সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

অসম প্রতিযোগিতায় দেশের উচ্চশিক্ষার ৭২% শিক্ষার্থী!

দেশের উচ্চশিক্ষার ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লেও রাষ্ট্রীয় বরাদ্দে তারা চরম বৈষম্যের শিকার।

RAJIN AHAMMED SAMI
RAJIN AHAMMED SAMI মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 3 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 116 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 1 জন পাঠক পড়েছেন
অসম প্রতিযোগিতায় দেশের উচ্চশিক্ষার ৭২% শিক্ষার্থী!

দেশের ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য ১২ হাজার ৩০০ কোটি ৪ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১২ হাজার ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

এই বরাদ্দের মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেট পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে সেখানে ৪০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। সে হিসেবে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। মাসিক হিসাবে যা প্রায় ২০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে দেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩১ লাখ ৭০ হাজার। অথচ প্রতিষ্ঠানটির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪৮১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীর পেছনে বছরে গড় ব্যয় মাত্র ১,৫২০ টাকা, যা মাসিক হিসাবে প্রায় ১২৭ টাকা।

অর্থাৎ যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্র প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে, সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ১২৭ টাকা। এই বৈষম্য শুধু দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সদ্য প্রতিষ্ঠিত অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীপ্রতি ব্যয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ফলে দেশের প্রায় ৭২ শতাংশ উচ্চশিক্ষার্থীকে এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয়। চাকরির বাজার, উচ্চশিক্ষা কিংবা গবেষণার ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা করতে হয় তুলনামূলক অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধাপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। অথচ অবকাঠামো, গবেষণা সুবিধা, আধুনিক ল্যাব, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগের দিক থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝুমা আক্তারের বলেন,

“আমরা ক্লাস করার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি কিংবা পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধা পাই না। ফলে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত। এর প্রভাব বাস্তব জীবন ও কর্মক্ষেত্রেও পড়ছে। প্রতিনিয়ত আমরা পিছিয়ে পড়ছি।”

প্রশ্ন হলো, দেশের বৃহত্তম উচ্চশিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীর জন্য এত সীমিত বিনিয়োগ রেখে কি সত্যিই সমতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব? যখন সুযোগ-সুবিধার ব্যবধান এত বিশাল, তখন একই চাকরির বাজারে সবার কাছ থেকে সমান ফলাফল প্রত্যাশা করাও কি ন্যায্য?

#উচ্চশিক্ষা #জাতীয়_বিশ্ববিদ্যালয় #শিক্ষা_বাজেট #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #ইউজিসি #বাংলাদেশ #শিক্ষার্থী #বৈষম্য
RAJIN AHAMMED SAMI

About the Author

RAJIN AHAMMED SAMI

মজদুরের নিয়মিত লেখক

প্রগতিশীল লেখক ও এক্টিভিস্ট

কলম ধরেছি অবহেলিতের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। নীরব মানুষের কথা বলাই আমার দায়িত্ব।

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast