সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

অকাল কুষ্মাণ্ড! হায়, অকাল কুষ্মাণ্ড!

কুমড়ো গাছের ঝরে যাওয়া গুটিগুলো কেবল কৃষকের স্বপ্নই নষ্ট করে না, বরং প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর অসম্পূর্ণতার পরিচয় দেয়। ঠিক একইভাবে, আমাদের চারপাশে অগণিত তরুণ শিল্পী ও নেতৃত্ব অকাল কুষ্মাণ্ডের মতো অকালে ঝরে পড়ছে। উপযুক্ত পরিচর্যা ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সম্ভাবনাময় প্রতিভাগুলো বিকশিত হওয়ার আগেই পঁচে যাচ্ছে।

Nadira Yeasmin
Nadira Yeasmin মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 9 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 157 বার পড়েছে
অকাল কুষ্মাণ্ড! হায়, অকাল কুষ্মাণ্ড!

আমাদের অনেকেরই কুমড়া গাছে ঝুলে থাকা ছোট বড় নানান আকারের কুমড়া দেখার অভিজ্ঞতা আছে, অভিজ্ঞতা থাকার কথা। বিশেষ করে যারা গ্রামে থাকেন বা কখনো থাকতেন, তাদের তো এই চিত্র না দেখার কথাই না।

কখনো কি খেয়াল করেছেন, খুবই ছোট আকারের কুমড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে লাল হয়ে এক পর্যায়ে পঁচে ঝরে যেতে? আমি খেয়াল করেছি। এগুলোকে কুমড়া মনে হলেও এগুলো আসলে ঠিক কুমড়া না। স্ত্রী কুমড়ার ফুল বা কুমড়ার গুটি যা ভবিষ্যৎ কুমড়ার সম্ভাবনাকে ধারণ করে থাকে। এগুলোকে অকালে জাত বা জন্ম নেওয়া কুমড়াও বলা যায়। আরও সহজ করে বললে বলা যায়, অকাল কুষ্মাণ্ড। এইসব অকাল কুষ্মাণ্ড বা স্ত্রী ফুল যদি কুমড়ার পুরুষ ফুলের পুংদন্ডের পুংরেনুর সাথে সার্থকভাবে সংযোগ বা মিলন না ঘটে তাহলে কুমড়ায় পরিনত হয় না এবং এগুলো কোন কাজেও আসে না। এগুলো না নিজে খেতে পারবেন, না অন্য কাউকে দিতে পারবেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এগুলো পেঁকে, পঁচে, ঝরে যায়।

কেন সম্ভাব্য কুমড়া বা কুমড়ার গুটি এইভাবে পঁচে ঝরে যায়, জানেন? এমনটা হয় সাধারণত ৩টি কারণে।

১। ফলের মাছি পোকা আক্রমণ করলে অর্থাৎ পোকা যদি আক্রমণ করে ভিতরটা খেয়ে ফেলে। অপরিনত অবস্থায় চামড়া ও ভিতরের অংশ নরম থাকায় পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ বা প্রতিকারের ক্ষমতা তখন গুটির মধ্যে থাকে না। তাই সহজেই মাছি পোকা আক্রমণ করে ভিতরটা খেয়ে ফেলে, খেয়ে ফেলতে পারে।

২। ঠিক মতো পরাগায়নের মাধ্যমে এই স্ত্রী কুমড়ার ফুল বা গুটির সাথে পুরুষ ফুলের পুং-রেণুর মিলন/সংযোগ স্থাপিত না হলে। এই পরাগায়ন সাধারণত বাতাস, পোকা মাকড়, মৌমাছির সাহায্যে প্রাকৃতিকভাবেই ঘটে থাকে। তবে অনেক সময় কৃত্রিমভাবেও সফল ও সার্থকভাবে পরাগায়ন ঘটানো যায়।

৩। ক্যালসিয়ামসহ কিছু রাসায়নিক উপাদানের অভাব ঘটলে।

অকালে জাত কুমড়ার মতো অকালে জন্ম নেওয়া না বলে অকালে জন্ম দেওয়া কত কত কবি, লেখক, নেতা, চিত্রকর, অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিল্লী যে দেখবেন চারপাশে! কুমড়ার গুটির মতো এরাও এক একজন ভবিষ্যৎ কবি, লেখক, নেতা, চিত্রকর, অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিল্লীর অপার সম্ভাবনা হয়তো। নানান কারণে কুমড়ার গুটির মতো এরাও এক একজন অকাল কুষ্মাণ্ড হয়ে উঠে যা অকালে পেঁকে, পঁচে, ঝরে যায়। যদিও অকালে জন্ম নেওয়া কুমড়া পঁচে গিয়ে মাটিতে জৈব সারের ভূমিকা পালন করে, কিন্তু এরা চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়ায় কেবল!

বাংলাদেশে খুবই কম শিশু নৃত্য, কন্ঠ, অভিনয় শিল্লীকে পরবর্তী জীবনে দক্ষ গায়ক, গায়িকা, অভিনেতা, অভিনেত্রী হিসেবে সামনে আসতে দেখবেন।

দিঘীর মতো শিশু অভিনয় শিল্লী যে জাতীয় পুরষ্কার পর্যন্ত পেয়েছিল, বড় বেলায় তার পরিনতি আমরা দেখছি চোখের সামনেই। টিকটক করে, জন্মদিনের পার্টি করে তাকে আলোচনায় আসতে হচ্ছে, বাদ যাচ্ছে সিনেমা থেকেও। অথচ শিশু দিঘী ছিল এক অপার সম্ভাবনা। আরও অনেক শিশু শিল্লী ছিলেন যারা দর্শকের মন জয় করেছিলেন শৈশবে তাদের প্রতিভা দেখিয়ে। কিন্তু উপযুক্ত পরিচর্যা, শিক্ষার অভাবে তারা পরবর্তীতে দ্বিতীয় তৃতীয় শ্রেণির শিল্পী, অভিনেতা, অভিনেত্রী হয়েছেন বড় জোর।

নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও দেখা যায় মাধ্যমিক স্কুল কলেজে পড়াশোনাকালেই কখনো কখনো কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় ছেলে মেয়েদের। অথচ এই সময়টা জীবন-জগৎ-সমাজ-সাহিত্য-রাজনীতি-অর্থনীতি-ইতিহাস-দর্শন সম্পর্কে প্রাথমিক জানাশোনা, পড়ালেখা করার সময় তাদের যা নেতৃত্ব তৈরি ও বিকাশের পূর্ব শর্ত। শুধু কি তাই? যে সময়ে নানান কিসিমে’র রাজনীতির পাঠ হাতে কলমে হওয়ার কথা, সেই সময় কোন একটা সংগঠন বা পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে যখন কোন ছেলে মেয়ে চলে যায়, খুব কম ছেলে মেয়েই সেই দল বা সংগঠনের রাজনীতির পূনঃপর্যালোচনা করার সাহস দেখাতে পারে, দেখায়। সেই রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা তো অনেক পরের কথা।

তাছাড়া অন্য শ্রেণি বা দলের দালাল হিসেবে কাজ করা সংগঠন, পার্টিতে প্রবেশের পর নেতৃবৃন্দ তাদের মতো করে সাধারণত ছেলে মেয়েদের মনোজগৎ, চিন্তার কাঠামো, লক্ষ্য-ধারা গড়ে তুলে যার বাইরে সেই বয়সে কেন, পরবর্তী জীবনেও এরা বের হয়ে আসতে পারে না। ব্যতিক্রম অবশ্য কেউ কেউ আছেন যারা প্রচন্ড রকমের সত্যানুসন্ধানী, মানসিকভাবে দৃঢচেতা, প্রশ্ন করার প্রশ্ন শোনার হিম্মত রাখেন এবং সেই অনুযায়ী গ্রহণ বর্জন করার ক্ষমতা রাখেন, ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। কিন্তু তাদের সংখ্যা একেবারেই নগন্য।

এর ফলে প্রচন্ড প্রতিভাবান, সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও এরা স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক তেমন কোন অবদান রাখতে পারে না। বাংলাদেশে বিদ্যমান বুর্জোয়া দল, সংগঠনগুলো তো বটেই তথাকথিত বাম, প্রগতিশীল সংগঠন দলগুলোর মধ্যেও অনেক সম্ভাবনাময়, প্রতিভাবান, স্বপ্নবাজ, সৎ, কর্মিষ্ঠ ছেলে মেয়ের আগমন ঘটে যারা অকালে জন্ম নেওয়া কুমড়ার মতোই পরিবার, দেশ ও জাতির জীবনে তেমন কোন কাজে আসে না, ভূমিকা পালন করতে পারে না! এরা এক পর্যায়ে একটা কৃষ্ণগহ্বরে আটকে যায়। অনেকে সেই সব সংগঠন, পার্টির বড় বড় নেতাদের সাথে তাল মিলিয়ে নানান ধান্ধার সাথেও জড়িয়ে যায়।

অনেক সম্ভাবনাময় তরুণ কবি, লেখকের ভ্রনও প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে ওঠার আগেই অকাল কুষ্মাণ্ডের মতো পেঁকে পঁচে ঝরে যায়! চারদিকে দূর্গন্ধ ছড়ায়। অথচ এরা উপযুক্ত দিক নির্দেশনা পেলে, পরিবেশ পেলে, প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান ও সার পেলে সম্ভাবনা বাস্তব রূপ নিতো। বাংলা সাহিত্যকে, বিশ্ব সাহিত্যকে দিতে পারতো সমৃদ্ধ কাবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধগ্রন্থ। স্থানীয় কিছু গ্রুপ, সংগঠন নিজেদের অনৈতিক রাজনৈতিক স্বার্থে এইসব সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ কবি, লেখকদের গুটি অবস্থাতেই পাক্কা কবি লেখক বানিয়ে ফেলে এদের দুয়েকটা গল্প, কবিতা লেখার প্রচেষ্টা দেখার পরেই। সেগুলো কবিতা, গল্প হয়ে ওঠলো কিনা সেসবও কোন বিবেচ্য বিষয় না তাদের কাছে।

ম্যাচিউরড বক্তিরা নিজে যার যোগ্য না সেরকম কোন গুণ, যোগ্যতা তাদের উপর কেউ আরোপ করলে কিংবা করতে চাইলে কখনো খুশি হোন না; উপরন্তু অপমানিত, অসম্মানিত বোধ করেন। কিন্তু এদের যেহেতু তখনো সাহিত্যবোধ, শিল্পজ্ঞান তৈরি হয়নি; তাই নিজের লেখার মূল্যায়ন নিজে যেমন করতে পারে না তেমনি অন্যরা যে অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের লেখা পদ্যকে কবিতা বানিয়ে দিচ্ছে, একটা মামুলি কাহিনী বর্ণনাকে মহৎ সাহিত্যকর্ম বানিয়ে দিচ্ছে, সেই উপলব্ধিও তাদের মধ্যে কাজ করে না।

কবি, সাহিত্যিক হয়ে ওঠার জন্য যে কঠোর সাধনার দরকার, পরিশ্রম দরকার; ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, জীবন, সমাজ, বিজ্ঞান, দর্শন সম্পর্কে, নিজের সম্পর্কে এবং বিশ্বসাহিত্যের অতীত ও বর্তমান ভাণ্ডার সম্পর্কে প্রচুর পড়াশোনা দরকার, বোঝাপড়া দরকার সেই কঠিন, পিচ্ছিল, সর্পিল পথে আর পা বাড়াতে চায় না, পা বাড়ায় না। অবশ্য সেই কঠিন, সর্পিল পথে পা বাড়ানোর দরকারই বা কী! তারা তো এমনিতেই বিরাট কবি, লেখকের স্বীকৃতি পেয়ে যান। এর ফলে এরা নিজেদের বিকাশের দিকে, ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে পরিচিতি পাওয়ার, জনপ্রিয়তা পাওয়ার শর্টকাট পথের দিকে ছুটতে থাকে। এজন্য এরা তেলবাজি, দালালি থেকে শুরু করে এমন কোন অসৎ পথ নেই যা বেছে নিতে দ্বিধা করে!

"হে ঈশ্বর! জগৎ আমায় মুছে ফেলে কেন?

জগতের বুকে লেখা হবে আবার এমন অক্ষর তো আমি নই!"

------------মির্জা গালিব

"ওগো তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে!

বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে!

যেয়ো যেথা যেতে চাও

যারে খুশি তারে দাও

শুধু তুমি নিয়ে যাও

ক্ষণিক হেসে

আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।"

---------- সোনার তরী/ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কিন্তু মহাকাল যে বড়ই নির্মম! সেই নির্মম মহাকালের তরীতে নিজের সাহিত্যকর্মের জায়গা মিলবে কিনা তা নিয়ে মির্জা গালিব, রবীন্দ্রনাথের মতো কবিদেরও দুর্ভাবনায় পড়ে যেতে হয়েছিল। অথচ এই নিয়ে তাদের কোন ভাবনাই নেই! সেগুলো শিল্প হয়ে ওঠলো কিনা, শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতিতে নতুন কিছু যুক্ত করলো কিনা কিংবা মহাকালের তরীতে স্থান পাবে কিনা। না, পৃথিবীতে কেবল আবর্জনার পরিমাণই বৃদ্ধি করলো।

কুমড়োর স্ত্রী ফুল বা গুটির পরিনত হওয়ার পথে উপযুক্ত পরিবেশের অভাব যেমন বাঁধার সৃষ্টি করে পরাগায়নের মাধ্যমে পুরুষ ফুলের রেনুর সান্নিধ্যে আসার পথে। এইসব সম্ভাবনারও মৃত্যু ঘটে উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে। আবার সার্থক পরাগায়নের পরেও যেমন নাজুক অবস্থায় মাছি পোকার আক্রমণে এবং ক্যালসিয়াম জাতীয় রাসায়নিকের অভাবে কিছু কুমড়ো ফুল/ গুটি পেঁকে পঁচে যায়, তেমনি এইসব মাছি পোকারূপী ব্যক্তি, গ্রুপ, সংগঠনের কারণে এইসব নাজুক, অপরিনত অপার সম্ভাবনার বিকাশের পথ রূদ্ধ হয়ে যায়।

এরা এদের সম্ভাবনার রসটুকু নিংড়ে খেয়ে নেয়। পঁচনের দিকে ধাবিত করে। এরা তখন ঠুনকো ফেইক পরিচিতি, জনপ্রিয়তার দিকে ছুটতে থাকে। যখন বিকশিত হওয়ার পথে সূচনা ঘটার কথা, পরিনত হওয়ার পথে পা বাড়ানোর কথা, প্রতিদিন নতুন নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হওয়ার কথা, শেখার কথা, গ্রহণ বর্জনের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার কথা, পথ কেবলা যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়ার কথা, তখন এরা পেঁকে পঁচে যায়। অনেকটা এইভাবেই এরাও হয়ে যায়, হয়ে ওঠে, এক একটা অকাল কুষ্মাণ্ড! শাব্দিক এবং ভাবগত,,, দুই অর্থেই। অকাল কুষ্মাণ্ড যেমন চাষীকে ব্যথিত করে, এইসব সম্ভাবনাময়দের অকাল কুষ্মাণ্ডের পরিনতিও আমাকে ব্যথিত করে, হতাশা আর আফসোসের সাগরে ভাসায়।

কুমড়োর ফুল বা গুটির সহজাত লক্ষ্য থাকে ফলে বা পরিনত কুমড়োতে রূপান্তরিত হওয়া। পরিনত হয়ে ওঠলেই কেবল সেগুলো খাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে। আর খাওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠলেই কেবল সেগুলো বেঁচা কেনার যোগ্য হয়ে ওঠে। তেমনি কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীর কাজ হওয়ার কথা সার্থক শিল্প সৃষ্টি করা, ভালো কাজে নেতৃত্ব দেওয়া যেমন নেতার কাজ। সার্থক শিল্প সৃষ্টি করতে পারলে কারো দালালি-তেলবাজি -পা-চাটা ছাড়াই কবি, সাহিত্যিক, কণ্ঠ শিল্পী, নৃত্য শিল্পী, অভিনয় শিল্লী, নেতার মর্যাদা মিলে, পরিচিতি নিয়ে আসে, ইতিহাস সে সাক্ষ্য দেয়। অন্যের প্রচারণা ও দয়ায় পাওয়া স্বীকৃতির মূল্য ক্ষণস্থায়ী, যা পেজা তুলোর মতো হাওয়ায় উড়ে যায়।

১২/২৯/২০২২

#অকাল_কুষ্মাণ্ড #তরুণ_প্রজন্ম #সামাজিক_বিশ্লেষণ #সাহিত্য_সংস্কৃতি #বাংলাদেশ #মেধা_বিকাশ #নেতৃত্ব #মানসিকতা
Nadira Yeasmin

About the Author

Nadira Yeasmin

মজদুরের নিয়মিত লেখক

Teaching

Women's rights activist, Writer, Aditor, Teacher

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast