সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

জামায়াতের চোখে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বনাম প্রথম স্বাধীনতা

জামায়াতে ইসলামী জুলাই আন্দোলনকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে প্রচার করলেও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে। অথচ তাদের এই শব্দচয়নই পরোক্ষভাবে প্রথম স্বাধীনতার অস্তিত্বকে স্বীকার করে নেয়।

Md shimul Hossain
পড়তে 3 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 87 বার পড়েছে
জামায়াতের চোখে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বনাম প্রথম স্বাধীনতা

জামায়াতে ইসলাম ৫ই আগষ্টকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে প্রচার করে এবং জুলাই নিয়ে জামাতে ইসলাম সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে একাত্তর সালকে তারা স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে মানে না। অর্থাৎ একাত্তর সালের স্বাধীনতাযুদ্ধকে তারা প্রচার করে ভারতের চক্রান্তে বাঙালির যুদ্ধ হিসেবে।
তাহলে এখন প্রশ্ন দাড়ায়, প্রথম স্বাধীনতাই যদি না হয়ে থাকে তবে দ্বিতীয় স্বাধীনতা কোথা থেকে আসে?
তাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা শব্দটাই বলে দেয়, প্রথম স্বাধীনতা বলে এদেশে কিছু ঘটেছিল, তবে তারা মৌখিক ভাবে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু সুযোগ পেয়ে তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে আবার ভূল করে না।

জাতীয়েসংসদের মতো একটি যায়গায় জামাতে ইসলামের একজন সাংসদ বলেন, তার বাবা নাকি একজন মুক্তিযোদ্ধা, এবং মুক্তিযুদ্ধে নাকি তিনি শহীদ হয়েছেন।
তার এ বক্তব্যের দু-একদিনের মধ্যেই প্রকাশ পায় তার বাবা কোনো মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহিদ নন; বরং তার বাবা এখনও জীবিত আছে। এটা প্রমাণিত হওয়ার পর তিনি সংসদে বলেন এটা নাকি ভূল বসত তার মুখ দিয়ে বের হয়েছে।

এটাই হচ্ছে জামায়াতের রাজনীতি। তারা এদেশের রাজনীতিতে কখনও প্রাসঙ্গিক হয়নি এবং দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই। তাদের ইতিহাস কলুষতার ইতিহাস। তাদের কথার মধ্যে সবসময় মুনাফেকির লক্ষণ পাওয়া যায়। তারা যা বলে তা করেনা। যা করে তা বলেনা। সবচেয়ে মজার বিষয়, জুলাই আন্দোলনকে নিয়ে তাদের প্রকাশনা হয়েছে সকল রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি। তারা জুলাইয়ের ইতিহাস কয়েক খন্ডে খন্ডে প্রকাশ করেছে।
তবে এদেশের মানুষ আরো অনেক খুশি হতো যদি তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও প্রকাশ করতো। মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা কতটুকু তা নিয়ে যদি তারা কয়েকখন্ডে রচনা প্রকাশ করতো তবে এদেশের মানুষ জুলাইকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে মেনে নিত।

একাত্তরের গনহত্যায় হত্যার সংখ্যা ত্রিশ লাখকে জামায়াতে ইসলামী বলে তিন লক্ষ। অন্যদিকে, জুলাইয়ের শহিদসংখ্যা তাদের মতে তিন হাজারও না, দুই হাজার। কিন্তু এ দুই হাজারকে তারা গর্বের সাথে উল্লেখ করে। আর 'ত্রিশ লক্ষ শহিদ' এই কথা শুনলে তাদের মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। তখন তারা বলে ভারতের ষড়যন্ত্রে যুদ্ধ হয়েছে, ত্রিশ লক্ষ লোক মরেনি; তিন লক্ষ লোক মরেছে।

এখন দেশে নানা মতবাদ তৈরি হয়েছে। এখন অনেকেই অনেককিছু বলে।  কেউ কেউ বলে একাত্তরে নাকি কিছু ঘটেইনি।
তবে, তারেক রহমানের সরকারের একটি প্রাপ্তি হলো, জামায়াতে ইসলামীর মতো দল যারা কিনা একাত্তর স্বীকার করেনা তারাও বিরোধী দলে এসে শহিদ মিনারে ফুল দিতে আসে- যা বিরাট অর্জন।
ক্ষমতা এতোই লালসার বস্তু যে, অনেক সময় নিজে যা না মানে, তার কাছে মাথা নত করতে হয়।
তবে জামায়াতের উৎপাদনকৃত শব্দ— 'দ্বিতীয় স্বাধীনতা' বলার মধ্য দিয়েই একাত্তরের জয়। প্রথম ছাড়া কখনো দ্বিতীয় শব্দটির উদ্ভব হতে পারেনা।

শিমুল হোসাইন

সাভার, ঢাকা।

#দ্বিতীয়_স্বাধীনতা #জামায়াতে_ইসলামী #বাংলাদেশের_রাজনীতি #মুক্তিযুদ্ধ #জুলাই_আন্দোলন #ইতিহাস_বিকৃতি #রাজনৈতিক_বিশ্লেষণ #বাংলাদেশ
Md shimul Hossain

About the Author

Md shimul Hossain

তোমরা নাহয় পূষ্প— পাখির কাব্য পড় আমি বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করি। Fb: > https://www.facebook.com/Shimulhossain134

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast