গতকাল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন ছিলো (তবে কোনো কোনো সূত্রে ২৭ জুনের উল্লেখও মেলে) বাংলা সাহিত্যের এই বিতর্কিত ও বহুমাত্রিক পুরুষকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা করা বাতুলতা। ইতিমধ্যেই সাহিত্যের বহু মহারথীরা বহু আলোচনা করে গেছেন। কেননা বঙ্কিমচন্দ্র এমন এক ব্যক্তিত্ব, যাঁকে নিয়ে ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী থেকে মার্কসবাদী—সবাই-ই নিজ নিজ যুক্তিতে বিচার করতে চান। এই লেখায় তুলে ধরা হলো, মার্কসবাদী ও বামপন্থী ইতিহাসবিদ-সমালোচকরা সাধারণত বঙ্কিমচন্দ্রকে কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করেন।
১. ভদ্রলোক বুদ্ধিজীবী ও ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রযন্ত্রের দ্বন্দ্ব
মার্কসবাদী ইতিহাস রচনার একটি প্রধান প্রবণতা হলো শ্রেণি-অবস্থান থেকে সাহিত্য ও ইতিহাসকে দেখা। এই কাঠামোয় বঙ্কিমচন্দ্রকে বিশ্লেষণ করা হয় উনিশ শতকের কলকাতা-কেন্দ্রিক "ভদ্রলোক" শ্রেণির প্রতিনিধি হিসেবে—এই শ্রেণি ইংরেজি শিক্ষা নিয়ে ব্রিটিশ প্রশাসনে চাকরি করত, আইনজীবী-ডাক্তার-সাংবাদিক হতো, আর সেই সঙ্গে নিজেদের সাংস্কৃতিক নেতৃত্বও দাবি করত। মার্কসবাদী ইতিহাসবিদ সুমিত সরকার ও অন্যান্যদের লেখায় দেখানো হয়েছে, এই ভদ্রলোক শ্রেণিই বাংলার সাংস্কৃতিক-সাহিত্যিক উৎপাদনের প্রায় পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, এবং বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের মতো প্রতিভারা এই শ্রেণিরই ফসল।
এখানেই একটি বড় দ্বন্দ্বের কথা মার্কসবাদী সমালোচকরা তুলে ধরেন: বঙ্কিমচন্দ্র নিজে প্রায় তিন দশক ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে কাজ করেছেন—অর্থাৎ তিনি ছিলেন উপনিবেশী শাসনযন্ত্রের একজন প্রশাসক, আবার একই সঙ্গে তাঁর সাহিত্যে জাতীয়তাবাদী ও স্বদেশপ্রেমের সুর। এই দ্বৈত অবস্থান—একদিকে রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা, অন্যদিকে সাহিত্যে জাতির স্বপ্ন বোনা—মার্কসবাদী পাঠে শ্রেণি-চরিত্রের একটি কাঠামোগত বৈপরীত্য হিসেবে চিহ্নিত হয়। এটিকে অনেকে বলেন ভদ্রলোক বুদ্ধিজীবীর "ঔপনিবেশিক আপস" (colonial accommodation)—যেখানে প্রশাসনিক স্তরে সহযোগিতা আর সাংস্কৃতিক স্তরে প্রতিরোধ একসঙ্গে চলে।
২. পার্থ চ্যাটার্জী: "প্রস্থানের মুহূর্ত" এবং ডেরিভেটিভ ডিসকোর্স
ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উপর সবচেয়ে প্রভাবশালী মার্কসবাদী-গ্রামশিয়ান পাঠগুলোর একটি হলো পার্থ চ্যাটার্জীর Nationalist Thought and the Colonial World: A Derivative Discourse (১৯৮৬)। সাবঅল্টার্ন স্টাডিজ গোষ্ঠীর এই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইতালীয় মার্কসবাদী আন্তোনিও গ্রামশির তত্ত্ব ব্যবহার করে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ভাবনাকে তিনটি "মুহূর্তে" ভাগ করেছেন—বঙ্কিমচন্দ্রকে রেখেছেন "প্রস্থানের মুহূর্ত" (the moment of departure), গান্ধীকে "কৌশলের মুহূর্ত", আর নেহরুকে "আগমনের মুহূর্ত"-এ।
চ্যাটার্জীর যুক্তি হলো, বঙ্কিমচন্দ্র যে প্রকল্প হাজির করেছিলেন—পশ্চিমের বৈজ্ঞানিক-বস্তুগত শক্তি আয়ত্ত করে প্রাচ্যের "আত্মিক শ্রেষ্ঠত্ব" বজায় রাখা—তা মূলগতভাবে ইউরোপীয় জ্ঞানতাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যেই তৈরি, অর্থাৎ এটি একটি "ডেরিভেটিভ" বা উপজ ভাবাদর্শ, যা উপনিবেশের যৌক্তিক বিন্যাসকেই গভীরভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। গ্রামশির "প্যাসিভ রেভল্যুশন" ধারণা প্রয়োগ করে চ্যাটার্জী দেখান, এই জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শ মূলত উদীয়মান ভারতীয় বুর্জোয়া-ভদ্রলোক শ্রেণির স্বার্থে একটি নতুন আদর্শিক আধিপত্য (hegemony) তৈরি করেছিল, যা ঔপনিবেশিক পুঁজি ও রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত আপস করেই এগিয়েছে, বিপ্লবী সর্বহারা-কৃষক রূপান্তরের পথে নয়।
৩. সুদীপ্ত কবিরাজ: "অসুখী চেতনা"
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী সুদীপ্ত কবিরাজের The Unhappy Consciousness: Bankimchandra Chattopadhyay and the Formation of Nationalist Discourse in India (১৯৯৫) বঙ্কিমকে নিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমালোচনামূলক পাঠ। কবিরাজ অবশ্য বঙ্কিমকে নিছক "রক্ষণশীল" বলে সরলীকৃত করার বদলে দেখান, তাঁর চিন্তায় আধুনিকতা নিয়ে এক গভীর দ্বন্দ্ব ও দ্বিধা কাজ করেছে—তিনি যুক্তিবাদ ও ধর্ম, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও সমষ্টি-শৃঙ্খলা, পশ্চিম ও প্রাচ্যের মাঝে এক অস্থির টানাপোড়েনে ছিলেন। এই "অসুখী চেতনা"-ই, কবিরাজের মতে, পরবর্তী ভারতীয় জাতীয়তাবাদী ভাবধারার অভ্যন্তরীণ টেনশনগুলোর পূর্বাভাস দেয়। সমালোচকরা একে সহজেই মেনে নেন যে বঙ্কিম ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা রাখতে পারেননি এবং তাঁর জাতি-কল্পনায় সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত থেকে গেছে।
৪. আনন্দমঠ, হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও বাদ পড়ে যাওয়া কণ্ঠস্বর
মার্কসবাদী ও বামপন্থী সমালোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন্দ্রীভূত হয় আনন্দমঠ (১৮৮২) উপন্যাস ও তার থেকে জাত "বন্দে মাতরম" গানকে নিয়ে। ঐতিহাসিকভাবে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহে হিন্দু সন্ন্যাসী ও মুসলিম ফকির—দুই সম্প্রদায়ই অংশ নিয়েছিল, কিন্তু উপন্যাসে মুসলিম ফকিরদের ভূমিকা প্রায় সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং মুসলিম শাসকদের আগ্রাসী রূপে দেখানো হয়েছে। সমালোচকরা যুক্তি দেন, এর ফলে যে "জাতি" বঙ্কিম কল্পনা করেছিলেন তা মূলগতভাবে হিন্দু-কেন্দ্রিক, এবং সেখানে মুসলিম সমাজ, প্রকৃত কৃষক-শ্রমিক জনগোষ্ঠী ও নারীর স্বাধীন এজেন্সি—সবই প্রান্তিক বা অনুপস্থিত। এই কারণেই পরবর্তীকালে আরএসএস ও হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি বঙ্কিম ও "বন্দে মাতরম"-কে নিজেদের প্রতীক বানাতে পেরেছে—যদিও গবেষকরা দেখান, ঐতিহাসিকভাবে এই গান বহু সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে স্বাধীনতা আন্দোলনে ব্যবহৃত হয়েছিল, নিছক সাম্প্রদায়িক অস্ত্র হিসেবে নয়।
পাশাপাশি কিছু গবেষক—যেমন পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাকুল কুন্দ্রা—এই যুক্তিও দেন যে আনন্দমঠের ইসলাম-বিরোধী আবহ মূলত একটি কৌশলগত আড়াল ছিল, কারণ একজন ব্রিটিশ সরকারি কর্মচারী হিসেবে বঙ্কিম সরাসরি ব্রিটিশ-বিরোধী বক্তব্য লিখতে পারতেন না বলে মুসলিম শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আখ্যানের আড়ালে তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী জাতীয়চেতনাকেই উসকে দিতে চেয়েছিলেন। তবু কাঠামোগত প্রশ্নটি থেকে যায়—সচেতন কৌশল হোক বা না হোক, ফলাফলে উপন্যাসের জাতি-কল্পনা থেকে মুসলিম জনগোষ্ঠী বাদ পড়ে গেছে, এবং এই বাদ-পড়াটাই পরবর্তী সাম্প্রদায়িক রাজনীতির হাতে অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
৫. বিপরীত স্বর: তরুণ বঙ্কিম ও "সাম্য" প্রবন্ধ
মার্কসবাদী সমালোচনার মধ্যেই আরেকটি স্বর আছে, যা বঙ্কিমকে সরলরেখায় রক্ষণশীল বলতে নারাজ। ১৮৭৯ সালে বঙ্গদর্শনে প্রকাশিত তাঁর "সাম্য" প্রবন্ধে বঙ্কিম জাতিভেদ প্রথাকে মানব-সৃষ্ট বৈষম্যের মধ্যে "সর্বাপেক্ষা তীব্র ও সর্বাপেক্ষা জঘন্য" বলে আক্রমণ করেছিলেন এবং ভূমির ব্যক্তিগত মালিকানার বিরুদ্ধে রুসো-প্রুধোঁর সাম্যবাদী চিন্তার প্রতিধ্বনি তুলে লিখেছিলেন, পৃথিবী কোনো একজনের জন্য সৃষ্টি হয়নি, তাতে সকলের সমান অধিকার। তাঁর "কমলাকান্তের দপ্তর"-এর "বিড়াল" রচনায় একটি ক্ষুধার্ত বিড়ালের মুখ দিয়ে তিনি ধনবৈষম্য ও সঞ্চয়ী পুঁজির বিরুদ্ধে এমন তীক্ষ্ণ সমাজতান্ত্রিক সমালোচনা তুলে ধরেছিলেন যে কমলাকান্ত নিজেই বিড়ালকে বলে ওঠে, "তুই তো একেবারে সোশ্যালিস্টদের মতো কথা কহিতেছিস!"
এই ধারার সমালোচকরা আরও মনে করিয়ে দেন, নীল বিদ্রোহের সময় যশোরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বঙ্কিম বহু ক্ষেত্রে কৃষকদের পক্ষে রায় দিয়েছিলেন এবং পাবনা কৃষক বিদ্রোহের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন—যে আন্দোলনে হিন্দু-মুসলিম কৃষক একজোট হয়ে হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে লড়েছিল। তবে এখানেও একটা উল্লেখযোগ্য তথ্য থেকে যায়: পরিণত বয়সে নিজের প্রবন্ধ-সংকলন তৈরির সময় বঙ্কিম "সাম্য"-কে বাদ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তী লেখায় ক্রমে রক্ষণশীল হিন্দু-পুনরুজ্জীবনবাদের দিকে ঝুঁকেছিলেন। বহু সমালোচকের কাছে এই সরে আসাটাই বয়সবৃদ্ধির সঙ্গে ভদ্রলোক শ্রেণির রাজনৈতিক-সামাজিক স্বার্থের সঙ্গে তাঁর চিন্তার ক্রমশ মিলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
৬. আজকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই দ্বৈততা আজকের রাজনীতিতেও সক্রিয়। বিজেপি ও আরএসএস সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বঙ্কিমচন্দ্র ও "বন্দে মাতরম"-কে হিন্দুত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। এর জবাবে পশ্চিমবঙ্গের বাম-ঘনিষ্ঠ ভাষ্যকাররা ঠিক উল্টো যুক্তি হাজির করেন—তাঁরা বলেন, বঙ্কিমের জাতিভেদ-বিরোধী, পুঁজিবাদ-সমালোচক ও নারী-অধিকারপন্থী লেখাকে সামনে আনলে দেখা যায়, তাঁকে সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক প্রতীকে বদলে ফেলা তাঁর প্রকৃত রচনার প্রতিই অবিচার। এভাবে বঙ্কিমচন্দ্র এখনও একটি "লড়াইয়ের ক্ষেত্র" হয়ে আছেন, যেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা তাঁর উত্তরাধিকার নিজ নিজ স্বার্থে ব্যাখ্যা করতে চায়।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, মার্কসবাদী ও বামপন্থী ঐতিহাসিক-সমালোচকদের কাছে বঙ্কিমচন্দ্র একরৈখিক নায়ক বা খলনায়ক নন—তিনি একজন জটিল ও আভ্যন্তরিক স্ববিরোধে আকীর্ণ ভদ্রলোক বুদ্ধিজীবী, যিনি একই সঙ্গে ঔপনিবেশিক প্রশাসনের অংশ এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার রূপকার; যাঁর প্রাথমিক জীবনের সাম্যবাদী-সংস্কারমুখী চিন্তা পরিণত বয়সে অনেকাংশে হিন্দু-পুনরুজ্জীবনবাদে রূপান্তরিত হয়; এবং যাঁর সাহিত্য পরবর্তীকালে এমন এক জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের জন্ম দেয়, যা ঔপনিবেশিক কাঠামোকে আংশিকভাবে চ্যালেঞ্জ করলেও তার অভ্যন্তরে সংখ্যালঘু ও নিম্নবর্গের কণ্ঠস্বরকে যথেষ্ট জায়গা দিতে পারেনি। এই বিশ্লেষণ অবশ্যই একমাত্র দৃষ্টিভঙ্গি নয়—জাতীয়তাবাদী, হিন্দুত্ববাদী ও উদারনৈতিক-উত্তর-উপনিবেশবাদী পাঠেও বঙ্কিমকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়—কিন্তু মার্কসবাদী ঐতিহ্যের এই শ্রেণি-সচেতন ও আদর্শ-সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে নিয়ে আজও সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ও আলোচিত বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কগুলোর একটি জন্ম দিয়েছে।
তথ্যসূত্র
Sumit Sarkar, Writing Social History এবং সংশ্লিষ্ট রচনা (ভদ্রলোক শ্রেণি বিশ্লেষণ)
Partha Chatterjee, Nationalist Thought and the Colonial World: A Derivative Discourse (1986)
Sudipta Kaviraj, The Unhappy Consciousness: Bankimchandra Chattopadhyay and the Formation of Nationalist Discourse in India (1995)
Nakul Kundra, "Politics of Fictionalizing History" (Panjab University)
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, "সাম্য" (বঙ্গদর্শন, ১৮৭৯) এবং "কমলাকান্তের দপ্তর"
পিপল'স রিভিউ বাংলা, "বঙ্কিমচন্দ্রকে হিন্দুত্বের মুখপাত্র বানানোর প্রচেষ্টা" (ডিসেম্বর ২০২৫)
বাংলা উইকিপিডিয়া, "বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়"
About the Author
Nasim sarker
মজদুরের নিয়মিত লেখকStudent
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। যোগাযোগঃ email:[email protected] Facebook profile: https://www.facebook.com/share/1QYbj7qtnU/
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন