**বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট: ফ্যাসিবাদের উত্তরকাল, উগ্রবাদের উত্থান এবং বামপন্থী বিপ্লবের রণকৌশল**
### ১. ভূমিকা: নাৎসি পূর্ব জার্মানির ছায়া ও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা
আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মানচিত্রের দিকে তাকালে এক গভীর হাহাকার ও চরম অনিশ্চয়তা দৃশ্যমান হয়। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর যে ঐতিহাসিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনো সাধারণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। বরং এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক গভীর সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তোলা দ্রব্যমূল্য, নিয়মিত লোডশেডিং, ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বা উদাসীনতায় মৌলবাদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা—সব মিলিয়ে বাংলাদেশ আজ এক মহা সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে।
ইতিহাসের ছাত্রমাত্রই জানেন যে, বুর্জোয়া ব্যবস্থার চরম পচন এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয় যখন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন সমাজ এক ধরনের ঐতিহাসিক শূন্যতার মুখোমুখি হয়। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে হিটলারের উত্থানের প্রাক্কালে নাৎসি পূর্ব জার্মানির সমাজেও ঠিক এমন এক নৈরাজ্যময় পরিস্থিতি বিরাজ করেছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা, জনগণের মধ্যে জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং বুর্জোয়া রাজনীতির দেউলিয়াপনা সেদিন উগ্র ফ্যাসিবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলোর পথ প্রশস্ত করে দিয়েছিল। আজকের বাংলাদেশ যেন ঠিক সেই নাৎসি পূর্ব জার্মানিরই এক সমকালীন ও রূপক প্রতিচ্ছবি।
এই চরম সংকটময় পরিস্থিতি কোনো স্থায়ী স্থবিরতা নয়; বরং এটি একটি আসন্ন বিপ্লবের গর্ভকাল। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তখন সমাজ অনিবার্যভাবে এক পরিবর্তনের মোহনায় এসে উপস্থিত হয়। প্রশ্ন হলো—এই পরিবর্তন বা বিপ্লব কারা সংগঠিত করবে? বুর্জোয়াদের লেজুড়বৃত্তি করা দলগুলো, নাকি প্রগতিশীলতার মোড়কে লুকিয়ে থাকা সুবিধাবাদীরা? বর্তমান বাংলাদেশে ডানপন্থী ও উগ্র ইসলামপন্থী শক্তিগুলো যেভাবে সংগঠিত হচ্ছে, তাতে তারা নিজেদের এই বিপ্লবের সম্ভাব্য চালিকাশক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। একজন মার্ক্সবাদী হিসেবে আমাদের কেবল তাদের ‘প্রতিক্রিয়াশীল’ তকমা দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না; বরং তাদের বর্তমান সাংগঠনিক শক্তি, আদর্শিক দৃঢ়তা এবং মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। তারা আজ গতানুগতিক প্রতিক্রিয়াশীলতার গণ্ডি পেরিয়ে এক ভয়ংকর ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক ব্লকে রূপ নিয়েছে, যা গোটা দেশকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
### ২. প্রতিপক্ষের মূল্যায়ন: ডানপন্থী ও উগ্র ইসলামপন্থী ধারার অভ্যন্তরীণ বিন্যাস ও কৌশল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দানে বর্তমানে যে ডানপন্থী ও উগ্র ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান ঘটেছে, তাদের হালকা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তারা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এবং তাদের কার্যক্রমে এক ধরনের আদর্শিক ও সামরিক দ্বৈততা লক্ষ্য করা যায়। এই শক্তিগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামো মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত:
#### ক. বুদ্ধিবৃত্তিক ও তাত্ত্বিক ধারা
এই অংশটি সরাসরি ভাঙচুর বা হঠকারিতায় বিশ্বাস করে না। তারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘমেয়াদী প্রচার-প্রচারণা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা এবং কাউন্টার-হেজিেমনি বা পাল্টা আধিপত্য তৈরির কাজে নিয়োজিত। সমাজে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য তারা ইতিহাস বিকৃতি, ধর্মীয় আবেগ এবং জনরোষকে সুনিপুণভাবে ব্যবহার করছে। আসিফ আদনানসহ বেশ কয়েকজন ইসলামপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট ও বুদ্ধিজীবী বর্তমানে বাংলাদেশে একটি ইসলামী বিপ্লবের পটভূমির তাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, আসিফ আদনানের লেখা ‘মুসলিম বঙ্গ’ বইটির মতো সাহিত্য ও প্রকাশনাগুলো বর্তমান এ দেশের ইসলামপন্থীদের নিকট একটি আদর্শিক গাইড বা ম্যানিফেস্টোর রূপ নিয়েছে। তারা মানুষকে প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক উপায়ে মোটিভেটেড করে একটি চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছে।
#### খ. সশস্ত্র ও জঙ্গি চেতনা ধারা
তাত্ত্বিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক গোষ্ঠীর পাশাপাশি এর সমান্তরালে কাজ করছে একটি উগ্র সশস্ত্র অংশ। এরা দীর্ঘমেয়াদী প্রচার বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়। এরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর আদলে ও কৌশলে সশস্ত্র বিপ্লব বা অভ্যুত্থান সাধনে বিশ্বাসী। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ভেতর থেকে দুর্বল করে আকস্মিক আঘাত হেনে ক্ষমতা দখলই এদের মূল কৌশল। এই দুই ধারার চমৎকার সমন্বয় বা সিন্ডিকেট বর্তমানে ডানপন্থী রাজনীতিকে এক বিপজ্জনক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তবে এই শক্তির সামনেও কিছু অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দুর্বলতা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে:
* **বাঙালির দোদুল্যমান চরিত্র:** বাঙালির মনস্তত্ত্ব ও সংস্কৃতি এক জটিল দ্বান্দ্বিকতার মধ্য দিয়ে চলে। এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও তাদের মনস্তত্ত্বে আবহমানকাল ধরে লৌকিক সংস্কৃতি, সাম্যবাদী লোকায়ত চেতনা এবং জাতীয়তাবাদী পরিচয়ের এক গভীর শেকড় রয়েছে। ইসলামপন্থীরা ধর্মের মোড়কে রাজনীতি করার চেষ্টা করলেও সাধারণ বাঙালির সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দোদুল্যমান চরিত্র তাদের জন্য বড় বাধা। তারা মুখে ধর্মের কথা বললেও জীবনের দৈনন্দিন আচরণ ও অর্থনৈতিক স্বার্থের জায়গায় পুরোপুরি কোনো মৌলবাদী খোলসে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে বিপ্লবের পটভূমি তৈরিতে তাদের সাধারণ মানুষের মন জয় করতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
* **বিপরীতমুখী প্রতিরোধ শক্তিগুলোর অবস্থান:** ডানপন্থীদের এই উত্থানের বিরুদ্ধে মাঠে রয়েছে একাধিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। প্রথমত, পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের একটি সুপ্ত ও ধ্বংসাত্মক নেটওয়ার্ক; দ্বিতীয়ত, বর্তমান রাষ্ট্রক্ষমতা থাকা বিএনপি এবং তৃতীয়ত, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা প্রগতিশীল, উদার ও বামপন্থী গোষ্ঠীসমূহ। যদিও এই প্রতিরোধ শক্তিগুলো বর্তমানে বিভক্ত ও নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জর্জরিত, তবুও তাদের সম্মিলিত উপস্থিতি ডানপন্থীদের পথকে পুরোপুরি মসৃণ হতে দিচ্ছে না।
### ৩. প্রগতিশীল ও বাম ধারার আত্মমূল্যায়ন: হঠকারিতা বনাম সুসংগঠিত সংগ্রাম
যদি আমরা এই কালো বিষবাষ্পের সামনে হাত গুটিয়ে চুপ করে বসে থাকি, তবে খুব বেশি দিন সময় লাগবে না বাংলাদেশকে একটি নতুন আফগানিস্তানে পরিণত হতে। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও উগ্রবাদের কালো ছায়া আজ আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক আঙিনাকে গ্রাস করতে চাইছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের প্রগতিশীল ও কমিউনিস্ট ধারার রাজনৈতিক কর্মীদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, তা আজ গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে।
দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এ দেশের বামপন্থী ও প্রগতিশীল রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবাদ, লেজুড়বৃত্তি এবং খণ্ডিত চিন্তার শিকার। প্রতিক্রিয়াশীলদের মোকাবেলায় মাঝে মাঝে যে বিক্ষিপ্ত প্রতিরোধ দেখা যায়, তা অনেক সময় হঠকারিতায় পর্যবসিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কিছুদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসিফ আদনানদের একটি সেমিনার বা আয়োজনের বিরুদ্ধে কতিপয় বামপন্থী কর্মীর চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। মার্ক্সবাদী রাজনৈতিক দর্শনে এই ধরনের বিক্ষিপ্ত ও হঠকারী কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিরোধ নয়, বরং এক ধরনের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, যা দিনশেষে প্রতিক্রিয়াশীলদেরই সহানুভূতি কুড়াতে সাহায্য করে।
যখন মৌলবাদীরা লাঠি হাতে বা সশস্ত্র মহড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর কিংবা প্রগতিশীল কর্মসূচিতে হামলা চালাবে, তখন তার জবাব কেবল চেয়ার ভাঙচুর বা ফাঁকা স্লোগান দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন সুসংগঠিত, আদর্শিক ও সামরিকভাবে প্রস্তুত প্রতিরোধ। হঠকারিতা বিপ্লব আনে না; হঠকারিতা কেবল বিপ্লবের শক্তিকে অপচয় করে। আমাদের বুঝতে হবে যে, শত্রুর আদর্শকে ধ্বংস করতে হলে শুধু শারীরিক শক্তি নয়, বরং উচ্চতর রাজনৈতিক চেতনা ও সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামোর প্রয়োজন।
### ৪. বিপ্লবের মার্ক্সবাদী রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি
কমরেডগণ, ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো—কোনো বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বা দাতা গোষ্ঠী এ দেশের মেহনতি মানুষের মুক্তির সংগ্রামে এগিয়ে আসবে না। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ভারতীয় আধিপত্যবাদ কিংবা দেশীয় প্রতিক্রিয়াশীল চক্র—কারো সাথেই এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের কোনো মিল নেই। তাই এ দেশের জনগণের সংগ্রাম তাদের নিজেদেরকেই করতে হবে। এ দেশে প্রতি ১৮ থেকে ২০ বছর পর পর একটি করে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার ঐতিহ্য রয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিবাদবিরোধী উত্তরকালের এই রূপান্তরকে একটি পূর্ণাঙ্গ জনতান্ত্রিক বিপ্লবের রূপ দিতে হলে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপন্থা বা রণকৌশল অবলম্বন করতে হবে:
#### ১. তৃণমূলে সোভিয়েত বা সেল গঠন
বিশাল আকারের লোক দেখানো জনসভা বা মব পলিটিকস দিয়ে বিপ্লব সংগঠিত করা যায় না। প্রত্যেক কমিউনিস্ট ও বামপন্থী কর্মীর দায়িত্ব হবে নিজ নিজ এলাকায় সমমনা ও বিপ্লবী চেতনাসম্পন্ন মানুষদের নিয়ে ছোট ছোট গোপন বা উন্মুক্ত কমিটি বা 'সোভিয়েত' গঠন করা। বিশাল আকرের মিছিলের চেয়ে আদর্শগতভাবে দৃঢ়, আত্মত্যাগী এবং তাত্ত্বিকভাবে সচেতন একজন কর্মীর মূল্য অনেক বেশি। ভাড়ায় বা আবেগের বশে আসা কর্মী দিয়ে বিপ্লব হয় না; একমাত্র কমিউনিস্ট আদর্শে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত ক্যাডাররাই পারে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিনে সঠিক নেতৃত্ব দিতে।
#### ২. বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিক সংগ্রাম জোরদার করা
প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রোপাগাণ্ডার বিরুদ্ধে আমাদের অনলাইন ও অফলাইনে সমানতালে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়া, ব্লগ, লিফলেট, তাত্ত্বিক আলোচনা এবং পথনাটকের মাধ্যমে কমিউনিস্ট আদর্শকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট বুস্ট করা বা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে যুবসমাজকে জানাতে হবে কেন ডানপন্থী ও উগ্র মৌলবাদী রাজনীতি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনজীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অপপ্রচার ও উগ্র গালাগালি বা অশালীন মন্তব্যের বদলে রাজনৈতিক যুক্তির আলো দিয়ে তাদের বয়ানকে খণ্ডন করতে হবে।
#### ৩. যৌথ ও সুদৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলা
সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলমান সকল দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকতে হবে। প্রতিটি স্থানীয় সোভিয়েতের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব হবে নিজ এলাকায় কোনো ধরনের উগ্রবাদী হামলা বা ফ্যাসিবাদী তাণ্ডব চললে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিহত করা। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করে। আর যদি প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নীরব দর্শক হয়ে থাকে বা মৌলবাদীদের সাথে হাত মেলায়, তবে জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নিজ দায়িত্বে সেই ফ্যাসিবাদী শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।
### ৫. উপসংহার: বিজয়ের সুনিশ্চিত বার্তা
বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে পুরনো বুর্জোয়া ব্যবস্থার চরম পচন, অন্যদিকে উগ্র ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের থাবা। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে এ দেশের কোটি কোটি মেহনতি মানুষ, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ ছাত্রসমাজ।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ইতিহাসের চাকাকে পেছন দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার সাধ্য কোনো প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির নেই। সাময়িক উত্থান বা অন্ধকারের মধ্য দিয়ে গেলেও মানুষের মুক্তির চিরন্তন স্পৃহা একদিন বিস্ফোরিত হবেই। প্রয়োজন কেবল সঠিক সময়ে সঠিক নেতৃত্ব, সুসংগঠিত সোভিয়েত কাঠামো এবং আপসহীন বিপ্লবী চেতনা।
এ দেশের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানকে নিছক ক্ষমতা বদলের খেলায় পর্যবসিত হতে দেওয়া যাবে না; একে রূপান্তর করতে হবে একটি প্রকৃত 'জনতান্ত্রিক বিপ্লবে', যার মূল লক্ষ্য হবে শোষণের অবসান ঘটিয়ে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কমরেডগণ, পথ কঠিন ও কণ্টকাকীর্ণ, কিন্তু আমাদের বিজয় অনিবার্য। নিজেদের ওপর আস্থা রাখুন, জনগণের শক্তির ওপর ভরসা রাখুন।
লাল সেলাম!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ!
সাম্রাজ্যবাদ—মৌলবাদ—আধিপত্যবাদ মুর্দাবাদ!
About the Author
Sadat Rameen Ahmed
একজন অ্যানারকো কমিউনিস্ট বিপ্লবী । এছাড়া নগন্য পরিচয় : ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, লেখক ও কবি
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন