সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষার শুরুর দিন ময়মনসিংহে এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনা দেশবাসীকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। শুধু এই শিক্ষার্থীই নয়, প্রতি বছর দেশে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করছে, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের। কিছুদিন আগে মেডিভয়েসের এক জরিপে উঠে আসে উদ্বেগজনক তথ্য: দেশের উচ্চশিক্ষার প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনোভাবে হতাশায় ভুগছেন।
এই হতাশার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ব্যয়, ব্যক্তিগত খরচ এবং নিত্যদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক চাপে ফেলে। ফলে কেউ কেউ চরম হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়ে।
একাডেমিক ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের অনিশ্চয়তাও বড় কারণ। রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা একসময় চাকরির বাজারের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বর্তমানে চাকরির বাজারের অবস্থা অনেক খারাপ। অনেক তৃতীয় শ্রেণীর চাকরির জন্যও এখন অনার্স-মাস্টার্স করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করে থাকে। এখন ভালো একটি চাকরি পাওয়া সোনার হরিণ পাওয়ার মতো হয়ে গেছে।”
এসবের পাশাপাশি সম্পর্কগত সংকট, নেশা ও মাদকাসক্তির কারণেও আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে।
এ সংকট সমাধানের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা জোরদার করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার তথ্য ও সহায়তা ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে, যাতে সংকটাপন্ন শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পায়। সর্বোপরি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে এমন একটি সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো শিক্ষার্থী নিজেকে একা বা অসহায় মনে না করে।
About the Author
RAJIN AHAMMED SAMI
মজদুরের নিয়মিত লেখকপ্রগতিশীল লেখক ও এক্টিভিস্ট
কলম ধরেছি অবহেলিতের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। নীরব মানুষের কথা বলাই আমার দায়িত্ব।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন