সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

The Good, the Bad and the Ugly — স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্নের এক অমর মহাকাব্য

স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ সিনেমা হিসেবে স্বীকৃত দ্য গুড দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই মহাকাব্যে তিন ধূর্ত চরিত্রের স্বর্ণমুদ্রা খোঁজার লড়াই ফুটে উঠেছে।

Fazle Rabby Rashed
Fazle Rabby Rashed মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 4 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 1 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 1 জন পাঠক পড়েছেন
The Good, the Bad and the Ugly — স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্নের এক অমর মহাকাব্য

সার্জিও লিওনের হাত ধরে জনপ্রিয়তা পাওয়া স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন ধারার Dollars ট্রিলজির শেষ অংশ The Good, the Bad and the Ugly, যা কিনা ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায়। অনেক সমালোচকদের মতে, এই সিনেমা স্প্যাগেটি ওয়েস্টার্ন ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ সিনেমা। তাই এটিকে ওয়েস্টার্ন ধারার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ না বলে উপায় নেই। ফলে এটা নিয়ে যদি কিছু না বলি তাহলে এটা একটা ফৌজদারি অপরাধ হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

সিনেমার কাহিনীটা ১৮৬২ সালের আমেরিকার গৃহযুদ্ধের উত্তাল সময়ের পটভূমিতে নির্মিত। গল্পের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে আছে তিনটি বিচিত্র চরিত্রঃ Clint Eastwood ব্লন্ডি চরিত্রে The Good হিসেবে, Lee Van Cleef অ্যাঞ্জেল আইস চরিত্রে The Bad হিসেবে এবং Eli Wallach টুকো চরিত্রে The Ugly হিসেবে। এই তিনজনের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য একটাই, গৃহযুদ্ধের মাঝখানে হারিয়ে যাওয়া দুই লক্ষ স্বর্ণমুদ্রার একটি গোপন ভাণ্ডার খুঁজে বের করা। আর এই গুপ্তধন খোঁজার সমীকরণটাই বেশ মজার। কারণ, তিনজনের মধ্যে কেউ জানে শুধু কবরস্থানের নাম, যেখানে স্বর্ণমুদ্রাগুলো আছে। আবার কেউ একজন জানে ঠিক কোন কবরের নিচে আছে সেটির নাম। ফলে এই তিনজন একে অপরের চরম শত্রু হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির দায়ে তাদের একসাথেই পথ চলতে হয়।

চরিত্রায়নের কথা বললে এই সিনেমাটি অনন্য। 'দ্য গুড' হিসেবে ক্লিন্ট ইস্টউড এমন এক চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন যার মধ্যে এক ধরণের শীতল আভিজাত্য আছে। তাকে বড় কোনো নীতিবান মানুষের চাইতে একজন ধূর্ত বাউন্টি হান্টার হিসেবে দেখা যায়। অন্যদিকে লি ভ্যান ক্লিফ 'দ্য ব্যাড' হিসেবে নিখুঁত নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছেন। তবে এই সিনেমার আসল প্রাণ হয়ে উঠেছেন ইলাই ওয়ালাচ তার 'টুকো' বা 'দ্য আগলি' চরিত্রটি দিয়ে। তার অদ্ভুত রকমের রসবোধ, ধূর্ততা এবং টিকে থাকার লড়াই আমার মতো অসংখ্য দর্শকদের একাধারে হাসায় আবার ভাবায়। এটাও বলা উচিৎ যে, এখানে আসলে কেউ পুরোপুরি নায়ক না, আবার কেউ সাধারণ ভিলেনও নয়। প্রত্যেকেই এখানে ধূসর চরিত্রের, প্রতিটি চরিত্রই শুধু নিজে টিকে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

লিওনের অন্যান্য সিনেমার মতো এখানেও তাঁর সিগনেচার ক্লোজ-আপ শট স্টাইল নিয়ে কথা বলতেই হবে। তিনি এখানে এক্সট্রিম ক্লোজ-আপ শটের মাধ্যমে যেভাবে চরিত্রের চোখের ভাষা, মনের উত্তেজনা ফুটিয়ে তুলেছেন তা এক কথায় অসাধারণ। ঠিক সেভাবেই আবার বিশাল ওয়াইড শটের মাধ্যমে তৎকালীন ল্যান্ডস্কেপ এবং গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতাকেও তুলে ধরেছেন। দ্রুতগতির শট পরিবর্তন আর মিউজিকের তালে তালে টানটান উত্তেজনার মাধ্যমে দর্শকদের কিভাবে শ্বাসরুদ্ধ করা যায়, তা এই সিনেমা না দেখলে বোঝা অসম্ভব। মজার একটি বিষয় হচ্ছে, এটি একটি ক্ল্যাসিক-অ্যাকশন সিনেমা হলেও এর ভিতরে একটি সূক্ষ্ম যুদ্ধবিরোধী বার্তা লুকিয়ে আছে। সিনেমার এক দৃশ্যে ব্লন্ডি এবং টুকো যখন একটি ব্রিজের দখল নিয়ে চলা ভয়াবহ যুদ্ধ দেখে, তখন ব্লন্ডির মুখ দিয়ে বের হওয়া ‘I've never seen so many men wasted so badly’ ছিল যুদ্ধের বিরুদ্ধে লিওনের শক্তিশালী একটি বয়ান।

সিনেমার মিউজিক নিয়ে এনিও মরিকোনের নাম না নিলে এই লেখাটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সিনেমার মেইন থিমটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা শুনলে আজও দর্শকদের চোখে ধুলোমাখা এক জনমানবহীন প্রান্তরের ছবি ভেসে উঠে। তিনি এখানে নেকড়ের ডাকের সুরকে যেভাবে আইকনিক একটি থিমে পরিণত করেছেন তা এক কথায় জাদুকরী। প্রতিটি চরিত্রের জন্য তিনি ভিন্ন ভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার করে প্রত্যেক চরিত্রের ব্যক্তিত্বকে চমৎকারভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তার মিউজিক এই সিনেমায় শুধু ভিন্ন পরিবেশই নয়, বরং এটি সিনেমার একটি স্বতন্ত্র চরিত্র হিসেবেই উপস্থিত ছিল।

সিনেমার শেষ কয়েক মিনিট তো সম্ভবত সিনেমা ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি মুহূর্ত। কবরস্থানের সেই বৃত্তাকার জায়গায় তিনজন তিনদিকে দাঁড়িয়ে থেকে একে অপরের দিকে আড়চোখে তাকানো, আর তার সাথে মরিকোনের The Ecstasy of Gold এবং The Trio মিউজিকের দুর্দান্ত মুহূর্তের ঐ দৃশ্যটি দর্শকদের একটি শ্বাসরুদ্ধকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করে তোলার জন্য যথেষ্ট। সিনেমায় বিভিন্ন সংলাপের মাঝে There are two kinds of people…. টাইপ একটি জনপ্রিয় সংলাপ আছে। তাই এই সিনেমাকে কেন্দ্র করে, সেই সংলাপের ঢঙেই একটি উক্তি রেখে আমি এই লেখাটা শেষ করছি, ‘There are two kinds of people in this world: those who have watched this film, and those who have not.’

#স্প্যাগেটি_ওয়েস্টার্ন #চলচ্চিত্র_বিশ্লেষণ #সার্জিও_লিওন #ক্লিন্ট_ইস্টউড #এনিও_মরিকোন #ক্লাসিক_সিনেমা #সিনেমা_রিভিউ
Fazle Rabby Rashed

About the Author

Fazle Rabby Rashed

মজদুরের নিয়মিত লেখক

Activist

ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন শিল্প-সংস্কৃতিমনা, প্রগতিশীল, উদারপন্থী ও মুক্তচিন্তার মানুষ। আমি বিশ্বাস করি শিল্প-সংস্কৃতিই মানুষের আসল পরিচয়। রাজনীতি, সমাজ, শিল্প-সাহিত্য নিয়ে আড্ডা আর কাটাছেঁড়া করতে ভালো লাগে। তবে চলচ্চিত্রের দুনিয়াটা আমার একটু বেশিই প্রিয়। তাই চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখি, আলোচনা-সমালোচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast