অনেক হইছে উদ্যোক্তাগিরি। উদ্যোক্তা একটি সমস্যা দেখে এবং একটি পণ্য তৈরি করে।
ধরে নেওয়া যাক বাতাস দূষিত, তাই সে এমন একটি যন্ত্র তৈরি করে যা বাতাস পিউরিফাই করে।সে বিনিয়োগ সংগ্রহ করে, মানুষ ফান্ডিং দেয়, সমস্যার "সমাধান" বিক্রি করে এবং যারা এটি কেনার সামর্থ্য রাখে তাদের সবার কাছে এটি বিক্রি করে। সমস্যা ইটসেল্ফ একটি বাজারে পরিণত হয় এবং এই বাজারটি ক্রমশ বিস্তৃত হয়। উদ্যোক্তাকে উদ্ভাবক, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এবং দূরদর্শী হিসেবে উদ্যাপন করা হয়।কিন্তু বাতাস তখনও দূষিত থাকে,শুধু এখন এমন একটি যন্ত্র আছে যা কিনে আপনি নিজের ঘরের ভেতরে তুলনামূলক পিওর বাতাসে শ্বাস নিতে পারেন।
কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করে না কেন বাতাস দূষিত। অথবা বলা ভালো, প্রশ্নটি করা হয় বটে, কিন্তু এমনভাবে করা হয় যাতে সেই সিস্টেম হুমকির মুখে না পড়ে, যে সিস্টেম এই দূষণের জন্ম দিয়েছে।মেইন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় কীভাবে আমরা দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে পারি, অথচ যে ব্যবস্থা দূষণ তৈরি করছে তাকে অক্ষত রাখি কীভাবে?এগুলোর মুখোমুখি না হয়ে আমরা এয়ার পিউরিফায়ার নিয়ে আসি।এটি একটি রাজনৈতিক সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান। এটি একটি সামষ্টিক বিপর্যয়কে ব্যক্তিগত ভোগে রূপান্তরিত করে। আপনার যদি মেশিনটি কেনার সামর্থ্য থাকে, আপনি পরিষ্কার বাতাসে শ্বাস নেবেন। যদি সামর্থ্য না থাকে, আপনি দূষিত বাতাসেই শ্বাস নেবেন।একটা সিস্টেম্যাটিক ক্রাইসিসকে ইন্ডিভিজ্যুয়ালাইজ করা হয়।এটি ব্যক্তিগত দায়িত্ব, ব্যক্তিগত সম্পদ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পরিণত হয়। জনসাধারণের সমস্যা একটি ব্যক্তিগত বাজারে রূপ নেয়, আর সেই ব্যক্তিগত বাজার জনসাধারণের সমস্যার সমাধান না করেই তা থেকে মুনাফা অর্জন করে।
সবথেকে বড় বিষয় হলো, এয়ার পিউরিফায়ার দূষণ বন্ধ করে না। এটি কেবল একটি ঘরের ভেতরে বাতাস ছেঁকে দেয়। কারখানাতে তখনও কয়লা পুড়তেছে। গাড়ি তখনও কালো ধোঁয়া ছাড়তেছে।আইন-কানন একেবারেই কার্যকর করা হয় না।দূষণের উৎস বন্ধ করার রাজনৈতিক সদিচ্ছা তখনও অনুপস্থিত। কিন্তু এয়ার পিউরিফায়ারের উপস্থিতি মানুষকে দূষণের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।সিস্টেম যে পরিবর্তন করতে হবে সেটির চাপ এই মেশিনটা কমিয়ে দেয়।যাদের এটি কেনার সামর্থ্য আছে, তাদের জন্য এটি এক ধরনের পালানোর পথ তৈরি করে,আর যাদের সামর্থ্য আছে, সাধারণত রাজনৈতিক ক্ষমতাও তাদের হাতেই বেশি থাকে।যদি তারা নিজেদের ঘরে দূষণমুক্ত বাতাস পায়, তবে বাইরের বাতাস কী অবস্থাতে আছে সে বিষয়ে ও কম ভ্রুক্ষেপ করে।
পুজিবাদের অধীনে উদ্যোক্তাদের যুক্তি হচ্ছে সমস্যার কারণ কী এরা এই কোশ্চেন করে না।এই কোশ্চেন ও করেনা যে সমস্যার ফলে লাভবান কে হচ্ছে বা এই সমস্যা শেকড় থেকে সমাধান পসিবল কী না।তারা শুধু হিসাব করে এই সমস্যা থেকে কোন সুযোগ বের করা যায় কী না,কোন প্রফিট কামানো যায় কী না।কীভাবে মানুষের দূর্ভোগকে একটা "লাভজনক ব্যবসায়" পরিণত করা যায়।উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়াই হয় যে মানুষের দূর্যোগকে একটা প্রফিটেবল প্রজেক্টে রুপান্তরিত করতে।
যত বেশি দূষিত বাতাস,তত বেশি এয়ার পিউরিফায়ার,স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যত বেশি ভেঙে পড়বে তত বেশি বেসরকারি ক্লিনিক ব্যবসা,মানুষজন অর্থনৈতিক ভাবে দূর্দশা গ্রস্থ,ফিউচার নিয়ে আনসার্টেইন,তাই মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত,এই অবস্থাতে এসে হাজির হয় wellness app.এই ধরণের মুনাফার মধ্য দিয়েই সংকট জারি থাকে অথবা নতুন নতুন সংকট তৈরি হয়।
একজন উদ্যোক্তা হয়তো সত্যিকার অর্থেই মানুষের সমস্যাকে সমাধান করতে চান কিন্তু তিনি যে স্ট্রাকচারের আন্ডারে অপারেট করতেছেন সেই স্ট্রাকচার কখনোই চায় না সমস্যাগুলোকে এক্সিস্টান্সিয়ালি ডিল করা হোক।সমস্যা জিইয়ে রেখে এন্ডলেস মুনাফা করে যাওয়াটাই এটির লক্ষ্য।
এজন্য বাতাস দূষিত হলে আমাদের এয়ার পিউরিফায়ারের দরকার নাই।ওগুলো তোমাদের কাছে রেখে দাও।আমাদের দরকার এইরকম একটা সিস্টেম যা জিজ্ঞাসা করে,কেন বাতাস দূষিত হলো?কী কারণ?কম্প্রিহেনসিভ ইভালুয়েশনের মাধ্যমে আইন-কানন প্রণয়ন করা যাতে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন