হযরত ইউসুফ আঃ যখন সহোদরদের রোষানলে পড়ে ষড়যন্ত্রের শিকার হলেন তখন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিজেই তাঁকে উদ্ধার করলেন,এবং মিশরের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর রাজার নিকট লালিত-পালিত করালেন। হযরত ইউসুফ আঃ যখন খোদা প্রদত্ত নবুয়ত লাভের সন্নিকটে তখন খেয়াল করলেন মিশরের সবচেয়ে বড় সমস্যা মন্দিরের পুরোহিত গণ। পুরো মিশরীয় সাম্রাজ্য যেন রাজা নয়, পুরোহিতের ধর্মের দোহাই'য়ের উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে। ধর্মের দোহাই এতটা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে মিশরীয় বাদশা নিজেও এখানে অসহায়ত্বকে বরণ করে নিয়েছিল। পুরোহিতদের যখন যা ইচ্ছা তা করছিল, যদি কেউ বাধা দেয় কিংবা দ্বিমত পোষণ করত তাহলে তার মৃত্যু অথবা খোদা-তায়ালার বিরোধী বলে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিল।
ঠিক একই সমস্যা এখন বাংলাদেশে অহরহ হচ্ছে, মোল্লাদের বিরুদ্ধে যা যাবে তা ধর্মদ্রোহিতা বলে ধরে নেয়া হচ্ছে। এখানে, পুরোহিতের জায়গায় অবতীর্ণ হয়েছে মোল্লাতন্ত্র। পুরোহিততন্ত্র আর মোল্লার সাথে যোগসাজশ হচ্ছে যুগের সাথে তাল মিলাতে না পারা। একটা ভৌগোলিক অবস্থানের নির্দিষ্ট কিছু ইতিহাস, ঐতিহ্য,সাংস্কৃতিগত বিষয় থাকতে পারে, তা উদযাপন কিংবা সংগ্রহের মাধ্যম হলো সিনেমা। বনলতা এক্সপ্রেস প্রদর্শনীতে যখন একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বাধা দেয় তখন তারা ঐ পুরোহিতদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় যারা সত্যকে কোনঠাসা করে রাখতে চেয়েছিল।
ধর্মের দোহাই দিয়ে পুরো পৃথিবীকে কোণঠাসা করতে মরিয়া উগ্রবাদী ধর্মান্ধরা। হাইপেশিয়া,গ্যালিলিও গ্যালিলি,জিওরদানো ব্রুনো'দের মতো ব্যক্তিত্বের প্রাণ বিনাশ কিংবা আমৃত্যু গৃহবন্দী করা হয়েছে ধর্মের সাথে জ্ঞানের সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে। যুগে যুগে ধর্মান্ধের কাছে মাথা নত করে আসছে বিচার ব্যবস্থা।
রুমিন ফারহানার মতো নারীরা যখন বনলতা এক্সপ্রেসের পক্ষ নেয় তখন রুমিন হয় বেশ্যা। অথচ, এই রুমিনেরা মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বুক ফুলিয়ে সংসদে যায়, গোলামীর চুক্তির বিরুদ্ধে একা লড়ে যান।তখন, আমাদের মোল্লাতন্ত্র নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়।
About the Author
Mobarak Hossain
Student
I am a student, studying Honor's at Bandarban govt.College
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন