জুলাই অভ্যুত্থান; যা দেখেছি, যা বুঝেছি।
মেহেদী হাসান রাতুল
২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে ৫ ই আগষ্টে আমরা যখন দেখলাম, সৈরাচার শেখ হাসিনা জনতার ঐতিহাসিক দ্রোহের মুখে বাংলাদেশ থেকে হেলিকপ্টারে উঠে পালিয়ে গেল তখন আমাদের মনে হচ্ছিলো ভারতীয় যে, আধিপত্যবাদ শেখ হাসিনার রুপ ধরে বিগত শাষন আমলে এই বাংলাদেশে শেকর গেড়ে ছিলো তা বাংলাদেশ থেকে হেলিকপ্টারে উঠে শেখ হাসিনার সঙ্গী হয়েই আবার ভারতে চলে গেল। কিন্তু ৮ই আগষ্টে যখন প্রসেসর ইউনুস কে দেখলাম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে বাংলাদেশে আসলেন, তখন আমাদের বুঝতে সময় লাগেনি যে, এবার ইউনুসের মগজে ভারতীয় আধিপত্যবাদ আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের মতো অন্যান্য শক্তিগুলোর যৌথ প্যাকেজ বাংলাদেশে ডুকানো হলো।
জুলাইয়ের জনতা যেই স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, জুলাইয়ের সময় যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। ঠিক আমাদের স্বপ্নের বিপরীতে প্রসেসর ইউনুসের হাত ধরে সেই পুরোনো রাষ্ট্র ব্যাবস্থা ফেরানোর সকল ধরনের প্রস্তুতি হচ্ছিল । আমরা যখন বুঝতে পারলাম, জুলাইয়ের জনতার স্বপ্ন বেচেঁ দেয়ার সকল ধরনের কার্যক্রম চলছে ঠিক তখনি তারা বলা শুরু করলো এটাই নাকি নয়া বন্দোবস্ত। অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করার কোনো ইচ্ছাই রাষ্ট্রের ছিলো না বরং রাষ্ট্র কে আমরা দেখলাম বিভিন্ন বয়ান সামনে আনার চেষ্টা করতে। রাষ্ট্র পুরানো ব্যাবস্থার স্বভাবসুলভ পুজীবাদের পক্ষে, তার নিজস্ব সার্থের পক্ষে, তার পুরানো শ্রেণীগত বৈষম্য মূলক ব্যাবস্থার ইস্টাবলিসমেন্ট ধরে রাখতে, তারা প্রগতিশীল রাজনীতির বিরুদ্ধে বয়ান দেয়ার রাজনীতি টা সবার আগেই করলো। তার শ্রেণীগত বৈষম্য টিকিয়ে রাখার স্বার্থে, রাষ্ট্র বিভিন্ন শ্রেণী বিদ্বেষের জন্ম দিলো। রাষ্ট্র চরিত্রের পরিবর্তন করবে এই চিন্তা করে, যখন জনতা জুলাই কে নিজেদের ইতিহাসের অংশ করলো তখন রাষ্ট্র নিজের চরিত্র ঠিক রেখে জনতার ইতিহাসে পটপরিবর্তন করার রাজনীতি টা করলো।
প্রকাশ হলো তার দক্ষিণ পন্থী আচরণ । যার রাজনৈতিক প্রভাবে আমরা দেখলাম উগ্র মৌলবাদীদের উত্থান;রাষ্ট্রযন্ত্রের শোষনের আরেকটি জটিল যন্ত্র হিসেবেই জন্ম নিলো। বামপন্থীদের অবস্থান এসময় একটু নরবরে হবে এটাই তখন স্বাভাবিক ছিলো আর হলোও তাই। রাষ্ট্র এর মধ্যে দিয়ে জনতার কাছে বয়ান দার করালো যে এই অভ্যুত্থান প্রগতিশীলতার বিপরীতে হয়েছে ।
কিন্তু
জুলাই এই দেশের বামপন্থী প্রগতিশীল রাজনীতির বিপরীতে কখনোই হয় নি বরং দীর্ঘদিন ধরে প্রগতিশীলতার মুখোশ পরে যারা বাংলাদেশে রাজনীতি করেছে জুলাই তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত অর্থের প্রগতিশীল রাজনীতি বিনির্মাণের জন্য হয়েছিল। যার ফলেই আমরা দেখেছি দেয়ালে দেয়ালে লেখা' পাতা ছেঁড়া নিষেদ'। আরো অনেক স্লোগান যা প্রগতিশীলতার ছাপ রাখে।কিন্তু রাষ্ট্র আমাদের ঐক্য নষ্ট করতে পাতা ছিড়লো। আমাদের জুলাইয়ের ইতিহাসের পাতা এখন লিখবে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকিনি।
নিশ্চিত করেই বলতে পারি জুলাই আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেছিল ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিদ্রোহের কারণে। কিন্তু এই রাষ্ট্র ব্যাবস্থা জনতার ঐক্য নষ্ট করেছে। জুলাইয়ের পর পরই তারা জাতির ঐক্য কে বিভক্ত করার রাজনীতি করেছে।
ইন্টেরিমের গোটা সময়ে ইউনুসের প্রত্যেক মদদে এই দেশের মাজারে মাজারে হামলা হলো, বাউলের আসর বন্ধ করার চেষ্টা হলো, গোটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিষ্ক্রিয় রাখা হলো।
প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর যে নীরব উত্থান রাষ্ট্রযন্ত্রের সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে হলো কিন্তু তার দায় রাষ্ট্র তো নিলোই না, উল্টো এই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর মাধ্যমে রাষ্ট্র তার পুরানো বৈষম্য মূলক ব্যাবস্থার ইস্টাবলিসমেন্ট ফেরত আনলো। জুলাইয়ের যে মিছিল তা এখনও রাজপথ খুঁজছে । আমাদের আবারো রাজপথে যেতে হবে। এই রাষ্ট্র ব্যাবস্থা ভাংতে হবে । জুলাই কি দিয়েছে?, তা যদি বলতে হই আমি বলবো জুলাই আমাদের নতুন পথ সৃষ্টি করে দিয়েছে, আমদের বোঝার ঘাতটি পূরন করেছে, এবারের লরাই টা ব্যাবস্থা কে উচ্ছেদের হবে। বৈষম্য বিপরীতে সাম্যবাদের রাষ্ট্র গঠনের বিপ্লবের ডাক দিয়েছে আমাদের লাল জুলাই।
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন