সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

নারীর বিরুদ্ধে আদর্শিক সহিংসতা

এটি এমন এক মিথ, যা নারী দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত।এর ম্যাসেজ ক্লিয়ার, নিজের জায়গায় থাকো।বেশি কিছু চেয়ো না। অন্য নারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা কইরো না।মেইল ডমিনেটেড ফিল্ডে সফল হতে যাইয়ো না।কারণ সেই জগত তোমাকে ব্যবহার করবে, ফেলে দেবে; তারপর তোমার স্বামী তোমাকে হত্যা করবে, আর সবাই বলবে,এটা তোমারই দোষ।সংসার একটি কেইজ, কিন্তু নিরাপদ কেইজ।এইটা ছেড়ে বেরোলে ধ্বংস অনিবার্য।

Primitive Agonies
Primitive Agonies মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 7 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 56 বার পড়েছে
নারীর বিরুদ্ধে আদর্শিক সহিংসতা

বাংলা নাটকের মাধ্যমে মেয়েদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।

ডিজায়ারের লাকানীয় ইন্টারপ্রিটেশান অনুযায়ী দেখা যায় প্রতিটি সাব্জেক্ট সিম্বোলিক অর্ডারে এঙ্গেজ করলে ল্যাঙ্গুয়েজের স্ট্রাকচারের কারণে তার মধ্যে "অভাব" বোধ এর তাড়না তৈরি হয়।এই চিরন্তন অভাব(lack)এর ফলে ডিজায়ারের সৃষ্টি।মানে একজন মানুষের জন্য ডিজায়ার হচ্ছে ফান্ডামেন্টাল এবং এক্সিস্টান্সিয়াল বিষয়।

কিন্তু বাংলা নাটক নারীর ডিজায়ারের জন্য তাকে পানিশমেন্ট দিলো।কারণ আমাদের সোসাইটি নারীকে এখনও পরিপূর্ণ মানুষ হিসাবে স্বীকার করে নিতে পারে না।দেখে শুধুমাত্র ফাংশন হিসাবে।তো শাস্তি দিলো কীভাবে?

নাটকের নাম মায়াপাখি।অভিনয় করেছে অপূর্ব এবং অন্য একটা মেয়ে।চিনি না।তো শুরু করা যাক।

নায়িকা শুরুতে ট্রাডিশনাল বাঙালি নারীর মত থাকে। সে সংযত, প্রেমিকের জন্য ডেডিকেটেড।তার স্বপ্ন আছে, সেই স্বপ্ন সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য,যে নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা এবং প্রমোটেড হওয়া।লাইক, সে প্রেজেন্ট ইকোনমিক কন্ডিশনের ভেতরেই সফল হতে চায়। সে প্রেমে পড়ে, বিয়ে করে। নাটকটি আমাদের তার ও তার স্বামীর রোমান্টিক মোমেন্টগুলো দেখায়, এবং এই মোমেন্টগুলো নাটকের আইডিওলজিকাল ফরমেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।মানে দেখানো হচ্ছে যে মেয়ে হয়ে যা যা দরকার,তার সবই তার আছে।তার আছে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, এমন একজন ছেলে, যে তাকে ভালোবাসে। ফলে ম্যারিটাল লাইফের বাইরে তার যেকোনো অতিরিক্ত ডিজায়ার শুরু থেকেই সন্দেহজনক হয়ে ওঠে। ভালোবাসা তার জন্য যথেষ্ট নয়। সে আরও কিছু চায়। আর এই “আরও কিছু চাওয়া”-ই সেই অরিজিনাল সিন যেখান থেকে পরবর্তী সব বিপর্যয়ের সূচনা।

এরপর স্ক্রিনে দেখা যায় মেয়েটার রাইভাল নারী।আধুনিক, ফ্যাশনসচেতন, আত্মবিশ্বাসী।সে নায়িকার নিজের রিপ্রেসড ডিজায়ারের এক্সটারনালাইজেশন,মানে সেই Part যা দৃশ্যমান হতে চায়, ক্ষমতাবান হতে চায়, স্বাধীন হতে চায়।রাইভাল মেয়েটাকে as a person হিসাবে না দেখে দেখতে হবে সিম্বোল হিসাবে।নায়িকা যদি সম্পূর্ণভাবে ওই তার পারিবারিক বন্ধন বা তার ট্রাডিশনাল রুপ ছেড়ে দিত, তবে সে যা হতে পারত, সেই সম্ভাবনার প্রতিরূপ। এবং নায়িকা তার ওই রাইভাল মেয়েটার দ্বারা হুমকি অনুভব করে যে সে অফিস পলিটিক্সে পিছিয়ে যাবে এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সে নিজেকে বদলাতে শুরু করে।সে তার রাইভাল মেয়েটার মতো পোশাক পরতে শুরু করে।বসকে সিডিউস করার চেষ্টা করে, বসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এবং সফল হয়।

মেয়েটা গেইমে সাকসেস হলো,এবং এই সাকসেসের ফলে মেয়েটাকে পানিশমেন্ট দেওয়া হবে এরপর ধারাবাহিকভাবে।তার প্রমোশনের প্রস্তাব আসে, কিন্তু যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে। যে নারী সিস্টেমের ভেতরে এগোতে চায়, সে বুঝে গেলো যে এই সিস্টেম তার শরীরের বিনিময়ে ভ্যালু আদায় করবে। সে রাজি হয়। সে হিসাব করে যে তার শরীরও এক ধরনের সম্পদ, যার বিনিময়ে উন্নতি করা যায়। গল্পে এটি দেখানো হয় না যে একটি বৈষম্যমূলক সিস্টেম মেয়েটার বডি এক্সট্র‍্যাক্ট করতেছে বাট দেখানো হয় মোরাল ফেইলার হিসেবে। লাইক,সে “না” বলতে পারত। সে “পবিত্র” থাকতে পারত। কিন্তু সে অন্য পথ বেছে নিয়েছে।

এরপর আসে বিবাহবার্ষিকীর সিন,স্বামী বাড়িতে অপেক্ষা করছে, সব আয়োজন করা হচ্ছে।অন্যদিকে মেয়েটা বসের সাথে হোটেলে সময় কাটাচ্ছে।স্বামী বারবার কল করলেও মেয়েটা আর ধরে না।স্বামী যে মোমেন্টে স্ত্রীর সাথে সেলিব্রেট করবে সেই মোমেন্ট স্ত্রী অন্য একজনের সাথে, এই কন্ট্রাডিকশনের জন্য ভিউয়াররা স্বামীর প্রতি সিম্প্যাথি ফিল করে বাট it required a deeper question that,মেয়েটা বসের বিছানা অবধি কীভাবে গেলো,আর স্বামীর ভালোবাসার ন্যাচারটা কীরকম ছিলো।

\[স্বামীর ভালোবাসা অথেনটিক ছিলো না,He loved her not as a person but as an image which reflected his fantasy\]

মেয়েটা ট্রাডিশনাল সেটিংসে হাপায়া উঠতেছিলো কী না বা অফিসে কর্পোরেট সিনে পারফর্ম করার পরে তার অবস্থা কীরকম এগুলো তেমনভাবে আলোচনায় আসেনি।কেবল দেখানো হয় বিট্রেয়াল।

এরপর মেয়েটার রাইভাল নারী বসকে ব্ল্যাকমেইল করে এবং নায়িকার প্রমোশন আটকে ফেলে। নায়িকা তার বিয়ে, আত্মসম্মান সবকিছু বিসর্জন দিয়েছে, অথচ বিনিময়ে কিছুই পেলো না।সিস্টেম তাকে ব্যবহার করেছে এবং ফেলে দিয়েছে।কম্পিটিশন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও যৌন-রাজনীতির আধুনিক পৃথিবীকে এক প্রতারণা হিসেবে দেখানো হয়। এটি প্রগ্রেসের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু দেখা যায় সেখানে শুধুই এক্সপ্লয়েটেশন।যে নারী মনে করেছিল গেইমে অংশ নিতে পারবে, সে শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে সে আসলে কখনো গেইমের Part ই না।

সে ভেঙে পড়া অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসে এবং কিছু ড্রামাটিক মোমেন্টের পরে তার স্বামী তাকে হত্যা করে। তার পানিতে বিষ মিশিয়ে দেয়।এটি ট্রাডিশনাল ব্যবস্থার প্রকৃত চেহারা এক্সপোজ করে, যেটাকে নাটক আসলে রক্ষা করতে চাইতেছিলো।এইটা কোন রোমান্টিক বিষয় না,ক্ষমাশীল ও না।স্বামীর ভালোবাসা শর্ত সাপেক্ষ এবং সেটা হচ্ছে স্ত্রীর অবিডিয়েন্ট হতে হবে।যখন সেই অবিডিয়েন্স থাকেনা তখন ভালোবাসা ভায়োলেন্সে রুপ নেয়।মানে বিষ দিয়ে হত্যা করা এই সিস্টেমের লজিকাল এন্ডপয়েন্ট,এমন সিস্টেম যে মেয়ের বডি আসলে ছেলেদের প্রোপার্টি।যদি কাছে না থাকে তাহলে সেটা ডেস্ট্রয় করতে হবে।এরপর পুলিশ ইনভেস্টিগেশন হয়,কিন্তু নায়ককে ধরতে পারে না।এইটা ইন্টেনশনাল।সিস্টেম,আইন এবং রাষ্ট্র চায় স্বামী/নায়ক শাস্তি থেকে বেচে যাক।কারণ যে মেয়ে সীমা অতিক্রম করেছে তাকে ভিক্টিম হিসাবে না দেখতে হবে পার্পিট্রেটরের নজরে।এজন্য মেয়েটা সুইসাইড করছে এইটা কম্পেলিং স্টোরি।মেয়েটা সমস্যাজনক,অপমানিত এবং নিজের চয়েসের ফলেই ভেঙে পড়া পারসন,স্বামী এখানে সমস্যাজনক না,তাই নায়ক ধরা পড়েনা।

এই নাটক বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। এটি একটি সতর্কবার্তা। এটি এমন এক মিথ, যা নারী দর্শকদের নিয়ন্ত্রণ ও শাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত।এর ম্যাসেজ ক্লিয়ার, নিজের জায়গায় থাকো।বেশি কিছু চেয়ো না। অন্য নারীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা কইরো না।মেইল ডমিনেটেড ফিল্ডে সফল হতে যাইয়ো না।কারণ সেই জগত তোমাকে ব্যবহার করবে, ফেলে দেবে; তারপর তোমার স্বামী তোমাকে হত্যা করবে, আর সবাই বলবে,এটা তোমারই দোষ।সংসার একটি কেইজ, কিন্তু নিরাপদ কেইজ।এইটা ছেড়ে বেরোলে ধ্বংস অনিবার্য।

\[অনেক বলবে মেয়েটা চিট করছে তাকে পাস দিয়ে দিলা।কিন্তু ক্লোজলি দেখো কী হয়ে গেলো।সোসাইটি পুরোটা আইডিওলজিকাল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে ডমিন্যান্ট ডিস্কোর্স ক্রিয়েট করছে যে সাকসেস/স্ট্যাটাস কীরকম।মেয়েটা সেই ফিল্ডে খেলতে নামে,অর্থ্যাত সে তো সোশ্যাল স্ক্রিপ্ট অনুযায়ীই পারফর্ম করতেছিলো।এরপর দেখা যায় গেইমের রুলস এবং প্রতিটি প্লেয়ার বাই ডিজাইন তার বিপক্ষে কাজ করতেছে।তার ট্রাডিশনাল মেয়ে হওয়ার চাপ,স্বামী সংসার সামলানো এবং অন্যদিকে কর্পোরেট সেটিংসেও টিকে থাকতে হবে।এরপর এই অবস্থায় বস তাকে সেক্সের জন্য এপ্রোচ করে।মেয়েটা,as a person,মোমেন্টারিলি fell.আসলে ইটস ইজি।ইটস ভেরি ইজি এই অবস্থায় মেয়েটাকেই নালিফাই করা অ্যাবস্ট্রাক্ট সিস্টেমের বিরুদ্ধে ক্রিটিকাল হওয়া থেকে।বাট cant you see,what happened.হাজবেন্ড একটা টিপিকাল ওয়ার্কিং ক্লাস পারসন।আমরা আশা করি না যে তার ওই ধরণের ইমোশনাল এবং ইন্টেলেকচুয়াল ম্যাচুরিটি থাকবে যে সে পুরো সিস্টেমকে ডায়াগনোসিস করে তার ওয়াইফকে বলবে,you know what,i understand.Because he is also caught in the same System and that's too much.বাট মিনিমাম যা হইতে পারতো যে,ছেলেটা মেয়েটাকে ডিভোর্স দিয়ে দিতে পারতো বা একটা ট্র‍্যাজিক ব্রেকাপ দেখায়া দিতে পারতো।কিন্তু মেয়েটাকে মেরে ফেলার পাশাপাশি এটাও দেখানো হয় নায়ক ধরা পড়েনা, যাতে মোরাল একাউন্ট সেটেল্ড হয়।And that's absolutely bullshit and disproportionate.]

Primitive Agonies

About the Author

Primitive Agonies

মজদুরের নিয়মিত লেখক
প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast