সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

নারীর নিরাপত্তা কোথায়? পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে রক্তাক্ত এক শিক্ষার্থীর আর্তনাদ

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মাইকের শব্দ কমানোর অনুরোধ করায় হামলার শিকার হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে নাগরিক অধিকার ও নারীর নিরাপত্তা কোথায়।

RAJIN AHAMMED SAMI
RAJIN AHAMMED SAMI মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 3 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 49 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 1 জন পাঠক পড়েছেন
নারীর নিরাপত্তা কোথায়? পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে রক্তাক্ত এক শিক্ষার্থীর আর্তনাদ

একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী। সামনে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি কেবল একটি অনুরোধ করেছিলেন, "মাইকের শব্দটা একটু কমানো যায় কি?" একটি সভ্য সমাজে এটি হওয়ার কথা ছিল সাধারণ একটি নাগরিক আবেদন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, সেই অনুরোধের জবাবে তিনি পেলেন গালিগালাজ, শারীরিক নির্যাতন, ধারালো অস্ত্রের হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আয়শা আফরিনের ওপর সংঘটিত এই অভিযোগকৃত হামলার ঘটনা কেবল একজন শিক্ষার্থীর ওপর আক্রমণ নয়। এটি আমাদের সমাজে আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং নারীর নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করে।

একজন নারী যদি নিজের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানোর প্রতিবাদও করতে না পারেন, তাহলে তার নিরাপত্তা কোথায়? একজন শিক্ষার্থী যদি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য শান্ত পরিবেশ দাবি করায় হামলার শিকার হন, তাহলে সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কতটা নিরাপদ?

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, হামলার অভিযোগের পরও ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি অনুযায়ী অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশ ও বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। যদি এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাবিত করারও চেষ্টা।

এ ধরনের ঘটনা সমাজে একটি বিপজ্জনক বার্তা দেয়। মানুষ ন্যায্য দাবি জানাতে ভয় পায়, প্রতিবাদ করতে নিরুৎসাহিত হয় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারীরা আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও মনে রাখতে হবে। অভিযোগগুলো বর্তমানে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশ্যে এসেছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি এবং বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন। তাই চূড়ান্ত দায় নির্ধারণ করবে তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। আইনের শাসনের মূল নীতিই হলো, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করা।

আজ প্রয়োজন কোনো পক্ষকে আগেভাগে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা করা নয়। প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

একটি সভ্য রাষ্ট্রের পরিচয় কেবল উন্নয়নের পরিসংখ্যানে নয়, বরং একজন নারী কতটা নিরাপদে নিজের কথা বলতে পারেন, একজন শিক্ষার্থী কতটা নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারেন এবং একজন সাধারণ নাগরিক কতটা নির্ভয়ে নিজের অধিকার দাবি করতে পারেন, তার মধ্যেই নিহিত।

আয়শা আফরিনের ঘটনাটি আমাদের সামনে আবারও সেই পুরোনো প্রশ্নটি তুলে ধরেছে, নারীর নিরাপত্তা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর কেবল বক্তব্যে নয়, কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই দিতে হবে।

#নারীর_নিরাপত্তা_কোথায় #আয়শা_আফরিন #জগন্নাথ_বিশ্ববিদ্যালয় #শিক্ষার্থী_নির্যাতন #নাগরিক_অধিকার #বাংলাদেশ #আইনের_শাসন #নারী_অধিকার
RAJIN AHAMMED SAMI

About the Author

RAJIN AHAMMED SAMI

মজদুরের নিয়মিত লেখক

প্রগতিশীল লেখক ও এক্টিভিস্ট

কলম ধরেছি অবহেলিতের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। নীরব মানুষের কথা বলাই আমার দায়িত্ব।

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast