কমরেড অনিন্দ্য শুভ্র তাঁর “কমিউনিজম ও কমরেড জোসেফ স্তালিন” লেখায় সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসকে মূলত এক অবিচ্ছিন্ন বিজয়যাত্রা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সেখানে স্তালিনকে সমাজতন্ত্রের নির্মাতা, সোভিয়েত উন্নয়নের স্থপতি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রধান নায়ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু মার্কসবাদীদের কাছে ইতিহাসের প্রশ্ন কেবল কী অর্জিত হয়েছিল তা নয়; কীভাবে অর্জিত হয়েছিল, কোন সামাজিক শক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল, এবং সেই প্রক্রিয়ায় কোন নতুন দ্বন্দ্বের জন্ম হয়েছিল সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব নিঃসন্দেহে মানব ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা। প্রথমবারের মতো শ্রমিকশ্রেণি ক্ষমতা দখল করে একটি নতুন ধরনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। ভূমির জাতীয়করণ, উৎপাদনের উপায়ের সামাজিক মালিকানা, পরিকল্পিত অর্থনীতি এবং শ্রমিকশ্রেণির রাজনৈতিক শাসনের ভিত্তিতে মানবমুক্তির এক নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়েছিল। কিন্তু বিপ্লবের উত্তরাধিকারকে রক্ষা করতে হলে তার অর্জনের পাশাপাশি তার সংকট, বিকৃতি এবং পরাজয়ের কারণগুলোকেও বুঝতে হবে।
অক্টোবর বিপ্লবের পর সোভিয়েত রাষ্ট্র জন্ম নেয় এক ভয়াবহ পশ্চাৎপদ দেশে। গৃহযুদ্ধ, বিদেশি হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক ধ্বংস, শ্রমিকশ্রেণির সংখ্যাগত ক্ষয় এবং ইউরোপীয় বিপ্লবগুলির—বিশেষত জার্মান বিপ্লবের—পরাজয় সোভিয়েত রাষ্ট্রকে ক্রমশ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে একটি বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত আমলাতান্ত্রিক স্তরের উত্থান ঘটে। লেনিন তাঁর জীবনের শেষ পর্যায়েই এই বিপদের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। শ্রমিক ও কৃষক পরিদর্শন দপ্তরের ব্যর্থতা, রাষ্ট্রযন্ত্রের ৎসারতান্ত্রিক উত্তরাধিকার এবং পার্টির ক্রমবর্ধমান আমলাতান্ত্রিকীকরণ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর শেষ রাজনৈতিক সংগ্রামগুলির একটি ছিল এই আমলাতান্ত্রিক প্রবণতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম। এই প্রশ্নে ত্রৎস্কির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ঐক্যও গড়ে উঠছিল।
ত্রৎস্কির মতে, ব্যক্তি স্তালিন এই আমলাতন্ত্রের কারণ নয়, তার সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক প্রতিনিধি ছিলেন। স্তালিনবাদের উৎস কোনো ব্যক্তির চরিত্রে নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সামাজিক স্তরের উত্থানে। সোভিয়েত রাষ্ট্রের অবক্ষয় বুঝতে হলে তাই স্তালিনের নেতৃত্বে এই প্রতিবিপ্লবী সামাজিক প্রবণতাকে চিহ্নিত করতে হবে। এই কারণেই বলশেভিকবাদ, অক্টোবর বিপ্লব এবং পরবর্তী স্তালিনবাদকে এক জিনিস হিসেবে দেখা ইতিহাস বিকৃতির ফল। বলশেভিক বিপ্লব শ্রমিকশ্রেণির ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছিল; স্তালিনবাদ সেই শ্রমিক রাষ্ট্রের উপর একটি আমলাতান্ত্রিক পরজীবী স্তরের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।
স্তালিনবাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল শ্রমিকশ্রেণির রাজনৈতিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া। সোভিয়েত ব্যাবস্থা, যা অক্টোবর বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রমিকশ্রেণির শাসনের যন্ত্রে পরিণত হয়েছিল ও অগ্রণী পার্টি ক্রমশ আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের অধীনস্থ হয়ে পড়ে। পার্টির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ও শ্রমিকশ্রেণি রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক মালিক হয়ে থাকলেও বাস্তব রাজনৈতিক ক্ষমতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মস্কো বিচার, পুরনো বলশেভিকদের নির্মূলীকরণ, বাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং লাল ফৌজের নেতৃত্বের ব্যাপক শুদ্ধি অভিযান এই প্রক্রিয়ার চরম প্রকাশ ছিল।
এই কারণেই ত্রৎস্কি সোভিয়েত ইউনিয়নকে একটি “অধঃপতিত শ্রমিক রাষ্ট্র” হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। অক্টোবর বিপ্লবের সামাজিক ভিত্তি—জাতীয়কৃত সম্পত্তি, পরিকল্পিত অর্থনীতি, উৎপাদনের উপায়ের সামাজিক মালিকানা—তখনও টিকে ছিল; কিন্তু তার উপর একটি আমলাতান্ত্রিক কাস্ট শাসন করছিল।
কিন্তু স্তালিনবাদের ঐতিহাসিক ভূমিকা কেবল সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালের মধ্যেও এক মৌলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। বলশেভিকবাদের কেন্দ্রীয় নীতি ছিল শ্রমিকশ্রেণির স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক বিপ্লব এবং নিরন্তর বিপ্লবের কৌশল। স্তালিনবাদ ক্রমশ এই পথ থেকে সরে গিয়ে “এক দেশে সমাজতন্ত্র”-এর তত্ত্ব গ্রহণ করে। আন্তর্জাতিক বিপ্লব আর বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের কৌশলগত কেন্দ্র রইল না; লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল সোভিয়েত আমলাতন্ত্রের নিরাপত্তা।
এর ফল সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যায় চীনা বিপ্লবে। ১৯২৫-২৭ সালের বিপ্লবের সময় কমিউনিস্ট পার্টিকে বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাঙের অধীনস্থ করা হয়। শ্রমিকশ্রেণির স্বাধীন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিবর্তে তাদের “জাতীয় ঐক্য”-র নামে বুর্জোয়া নেতৃত্বের অনুসারী হতে বলা হয়। ত্রৎস্কি সতর্ক করেছিলেন যে এটি মেনশেভিক রাজনীতির পুনরুজ্জীবন। ১৯২৭ সালে চিয়াং কাই-শেক সাংহাইয়ে হাজার হাজার কমিউনিস্ট ও শ্রমিককে হত্যা করলে সেই সতর্কবার্তা ভয়াবহভাবে সত্য প্রমাণিত হয়।
চীনের অভিজ্ঞতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। অ্যাংলো-রাশিয়ান কমিটি, কুওমিনতাঙের সঙ্গে জোট, পরবর্তীকালে পপুলার ফ্রন্ট, সব ক্ষেত্রেই একই রাজনৈতিক যুক্তি কাজ করেছে: শ্রমিকশ্রেণির স্বাধীন বিপ্লবী ভূমিকাকে বুর্জোয়া বা ক্ষুদ্র-বুর্জোয়া শক্তির স্বার্থের অধীনস্থ করা। এই কারণেই ত্রৎস্কি স্তালিনবাদের মধ্যে মেনশেভিকবাদের পুনরুত্থান দেখেছিলেন। বলশেভিক শব্দাবলী বজায় রেখেও তার রাজনৈতিক বিষয়বস্তু ক্রমশ মেনশেভিক হয়ে উঠছিল।
জার্মানিতে এই নীতির আরেকটি বিপর্যয়কর রূপ দেখা যায়। কমিউনিস্ট ও সমাজ-গণতন্ত্রী শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের পরিবর্তে “সোশ্যাল ফ্যাসিজম” তত্ত্বের মাধ্যমে শ্রমিকশ্রেণিকে বিভক্ত করা হয়। ত্রৎস্কি বারবার সতর্ক করেছিলেন যে এই নীতি হিটলারের বিজয়ের পথ প্রশস্ত করবে। ১৯৩৩ সালে নাৎসিদের ক্ষমতা দখল সেই সতর্কবার্তার ঐতিহাসিক সত্যতা প্রমাণ করে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শ্রমিক আন্দোলন কার্যত লড়াই ছাড়াই ধ্বংস হয়ে যায়।
এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নেওয়ার পরিবর্তে কমিন্টার্ন আবার উল্টো দিকে মোড় নেয়। পপুলার ফ্রন্টের নামে “প্রগতিশীল” বুর্জোয়া শক্তির সঙ্গে জোট গড়ে ফ্রান্স ও স্পেনে শ্রমিকশ্রেণির স্বাধীন বিপ্লবী রাজনীতিকে দমন করা হয়। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পরিবর্তে বুর্জোয়া গণতন্ত্র রক্ষাকে প্রধান লক্ষ্য বানানো হয়। আন্তর্জাতিক বিপ্লবের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমঝোতা এবং আমলাতন্ত্রের বিশেষ সুযোগ সুবিধের প্রতিরক্ষা কেন্দ্রীয় প্রশ্নে পরিণত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও স্তালিনবাদ আন্তর্জাতিক বিপ্লবের পথ ছেড়ে সাম্রাজ্যবাদী “গণতান্ত্রিক মিত্রশক্তি”-র উপর নির্ভরতার নীতি গ্রহণ করেছিল। ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের সাম্রাজ্যবাদী শক্তির মধ্যে স্তালিন গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা খুঁজে পেলেন, যেমন আজ ভারতের বহু স্তালিনবাদী ও সংস্কারবাদী শক্তি কংগ্রেস বা উদারপন্থী বুর্জোয়া জোটের মধ্যে “ফ্যাসিবাদবিরোধী” ভরসা খুঁজে পায়। ভারতের স্তালিনবাদীরাও ১৯৪২-এর আগস্ট আন্দোলনের বিপ্লবী সম্ভাবনাকে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণঅভ্যুত্থান হিসেবে না দেখে সোভিয়েত আমলাতন্ত্রের যুদ্ধনীতির স্বার্থে তাকে খাটো করেছিল। সাম্রাজ্যবাদী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে “গণতন্ত্র রক্ষার যুদ্ধ” আখ্যা দিয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকেও সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছিল। যারা যুদ্ধের বিরোধিতা করলেন, তাঁদের “ফ্যাসিস্ট সহযোগী” পর্যন্ত বলা হল।
অথচ নতুন বিভীষিকার আমদানি হলো, মলোটভ-রিবেন্ত্রফ চুক্তি। আন্তর্জাতিক বিপ্লবের সম্ভাবনা ও যুদ্ধের অভিঘাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হিটলারকে শান্ত রাখার নীতি নেওয়া হল। সোভিয়েত উৎপাদন থেকে কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জার্মানির দিকে প্রবাহিত হল, এই আশায় যে নাৎসি আগ্রাসন এড়ানো যাবে। কিন্তু ইতিহাস নির্মমভাবে দেখিয়ে দিল, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস তাকে থামায় না। অবশেষে হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করল।
সেই সময়েও আমলাতন্ত্র লাল ফৌজ ও সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ভেতরে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমনেই ব্যস্ত ছিল। লাল ফৌজের মধ্য থেকে তখন ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে ত্রৎস্কির অনুসারীদের ধরে ধরে মৃত্যু দণ্ড দিতে ব্যস্ত ছিল আমলাতন্ত্র। তবুও, সমস্ত আমলাতান্ত্রিক বিকৃতি সত্ত্বেও, শ্রমিক রাষ্ট্রের সামাজিক ভিত্তি ও বিপ্লবের ঐতিহ্যই সোভিয়েত জনগণকে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম করেছিল।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয় নিঃসন্দেহে মানবজাতির এক মহান অর্জন। কিন্তু সেই বিজয়কে স্তালিনের ব্যক্তিগত কৃতিত্বে পরিণত করা ইতিহাসের বিকৃতি। বিজয়ের উৎস ছিল অক্টোবর বিপ্লবের সামাজিক অর্জন—জাতীয়কৃত অর্থনীতি, পরিকল্পিত উৎপাদন, এবং শ্রমিক রাষ্ট্রের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা শিল্পায়ন। সেই সঙ্গে ছিল কোটি কোটি শ্রমিক, কৃষক, নারী, যুবক ও সৈনিকের আত্মত্যাগ। লাল ফৌজের বিজয় ছিল শ্রমিক রাষ্ট্রের সামাজিক ভিত্তির বিজয়, কোনো ব্যক্তিপূজার নয়।
ত্রৎস্কি সতর্ক করেছিলেন যে আমলাতন্ত্র হয় শ্রমিকশ্রেণির রাজনৈতিক বিপ্লবের মাধ্যমে উৎখাত হবে, নয়তো একসময় নিজেই পুঁজিবাদী পুনঃপ্রতিষ্ঠার বাহকে পরিণত হবে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং পরবর্তী পুঁজিবাদী পুনঃপ্রতিষ্ঠা সেই সতর্কবার্তারও ঐতিহাসিক সত্যতা প্রমাণ করেছে। যারা একসময় “সমাজতন্ত্র”-এর নামে শাসন করছিল, তারাই পরবর্তীকালে ব্যক্তিগত মালিকানা ও বাজার পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রধান বাহকে পরিণত হয়।
অতএব মার্কসবাদীদের কাছে সোভিয়েত ইতিহাসের শিক্ষা দ্বিমুখী। অক্টোবর বিপ্লব মানবমুক্তির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অগ্রগতিগুলির একটি; কিন্তু স্তালিনবাদ ছিল সেই বিপ্লবের উপর ভর করে ওঠা এক আমলাতান্ত্রিক অবক্ষয়। বিপ্লবের ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হলে তার অর্জন ও তার বিকৃতি উভয়কেই স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। শ্রমিকশ্রেণির গণতান্ত্রিক ক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বিপ্লব, এবং শ্রমিকশ্রেণির স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব—এই বলশেভিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার না করতে পারলে অক্টোবর বিপ্লবের প্রকৃত শিক্ষাকে ধারণ করা সম্ভব নয়।
About the Author
Sankalpa
মজদুরের নিয়মিত লেখকশিক্ষার্থী
বই পড়ি, প্রশ্ন করি, তর্ক করি। সাহিত্য, ইতিহাস আর রাজনীতি নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি। বিশেষ করে সমাজকে তার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব, পরিবর্তন ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। জটিল বিষয়কে সহজ করে বোঝার চেয়ে, তাকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাটাকেই বেশি মূল্য দিই।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন