সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

কল্পনাশক্তি এবং এটির উপনিবেশায়ন

আদর্শ (ideology)এর সমালোচনা কেবল যুক্তি বা র‍্যাশনাল ব্যাখ্যার স্তরে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবেনা বরং তা অবশ্যই কল্পনা (fantasy)এর স্তরে কাজ করতে হবে।

Primitive Agonies
Primitive Agonies মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 12 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 76 বার পড়েছে
কল্পনাশক্তি এবং এটির উপনিবেশায়ন

লেখাটার আগে কন্টেক্সট দেওয়া দরকার।নাহলে অনেকে বিষয়টা মিস করে যাবেন। আমি ইন্সটাগ্রাম স্ক্রল করার সময়ে বাংলাদেশী একটা মেয়ে সামনে আসলো,এপিয়ারেন্সে তিনি অর্থনৈতিক ভাবে উচ্চবিত্ত বলেই মনে হয়।এরপর আমি ইমাজিন করার চেষ্টা করলাম যে তার সাথে যদি আমার প্রেম হয়ে যেতো কোনভাবে আমরা কী কী করতাম(অবভিয়াসলি তিনি আমার ক্রাশ নন।আমি তার ফেইস ও ভুলে গেছি কিন্তু আমি যা চিন্তা করেছি সেগুলো মনে আছে বলেই লিখতে পারতেছি)।

তো ওই বিষয়টা ইমাজিন করতে গিয়ে দেখলাম তার সাথে যে আমি রিলেশনে আছি তা আমি ইমাজিন করতে পারতেছিনা।আমার ইমাজিনেশন যেন কেউ এ্যারেস্ট করে ফেলেছে।এরপর মাথায় আসলো নেসেসারি কোশ্চেনগুলো যে,প্রেম কী ক্লাস এন্টাগনিজম অতিক্রম করতে পারে কী না।বাংলা সিনেমায় যা দেখানো হয়,তা কতটুকু সঠিক?বা আমি যদি ইমাজিন করতে না পারি তাহলে কেন পারছিনা এবং এই লক্ষণ দিয়ে আসলে আমাদের সাব্জেক্টিভিটি,পলিটিক্স এবং সোশ্যাল স্ট্রাকচার কীভাবে বুঝা যাবে।

কোর প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা যাক যে প্রেম ক্লাস এন্টাগনিজমকে অতিক্রম করতে পারে কী না।কেন ধনী মেয়েটি আমার ইমাজিনেশনে এমন ভাবে হাজির হলো যার ফলে মনে হলো তার কথা চিন্তা করাটাই অনুচিত।

লাকার মতে ডিজায়ার আসলে অন্যের দ্বারা মেডিয়েটেড।আমরা কোন বস্তুকে সরাসরি চাই না,আমরা ওই বস্তুকে চাই কারণ সেটা অন্য কেউ চেয়েছিলো(Desire is the desire of the other) ,মানে ওইগুলোই চাই যেগুলো সোসাইটিতে(symbolic order)ডিজায়ারের বস্তু হিসাবে অলরেডি হাজির আছে।এই সূত্র অনুযায়ী ডিজায়ার আসলে ফান্ডামেন্টালি রিকগনিশনের বস্তু।আমরা অন্যের দ্বারা এমন ভাবে রিকগনাইজড হতে চাই যেন আমাদের মনে হয় সোসাইটিতে আমরা একটা লেজিটিমেট পজিশন অকুপাই করে আছি।

যখন আমি ইমাজিন করতে গিয়ে ফ্রীজ হয়ে গেলাম,সেটা আসলে সোসাইটিতে থাকা নিষিদ্ধ(prohibitions)নিয়ম নীতির ইন্টারনালাইজেশন।ধনী মেয়েটি শুধুমাত্র ম্যাটেরিয়ালি যে inaccessible তা কিন্তু না,সে সিম্বোলিক অর্ডারে এমন জায়গাতে পজিশনড যেটার ফলে আমার সাইকি সেটাকে ফরবিডেন টেরিটরি হিসাবে ধরে নিছে।মানে তার সাথে নিজেকে কল্পনা করলে নিজের ভেতরেই পাপবোধ হচ্ছিলো।পাপবোধ হচ্ছিলো কারণ এক্সিস্টিং স্ট্রাকচারই হয়তো আমার কাছে পবিত্রতার রূপ পেয়েছে।ক্লাস এবং সোশ্যাল হায়ারার্কিকে মনে হচ্ছে রিলিজিয়নের মত।এইটা যদি অতিক্রম(Transgress)করার কথা চিন্তা করি তাহলে গিল্ট জেনারেট হচ্ছে।

আইডিওলজি তখন ই এফিশিয়েন্টলি ফাংশন করে যখন দেখা যায় এটি আমাদের ইমাজিনেশনের ই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং স্পেসিফিক কিছু বিষয় কল্পনা করতে বাধা দেয়।অপ্রেসিভ স্ট্রাকচার তখন ই সফল হয় যখন এর ভেতরে থাকা সাব্জেক্ট নিজেদের কল্পনার জন্যই নিজেদের পুলিশিং করে,সেন্সর করে। মানে বাইরের কেউ ইন্টারভিন করে এই পুলিশিং করতেছে না,সাব্জেক্ট নিজেই নিজের বিরুদ্ধে কাজ করতেছে।

হেগেলের মতে,আমরা অন্য কনশাসনেস দ্বারা রিকগনাইজড হওয়া ছাড়া এক্সিস্টান্স ফিল করতে পারিনা।কিন্তু যখন দুইটা কনশাসনেস একে অন্যের সাথে এনকাউন্টার করে তখন একজন মাস্টার এবং আরেকজন স্লেভের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। মাস্টার স্লেভের দ্বারা একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে স্বীকৃতি পায়,কিন্তু স্লেভ সমান রিকগনিশন পায় না। এই এ্যাসিমেট্রি স্লেভ ইন্টারনালাইজ করে ফেলে।

মার্ক্সের কাছে এই রিকগনিশনের স্ট্রাগল আসলে ক্লাস রিলেশন।ইকোনমিকালি লোয়ার ক্লাস সাব্জেক্ট পরিপূর্ণ সিম্বোলিক হিউম্যানিটি থেকে বঞ্চিত,কারণ স্ট্রাকচার নিজেই বাধা দেয় এইটা।ক্লাস শুধুমাত্র ইনকামের উপর না,নির্ভর করে সোশ্যালিও সে কীভাবে রিকগনাইজড হচ্ছে।ইন্সটাগ্রামে আমার দেখা মেয়েটা হয়তো নেসেসারিলি ইভিল না,বাট সোসাইটি তাকে এমন ভাবে পজিশনড করেছে যে তার দুনিয়া আর আমার দুনিয়া অন্টোলজিকালি ভিন্ন বলে মনে হয়।

এইটার ফলে ইমাজিন করা যায় না যে তার সাথে আমি কোন ধরনের সম্পর্কে আছি।মানে একেবারেই ক্লাস আইডিওলজির সাকসেসফুল অপারেশন।

আলথুসারের ভাষায় এটাকে বলে interpellation.আদর্শ মানুষকে একটা নির্দিষ্ট সামাজিক অবস্থানে পজিশনড করে যে সেই অবস্থানের ভেতরে থেকে কিছু সম্ভাবনা বা দৃশ্যপট বা কল্পনা আর বোধগম্য বলে মনে হয় না।এগুলো শুধুমাত্র কঠিন বা বাস্তবায়ন অযোগ্যই না বরং মনে হয় চিন্তা করা অসম্ভব।সম্ভাবনার সীমারেখা আসলে টানা হয় আর্থ সামাজিক অবস্থাতে একজন কীরকম ভাবে অস্তিত্বশীল সেটির উপরে।

উপরে আরেকটা প্রশ্ন করেছিলাম যে,স্পেসিফিক কিছু বিষয় যদি আমরা ইমাজিন করতে না পারি তাহলে আমাদের রাজনৈতিক জীবনে সেটি কীরকম ভাবে প্রভাব ফেলে।

একজনের এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে(কল্পনার ব্যর্থতা)যদি পুরো শ্রেনীর ভেতরে জেনারেলাইজড করা হয়,তাহলে তা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক আধিপত্যের কার্যকর দিকগুলোর একটি।মানে এটি এমন এক শাসন যার জন্য বল প্রয়োগ দরকার নেই,মানুষের কল্পনা শক্তি লিমিটেড করে দিলেই সেটি ক্রিয়াশীল থাকছে।

গ্রামসির হেজেমনিক তত্ত্বে দেখা যায় শাসক শ্রেনী শুধুমাত্র Army,police বা কারাগারের ভেতরেই ক্ষমতা সীমাবদ্ধ রাখেন না,তারা নিজেদের রিয়ালিটি দেখার দৃষ্টিভঙ্গিকে অন্যদের কাছে কমন সেন্স হিসাবে হাজির করেন।হেজিমনি তখন ই কায়েম হয় যখন তাদের অধীনস্ত শ্রেনী আনুগত্য প্রদর্শন করার পাশাপাশি কোন বিকল্প কল্পনা ও ভুলে যায়।

যখন শ্রমজীবী বা নিম্নবর্গীয় মানুষ বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসকে স্বাভাবিক, অনিবার্য, এমনকি ন্যায্য বলে মেনে নিতে শুরু করে,যখন বাহ্যিক সামাজিক শৃঙ্খলা তাকে নিয়ন্ত্রণ করার আগেই সে নিজের কল্পনা, নিজের আকাঙ্ক্ষা, নিজের ফ্যান্টাসিকেই নিয়ন্ত্রণ ও সেন্সর করতে শুরু করে তখনই হেজিমনিক প্রকল্প তার সাফল্য অর্জন করে।

অর্থাৎ, ক্ষমতার চূড়ান্ত বিজয় ঘটে তখন নয় যখন মানুষ বাধ্য হয়ে নতিস্বীকার করে, বরং তখন, যখন সে নিজের থেকেই এমনভাবে চিন্তা করতে শুরু করে যেন বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে কিছু কল্পনা করাই অর্থহীন।

মার্ক ফিশারের capitalist realism ধারণাটি এমন এক সমষ্টিগত মানসিক অবস্থার নির্ণয়, যেখানে পুঁজিবাদ ছাডা অন্যান্য সম্ভাব্য সামাজিক ব্যবস্থা একটি বিকল্প হিসেবে আর উপস্থিত থাকে না।ক্যাপিটালিজমের বাইরে কিছু কল্পনা করা শুধু কঠিন নয়, যেন নীতিগতভাবেই নিষিদ্ধ, ঠিক যেমন কেউ নতুন কোনো মৌলিক রং কল্পনা করার চেষ্টা করে।

ফিশারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো, তিনি এই অবস্থাকে বিষণ্নতার (depression) সঙ্গে যুক্ত করেন একটি বাস্তব মানসিক পরিণতি হিসেবে। যখন কল্পনার পরিসর বন্ধ হয়ে যায়, যখন আকাঙ্ক্ষার কোনো বৈধ লক্ষ্য ব্যবস্থা থাকে না, যখন বিকল্প ভবিষ্যৎ কল্পনা করাই অসম্ভব হয়ে ওঠে, তখন তার আউটকাম হয় এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী হতাশা।কিন্তু এই হতাশা নিজেকে রাজনৈতিক সমস্যারূপে নয়, ব্যক্তিগত ব্যর্থতারূপে প্রকাশ করে। বিষণ্ন ব্যক্তি মনে করে না যে এইটা সিস্টেম্যাটিক,বরং সে ভাবে তার নিজের মধ্যেই কোন সমস্যা আছে।এজন্য সে আরো "পাপবোধে" ভোগে,মানে যেন একটা পারপেচুয়াল সাইকেল।

এর বহু দশক আগে, One-Dimensional Man গ্রন্থে মারকুসে একই কাঠামোর বিশ্লেষণ করেছিলেন। তাঁর মতে, উন্নত শিল্পসমাজ এমন এক “একমাত্রিক চেতনা” (one-dimensional consciousness) তৈরি করে, যা নাকচ করার ক্ষমতা (negation), প্রকৃত বিরোধিতা এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের বাস্তবতা কল্পনা করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে। সমালোচনামূলক, ইউটোপিয়ান সম্ভাবনা, মারকুসে “দ্বিতীয় মাত্রা” (second dimension) বলেন, ধীরে ধীরে শোষিত ও নিষ্ক্রিয় করে ফেলা হয়। শিল্পকলা পণ্যে পরিণত হয়। সমালোচনা বাজারজাত হয়। আকাঙ্ক্ষা প্রশাসিত এবং নিয়ন্ত্রিত হয়।

এর রাজনৈতিক ফলাফল হলো, যখন নেগেট করার ক্ষমতাই হারিয়ে যায়, তখন প্রকৃত বিরোধিতা আর সম্ভব থাকে না।প্রতিবাদ তখন সিস্টেমের রি স্ট্রাকচার কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, র‍্যাডিক্যাল রাজনীতি ভেঙে পড়ে, কারণ র‍্যাডিক্যাল কল্পনাশক্তি, সেই কল্পনাশক্তি যা এক ভিন্নভাবে সংগঠিত পৃথিবী কল্পনা করতে পারে, তাকে পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে অলরেডি।

রসিয়েরের মতে রাজনীতি হচ্ছে ওই বিষয় যেখানে কে ভিজিবল,কার কথা শোনা হবে,বা কে সিস্টেমে লেজিটিমেট অংশগ্রহণকারী এগুলোর ই স্তরবিন্যাস। ডমিন্যান্ট অর্ডার পারসেপশন ডিস্ট্রিবিউশন করে,এরা ঠিক করে দেয় কোন জিনিস চিন্তা করা যাবে আর কোন জিনিস যাবে না,কে সামাজিকভাবে ভিজিবল আর কে ইনভিজিবল,আর কে পুরো সিস্টেমের বাইরে।

তিনি "পুলিশ অর্ডার" বলতে আক্ষরিক পুলিশ না,বরং সোশ্যাল অর্ডারের পুরো কাঠামোকেই বুঝান যার কাজ হচ্ছে সবাইকে নিজ নিজ জায়গাটা বুঝিয়ে দেওয়া,এবং এরপরে এইটা বুঝানো যে,যে জায়গাগুলো একজনের জন্য ঠিক করে দেওয়া হয়েছে,সেটাই ন্যাচারাল এবং অনিবার্য।কেউ যদি কখনো বিদ্রোহ করে তখন সেটাকে পলিটিকাল নয়েজ বলে গণ্য করা হয়।

এ্যারেস্টেড ইমাজিনেশন বা অবরুদ্ধ কল্পনাশক্তি হচ্ছে পুলিশ অর্ডারের ইন্টারনালাইজেশন।ধনী ইন্সটাগ্রাম নারীকে এমন একটা দৃশ্যমান শ্রেনীতে উপস্থাপন করা হয়,যা একই সঙ্গে তাকে যে দেখছে সেই ব্যক্তির কাছে সেই নারীটি নিজেই অদৃশ্য হয়ে ওঠেন।অর্থ্যাত নারীটিকে আর সম্পর্কের ক্ষেত্রে কল্পনাযোগ্য বা দৃশ্যমান সত্ত্বা হিসাবে প্রতিভাত হয় না।

রসিয়েরের ভাষায় প্রকৃত রাজনৈতিক কাজ হচ্ছে এই সোশ্যাল(পুলিশ) অর্ডারকেই অস্বীকার করা।এমনকি নিজের কল্পনার মধ্যেও নিজের দৃশ্যমানতাকে স্বীকার করা।

তো চলে যাই আবার পুরনো প্রশ্নে, ক্লাস এন্টাগনিজমের বাইরে এসে ভালোবাসা পসিবল কী না।

বাদিওর(Alain badiou) এর প্রেম সম্পর্কিত ধারণায় দেখা যায় তার কাছে ভালোবাসা একটা ইভেন্টের মত। এটি বিদ্যমান সামাজিক বাস্তবতা বা ক্ষমতাকাঠামো না বরং তার বাইরে থেকে আবির্ভূত হয়।এটি একটি ঘোষণা ও সত্যের প্রতি আনুগত্য(Fidelity) যা দুই ব্যক্তি একই সঙ্গে আবিস্কার করে যে পৃথিবীকে একক কোন দৃষ্টিকোণ থেকে নয় বরং দুইজনের দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা সম্ভব।Badiou স্পষ্ট ভাবে ওইগুলোর বিরোধীতা করেন যেখানে ভালোবাসাকে ঝুকি ব্যবস্থাপনা বা সামাজিক সামঞ্জস্যপূর্ণতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়,যেটাকে তিনি বলেন ইন্সুরেন্স নির্ভর প্রেম।মানে যার আউটকাম আগে থেকেই নির্ধারিত। তো এইরকম ভাবে দেখলে ক্লাস এন্টাগনিজমের বাইরে গিয়েও প্রেমের সম্পর্ক হতে পারে কিন্তু সেটি ইভেন্ট আকারে আসতে হবে যা এক্সিস্টিং এ্যারেঞ্জমেন্টের লজিক মানে না।

অন্যদিকে পিয়েরে বুর্দিওর Habitus এ দেখা যায়,মানুষের রুচি,আচার-ব্যবহার এবং দেহগত ও মানসিক প্রবণতা তাদের শ্রেনীগত অবস্থান দিয়ে গঠিত হয়।ফলে ভিন্ন শ্রেনীর মানুষ শুধু ইকোনমিকালি ডিফারেন্ট না বরং রুচি এবং কম্পাটেবিলিটির ক্ষেত্রেও মৌলিকভাবে আলাদা।এগুলো শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ না বরং বৃহত সামাজিক কাঠামোর অংশ।শ্রেনী ভেদে প্রেম হলেও এই ভিন্ন ভিন্ন Habitus এর টানাপোড়েনের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করেই রোমান্টিক বন্ধন টিকিয়ে রাখতে হয়। "ভালোবাসা সব জয় করে ফেলে" এগুলো আইডিওলজিকাল স্টেটমেন্ট যা এই জটিল সামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোকে আড়াল করে ফেলে।

বিয়ের ক্ষেত্রে এঙ্গেলস সরাসরি এই কাঠামোগত বাস্তবতাকে তুলে ধরেন।যেমন,বুর্জোয়া বিবাহ মূলত কোনো প্রেমের প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি সম্পত্তি-নির্ভর ব্যবস্থা, যার ঐতিহাসিক কাজ হলো উত্তরাধিকার নিয়ন্ত্রণ এবং পিতৃত্ব নিশ্চিত করা। যখন শ্রেণিগত পার্থক্য তীব্র হয়, তখন বিবাহ কখনোই কেবল দুই ব্যক্তির মিলন থাকে না,এটি হয়ে ওঠে দুই ভিন্ন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিশ্বের মধ্যে একটি দর-কষাকষি। ফলে শ্রেণি-অন্তর্গত ভালোবাসা সম্ভব হলেও তা ইনোসেন্ট নয়। এটি সম্ভব, কারণ ভালোবাসা তার মৌলিক রূপে(Badiou)সামাজিক অবস্থানের বণ্টন ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু সম্পর্কের ভেতরেই শ্রেণি-অসাম্য, ভিন্ন ঝুঁকি-সহনশীলতা, এবং দুই ব্যক্তির সামাজিক পৃথিবীর অসম ভার বহাল থাকে।তাই পরিপূর্ণ সচেতনতার সাথেই এই বিষয়টা এঙ্গেজ করতে হবে।

এ কারণেই জিজেক জোর দেন যে, আদর্শ (ideology)এর সমালোচনা কেবল যুক্তি বা র‍্যাশনাল ব্যাখ্যার স্তরে সীমাবদ্ধ থাকলেই হবেনা বরং তা অবশ্যই কল্পনা (fantasy)এর স্তরে কাজ করতে হবে।যে কাউকে বোঝানো সম্ভব যে শ্রেণি-ব্যবস্থা অন্যায়, সম্পদ-বৈষম্য ঐতিহাসিকভাবে তৈরি, এবং এসবকিছুই আসলে অস্বাভাবিক ভায়োলেন্স,এবং তারা সচেতনভাবে এর সঙ্গে একমতও হতে পারে। কিন্তু ফ্যান্টাসির কাঠামো, যা সচেতন বিশ্বাসের বাইরে গিয়েও কাজ করে, তবুও শ্রেণি-স্তরবিন্যাসকে “বাস্তবতা” হিসেবে অনুভব করাতে থাকে। অর্থাৎ আদর্শিক প্রভাব মূলত অচেতন(unconscious) স্তরে থাকে, শুধু সচেতন বিশ্বাসে নয়।

রাজনৈতিকভাবে এর অর্থ হলো, প্রকৃত মুক্তির রাজনীতি(emancipatory politics) কেবল উন্নত যুক্তি বা সঠিক তথ্যের বিষয় নয়। এর জন্য প্রয়োজন

ফ্যান্টাসিকে অতিক্রম করা(Traversal of the fantasy)।অর্থাৎ যে ফ্যান্টাসি বিদ্যমান ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখে, তার ভেতরে গিয়ে তাকে “বাস্তবতা” হিসেবে না দেখে বরং “ফ্যান্টাসি” হিসেবে চেনা, তার আড়ালে থাকা শূন্যতার মুখোমুখি হওয়া, এবং সেই শূন্যতার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে নতুন কিছু নির্মাণ করা। এটি ব্যক্তিগত স্তরের মতোই সমষ্টিগত রাজনৈতিক স্তরেও প্রযোজ্য। যে শ্রেণি তার ব্যক্তিগত জীবনে বিদ্যমান প্রতীকি (symbolic) সীমা অতিক্রম করতে পারে না, সে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সেই সীমা ভাঙতে সক্ষম হয় না।

রাজনৈতিক কল্পনার পুনরুদ্ধার,অর্থাৎ বিকল্প সামাজিক বিন্যাস কল্পনা করার ক্ষমতা, নিষিদ্ধ আকাঙ্ক্ষার বাইরে গিয়ে চাওয়ার সামর্থ্য, এবং নিজেকে এমন অবস্থানে কল্পনা করার ক্ষমতা যেগুলো সামাজিক ব্যবস্থা “ট্রান্সগ্রেসিভ” বলে চিহ্নিত করে,এটি কোনো ব্যক্তিগত উন্নয়নমূলক প্রকল্প বা বিলাসিতা নয়। এটি রাজনীতির নিজস্ব সম্ভাবনার শর্ত। এই ক্ষমতা ছাড়া রাজনৈতিক বিরোধিতা সবসময়ই বিদ্যমান ব্যবস্থার ভেতরেই আটকে থাকে; যা কেবল বিদ্যমান কাঠামোর পুনর্বিন্যাস করে, কিন্তু এখনও অনুপস্থিত নতুন বাস্তবতাকে কল্পনা করতে পারে না।

(অনেকে ভাবতে পারে আমি কোন insta baddie কে কনভিন্স করার জন্য লিখছি,যদিও I like the Fact that i am with someone কিন্তু ওইটা অনেক ইন্ডিভিজ্যুয়ালিস্টিক।সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কেন স্পেসিফিক বিষয় আমরা ইমাজিন করতে পারি না এবং এটার রাজনৈতিক ফলাফল কীরকম)

Primitive Agonies

About the Author

Primitive Agonies

মজদুরের নিয়মিত লেখক
প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast