একজন আমারে বললো, “সোদি আরব নবির দেশ। তাই সম্মান করতে হবে।” আমি তাকে বললাম, “সোদি আরব নামে দেশ হইছে কত বছর আগে?’’ জানে না সে। আমিই আগ বাড়িয়ে বললাম তাকে, “প্রায় একশো বছরের মতো হয়েছে। বাদশা সউদের নামে আম্রিকাপন্থী সোদি আরবের অভ্যুদয়।” সে বললো, “এভাবে বলছো কেন, তুমি কি মুসলমান না।” বললাম না কিছু। আমি স্বঘোষিত ইবাদিস্ট না, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমি ইবাদিজমের ধারণায় বিশ্বাসী, বিশেষত মক্কা মদিনার শাসন ক্ষমতা নিয়ে।
যাইহোক, সোদি আরবের দাস হয়ে থাকার সুযোগ নাই। ধর্মের লেবাসধারীদের ‘না’ বলে দেওয়ার সময় হয়েছে। ঢাকাকে কড়া জবাব দিতে হবে এখন। আমি জানি, এটা বাংলাদেশের অর্থনীতি নামিয়ে দেবে, বাংলাদেশ পররাষ্ট্র নির্ভর একটা দেশ। তবুও এই উপহাস সহ্য করা যায় না। কিছুতেই না। আপনি খেয়াল করেছেন, প্রতি বছর আমাদের জরিনা, আমেনারা পেটে ভ্রুণ নিয়ে বাংলাদেশে আসে! ওদের মধ্যে শেখদের ছহবতে ফিরিশতারা নিশ্চিয় বাচ্চা ফলায় না। বাংলাদেশ কখনোই এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেইনি। কেন জানেন? ধর্মের আবেগের কারণে। বাংলাদেশির সাথে কুত্তার মতো আচরণ করে ওরা। প্রমাণ দিচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে নিশ্চিয়ই দেখেছেন মুহাম্মদ বিন সালমানের করা বাংলাদেশ নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য, কিংবা একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, শ্রমিকদের হুটহাট তাড়িয়ে দেওয়া! এইসবই হয়। ওরা আমাদের মানুষ হিসেবেও মূল্যায়ন করে না।
আরেকজনের পোস্ট দেখলাম, “সোদি আরবকে নিয়ে যারা মন্তব্য করছো, তোরা কি জানোস ব্যাটা আমাদের বাপদাদারা তাদের ওখানে কাজ করে এসছে, ওরা কত সম্মান করতো।” আমার অবশ্য বেশ হাসিই পাইলো। কেন জানেন? ওরা শেখদের টয়লেট ক্লিন করাকে মহব্বত-এ-আকবর মনে করে। অন্যের সেবাদাসরা আবার গর্বও করে! উনি অবশ্য আরো কিছু যোগ করছিলো, বেশ মজার ছিল। মনে পড়ছে না এখন।
মক্কা মদিনা পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। তার পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইবাদিজমের ধারণা অনুযায়ী রিয়াদের অন্ধ আনুগত্য হারাম এবং রিয়াদ হতে মক্কা মদিনার কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ করা এজন্যই জরুরি যে, সোদি আরব কার্যত ইসলামের লেবাসধারী পশ্চিমা অ্যাজেন্ডার খাস অ্যাজেন্ট। মুরতাদ না হলেও ওরা যে নাস্তিক-এ-জিন্দিক ব্যাপারটা ধরতে পারেন না আমাদের গর্বিত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের লোকেরা। এইখানেই মূলত ইবাদিজমের একটা প্রয়োজনীয়তা চলে আসে।
মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বের অবসান অবশ্যম্ভাবী। ইসলামে কিন্তু অন্ধ আনুগত্য জায়েজ নাই। তাই পাঞ্জাবি ফতুয়া পরে কুরআন হাতে নিয়ে কাবায় দাঁড়াইয়া বক্তব্য দিলে যে, আমি পবিত্র পুরুষ হয়ে যাবো এমন দুর্বল যুক্তিতে বিশ্বাস করার রাইট আপনাকে ইসলামও দেয় না। অবশ্য আনুগত্য জিনিসটা আমি পাগলের মতো বলছিই বা কাদের। বাঙ্গুরা তো নিজেরাই ইমাম নিয়োগ দেয়, আবার মসজিদের একজন (মানুষ) কর্তাও থাকে। 🙄
এখন কিছু লোক পশ্চিমাদের নীলনকশায় মধ্যপ্রাচ্যে মা’রামারি লাগিয়ে দেওয়ার দায়টা আমার উপরেই দিয়ে দেবে 🙂
About the Author
Muhammadullah Bin Mostofa
মজদুরের নিয়মিত লেখকAuthor|Editor|Publisher|Organizer
আমি মুহাম্মদুল্লাহ বিন মোস্তফা। কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ রচনার পাশাপাশি সাহিত্য সম্পাদনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে নিয়মিত লিখি, নতুন লেখকদের উৎসাহিত করি এবং সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার স্বপ্ন দেখি। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ আমার কাজের প্রধান অনুপ্রেরণা।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন