যখন মন্দির প্রতিষ্ঠায় বাঁধা দেওয়া হবে, ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করা হবে, দেবতার ছবিতে জুতা মারা হবে, তখন স্বায়ত্তশাসনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।একে স্রেফ ষড়যন্ত্র হিসেবে না দেখে, রাষ্ট্রের কাঠামোগত ব্যর্থতা এবং সংখ্যাগুরু আধিপত্যবাদের ফল হিসেবেও দেখতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ করে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এই ধরনের সংখ্যালঘু সংকটকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। অবশ্যই এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যাতে সংখ্যালঘুদের যৌক্তিক ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতাকে কাজে লাগিয়ে কোনো বিদেশী শক্তি তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে না পারে।
এদেশে হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্বটি অপ্রধান দ্বন্দ্ব, যাকে শোষক শ্রেণী নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এবং জনগণের বিপ্লবী ঐক্যকে নস্যাৎ করতে ব্যবহার করে এবং সাম্প্রদায়িক কার্ড খেলে মেহনতি মানুষের দৃষ্টি মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে দেয়। আলাদা প্রদেশ বা ভূখণ্ড তৈরি করলেই নিপীড়ন বন্ধ হয় না। ভারত-পাকিস্তান বিভাজনই এর প্রমাণ। নিপীড়িত হিন্দু কৃষক-শ্রমিকের শত্রু সাধারণ মুসলিম কৃষক-শ্রমিক নয়; বরং শত্রু হলো সাম্রাজ্যবাদের এই দালাল রাষ্ট্র। তাই বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রকাঠামো ভাঙাই আসল সমাধান।
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন