সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

ফোকো তত্ত্ব : এক নিষ্ঠুর বিপ্লবী রোমান্টিক ব্যার্থতার গল্প

বিপ্লবী রাজনীতির ইতিহাসে চে গুয়েভারার ফোকো তত্ত্ব এক রোমান্টিক অথচ বিতর্কিত অধ্যায়। প্রথাগত মার্কসবাদের বিপরীতে তিনি বিশ্বাস করতেন, সশস্ত্র ক্ষুদ্র একটি দলই বিপ্লবের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম। কিউবার সিয়েরা মায়্রোয় এই কৌশলের সফল প্রয়োগ বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল।

Sadat Rameen Ahmed
পড়তে 10 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 31 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 1 জন পাঠক পড়েছেন
ফোকো তত্ত্ব : এক নিষ্ঠুর বিপ্লবী রোমান্টিক ব্যার্থতার গল্প

# চে গুয়েভারার ফোকো তত্ত্ব: উৎপত্তি, প্রয়োগ, সীমাবদ্ধতা ও রূপান্তর

## ভূমিকা

বিপ্লবী রাজনীতির ইতিহাসে এর্নেস্তো 'চে' গুয়েভারা (Ernesto 'Che' Guevara) এক চিরন্তন প্রেরণার নাম। বিশ শতকের ষাটের দশকে পুঁজিবাদবিরোধী এবং সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ছিল অনন্য। কিউবান বিপ্লবের সাফল্যের পর তিনি যে মার্কসবাদী-লেনিনবাদী সামরিক ও রাজনৈতিক মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন, তা **'ফোকো তত্ত্ব'** (Focoismo বা Theory of the Foco) নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত।

ঐতিহ্যগত মার্কসবাদী তত্ত্বে বলা হয়েছিল যে, শিল্পোন্নত পুঁজিবাদী সমাজে শ্রমিক শ্রেণির (প্রলেতারিয়েত) স্বতঃস্ফূর্ত রাজনৈতিক জাগরণ এবং বস্তুগত পরিস্থিতির পরিপক্বতা ছাড়া সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সম্ভব নয়। কিন্তু চে গুয়েভারা লাতিন আমেরিকার তৎকালীন আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় এই সনাতন ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, বিপ্লবের জন্য অনুকূল পরিস্থিতির আশায় হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং ক্ষুদ্র একটি সশস্ত্র দলের বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমেই সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নেওয়া সম্ভব। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই গড়ে ওঠে ফোকো তত্ত্ব, যা বিশ্ব বিপ্লবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।

## ফোকো তত্ত্বের মূল কৌশল ও তাত্ত্বিক ভিত্তি

'ফোকো' (Foco) শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো 'কেন্দ্রবিন্দু' বা 'অগ্নিকুণ্ড'। চে গুয়েভারা ও তাঁর সহযোদ্ধা ফিদেল কাস্ত্রো বিশ্বাস করতেন যে, রাষ্ট্রের সমগ্র ভূখণ্ডে যুগপৎ বিপ্লব শুরু করা অসম্ভব। তাই দেশের একটি নির্দিষ্ট দুর্গম অঞ্চলে—সাধারণত পাহাড়ি বা অরণ্যঘেরা গ্রামীণ এলাকায়—একটি ছোট সশস্ত্র কেন্দ্র বা 'ফোকো' স্থাপন করতে হবে। এই কেন্দ্রটিই হবে সমগ্র বিপ্লবের মূল সূতিকাগার।

### ১. সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বিপ্লবের পরিস্থিতি সৃষ্টি

প্রথাগত মার্কসবাদের সাথে ফোকো তত্ত্বের প্রধান পার্থক্য এখানেই। কার্ল মার্কস ও ভ্লাদিমির লেনিন মনে করতেন, উৎপাদন ব্যবস্থার সংকট এবং শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বা বস্তুগত পরিস্থিতি (Objective Conditions) তৈরি হলে তবেই বিপ্লব ঘটে। কিন্তু চে গুয়েভারা তাত্ত্বিক আলোচনার চেয়ে প্রত্যক্ষ কর্মে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর মতে, শোষিত জনগণের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে চাপা ক্ষোভ ও বৈষম্য বিরাজ করে। একটি গেরিলা দল যখন সফলভাবে অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে, তখন তা জনগণের সামনে আশার আলো জাগায়। অর্থাৎ, সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করার মাধ্যমেই বিপ্লবের উপযোগী বস্তুগত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

### ২. গ্রামীণ কেন্দ্রিকতা এবং কৃষক সমাজের ভূমিকা

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে তৎকালীন সময়ে শিল্পায়ন ততটা বিকশিত ছিল না, বরং বিপুল পরিমাণ মানুষ কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাই চে গুয়েভারা শহুরে শ্রমিক আন্দোলনের চেয়ে গ্রামীণ কৃষক সমাজকে বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, গ্রামীণ জনপদে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে। তাছাড়া, ভূমিহীন ও শোষিত কৃষকদের জীবনের বঞ্চনা সহজে দূর করা যায় যদি তাদের মুক্তির বার্তা অস্ত্রহাতে তুলে ধরা যায়। গেরিলারা গ্রামে গিয়ে কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনবে, তাদের মৌলিক অধিকার ও জমির মালিকানার প্রতিশ্রুতি দেবে এবং তাদের মধ্য থেকেই বিপ্লবের সৈনিক তৈরি করবে।

### ৩. মোবাইল আর্মি বা চলমান গেরিলা বাহিনী

ফোকো তত্ত্বের একটি অন্যতম প্রধান কৌশল হলো স্থির বা স্থায়ী কোনো অবস্থান ধরে না রাখা। প্রচলিত সেনাবাহিনীর মতো কোনো নির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি রক্ষা করার পরিবর্তে গেরিলা বাহিনী হবে অত্যন্ত গতিশীল ও চলমান। তারা দ্রুত আক্রমণ করবে এবং মুহূর্তের মধ্যে গভীর জঙ্গলে বা দুর্গম পাহাড়ে মিলিয়ে যাবে (Hit and Run tactics)। এর ফলে শত্রুসেনারা গেরিলা বাহিনীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান খুঁজে পাবে না এবং তাদের শক্তি ক্ষয় হতে থাকবে।

## গেরিলা বাহিনীর বৈশিষ্ট্য ও অভ্যন্তরীণ কাঠামো

ফোকো তত্ত্বের সফল বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর কথা বলেছেন চে গুয়েভারা। তাঁর লেখা *'গেরিলা ওয়ারফেয়ার'* (Guerrilla Warfare) পুস্তকে এই কাঠামোর বিশদ বিবরণ রয়েছে:

* **আদর্শিক দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা:** গেরিলা বাহিনীকে নিছক অস্ত্রধারী দল বলা চলে না; তাদের হতে হবে চরম মাত্রায় আদর্শিক ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন। সমাজতন্ত্রের প্রতি unwavering loyalty বা অবিচল নিষ্ঠা না থাকলে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকা অসম্ভব।

* **স্বল্পসংখ্যাক কিন্তু নিবেদিত প্রাণ:** ফোকো বাহিনীতে বিশাল সৈন্যবাহিনীর প্রয়োজন হয় না। মুষ্টিমেয় কয়েকজন অত্যন্ত সাহসী, অনুগত ও আত্মত্যাগী যোদ্ধা নিয়ে এই বাহিনী গঠিত হয়। এই ছোট দলটিই ধীরে ধীরে বৃহত্তর রূপ লাভ করে।

* **জনগণের সাথে নিবিড় সম্পর্ক:** মাও সেতুং যেমন বলেছিলেন "মাছের যেমন পানির প্রয়োজন, গেরিলাদের তেমনি জনগণের প্রয়োজন", চে গুয়েভারাও এই নীতিতে বিশ্বাস করতেন। গেরিলা বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর কোনো জুলুম করবে না, বরং তাদের সুহৃদ ও রক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হবে। জনগণের সক্রিয় সমর্থন ও খাদ্য-সহযোগিতা ছাড়া কোনো গেরিলা বাহিনী টিকতে পারে না।

* **সহনশীলতা ও আত্মত্যাগ:** দুর্গম পাহাড়ি পথ, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব, মশার কামড়, বর্ষা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সাথে লড়াই করে বেঁচে থাকার মানসিক শক্তি থাকতে হবে একজন গেরিলা যোদ্ধার। শারীরিক ও মানসিক শক্তির চরম পরীক্ষা ফোকো কাঠামোর একটি অবধারিত অংশ।

## ঐতিহাসিক সফলতা: কিউবান বিপ্লব (১৯৫৯)

ফোকো তত্ত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সফল প্রয়োগ ঘটে ১৯৫0-এর দশকে কিউবায়। জেনারেল ফুলহেনসিও বাতিস্তার রক্তক্ষয়ী ও দুর্নীতিগ্রস্ত একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে ফিদেল কাস্ত্রো এবং চে গুয়েভারা ১৯৫৬ সালে 'গ্রানমা' নামক ছোট ইয়টে চড়ে কিউবায় আসেন। সিয়েরা মায়্রো (Sierra Maestra) পর্বতমালার গভীর অরণ্যে তারা তাদের প্রথম 'ফোকো' বা সশস্ত্র কেন্দ্র স্থাপন করেন।

শুরুতে এই দলটির সদস্য সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল এবং তারা সরকারি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। কিন্তু চে গুয়েভারা ও তাঁর সঙ্গীরা হাল ছাড়েননি। তারা স্থানীয় কৃষকদের মন জয় করেন, তাদের সংগঠিত করেন এবং বাতিস্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল গেরিলা আক্রমণ পরিচালনা করতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে, ১৯৫৮ সালের শেষভাগে এসে এই ছোট গেরিলা বাহিনী কিউবার নিয়মিত সামরিক বাহিনীকে পরাজিত করে এবং ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি হাভানা দখল করে। বাতিস্তা সরকারের পতন ঘটে। এই ঐতিহাসিক বিজয় ফোকো তত্ত্বের কার্যকারিতাকে বিশ্ববাসীর সামনে এক অপ্রতিরোধ্য সত্য হিসেবে তুলে ধরে।

## তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা ও ফোকো তত্ত্বের ব্যর্থতা

কিউবার সাফল্য চে গুয়েভারাকে এতটাই আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে যে তিনি বিশ্বাস করেছিলেন লাতিন আমেরিকার প্রতিটি দেশেই এই মডেল অন্ধভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। কিন্তু ইতিহাস তার সেই ধারণাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কিউবার বাইরে ফোকো তত্ত্ব প্রয়োগ করতে গিয়ে চে গুয়েভারা এবং অন্যান্য বিপ্লবীরা চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন।

### ১. কঙ্গো ও বলিভিয়ায় বিপর্যয়

কিউবার মন্ত্রী পদের মোহ ত্যাগ করে চে গুয়েভারা ১৯৬-এর দশকে আফ্রিকার কঙ্গোয় এবং পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে বলিভিয়ায় সশস্ত্র বিপ্লব সংগঠনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। বলিভিয়ায় তিনি 'ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি অফ বলিভিয়া' (ELN) গঠন করে ফোকো তত্ত্ব বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে পরিস্থিতি কিউবার মতো ছিল না:

* বলিভিয়ার স্থানীয় কৃষকরা কিউবার কৃষকদের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসেনি। ভাষা, সংস্কৃতি ও স্থানীয় জীবনযাত্রার পার্থক্যের কারণে গেরিলারা কৃষকদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়।

* মার্কিন গো সংস্থা সিআইএ (CIA)-র প্রত্যক্ষ সহায়তায় বলিভিয়ান সামরিক বাহিনী গেরিলা দলটির ওপর কড়া নজরদারি শুরু করে এবং তাদের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

* শহুরে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো কার্যকর সমন্বয় না থাকায় এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন না পাওয়ায় এই ফোকো কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলশ্রুতিতে, ১৯৬৭ সালের অক্টোবর মাসে চে গুয়েভারা বলিভিয়ান সেনাচর কর্তৃক ধৃত হন এবং তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

### ২. কাঠামোগত দুর্বলতা

তত্ত্বগতভাবে ফোকো তত্ত্বের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এটি অতিরিক্ত মাত্রায় সামরিক কেন্দ্রিক (Militaristic)। এতে রাজনৈতিক সংগঠনের চেয়ে সশস্ত্র লড়াইকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। অনেক সময় স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরির আগেই অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ উভয় সংকটে পড়ে যায়—একদিকে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন, অন্যদিকে গেরিলাদের উপস্থিতি। এছাড়া, শহুরে শ্রমিক আন্দোলন বা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের পথকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার কারণে ফোকো তত্ত্ব প্রায়শই বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে পর্যবসিত হয়েছে।

## কোন কোন ব্যাপারে সংশোধন লাগে?

ফোকো তত্ত্বের ঐতিহাসিক ব্যর্থতা এবং পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে সমাজবিজ্ঞানী ও মার্কসবাদী তাত্ত্বিকরা এই তত্ত্বের বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন:

* **রাজনৈতিক সংগ্রাম বনাম সশস্ত্র সংগ্রাম:** বিপ্লবের একমাত্র পথ সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধ—এই কট্টর ধারণা থেকে সরে এসে রাজনৈতিক দল গঠন, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের সাথে সশস্ত্র সংগ্রামের সমন্বয় ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।

* **শহর ও গ্রামের ভারসাম্য:** শুধু গ্রামীণ জনপদ বা বনাঞ্চলের ওপর নির্ভর না করে শহুরে শ্রমিক শ্রেণি, বুদ্ধিজীবী এবং মধ্যবিত্ত সমাজকে বিপ্লবের মূল ধারায় যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। কারণ আধুনিক যুগে রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও গোয়েন্দা প্রযুক্তি এত বেশি উন্নত যে শুধু বনাঞ্চলে লুকিয়ে থেকে বিপ্লব করা অত্যন্ত দুরূহ।

* **জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা:** নিছক অস্ত্র বিতরণ বা সামরিক বিজয়ের চেয়ে জনগণের দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সচেতনতা এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা বিপ্লবের স্থায়িত্বের জন্য অপরিহার্য। জনগণ যদি নিজেরা সচেতন না হয়, তবে কেবল একটি নেতার দল পরিবর্তন করে ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও শোষণমূলক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটে না।

## উপসংহার

এর্নেস্তো চে গুয়েভারার ফোকো তত্ত্ব বিশ শতকের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক রোমাঞ্চকর ও বৈপ্লবিক অধ্যায়। এটি প্রমাণ করেছিল যে, মানুষের ইস্পাতদৃঢ় সংকল্প, আত্মত্যাগ এবং সাহসিকতার মাধ্যমে পরাক্রমশালী একনায়কতন্ত্রকেও পরাজিত করা সম্ভব। যদিও লাতিন আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এই তত্ত্বের প্রয়োগ সবসময় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে এর রণকৌশলগত সীমাবদ্ধতা ধরা পড়েছে, তবুও শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের মুক্তির আকুতি হিসেবে ফোকো তত্ত্বের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না।

চে গুয়েভারা কেবল একজন তাত্ত্বিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন তাঁর বিশ্বাসের বাস্তব রূপকার। ফোকো তত্ত্বের ভুলভ্রান্তি ও সংশোধন সত্ত্বেও, এটি মানবসভ্যতার ইতিহাসে অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে চিরকালের জন্য বিদ্রোহের এক অবিনাশী প্রতীক হিসেবে বেঁচে থাকবে।

#ফোকো_তত্ত্ব #চে_গুয়েভারা #কিউবান_বিপ্লব #গেরিলা_যুদ্ধ #মার্কসবাদ #ল্যাটিন_আমেরিকা #রাজনৈতিক_বিশ্লেষণ #বিপ্লবী_ইতিহাস
Sadat Rameen Ahmed

About the Author

Sadat Rameen Ahmed

একজন অ্যানারকো কমিউনিস্ট বিপ্লবী । এছাড়া নগন্য পরিচয় : ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, লেখক ও কবি

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast