সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

আমি বাংলাকে আলাদা করে দেখি না, দেখতে পারি না।

একটা মহাবিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে বাংলা আবির্ভূত হয়েছে; আলাদ...

মারুফ হাসান ভূঞা
মারুফ হাসান ভূঞা মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 3 মিনিট লাগতে পারে 1
এই লেখাটি 73 বার পড়েছে
আমি বাংলাকে আলাদা করে দেখি না, দেখতে পারি না।

একটা মহাবিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে বাংলা আবির্ভূত হয়েছে; আলাদা করে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি বর্ণনা করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, উভয়ের মাটি, ভাষা, চিন্তা, মনন, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি—সব এক। পাশাপাশি মানুষের শোষিত, নিপীড়িত ও অত্যাচারিত হওয়ার প্রক্রিয়াটিও এক। শোষক ও বুর্জোয়ারাও এক, একই প্যাটার্ন।

‎

‎ইতিহাস পড়ি না, ইতিহাস খুব জানিও না। কিন্তু যতটুকু পড়েছি, যতটুকু জেনেছি—এই বাংলার মানুষ মানুষের সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখত, মানুষের জন্য জীবন দিত। ঠিক কতটা পূর্ব থেকে ইতিহাস টান দিলে ধর্মকে ছাড়িয়ে, জাত-পাতকে ছাড়িয়ে মানুষের সেই লড়াই, সংগ্রাম ও ঐক্যবদ্ধভাবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম দেখানো যাবে, বর্ণনা করা যাবে বা ব্যাখ্যা করা যাবে—তা জানি না। তবে এটা খুব জোর দিয়ে বলতে পারি যে, বাংলার মানুষ কখনো কল্পনাও করতে পারে নাই এই অঞ্চলের মানুষের ঘরের মাঝখান দিয়ে সীমান্ত আঁকা হবে, মানুষকে বিভাজিত করা হবে, ধর্মের নামে মানুষ দিয়ে মানুষকে হত্যা করা হবে; কিংবা সীমান্তের দুই পাড়ে বাহিনী দিয়ে পুশ-ইন, পুশ-আউট করা হবে। এটা তারা কখনোই কল্পনায় করতে পারে নাই।

‎

‎একবার দেখুন তো, ভাবুন তো মন দিয়ে—বাংলায় যখন শাসকগোষ্ঠী অত্যাচার করে, তখন কার মনে কতটা কষ্ট অনুভব হয়? শেষ জুলাইয়ের কথা ভাবুন, যখন ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ সব বন্ধ করিয়ে আপনাদের গুলি মারছিল, তখন ওই বাংলার মানুষ পাগল হয়ে গেছিল। রীতিমতো রাস্তায় নেমে থালা-বাসন, ঢোল, তবলা বাজিয়ে চিৎকার করে করে আপনাদের জন্য মিছিল-সমাবেশ করেছিল। সেই সমাবেশেও সেদেশের পুলিশ আক্রমণ করে, নির্মম ভাবে পিটিয়ে জেলে ঢুকিয়েছিল। কেমন যন্ত্রণা, কেমন বেদনা থাকলে মানুষ এভাবে দাঁড়াতে পারে? চিন্তা করুন। কিংবা চিন্তা করুন, ওখানেও যখন হকার উচ্ছেদ হয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ মানুষ মারে—তখন আপনার কি হয়? তখনো তো আপনার যন্ত্রণা হয়।

আমি বাংলাকে আলাদা করে দেখি না, দেখতে পারি না। এই সীমান্ত, কাঁটাতার এবং বাহিনীগুলো আপনার বেকারত্ব নিরসন করতে পারে না; আপনার খাদ্য, বাসস্থান কিংবা বেঁচে থাকার অধিকারও নিশ্চিত করতে পারে না। এসব কিছুর আয়োজন কেবল মানুষকে শোষণ করার জন্য, নিপীড়ন করার জন্য, মানুষকে বিভাজিত করার জন্য। যদি সত্যিকার অর্থে ধর্মের নামে কোনো রাষ্ট্র হয়, তবে হিন্দু রাষ্ট্রে হকার উচ্ছেদ হয় কেন? হিন্দু রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রে মানুষ পুশ-ইন করে কেন? হিন্দু রাষ্ট্রে মন্দির ভাঙে কেন? তবে মুসলিম রাষ্ট্রে বেকারত্ব থাকে কেন? মানুষ না খেয়ে মরে কেন? মুসলিম রাষ্ট্রে মন্দির ভাঙে কেন?

‎

‎অতএব, কোনো ধর্মের রাষ্ট্র পৃথিবীতে নেই; মানুষের জন্য রাষ্ট্র—সেটিও নেই। সব রাষ্ট্রই এখন ক্যাপিটালিস্টদের রাষ্ট্র। মহান হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র যারা দাবি করে, তাদের সংসদেও দুর্নীতি, লুটপাট ও মানুষ ঠকানোর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা হয়। কিংবা মহান মুসলিম রাষ্ট্র যারা দাবি করে, তাদের সংসদেও দুর্নীতি, লুটপাট ও মানুষ ঠকানোর ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আলোচনা হয়। মানুষ নিয়ে, মানুষের বেঁচে থাকা নিয়ে আলোচনা কোনো রাষ্ট্রেই হয় না।

মারুফ হাসান ভূঞা

About the Author

মারুফ হাসান ভূঞা

মজদুরের নিয়মিত লেখক

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রমজীবী মানুষ, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সব নিপীড়িত মানুষের জন্য লেখি, লেখার চেষ্টা করি।

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

1
Shams-uddin byapari ·

সিভিক ন্যাশনালিজম কি এক্ষেত্রে কন্ত্রারিয়ান হতে পারে?

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast