সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

প্রশ্নটি
82
বার দেখা
হয়েছে

বাংলাদেশে প্রচলিত গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কি পরিপূর্ণ সমাতন্ত্র আনা সম্ভব??

যেহেতু বর্তমান পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় ক্ষমতা ও সম্পদের মূল চাবিকাঠি কিছু মুষ্টিমেয় পুঁজিপতি এবং ক্ষমতাশালী গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত, তাই یہ আশা করা অবাস্তব যে তারা স্বেচ্ছায় তাদের সুবিধা ও ক্ষমতা সমাজতন্ত্রীদের হাতে ছেড়ে দেবে। এই বাস্তবতায়, প্রচলিত গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে কি কখনো সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব বা পরিবর্তন আনা সম্ভব? যদি নিয়মতান্ত্রিক পথ রুদ্ধ থাকে, তবে শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের মুক্তির জন্য কীভাবে একটি সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে?

4 মাস আগে

কাজী আয়ান স্মরণ

জানতে চেয়েছেন

কাজী আয়ান স্মরণ

দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী

3 টি উত্তর

এটি সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে বহুদিনের একটি মৌলিক বিতর্ক। বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক ধারার উত্তর এক নয়।

মার্ক্সবাদী ধারার একটি অংশ যুক্তি দেয় যে রাষ্ট্র বিদ্যমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তাই শুধু নির্বাচন জিতে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেই সমাজতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত হয় না। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী ও ইউরোকমিউনিস্টরা মনে করেন, সংগঠিত গণআন্দোলন, শ্রমিক সংগঠন, নির্বাচন এবং সাংবিধানিক সংস্কারের সমন্বয়ে ধীরে ধীরে সমাজকে আরও সমতাভিত্তিক করা সম্ভব। বাস্তবে বিভিন্ন দেশে এই দুই ধরনের পথই অনুসরণ করার চেষ্টা হয়েছে, তবে সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা উভয়ই রয়েছে।

আপনি যে প্রশ্নটি করেছেন, সেটি হলো যদি ক্ষমতাবান গোষ্ঠী স্বেচ্ছায় ক্ষমতা না ছাড়ে, তাহলে কী করা যায়। ইতিহাসে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি বড় অংশের উত্তর ছিল জনগণকে সংগঠিত করা। অর্থাৎ শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে তোলা, কৃষক সংগঠন শক্তিশালী করা, সমবায় প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক শিক্ষা, সামাজিক আন্দোলন, গণমাধ্যমে বিকল্প মত গড়ে তোলা এবং নির্বাচনের মাধ্যমে যতটা সম্ভব রাষ্ট্রের নীতিকে পরিবর্তনের চেষ্টা করা। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে স্থায়ী পরিবর্তনের ভিত্তি হলো জনগণের সংগঠিত শক্তি, শুধু সরকারের পরিবর্তন নয়।

অন্যদিকে ইতিহাসে কিছু বিপ্লবী মার্ক্সবাদী ধারা মনে করেছে যে শাসকশ্রেণি শেষ পর্যন্ত বলপ্রয়োগে তাদের ক্ষমতা রক্ষা করবে, তাই বিপ্লব অনিবার্য হতে পারে। আবার অনেক গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নন এবং যুক্তি দেন যে সহিংস বিপ্লব প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদে নতুন ধরনের কর্তৃত্ববাদ সৃষ্টি করেছে। বিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন অভিজ্ঞতা এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে।

তাই নিরপেক্ষভাবে বলা যায়, সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো একক ঐকমত্য নেই। কেউ বিপ্লবী পথের কথা বলেছেন, কেউ সংসদীয় পথের, আবার কেউ এই দুইয়ের সমন্বয়ের কথা বলেছেন। তবে বর্তমান সময়ে অধিকাংশ বৈধ বামপন্থী দল শ্রমিকদের সংগঠিত করা, নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সামাজিক আন্দোলন, ট্রেড ইউনিয়ন, সমবায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমেই সমাজে পরিবর্তন আনার পক্ষে কাজ করে। তাদের যুক্তি হলো, দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তনের জন্য শুধু রাষ্ট্রক্ষমতা নয়, জনগণের সক্রিয় সমর্থন এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানের রূপান্তরও প্রয়োজন।

সুতরাং, যদি প্রশ্নটি হয় গণতান্ত্রিক পথে সমাজতান্ত্রিক পরিবর্তন আদৌ সম্ভব কি না, তাহলে উত্তর হবে এটি অসম্ভব নয়, তবে অত্যন্ত কঠিন এবং দেশভেদে ভিন্ন। আর যদি প্রশ্ন হয় কীভাবে শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করা যায়, তাহলে আইনসম্মত ও অহিংস উপায়ে সংগঠন গড়ে তোলা, শ্রমিকদের অধিকার আদায়, জনমত তৈরি, নীতিগত পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণই সবচেয়ে নিরাপদ ও টেকসই পথ হিসেবে বিবেচিত হয়।

3 মাস আগে

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

উত্তর দিয়েছেন

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

ছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

আচ্ছা, চলুন একটু মানবিক সুরে, "আপনি" সম্বোধনে বলি — যেন একজন বন্ধু বসে বসে বুঝিয়ে বলছে।

একটা ছোট্ট গল্প দিয়ে শুরু করি

ভাবুন তো — একটা বড় মাঠ আছে, যেখানে সবাই মিলে একটা খেলা খেলে। কিন্তু সেই মাঠের নিয়ম কে বানিয়েছে? যাদের হাতে আগে থেকেই ব্যাট-বল, মাঠের চাবি সব আছে, তারাই নিয়ম বানিয়েছে। এখন আপনি যদি বলেন, "আমি এই নিয়ম মেনেই খেলে মাঠের মালিকানা বদলে দেব" — তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে: যারা মালিক, তারা কি সহজেই হার মেনে নেবে? নাকি দেখবেন, ঠিক যখন আপনি জিততে শুরু করবেন, তখনই নিয়মটা পাল্টে যাবে?

আপনার প্রশ্নটা আসলে এই জায়গা থেকেই উঠে আসছে — আর এটা কোনো সহজ প্রশ্ন না, মানুষ দেড়শ বছর ধরে এই নিয়ে ভাবছে, তর্ক করছে।

যারা বলেন, ভোটেই সম্ভব

কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন — ধীরে ধীরে, ভোট দিয়ে, শ্রমিকদের সংগঠন গড়ে, সরকারকে চাপ দিয়ে একটু একটু করে বদলানো যায়। সুইডেন-ডেনমার্কের মতো দেশে শ্রমজীবী মানুষের অনেক অধিকার আছে, আর সেগুলো এসেছে এই পথেই।

কিন্তু এখানে একটা কষ্টের গল্পও আছে। চিলি নামের দেশে ১৯৭০ সালে আয়েন্দে নামের একজন নেতা সত্যিই ভোটে জিতে সমাজতন্ত্র আনার চেষ্টা করেছিলেন। মানুষ তাঁকে বিশ্বাস করেছিল, ভরসা রেখেছিল। কিন্তু ১৯৭৩ সালে সামরিক বাহিনী জোর করে তাঁকে সরিয়ে দেয়। এই ঘটনাটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় — শুধু ভোটে জেতাই যথেষ্ট না, যদি ক্ষমতাধর গোষ্ঠী সেই ফলাফল মেনে না নেয়।

যারা বলেন, শুধু ভোটে হবে না

লেনিন, রোজা লুক্সেমবার্গের মতো চিন্তাবিদরা বলতেন — পুলিশ, সেনাবাহিনী, আদালত, আমলাতন্ত্র — এসব প্রতিষ্ঠান তৈরিই হয়েছে ক্ষমতাবানদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। তাই শুধু সরকার বদলালে চলবে না, পুরো কাঠামোটাই বদলাতে হবে। রাশিয়া, চীন, কিউবার মতো দেশে সমাজতন্ত্র এসেছিল এভাবেই — বিপ্লবের মাধ্যমে।

কিন্তু সত্যি কথা বলতে, এই পথেও একটা গভীর দুঃখজনক দিক আছে। এই দেশগুলোর অনেকগুলোই পরে এমন এক শাসনে পরিণত হয়েছিল, যেখানে মানুষ নিজের মনের কথা খুলে বলতে পারত না। তাহলে প্রশ্ন জাগে — জোর করে আনা পরিবর্তন কি সত্যিকারের মুক্তি এনে দেয়, নাকি শুধু একজন মনিবের জায়গায় আরেকজন মনিব বসিয়ে দেয়?

তাহলে মন থেকে বলি কী মনে হয়

সত্যি বলতে, দুটো পথেই মানুষের কষ্টের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। একদিকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করে, শেষমেশ হেরে যাওয়ার ভয়; অন্যদিকে দ্রুত পরিবর্তন এনে, নতুন করে স্বৈরাচারের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি।

তাই হয়তো আসল প্রশ্নটা "ভোট নাকি বিপ্লব" না — আসল প্রশ্নটা হলো: যেভাবেই পরিবর্তন আসুক না কেন, সাধারণ মানুষ কি সত্যিকারের কথা বলার অধিকার পাবে? নেতারা কি জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে? ক্ষমতা কি সত্যিই মানুষের হাতে থাকবে, নাকি নতুন কারো হাতে চলে যাবে?

এই প্রশ্নের কোনো সহজ, চূড়ান্ত উত্তর নেই। আর হয়তো সেটাই স্বাভাবিক — কারণ মানুষের মুক্তির প্রশ্নটা কখনোই এত সহজ ছিল না।

3 মাস আগে

Lazim Mustahab Adib

উত্তর দিয়েছেন

Lazim Mustahab Adib

student

ভাই বাংলাদেশ এর গনতন্ত্র মজবুত না। বাংলাদেশে হাতে গোনা ১-২ টা সরকার সেচ্ছাএ গনতান্ত্রিক উপায়ে পদত্যাগ করেছে। কিন্তু আপনাকে এখানে একটা জিনিস ভাবতে হবে। বাংলাদেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা বাম দলগুলো কতটা সিট পাইছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এ জোনাএদ সাকি বাদে উল্লেখ যোগ্য কোন বাম নেতাই নির্বাচনে জিতে নাই। তাও আবার তারে নিয়ে বিতর্ক আছে। যদিও কারচুপির অনেক অভিযোগ আছে।

এখানে কিন্তু বামেরা খুব সহযে বলা যায়, ভোটে সমাজতান্ত্রিক শক্তি খুব দূর্বল। আবার যদি বামেরা মনে করে যে আগামী নির্বাচনের আগে তারা গ্রাউন্ড প্রিপারেশন ভালো করে নিবে। তাও হবে না। কারন নির্বাচনে কারচুপি হবে। চোখ বন্ধ করে বলা যায়। এই কারচুপি তো পুলিশ ঠেকাবে না। আবার যদি বলেন শ্রমিকদের আপনারা সংগঠিত করে প্রতিরোধ করবেন। কিন্তু শ্রমিকরাও তো ভোট দিবে। আর ওদের বুর্জোয়া মানসিকতা ২০ টাকা আর ২ টা সিগারেট এর কাছে বিক্রি হয়ে যাবে। এখন যদি আপনি বলেন জান গেলেও এই তরিকা ছাড়বো না। তাইলে আপনার বৃদ্ধ বয়সে গিয়ে ঐ রাশেদ খান মেনন এর পরিনতি হবে। আর এই সার্কেল থেকে বের হতে পারছে না ঐ গনতান্ত্রিক বামেরা।

যদি আপনি ভাবেন আমি শ্রমিকদের বোঝাবো তাদের অধিকার সম্পর্কে। কিন্তু ঐ বোঝানোর কাজও পরে থাকবে কিছু পথশিশুকে চকলেট খাইএ ধরে এনে ফটোসেশন এর মাঝে।

তাই আমার মতে বাংলাদেশে সশস্ত্র পন্থাও চলবে না। কারন এই দেশের মানুষ অস্ত্র জিনিসটা ঘৃণা করে। তাই আমাদের গন আন্দোলন এর পথ ধরতে হবে। এতে পিপলস পাওয়ার আমাদের হাতে থাকবে। এর ফলে বিপ্লব পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা অনেক সহয হবে।

3 মাস আগে

Sadat Rameen Ahmed

উত্তর দিয়েছেন

Sadat Rameen Ahmed

উত্তর দিন

উত্তর দিতে লগইন করুন

Reading

Font size