স্রোতের সাথে গা ভাসিয়ে আর কতদূর যাবে বাংলাদেশ।
স্বাধীন বাংলায় কবিতায় কবি তার মনের মাধুর্য মিশিয়ে একদিন লিখেছেন,
কালো সূর্যের কালো জোৎস্নায় কালো বন্যায়।
কবিতার কারণে ফুঁসে উঠল তৌহিদি জনতা, এই বুঝি জাত গেলো। ধর্ম নিরপেক্ষতায় ভর করে বসে থাকা সরকার মূহুর্তেই কবিকে আটক করলেন, রাতারাতি দেশান্তর করালেন। কবি তার জীবদ্দশায় ভিনদেশে বসে আমার পরিচয় কবিতায় লিখলেন,
ভুলে যাও ভিটেমাটিদেশ
তুমি উদ্বাস্তু, আশ্রিত।
তোমার স্বদেশ বলে কিছু নেই
তুমি পরগাছা, তুমি মৃত
তোমার সামাজিকতা, তোমার পারিপার্শ্বিক
তোমার চেহারা তোমার চালচলন
উদ্বাস্তুর; আমাদের ঘৃণা-করুণায়
তোমার জীবন।
কবি দেশে আর ফিরেন নাই, এমনকি কবির লাশও দেশে আনা হয় নাই। অপরিচিত পরিবেশের এক রাষ্ট্রে কবির দাফন করা হয়।
কলকারখার শ্রমিক দীপু দাশ স্মার্ট ফোন কিনতে পারেন নাই, অভাবের তাড়নায়। মায়ের ওষুধ খরচ, বাচ্চার পড়ালেখা, সংসারের দু'বেলা অন্নের জন্য হাড় ভাঙা খাটুনি ছাড়া আর কি বা করা যায়..? একদিন দীপু দেখলেন তার উপর ক্ষেপে গেছে তার আশেপাশে থাকা কথিত তৌহিদি জনতা, তার অপরাধ সে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্ম অবমাননা করেছে। অথচ, তার সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে ধারণাই নাই। ধর্ম অবমাননার দায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তৌহিদি জনতার হাতে প্রাণ বিনাশ ঘটে দীপু নামক এক মজলুমের। রাষ্ট্র দীপুকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই।
বাউল সাধক আবুল সরকার এখনো বেঁচে আছেন। তবে শামীম রেজার দেহাবশেষ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বাউল সাধক আবুল সরকার জীবিত থাকলেও তার ভেতরের আত্মা কোনো এক ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাছে হেরে গেছে। সে চাইলেও আর নিজের মতো করে কাজ করতে পারবে না, তার ভেতরের আত্মা তাকে বারংবার নিজের মতো করে ভাবতে বাধা দিবে। জেল, জুলুম, অন্যায়, অবিচার সবকটির একটাও বাদ রাখা হয়নি। অথচ, সে যাদের পক্ষে কাজ করতে গেছিল তারা আজ সরকারে। সরকার বাউলদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানেও ব্যর্থ।
শামীম রেজা কারামুক্তির কয়েকদিনের ভিতর তাকে দুনিয়া থেকে নাই করে দিয়েছে একদল উগ্রপন্থী ধার্মিক। তার অপরাধ, ধর্মের সাথে তার মতাদর্শের ভিন্নতা।
সদ্য স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশে স্বাধীনতার মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন,
আমার বাংলাদেশে, আমার মানুষেরা, নির্বিঘ্নে যার যার ধর্ম সে পালন করতে পারবে। দেশের সকল মুক্তিকামী মানুষের চাহিদাও এটা ছিল। কিন্তু, কিছু ধর্মান্ধ মানুষের মন রক্ষার্থে স্বাধীনতা থেকে আজ পর্যন্ত কেউ নিজের মতো করে ধর্ম পালন করতে পারে নাই।
চিন্তা,মন-মানসিকতা, দর্শনের দিক থেকে ভিন্নতা থাকায় তসলিমা নাসরিনের মতো লেখককে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করেছে বাংলাদেশ। ভারতে বসে তসলিমা নাসরিন এখনো দেশে ফেরার আশায় বসে আছেন। সরকার তসলিমার জন্য একটা নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেন নাই।
হযরত মুহাম্মদ সাঃ মক্কা বিজয়ের পরে সমস্ত কাফেরদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। ভিন্নমত দমনই যদি মুসলমানদের প্রধান কাজ হতো তাহলে তিনি মক্কার কাফেরদের জোর করে ধর্মান্তরিত করাতেন। অথচ, তিনি সমস্ত কাফেরদের বুঝালেন ইসলাম শান্তির ধর্ম। কারো পাপের বিচার করার ক্ষমতা কোনো মানুষের নাই। বিচারের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
About the Author
Mobarak Hossain
Student
I am a student, studying Honor's at Bandarban govt.College
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন