আমরা যে ভোট দিতে যাই সেখানে বড়লোকদের আর টাকাওয়ালাদের একটা মস্ত বড় চালাকি লুকিয়ে থাকে। সব জায়গায় প্রচার করা হয় যে আমরা ভোট দিয়ে জনগণের সরকার বানাচ্ছি। কিন্তু আসল সত্যি হলো এই সমাজটা চালায় যারা বড় বড় কলকারখানা আর টাকার মালিক তারা। এই ভোট ব্যবস্থা আসলে তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটা উপায় মাত্র। সাধারণ মানুষের শুধু এইটুকুই অধিকার থাকে যে কয়েক বছর পর পর একজন শোষককে বাদ দিয়ে আরেকজন নতুন শোষককে ক্ষমতায় বসাবে। কিন্তু শোষণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ থাকে না।
আমাদের দেশের কথাই ধরা যাক। এখানে নির্বাচন মানেই টাকার খেলা আর গুন্ডাবাজি।
একজন দিনমজুর রিকশাচালক কিংবা সাধারণ মানুষের পক্ষে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভোটে দাঁড়ানো কোনোদিন সম্ভব নয়। তাই ক্ষমতায় যারাই আসুক তারা সবসময় বড় ব্যবসায়ী আর বড়লোকদের মানুষ হয়।
নেতার নাম, দলগুলোর নাম বদলায় কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলায় না। গরিবের রক্ত চোষার নিয়মটা সবসময় একই থাকে।
এই ভোট ব্যবস্থা আমাদের পেটের ভাত পরনের কাপড় থাকার জায়গা শিক্ষা আর চিকিৎসার মতো আসল সমস্যাগুলোকে আড়াল করে রাখে। ভোটের সময় বড় বড় নেতারা ধর্মের নামে বা নানা অজুহাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে মারামারি লাগিয়ে দেয়। মেহনতি মানুষকে তারা এক হতে দেয় না। এর ফলে গরিব মানুষ যখন নিজেদের মধ্যে কাটাকাটি করে তখন বড়লোকেরা শান্তিতে আমাদের শ্রম লুট করে।
এই জন্য দেশে যখন কোনো স্বৈরাচারী শাসন নেমে আসে তখন তার দায় সাধারণ ভোটারের ওপর চাপানো চরম অন্যায়।
ভোটাররা কোনো অপরাধ করে না বরং তারা এই সাজানো ব্যবস্থার জালে আটকা পড়ে থাকে। আমাদের আসল লক্ষ্য শুধু সরকার পরিবর্তন করা নয় বরং এই পুরো শোষণের নিয়মটাই বদলে ফেলা। নিছক ভোট দিয়ে ভাগ্য বদলানোর মিথ্যা আশা থেকে জনগণকে মুক্ত করতে হবে।
প্রকৃত মুক্তি তখনই সম্ভব যখন দেশের শ্রমিক কৃষক আর ছাত্ররা এক হয়ে নিজেদের আসল শত্রু চিনতে পারবে। মেহনতি মানুষকে বুঝতে হবে যে এই ভোট তাদের দুঃখকষ্টের স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে না। তাই এই পচা গলা ব্যবস্থার সংস্কার করে লাভ নেই। আমাদের কারখানা মাঠে ময়দানে এবং স্কুল কলেজে জনগণকে একজোট করতে হবে, তৈরী করতে হবে বৃহত্তর শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠন, উরফে শ্রমিক শ্রেণীর ভ্যানগার্ড পার্টি । একটি শোষণহীন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। একমাত্র শ্রমিক-কৃষক, সাধারণ মানুষের নিজস্ব আন্দোলনের বৈপ্লবিক চেতনা বৃদ্ধির মাধ্যমে গণ অভ্যুত্থান এবং অভ্যুত্থানকে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পথে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত মুক্তি সম্ভব।
About the Author
চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি
মজদুরের নিয়মিত লেখকছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
সাধারণ সম্পাদক - সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ময়মনসিংহ জেলা শাখা।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
1Just read your post really well done. It takes courage to write about something this important with that level of honesty. Your points were sharp, the argument was clear, and you didn't shy away from the hard truths. This is exactly the kind of writing that gets people thinking. Keep it up — the world needs more voices like yours.
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন