয় করে তোলার বদলে ‘আইন’, ‘রাষ্ট্র’ এবং রাইখসভেয়ারের (ওয়াইমার জার্মানির সেনাবাহিনী) ওপর নির্ভর করেছিল। কারণ শ্রমিক শ্রেণির স্বাধীন রাজনৈতিক গতিশীলতা বিপ্লবের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বহন করত। তাই তারা শ্রেণিসংগ্রামের পরিবর্তে ‘শৃঙ্খলা’ রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল। ফলে যখন প্রকৃত সংঘাতের মুহূর্ত এসে উপস্থিত হয়, নেতৃত্ব কার্যত প্রতিরোধহীনভাবে আত্মসমর্পণ করে। আজও একই যুক্তি কাজ করছে। ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’-র অন্তর্নিহিত বার্তা হলো শ্রেণিসংগ্রাম নয়, নির্বাচনী কৌশল এবং সিডিইউ-র মতো বুর্জোয়া দলের সঙ্গে সমঝোতাই সমাধানের পথ।

কিন্তু সিডিইউ, যাদের শাসনামলে সামাজিক ব্যয়সংকোচন এবং বেকারত্ব বেড়েছে, নিজেই এএফডির উত্থানের জন্য প্রত্যক্ষভাবে দায়ী। তাদের সঙ্গে জোট বা সমঝোতার রাজনীতি শ্রমিক শ্রেণির চোখে ডি লিংকাকে আরও অপ্রাসঙ্গিক করে তুলবে এবং এএফডিকে আরও শক্তিশালীভাবে ‘প্রকৃত বিরোধী শক্তি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

ভারতীয় বস্মপন্থীদের জন্য শিক্ষা

জার্মানির এই অভিজ্ঞতা ভারতীয় শ্রমিক রাজনীতির জন্যও প্রাসঙ্গিক। স্তালিনবাদী সিপিআই, সিপিআই(এম), ইত্যাদির নেতৃত্ব বছরের পর বছর ধরে একই শ্রেণি সমঝোতার রাজনীতি বহন করে চলেছে — ‘সংবিধান বাঁচাও’, ‘গণতন্ত্র রক্ষা করো’, সংবিধানের প্রস্তাবনার পবিত্রতা রক্ষার আহ্বান ইত্যাদি। হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদ এবং নয়া-উদারনৈতিক আক্রমণের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে তারা শ্রেণিসংগ্রামের কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং বুর্জোয়া গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে।

এর বাস্তব রাজনৈতিক পরিণতি হলো ইন্ডিয়া জোট। অর্থাৎ কংগ্রেস, টিএমসি, আরজেডি, এসপি, আপ প্রভৃতি বুর্জোয়া দলগুলির সঙ্গে একটি পপুলার ফ্রন্ট, যেখানে এই দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী বা অন্যত্র সমঝোতার স্বার্থে শ্রমিক শ্রেণির স্বাধীন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বিসর্জন দেওয়া হয়। অথচ কংগ্রেস এবং টিএমসি নিজেরাই নয়া-উদারনৈতিক আক্রমণ, বেসরকারিকরণ এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপসের দীর্ঘ ইতিহাস বহন করে। জার্মান সিডিইউ যেমন এএফডির উত্থানের জন্য দায়ী, তেমনই ভারতের প্রচলিত বুর্জোয়া দলগুলোর নীতিও হিন্দুত্ববাদী শক্তির উত্থানের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। জার্মানির অভিজ্ঞতা তাই স্পষ্ট করে দেয় যে পপুলার ফ্রন্টের রাজনীতি হিন্দুত্ব ফ্যাসিবাদকে ঠেকাতে পারবে না; বরং তাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

যখন সিপিআই(এম) নেতৃত্ব শিক্ষার্থী আন্দোলন, সিএএ-এনআরসি-বিরোধী আন্দোলন কিংবা শ্রমিক আন্দোলনকে ‘সংবিধান রক্ষা’-র সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখে এবং বিপ্লব বা সমাজতন্ত্রের ভাষাকে রাজনৈতিক প্রচার থেকে সরিয়ে দেয়, তখন তারা মূলত সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে যা এসপিডি ১৯৩২ সালে করেছিল এবং ডি লিংকা আজ করছে। শ্রমিক ও কৃষক জনগণের কাছে এই রাজনীতি ক্রমশ অসাড় বলে মনে হয়। কারণ এটি তাদের বাস্তব শ্রেণিগত সংকট, বেকারত্ব, বেসরকারিকরণ, কৃষি সংকট, ঠিকা শ্রমের বিস্তার, এসবের কোনো স্বাধীন সমাধান দেয় না।

আর এই রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যেই হিন্দুত্ববাদী শক্তিগুলো নিজেদের ‘প্রতিষ্ঠানবিরোধী’ শক্তি হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পায়, ঠিক যেমন এএফডি জার্মানিতে পেয়েছে।

উপসংহার

সমাধান শ্রেণি সমঝোতাবাদী পপুলার ফ্রন্ট নয়, শ্রমিক শ্রেণির যুক্তফ্রন্ট। অর্থাৎ, শ্রমিক শ্রেণির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক লক্ষ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, কিন্তু সেই ঐক্যের মধ্যেও রাজনৈতিক ও কর্মসূচিগত স্বাধীনতা বজায় রাখতে হবে। কংগ্রেস বা টিএমসির মতো বুর্জোয়া দলের অধীনতা মেনে নেওয়া চলবে না। ভারতীয় মার্কসবাদীদের কাজ হলো শিক্ষার্থী আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন এবং কৃষক আন্দোলনকে বুর্জোয়া সাংবিধানিকতার সীমারেখার মধ্যে আবদ্ধ না রেখে একটি স্বাধীন বিপ্লবী শ্রেণি-কর্মসূচির ভিত্তিতে সংগঠিত করা। সেই কর্মসূচিতে জমি, চাকরি, মজুরি এবং পুঁজির সম্পত্তির প্রশ্নকে সরাসরি সামনে আনতে হবে। কেবল এই পথেই ফ্যাসিবাদের সামাজিক ভিত্তি, বিপর্যস্ত পাতি-বুর্জোয়া, বেকার যুবসমাজ এবং দেউলিয়া কৃষকদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে তাদের শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বের পেছনে দাঁড় করান সম্ভব।


#জার্মানি_রাজনীতি #ফ্যাসিবাদ #এএফডি #ইউরোপ #শ্রেণিসংগ্রাম #বামপন্থা #রাজনীতি
Sankalpa

About the Author

Sankalpa

মজদুরের নিয়মিত লেখক

শিক্ষার্থী

বই পড়ি, প্রশ্ন করি, তর্ক করি। সাহিত্য, ইতিহাস আর রাজনীতি নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি। বিশেষ করে সমাজকে তার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব, পরিবর্তন ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। জটিল বিষয়কে সহজ করে বোঝার চেয়ে, তাকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাটাকেই বেশি মূল্য দিই।

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast