আমাদের আনসার্টেইনিটিকে এ্যাক্সেপ্ট করা দরকার।
আধুনিক জীবনের সমগ্র অবকাঠামো,বীমা, ক্রেডিট স্কোর, ক্যারিয়ার, পেনশন তহবিল, শরীরের চিকিৎসাগত নজরদারি,ডিজায়ারের অ্যালগরিদমিক পূর্বাভাস সবকিছুই এক বিশাল মেশিন, যার কাজ হলো নিশ্চয়তার উৎপাদন। অথচ এটি একটি ইলিউশন।নিশ্চয়তা কখনোই আসে না।
ভবিষ্যৎ সবসময়ই অস্পষ্ট থেকে যায়।কারণ রিয়ালিটির ন্যাচার এইরকম যে কখনো ডেফিনিটিভ কোন কনক্লুশনে পৌছানো পসিবল না।হেগেল এজন্যই বলছিলো,History is radically open.কিন্তু নিশ্চয়তার এই অনুসন্ধানই আমাদের কাজ করিয়ে যায়, ভোগ করিয়ে যায়, এবং আমাদের বাধ্য করে প্রতিটি সম্পর্ক, প্রতিটি সিদ্ধান্ত, প্রতিটি ঘণ্টাকে এমন এক বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে, যার থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা আদায় করতে হবে এবং সবকিছুকেই ট্রান্সেকশনাল ওয়েতে দেখতে হবে।ক্যাপিটালিজম আমাদের সাব্জেক্টিভিটিকে এভাবেই গড়ে তুলেছে।হিসাবকারী ব্যক্তি।
এমন একজন, যে প্রতিটি কাজের আগে প্রশ্ন করে, “এতে আমার কী লাভ হবে?” এমন একজন, যে সময়কে সম্পদ, সম্পর্ককে নেটওয়ার্ক, নিজেকে একটি ব্র্যান্ড, আর জীবনকে একটি বিনিয়োগ-তহবিল হিসেবে দেখে।
এই ব্যক্তি স্বাধীন কোন ব্যক্তিই না।আমি মাঝেমধ্যে বলি,তুমি মানুষ না ক্যালকুলেটর?তার এচিভমেন্ট কখনো যথেষ্ট বলে মনে হয় না,এংজাইটি কখনো শেষ হয় না।সে কখনো নিশ্চিত হতেই পারেনা যে সে "এনাফ" কী না।সে অবিরাম কাজ করে যায়,অবিরাম খরচ,ডেটিং এ্যাপে অবিরাম রাইট-লেফট সোয়াইপ।আর বিভিন্ন মেকি কোর্স করে নিজেকে "আপগ্রেড" করার চেষ্টা।
অনিশ্চয়তাকে আলিঙ্গন করা মানে এই ক্যালকুলেশনের বাইরে পা রাখা।মানে আনসার্টেইনিটিকে দূর করা সম্ভব না,এটা অন্টোলজিকালি ইম্পসিবল কিন্তু এর থেকে পালিয়ে বেড়ানো বন্ধ করতে হবে এবং এটিকে দেখতে হবে বেচে থাকার মৌলিক শর্ত হিসাবে।মানে কী হবে,যদি একটা কাজ করা হয় যেটাতে "লাভ-লস" এর হিসাব থাকবে না,বা আপনি যদি "অনিশ্চিত" থাকেন?সক্রিয়ভাবেই লেনদেনমূলক যুক্তির প্রত্যাখান করতে হবে।
এর অর্থ হচ্ছে এমন কিছু করা, যার ফল পাওয়ার আশা নেই। এর অর্থ কাউকে ভালোবাসা, কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই। এর অর্থ কিছু সৃষ্টি করা, না জেনেই যে কেউ তা দেখবে কি না। এর অর্থ সত্য বলা, এই হিসাব না কষে যে এর জন্য কী মূল্য দিতে হবে। এর অর্থ উপহার দেওয়া, কোনো প্রতিদান প্রত্যাশা না করে,এমনকি কৃতজ্ঞতাও নয়। এর অর্থ ফিউচারকে ফিউচারের মতই থাকতে দেওয়া,অস্পষ্ট, অজানা, নিয়ন্ত্রণহীন।অথোরেটেরিয়ানিজমের লজিক ই হচ্ছে সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা,ডিজায়ার এমনকি ফিউচারকেও।
ক্যাপিটালিজম আসলে আনসার্টেইনিটিকে ভীতিকর করে তুলেছে। নিয়ন্ত্রণের বিভ্রম ছাড়া বাঁচা মানে পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে বলে মনে হয়। কিন্তু বাস্তবে আমাদের জীবনে কখনো কোন গ্যারান্টি ছিলোই না।(২০০৮ ফাইনান্সিয়াল ক্রাইসিস,করোনা-২০২০)।
তাহলে এই অবস্থায় আমাদের সাব্জেক্টিভিটির অর্থ কী?
এর অর্থ হলো, ব্যক্তি আসলে কোন ক্যালকুলেটর না। ব্যক্তি হলো সেই সত্তা, যে সিদ্ধান্ত নিতে পারে হিসাব না করার। ব্যক্তি হলো সেই,যে মেশিন বা মার্কেট লজিকের বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে পারে বা একজনের যে অংশটি মার্কেট লজিকের সাথে ঠিক খাপ খায় না।যাকে রিস্ক-রিওয়ার্ড-ইনভেস্টমেন্ট এসব দিয়ে ব্যাখা করা পসিবল না। ক্যাপিটালিজম প্রতিটি মানুষকেই ফাংশন বানিয়ে ফেলতে চায় কিন্তু মানুষের কোন না কোন পার্ট এই ফাংশনালিটি রেজিস্ট করে।রেজিস্ট করে বলেই আমরা মেশিন না,হিউম্যান।এবং এই রেজিস্টান্সের ভেতরেই লুকিয়ে আছে ফ্রীডম।
পুঁজিবাদ এটিকেও বন্ধ করতে চায়।অফিসে আপনি ৯-৫ টা কাজের পরে বার্ন আউট ফিল করলে আপনি যাতে এটা ফিল না করেন তার জন্য ও করে রেখেছে নানা বন্দোবস্ত কিন্তু তাও তারা ফেইল করে।অনিশ্চয়তাকে আলিঙ্গন করা মানে উপরে বর্ননা করা রেজিস্টান্সকে ওউন করা।আমি ইন্ডিভিজ্যুয়ালিস্টিক কোন সল্যুশন দিচ্ছি না বা বলতেছিনা নাইভ হতে।মানে বাড়িওয়ালা এখনও ভাড়া চাইবে,আমাদের খাবার কিনতে গেলে টাকার দরকার,আমাদের এখনও মার্কেট লজিকেই ফাংশন করতে হবে।মার্কেটের আনুগত্য না করলে সে আমাদের দারিদ্রতার মাধ্যমে শাস্তি দিবে।কিন্তু এই
সিস্টেমের লজিকে চিন্তা করতে প্রত্যাখ্যান করা শুধু ব্যক্তিগত নয়।এটা একটা স্টেপ। যখন যথেষ্ট মানুষ মার্কেট লজিকে চিন্তা করতে অস্বীকার করবে, তখন এই যন্ত্রে ফাটল ধরতে শুরু করে। ধর্মঘট, কমিউন, পারস্পরিক সহায়তার নেটওয়ার্ক, উপহারের অর্থনীতি, এমন সব স্থান যেখানে মানুষ একে অপরের যত্ন নেয় খরচের হিসাব না কষেই,এসবই সেই জায়গা, যেখানে আনসার্টেইনিটিকে জয় করা হয় না, বরং ভাগ করে নেওয়া হয়।
এসবই এক ভিন্ন সাব্জেক্টিভিটি, এক ভিন্ন ইকোনমি, একটা অল্টারনেটিভ ভিশন।কিন্তু এটা একা একা সম্ভব না।We need collective action for this.
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন