সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

মতাদর্শ নয়, মুনাফা: কেন ডানদিকে ঝুঁকলেন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়াররা

প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের ডানপন্থী রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার পেছনে আদর্শের চেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে মুনাফা ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর কৌশল। একসময় উদারতার প্রতীক সিলিকন ভ্যালি এখন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে অবকাঠামো সুবিধা ও এআই নীতিতে ছাড় পেতে মরিয়া।

Mashrur Wahid
পড়তে 11 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 39 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 2 জন পাঠক পড়েছেন
মতাদর্শ নয়, মুনাফা: কেন ডানদিকে ঝুঁকলেন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়াররা
একসময় সিলিকন ভ্যালি নিজেকে উদারতা, উন্মুক্ততা ও ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরত। আজ সেই জগতের প্রভাবশালী একটি অংশ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন ডানপন্থার পাশে। এই পরিবর্তনের পেছনে শুধু মতাদর্শ নয়; আছে নিয়ন্ত্রণ এড়ানো, রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নতুন বাজার দখলের হিসাব।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে একই সারিতে দেখা গেল ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস ও সুন্দর পিচাইকে। দৃশ্যটি ছিল প্রতীকী। কয়েক বছর আগেও যে প্রযুক্তিজগৎকে ডেমোক্রেটিক পার্টির স্বাভাবিক মিত্র মনে করা হতো, তার সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা এখন নতুন রিপাবলিকান প্রশাসনের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ব্যস্ত।

তবে সবাই একইভাবে বা একই মাত্রায় ডানদিকে যাননি। ইলন মাস্ক প্রকাশ্যে ট্রাম্পের পক্ষে প্রচার ও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছেন। জাকারবার্গ বা বেজোস আনুষ্ঠানিকভাবে একই রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা করেননি; তাঁদের আচরণে বরং নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামত ও ব্যবসায়িক প্রবেশাধিকার রক্ষার চেষ্টা দেখা যায়। এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘটনাটি শুধু কয়েকজন বিলিয়নিয়ারের ব্যক্তিগত বিশ্বাস বদলের গল্প নয়। এটি রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি-পুঁজির সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের গল্প।

উদার প্রযুক্তির পুরোনো ছবি

বারাক ওবামার সময় সিলিকন ভ্যালি ও মার্কিন সরকারের স্বার্থ অনেক জায়গায় মিলে গিয়েছিল। সরকার দ্রুতগতির ইন্টারনেট, ডিজিটাল সরকারি সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নতুন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে চেয়েছিল। প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো চেয়েছিল বাজার, অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রের স্বীকৃতি।

এই সম্পর্ক শুধু সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতায় সীমিত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তর ২০১০ সালে টেসলাকে ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছিল উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। টেসলা পরে সুদসহ ঋণটি নয় বছর আগেই পরিশোধ করে। অর্থাৎ সরকারি সহায়তা নিজে কোনো গোপন ষড়যন্ত্র নয়; নতুন শিল্প গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের বিনিয়োগের একটি পরিচিত উদাহরণ।

সমস্যা হলো, এই সহযোগিতার ওপর দাঁড়িয়ে বড় হওয়া কোম্পানিগুলো পরে নিজেদের সাফল্যকে শুধু ব্যক্তিগত উদ্ভাবন ও মুক্তবাজারের ফল হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করে। রাষ্ট্র যখন ঋণ, গবেষণা, অবকাঠামো বা সরকারি চুক্তি দেয়, তখন রাষ্ট্র তাদের অংশীদার। কিন্তু একই রাষ্ট্র যখন জনস্বার্থে নিয়ম তৈরি করতে চায়, তখন সেটিই হয়ে ওঠে “আমলাতান্ত্রিক বাধা”।

সম্পর্ক ভাঙল কোথায়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যত বড় হয়েছে, তার ক্ষতিও তত দৃশ্যমান হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, শিশু-কিশোরের মানসিক স্বাস্থ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং বাজারে একচেটিয়া ক্ষমতা—এসব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে চাপ বাড়ে।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন ও ১৭টি অঙ্গরাজ্য অ্যামাজনের বিরুদ্ধে একচেটিয়া ক্ষমতা ধরে রাখতে বেআইনি কৌশল ব্যবহারের অভিযোগে মামলা করে। ২০২৪ সালে মার্কিন সিনেট শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিয়ে একটি বিল ৯১–৩ ভোটে অনুমোদন করে, যদিও সেই কংগ্রেসে বিলটি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে “গেটকিপার” হিসেবে চিহ্নিত করে নতুন বাধ্যবাধকতা আরোপ করে; ২০২৫ সালে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্ট ভঙ্গের দায়ে অ্যাপলকে ৫০ কোটি ইউরো এবং মেটাকে ২০ কোটি ইউরো জরিমানা করা হয়।

এই পদক্ষেপগুলো নিখুঁত ছিল না। অনলাইন নিরাপত্তার নামে অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় নজরদারি বা মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের বাস্তব ঝুঁকি আছে। কিন্তু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরোধিতা শুধু নাগরিক স্বাধীনতার উদ্বেগ থেকে এসেছে—এ কথা বিশ্বাস করা কঠিন। তাদের নিজেদের আর্থিক প্রতিবেদনে নতুন গোপনীয়তা, প্রতিযোগিতা, শিশু সুরক্ষা ও কনটেন্টবিষয়ক আইনকে ব্যবসার ব্যয় ও মুনাফার ঝুঁকি হিসেবে দেখানো হয়েছে।

প্রশ্নটি এখানেই: যে নিয়ম মানুষের তথ্য, প্রতিযোগিতা বা শিশুদের সুরক্ষার জন্য তৈরি, তা কোম্পানির মুনাফা কমালে তারা কোন পক্ষের রাজনীতি বেছে নেবে?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হিসাব বদলে দিল

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু একটি চ্যাটবট নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিপুলসংখ্যক উন্নত চিপ, ডেটা সেন্টার, বিদ্যুৎ, পানি, জমি ও উচ্চক্ষমতার সঞ্চালনব্যবস্থা। অর্থাৎ এআইয়ের ভবিষ্যৎ তথাকথিত “মুক্ত” ডিজিটাল জগতে নয়; তা নির্ভর করছে বাস্তব অবকাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় অনুমতির ওপর।

জো বাইডেনের ২০২৩ সালের নির্বাহী আদেশ এআইয়ের নিরাপত্তা, বৈষম্য, শ্রম, প্রতিযোগিতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি কাঠামো তৈরি করতে চেয়েছিল। বাইডেন প্রশাসনও এআই অবকাঠামো নির্মাণের বিরোধী ছিল না; ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আরেকটি আদেশে ফেডারেল জমিতে ডেটা সেন্টার গড়ার পথ রাখা হয়। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, প্রতিযোগিতা এবং অবকাঠামোগত দায়ের মতো শর্তও ছিল।

ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প দ্রুত আগের এআই নীতির বড় অংশ প্রত্যাহার বা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। জুলাই ২০২৫-এর তাঁর এআই অ্যাকশন প্ল্যানের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল “নিয়ন্ত্রক বাধা” সরানো, ডেটা সেন্টারের অনুমোদন দ্রুত করা এবং ফেডারেল জমি ও সম্পদ ব্যবহার করে অবকাঠামো সম্প্রসারণ। প্রযুক্তিশিল্পের বিভিন্ন সংগঠন প্রকাশ্যেই এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানায়।

এখানে ডানপন্থার আকর্ষণটি স্পষ্ট হয়। এআই কোম্পানিগুলোর সামনে এমন এক সরকার হাজির হলো, যে শুধু কম নিয়ন্ত্রণের কথা বলছে না; তাদের জন্য জমি, বিদ্যুৎ, দ্রুত অনুমোদন ও সরকারি ক্রয়ের বাজারও প্রস্তুত করছে। “ছোট সরকার” কথাটি তাই বাস্তবে রাষ্ট্রের অনুপস্থিতি বোঝায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে তার অর্থ—জনগণের ওপর নজরদারি ও ব্যয়সংকোচনে শক্তিশালী রাষ্ট্র, কিন্তু বড় পুঁজির জন্য সহায়ক রাষ্ট্র।

তারা কি সত্যিই সব নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আচরণ দেখলে বোঝা যায়, তারা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের বিরোধী নয়। সরকার যদি তাদের গবেষণায় অর্থ দেয়, অবকাঠামো নির্মাণ সহজ করে, প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগ করে অথবা তাদের প্রযুক্তি কিনে নেয়, সেই রাষ্ট্র তখন উদ্ভাবনের সহায়ক। কিন্তু একই সরকার তথ্য সুরক্ষা, শ্রমের অধিকার, শিশু নিরাপত্তা, পরিবেশ বা একচেটিয়া বাজার নিয়ে শর্ত দিলে সেটিই স্বাধীনতার শত্রু হয়ে যায়।

এই দ্বৈত অবস্থানকে শুধু ভণ্ডামি বললে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব ধরা পড়ে না। বড় কোম্পানি এমন নিয়ম চায়, যা নতুন ও ছোট প্রতিযোগীর বাজারে প্রবেশ কঠিন করবে কিন্তু প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখবে। জটিল অনুমোদন ও ব্যয়বহুল compliance ব্যবস্থা কখনো কখনো বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধাও তৈরি করতে পারে, কারণ সেই খরচ বহনের সামর্থ্য তাদের আছে; ছোট প্রতিষ্ঠানের নেই। আবার নিয়ম একেবারেই না থাকলে বাজারের প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নিজের প্ল্যাটফর্ম, তথ্য ও অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করে প্রতিযোগিতা ঠেকাতে পারে।

তাই আসল দ্বন্দ্ব “রাষ্ট্র বনাম বাজার” নয়। প্রশ্ন হলো, রাষ্ট্র কার স্বার্থে এবং কী ধরনের নিয়ম তৈরি করছে। জনস্বার্থের নিয়ন্ত্রণ কি নাগরিক, শ্রমিক ও ছোট প্রতিযোগীকে সুরক্ষা দিচ্ছে, নাকি ক্ষমতাবান কোম্পানির জন্য বাজার সাজিয়ে দিচ্ছে? প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের রাজনৈতিক অবস্থান বুঝতে এই প্রশ্নটি মতাদর্শের ঘোষণার চেয়ে বেশি কার্যকর।

ভোট, অনুদান ও নতুন ভাষা

ইলন মাস্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিবর্তনটি সবচেয়ে সরাসরি। ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের নথি বিশ্লেষণ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প ও অন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের সহায়তায় মাস্ক অন্তত ২৮৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন। অন্য প্রযুক্তি নেতাদের অবস্থান ছিল বেশি সতর্ক। কিন্তু মেটা ও অ্যামাজন—দুটি কোম্পানিই ট্রাম্পের ২০২৫ সালের অভিষেক তহবিলে ১০ লাখ ডলার করে দেয়।

একই সময়ে ভাষাও বদলায়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মেটা যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় পক্ষের তথ্য যাচাই কর্মসূচি বন্ধ করে “কম ভুল, বেশি বক্তব্য”-এর নামে কমিউনিটি নোটস চালুর ঘোষণা দেয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কিন্তু কোনো প্ল্যাটফর্ম যখন বিজ্ঞাপন, অ্যালগরিদম ও তথ্যের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখে, তখন তার “স্বাধীনতা” সাধারণ ব্যবহারকারীর স্বাধীনতার সমান নয়। কোম্পানির জন্য এর অর্থ হতে পারে কম তদারকি, কম দায় এবং বেশি সম্পৃক্ততা থেকে বেশি বিজ্ঞাপন আয়।

ডানপন্থী সাংস্কৃতিক ভাষা এখানে কার্যকর আবরণ দেয়। “সেন্সরশিপ”, “ওয়োক মতাদর্শ” বা “মুক্তবাজার”—এই শব্দগুলো বাস্তব উদ্বেগকে স্পর্শ করে বলেই জনপ্রিয়। কিন্তু এগুলোর আড়ালে যদি সরকারি চুক্তি, করসুবিধা, একচেটিয়া বাজার এবং পরিবেশগত ছাড়ের হিসাব চাপা পড়ে, তবে আমরা রাজনীতির দৃশ্য দেখি, চালিকাশক্তি দেখি না।

ষড়যন্ত্র নয়, স্বার্থের সমীকরণ

সব প্রযুক্তি কোম্পানি একটি গোপন কক্ষে বসে একযোগে ডানদিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন প্রমাণ নেই। প্রয়োজনও নেই। একই ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রায়ই আলাদা কোম্পানিকে একই রাজনৈতিক দিকে ঠেলে দেয়।

নিয়ন্ত্রণ মুনাফা কমাতে পারে। এআইয়ের অবকাঠামো রাষ্ট্র ছাড়া দ্রুত গড়া কঠিন। সরকারি সংস্থা ও প্রতিরক্ষা খাত বড় ক্রেতা। আর নির্বাচিত সরকার কর, চুক্তি, মামলা, জমি, বিদ্যুৎ ও অনুমতির নিয়ম বদলাতে পারে। ফলে ক্ষমতার কাছে যাওয়াই ব্যবসায়িক কৌশল হয়ে ওঠে।

তাই প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের ডানমুখী যাত্রাকে শুধু নৈতিক ভণ্ডামি বললে বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ থাকে। মূল বিষয় হলো পুঁজির রাজনৈতিক অভিযোজন। যে পক্ষ ব্যবসার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক রাষ্ট্র তৈরি করতে পারে, পুঁজি তার ভাষা শিখে নেয়।

বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

বাংলাদেশে এআই, ক্লাউড সেবা, ডিজিটাল পরিচয়, নজরদারি প্রযুক্তি এবং সরকারি তথ্যব্যবস্থা দ্রুত বিস্তৃত হবে। এগুলো প্রয়োজনীয়ও হতে পারে। কিন্তু “ডিজিটাল আধুনিকায়ন” যেন সরকারি সক্ষমতা ভেঙে কয়েকটি দেশি বা বিদেশি কোম্পানির স্থায়ী বাজার তৈরির প্রকল্প না হয়।

প্রতিটি বড় প্রযুক্তি চুক্তির আগে আমাদের জানতে হবে: তথ্যের মালিক কে, অ্যালগরিদমের জবাবদিহি কার কাছে, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর ব্যয় কে বহন করবে, শ্রমিকের কী হবে, এবং চুক্তি শেষ হলে রাষ্ট্র নিজে সেবাটি চালাতে পারবে কি না। দরকার স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা, স্বাধীন নিরীক্ষা, পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং সরকারি প্রযুক্তিগত দক্ষতা।

প্রযুক্তি কখনো শুধু প্রযুক্তি নয়। তার পেছনে থাকে জমি, শ্রম, বিদ্যুৎ, তথ্য, কর এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা আমাদের একটি সরল শিক্ষা দেয়: বিলিয়নিয়ারদের রাজনৈতিক ভাষা শুনলেই হবে না; সেই ভাষার পেছনে অর্থ কোথায় যাচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে।

তথ্যসূত্র

- [U.S. Department of Energy: The History of the Electric Car](https://www.energy.gov/articles/history-electric-car)

- [Federal Trade Commission: FTC Sues Amazon for Illegally Maintaining Monopoly Power](https://www.ftc.gov/news-events/news/press-releases/2023/09/ftc-sues-amazon-illegally-maintaining-monopoly-power)

- [U.S. Congress: Kids Online Safety and Privacy Act—Actions and Senate Vote](https://www.congress.gov/bill/118th-congress/senate-bill/2073/all-actions)

- [European Commission: Apple and Meta in Breach of the Digital Markets Act](https://digital-markets-act.ec.europa.eu/commission-finds-apple-and-meta-breach-digital-markets-act-2025-04-23_en)

- [Federal Register: Executive Order 14110 on Safe, Secure and Trustworthy AI](https://www.federalregister.gov/documents/2023/11/01/2023-24283/safe-secure-and-trustworthy-development-and-use-of-artificial-intelligence)

- [Federal Register: Executive Order 14141 on AI Infrastructure](https://www.federalregister.gov/documents/2025/01/17/2025-01395/advancing-united-states-leadership-in-artificial-intelligence-infrastructure)

- [The White House: Removing Barriers to American Leadership in AI](https://www.whitehouse.gov/presidential-actions/2025/01/removing-barriers-to-american-leadership-in-artificial-intelligence/)

- [The White House: America’s AI Action Plan](https://www.whitehouse.gov/releases/2025/07/white-house-unveils-americas-ai-action-plan/)

- [Meta: More Speech and Fewer Mistakes](https://about.fb.com/news/2025/01/meta-more-speech-fewer-mistakes/)

- [U.S. Securities and Exchange Commission: Meta 2025 Annual Report](https://www.sec.gov/Archives/edgar/data/1326801/000162828026003942/meta-20251231.htm)

- [U.S. Securities and Exchange Commission: Amazon 2025 Annual Report](https://www.sec.gov/Archives/edgar/data/1018724/000101872426000004/amzn-20251231.htm)

- [Federal Election Commission: Trump–Vance Inaugural Committee](https://www.fec.gov/data/committee/c00894162/)

- [ABC News: Trump–Vance Inaugural Contributions from Major Technology Firms](https://abcnews.go.com/US/trump-vance-inaugural-committee-track-raise-record-amount/story?id=116918692)

- [The Washington Post: Elon Musk Donated $288 Million in the 2024 Election](https://www.washingtonpost.com/politics/2025/01/31/elon-musk-trump-donor-2024-election/)

- [I found Something](https://youtu.be/mZiELTgv008?si=_HXw9FY08-Wtzca4)

#প্রযুক্তি_বিলিয়নিয়ার #সিলিকন_ভ্যালি #কৃত্রিম_বুদ্ধিমত্তা #ডোনাল্ড_ট্রাম্প #মার্কিন_রাজনীতি #ডিজিটাল_অর্থনীতি #কর্পোরেট_স্বার্থ #প্রযুক্তি_নীতি
Mashrur Wahid

About the Author

Mashrur Wahid

Service

Just a guy who likes stuff

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast