সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

‘প্রধান দ্বন্দ্ব’ থেকে শ্রেণি-সহযোগিতা

মাও সে-তুংয়ের প্রধান দ্বন্দ্ব তত্ত্বটি কি বিপ্লবের স্বার্থে নাকি রাজনৈতিক সুবিধাবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল? তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান ও গৌণ দ্বন্দ্বের এই বিভাজন প্রায়শই শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থকে বুর্জোয়া শ্রেণির কাছে সমর্পণ করার পথ প্রশস্ত করেছে।

Sankalpa
Sankalpa মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 10 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 1 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 2 জন পাঠক পড়েছেন
‘প্রধান দ্বন্দ্ব’ থেকে শ্রেণি-সহযোগিতা

১। প্রধান দ্বন্দ্ব একমাত্র দ্বন্দ্ব নয় এ কথাটি ঠিক, মাওয়ের ধারণায় অন্যান্য দ্বন্দ্ব ‘গৌণ’ হিসেবে থেকে যেতে পারে। সমস্যাটি হল, ‘প্রধান’ ও ‘গৌণ’-এর এই বিভাজনটি তাত্ত্বিকভাবে এমন যে এর নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র ব্যাখ্যামূলক কাজ নেই। On Contradiction-এর এই দার্শনিক সমালোচনাটিই Freedom Socialist Party-র এই লেখায় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে:

“এই ‘অভ্যন্তরীণ’ ও ‘বাহ্যিক’-এর মধ্যে সম্পর্কটি কী? এদের মধ্যে কি একটি ‘প্রধান’ এবং অন্যটি ‘গৌণ’? বাস্তব জীবনেই এই ভ্রান্ত ধারণাকে খণ্ডন করার চমৎকার উদাহরণ পাওয়া যায়... সত্য হল, ‘প্রধান’ ও ‘গৌণ’ ঘটনা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, একে অপরের মধ্যে রূপান্তরযোগ্য এবং ঐক্যবদ্ধ, আবার পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বেও লিপ্ত... এই পারস্পরিক-নির্ভরশীল ও পরিবর্তনশীল ঘটনাগুলিকে কঠোর, বিচ্ছিন্ন বিভাগে রূপান্তরিত করবার কৌশল দ্বান্দ্বিকতার ভিত্তিকেই লঙ্ঘন করে।”

একই লেখাটি রাজনৈতিক দিকটিও সরাসরি তুলে ধরে: মাও “চীনের ওপর সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের অবসান ঘটাতেই চেয়েছিলেন; মার্কিন পুঁজিবাদের রূপান্তর ঘটানোর কোনো সদিচ্ছা তাঁর ছিল না [একজন আন্তর্জাতিকতাবাদী কমিউনিস্ট হিসেবে]। তাই তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম (‘প্রধান’ দ্বন্দ্ব) চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন, কিন্তু ‘গৌণ’ পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে নয়। আর এই সুবিধাবাদকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য তিনি দ্বান্দ্বিকতাকে বিকৃত করেছিলেন, নিজের পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সেবায় তাকে নানাভাবে ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে নিয়েছিলেন।”

২। দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট: শর্তসাপেক্ষ কৌশলগত ঐক্য নয়, বরং সাংগঠনিক ও সামরিক আত্মসমর্পণ। বলা হচ্ছে মাও কুওমিনতাঙের সঙ্গে ঐক্যের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত রেখেছিলেন, বিপ্লবী ঘাঁটিগুলিতে আক্রমণ বন্ধ করা, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং জনগণকে অস্ত্র দেওয়া, এবং এটি ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছিল না। কিন্তু CCP নিজেই প্রকাশ্যে কী অঙ্গীকার করেছিল, তা দেখা যাক। ১৯৩৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় ‘Four Pledges’ সমসাময়িক মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথিতে যে ভাষায় তা নথিভুক্ত হয়েছে, তা হল:

“১. চীনা কমিউনিস্ট পার্টি স্বীকার করছে যে ড. সানের Three People's Principles আজকের চীনের জন্য অপরিহার্য এবং এই নীতিগুলির বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত।

২. চীনা কমিউনিস্ট পার্টি কুওমিনতাঙ সরকারের উৎখাতের লক্ষ্যে পরিচালিত অতীতের সামরিক বিরোধিতা ও সোভিয়েতায়নের নীতি পরিত্যাগ করবে এবং জমিদারদের কাছ থেকে জমি বাজেয়াপ্ত করা বন্ধ করবে।

৩. চীনা কমিউনিস্টরা সোভিয়েত সরকার ব্যবস্থা বাতিল করবে এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে, যাতে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

৪. চীনা কমিউনিস্টরা Red Army নাম ও তার পরিচিতিগুলি বিলুপ্ত করবে এবং তাকে National Armies-এ পুনর্গঠন করবে; এই বাহিনী National Military Council-এর নির্দেশে পরিচালিত হবে এবং জাপানবিরোধী দায়িত্ব পালনের জন্য ফ্রন্টে যাওয়ার আদেশের অপেক্ষায় থাকবে।”

এখানে CCP প্রকাশ্যেই নিজেদের সোভিয়েত সরকার বিলুপ্ত করছে, জমি বাজেয়াপ্ত করার কর্মসূচি বন্ধ করছে এবং নিজেদের সামরিক বাহিনীর কমান্ড এমন একটি সংস্থার অধীনে দিচ্ছে, National Military Council, যেটি সেই শ্রেণিশত্রুর নিয়ন্ত্রণে ছিল, যে শ্রেণিশত্রু ১৯২৭ সালে তাদের কর্মীদের গণহত্যা চালিয়েছিল।

১৯২৭ সালে এই যুক্তির বিপদ সম্পর্কে ত্রৎস্কি যে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, Problems of the Chinese Revolution (New Park Publications, 1969, p. 5) থেকে উদ্ধৃত সেই বক্তব্যটি এখানে সরাসরি প্রাসঙ্গিক:

“এটা ভাবা এক বিরাট ভুল যে সাম্রাজ্যবাদ বাইরে থেকে যান্ত্রিকভাবে চীনের সমস্ত শ্রেণিকে একত্রে বেঁধে দেয়... সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, তার অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তির কারণেই, চীনের জনগণের গভীরতম স্তর থেকে বিপুল শক্তির সমাবেশ দাবি করে... কিন্তু এমন সব কিছুই, যা নিপীড়িত ও শোষিত শ্রমজীবী জনগণকে নিজেদের পায়ে দাঁড় করায়, শেষ পর্যন্ত জাতীয় বুর্জোয়াকে সাম্রাজ্যবাদীদের সঙ্গে প্রকাশ্য জোটের দিকে ঠেলে দেয়।”

৩. On New Democracy (১৯৪০) থেকে ‘দ্বৈত চরিত্র’-এর উদ্ধৃতি:

“একদিকে বিপ্লবে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা এবং অন্যদিকে বিপ্লবের শত্রুদের সঙ্গে আপস করার প্রবণতা—চীনা বুর্জোয়ার এমনই দ্বৈত চরিত্র; তারা একই সঙ্গে দুই দিকেই মুখ করে থাকে... এখানে প্রলেতারিয়েতের কাজ হল সাম্রাজ্যবাদ এবং আমলা ও সামন্ত-যুদ্ধবাজদের সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় বুর্জোয়ার সঙ্গে একটি যুক্তফ্রন্ট গড়ে তোলা, তবে তার বিপ্লবী চরিত্রকে উপেক্ষা না করে।”

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘দ্বৈত চরিত্র’-এর এই ভাষা ১৯২৬–২৭ সালে চীনা বুর্জোয়া সম্পর্কে স্তালিন যে অবস্থান নিয়েছিলেন, তার প্রায় হুবহু পুনরাবৃত্তি, যে অবস্থানকে ত্রৎস্কি Problems of the Chinese Revolution-এ খণ্ডন করতে বহুদিন ধরে লড়েছিলেন। সেই স্তালিনবাদী নীতির বাস্তব ফলাফল সম্পর্কে ত্রৎস্কির সারসংক্ষেপ ছিল:

“চীনা বুর্জোয়া শ্রেণি পাতি-বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে কেবল সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে একটি জোট গড়ে তোলার জন্যই ব্যবহার করেছিল। Northern expedition-এর একমাত্র ফল ছিল বুর্জোয়া শ্রেণিকে শক্তিশালী করা এবং শ্রমিকদের দুর্বল করা। যে কৌশল এমন ফলাফল প্রস্তুত করেছিল, তা একটি ভ্রান্ত কৌশল... ‘বাস্তবে আমরা শ্রমিক ও কৃষকদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছি,’ বলছেন তাং পিংশান [প্রথম যুক্তফ্রন্টের সময় (১৯২৭) উহানের ‘বামপন্থী কুওমিনতাঙ’ সরকারের কৃষিমন্ত্রী; এই সরকারকেই স্তালিন ‘কৃষি বিপ্লবের কেন্দ্র’ হিসেবে দেখিয়ে CCP-কে এর অধীনস্থ হওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন]। কেন? চার শ্রেণির ব্লককে সমর্থন করার জন্য। ফল কী? বুর্জোয়া প্রতিবিপ্লবের এক বিরাট সাফল্য।”

৪. বলা হচ্ছে যে মাও On Contradiction-এর মধ্যেই স্পষ্টভাবে ‘চিয়াং কাই-শেকের ১৯২৭ সালের বিশ্বাসঘাতকতা’-র উল্লেখ করেছেন, এবং সেটিকে সাম্রাজ্যবাদের সশস্ত্র হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিপ্লবী ঐক্যফ্রন্টকে ভেঙে দেওয়ার উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। প্রসঙ্গত তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে অপরাগ থেকেছেন যে, বুর্জোয়া-নেতৃত্বাধীন সামরিক কমান্ডের অধীনে নিজের পার্টিকে সাংগঠনিকভাবে অধীনস্থ করাটিই সেই বিপদের একটি উৎস।

বাস্তব রাজনৈতিক ইতিহাস দেখায় যে ১৯২৭-এর অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। জাপানের পরাজয়ের পর মস্কো ও ওয়াশিংটনের চাপের অধীনে CCP চিয়াং কাই-শেকের সঙ্গে একটি জোট সরকার গঠনের চেষ্টা করে। ১৯৪৫ সালে মাও নিজেই চংকিংয়ে যান এবং ব্যক্তিগতভাবে চিয়াংয়ের সঙ্গে সাত সপ্তাহ ধরে আলোচনা করেন; এর ফল হয় একটি যৌথ বিবৃতি। এমনকি KMT বাহিনী ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে কমিউনিস্টদের শক্ত ঘাঁটি ইয়ানান দখল করার পর এবং ১৯৪৭ সালের জুনে মাওকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করার পরও মাও চিয়াংকে উৎখাত করার কোনো আহ্বান জানাননি। CCP কেবল ১০ অক্টোবর ১৯৪৭-এ এসে KMT-কে উৎখাতের আহ্বান জানিয়ে একটি ইশতেহার প্রকাশ করে, জাপানের আত্মসমর্পণের দুই বছরেরও বেশি সময় পরে এবং চিয়াং স্বয়ং মাওয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার কয়েক মাস পরে। এদিকে ১৯৪৫–৪৭ সালে চীনের শহরগুলিতে বাস্তব গণআন্দোলন CCP-র কৌশল ব্যতিরেকে এবং বহু ক্ষেত্রে তার নীতির বিরুদ্ধে গিয়েও এগিয়ে চলেছিল। চীনা ত্রৎস্কিবাদী নেতা পেং শুচি ১৯৫১ সালে চতুর্থ আন্তর্জাতিককে যে রিপোর্ট দেন, তাতে বলা হয়:

“যুদ্ধের পরপরই, ১৯৪৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের শেষ পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে, চীনে গণআন্দোলনের যথেষ্ট পুনরুত্থান ও বিকাশ ঘটে। এই সময়ে সমস্ত বড় শহরের শ্রমজীবী জনগণ, যার মধ্যে সাংহাই ছিল অগ্রভাগে, প্রথমবারের মতো মজুরি বৃদ্ধিকে মূল্যসূচকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি, ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের অধিকার ইত্যাদি সামনে আনে... তারা সর্বত্র এবং ধারাবাহিকভাবে ধর্মঘটে অংশ নেয়... নিঃসন্দেহে এটি চীনা শ্রমিক আন্দোলনের এক নতুন জাগরণের প্রকাশ ছিল।”

নির্দিষ্টভাবে বললে, ১৯৪৬ সালে শুধু সাংহাইতেই ১,৭১৬টি ধর্মঘট ও শ্রম-সংঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল; ১৯৩৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৭৮। অর্থাৎ প্রায় ছয়গুণ বৃদ্ধি। পরের বছর তা আরও বাড়ে। তবু CCP এই আন্দোলনকে সংগঠিত করার কোনো চেষ্টা করেনি এবং আরও দুই বছর ধরে চিয়াংয়ের সঙ্গে জোটের নীতি অনুসরণ করে গেছে।

৫। “নয়া গণতন্ত্র”-এর নির্দিষ্ট ঘোষিত নীতিসমূহ ছিল, এবং CCP-র বাস্তব কার্যকলাপ সেই নীতির থেকে সরে গিয়েছিল; এবং তা নিছক ‘দ্বান্দ্বিক রূপান্তর’-এর অজুহাতে ব্যাখা করা চলে না। দ্বি-স্তরীয় বিপ্লবের তত্ত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই নতুন সরকার বুর্জোয়া দলগুলির সঙ্গে জোটের চেষ্টা করেছিল। মাওয়ের পরিকল্পনা ছিল, বিপ্লবের তথাকথিত ‘গণতান্ত্রিক’ পর্যায়টি, বুর্জোয়ার কিছু অংশের সঙ্গে জোট বজায় রেখে, বহু বছর স্থায়ী হবে। কিন্তু এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সামরিক আক্রমণের হুমকির মুখে পড়ে; ১৯৫০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোরিয় যুদ্ধ শুরু করে। মার্কিন আগ্রাসনের সম্ভাব্য মোকাবিলায় মাও নেতৃত্বাধীন সরকার দ্রুত ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়।

এখানেই মূল প্রশ্নটি নিহিত। একটি তত্ত্ব পরে যা ঘটেছে তাকে ‘প্রধান ও অপ্রধান দিকের পারস্পরিক রূপান্তর’ বলে নতুন করে বর্ণনা করতে পারলেই সেই তত্ত্ব প্রমাণিত হয় না। মাওয়ের নিজের ঘোষিত পরিকল্পনা ছিল বহু বছর ধরে চলা একটি গণতান্ত্রিক পর্যায়, যেখানে বুর্জোয়ার সঙ্গে সহযোগিতা থাকবে; কিন্তু প্রায় এক বছরের মধ্যেই সেই পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে। খুব সহজ প্রশ্ন, যদি এই সরকার টিকে থাকত, তাহলে শ্রমিক ধর্মঘটের সময়ে সে মালিকের পক্ষ গ্রহণ করত না শ্রমিকের?

লেনিন তাঁর রাষ্ট্র ও বিপ্লব বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে মার্কসের Critique of the Gotha Programme (১৮৭৫) থেকে নেওয়া একটি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করেন:

“পুঁজিবাদী সমাজ ও কমিউনিস্ট সমাজের মধ্যে একটির থেকে অন্যটিতে বিপ্লবী রূপান্তরের একটি পর্যায় রয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি রাজনৈতিক উত্তরণকালও রয়েছে, যে সময়ে রাষ্ট্র প্রলেতারিয়েতের বিপ্লবী একনায়কত্ব ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।”

এর ঠিক পরেই লেনিনের নিজের ব্যাখ্যায় ‘তৃতীয় কোনো বিকল্প নেই’ এই যুক্তিটি একেবারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

“মার্কস এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন আধুনিক পুঁজিবাদী সমাজে প্রলেতারিয়েতের ভূমিকার বিশ্লেষণ, এই সমাজের বিকাশ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য এবং প্রলেতারিয়েত ও বুর্জোয়ার পরস্পর-বিরোধী স্বার্থের অমীমাংসনীয়তার ভিত্তিতে... পুঁজিবাদী সমাজ—যা কমিউনিজমের দিকে বিকশিত হচ্ছে—থেকে কমিউনিস্ট সমাজে উত্তরণ একটি ‘রাজনৈতিক উত্তরণকাল’ ছাড়া সম্ভব নয়; এবং এই সময়ে রাষ্ট্র একমাত্র হতে পারে প্রলেতারিয়েতের বিপ্লবী একনায়কত্ব।”

মাও তাঁর লেখায় ব্যাখা দিতে চেয়েছেন যে সাম্রাজ্যবাদের যুগে, যেখানে পৃথিবীর এক-ষষ্ঠাংশ জমিতে শ্রমিক কৃষকের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তখন আর পুরন বুর্জোয়া-গণতান্ত্রিক বিপ্লবের পথে নয়, নতুন এক ধরণের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের স্তর প্রয়োজন একটি আধা-ঔপনিবেশিক, আধা-সামন্ততান্ত্রিক দেশে। একেই মার্কসবাদ-লেনিনবাদ থেকে মাওবাদের উত্তরণ হিসেবে ধরেন মাওবাদীরা। এর মূলে রয়েছে সেই আদ্যিকালের মেনশেভিক দ্বি-স্তরীয় বিপ্লবের ধারণা। এই ধারণার প্রায়োগিক ক্ষেত্র নিয়ে নয়া দিশা পত্রিকার ফেসবুক পেজে “মাও সে-তুংয়ের স্তালিনবাদী রাজনীতি: জাতীয় স্বার্থের কাছে আন্তর্জাতিক বিপ্লবের পরাজয়” শীর্ষক লেখায় আলোচনা করা হয়েছে। এবং আধা-ঔপনিবেশিক, আধা-সামন্ততান্ত্রিক দেশের ক্ষেত্রে নিরন্তর বিপ্লবের তত্ত্ব, বা লেনিনবাদী নীতিকে কীভাবে সংশোধন করা হয়েছে সেই আলোচনা আমি মজদুরে প্রকাশিত অন্য একটি লেখায় করেছি — উপনিবেশে বিপ্লব: "সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতির সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণ"।




#প্রধান_দ্বন্দ্ব #মাও_সে_তুং #মার্কসবাদ #চীনা_বিপ্লব #লেনিনবাদ #শ্রেণি_সংগ্রাম #রাজনৈতিক_বিশ্লেষণ #ইতিহাস_চর্চা
Sankalpa

About the Author

Sankalpa

মজদুরের নিয়মিত লেখক

শিক্ষার্থী

বই পড়ি, প্রশ্ন করি, তর্ক করি। সাহিত্য, ইতিহাস আর রাজনীতি নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি। বিশেষ করে সমাজকে তার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব, পরিবর্তন ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। জটিল বিষয়কে সহজ করে বোঝার চেয়ে, তাকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাটাকেই বেশি মূল্য দিই।

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast