সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

বামপন্থী মানেই কি ধর্মবিরোধী?

বামপন্থার আলটিমেট গোল যেহেতু সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা, তাই এই পুরো ন্যারেটিভটা আসলে একটা সিস্টেমেটিক প্রোপাগান্ডা। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ধার্মিক বা প্র্যাকটিসিং স্পিরিচুয়াল হয়েও অনায়াসে একজন একনিষ্ঠ বামপন্থী হতে পারেন। কারণ দিনশেষে, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর লড়াইটা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটা করাপ্টেড এবং বুলশিটমার্কা সিস্টেমের বিরুদ্ধে।

Neelmoy Hridoy
পড়তে 3 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 240 বার পড়েছে
বামপন্থী মানেই কি ধর্মবিরোধী?

সাধারণ মানুষের মনে একটা বড় ধারণা আছে যে বামপন্থা বা কমিউনিজম মানেই নাস্তিকতা বা ধর্মবিদ্বেষ। এই মিসকনসেপশনের পেছনে সবচেয়ে বড় ফুয়েল হিসেবে কাজ করে কার্ল মার্ক্সের সেই বিখ্যাত উক্তি—"ধর্ম হলো মানুষের জন্য আফিম স্বরূপ।" সাধারণ দৃষ্টিতে মার্ক্সের এই উক্তিকে যে কারোরই ধর্মবিরোধী বা রিলিজিয়ন-হেটিং মনে হতে পারে। কিন্তু ট্রুথ হচ্ছে, মার্ক্স তাঁর A Contribution to the Critique of Hegel's Philosophy of Right (১৮৪৪) গ্রন্থে এই উক্তির মাধ্যমে একদমই অন্য একটা ডাইমেনশন বোঝাতে চেয়েছিলেন।

​আফিম যেমন মানুষের ফিজিক্যাল পেইন ও বেদনা ভুলিয়ে সাময়িক অবশ করে রাখে, ধর্মও তেমনি শোষিত ও দরিদ্র মানুষকে তাদের বাস্তব জীবনের ক্রাইসিস আর কষ্ট ভুলিয়ে পরকালের এক কাল্পনিক সুখের আশা দেয়। ফলে মানুষ শোষণের বিরুদ্ধে রিভল্ট বা বিপ্লব না করে নিজের ভাগ্যকে মেনে নেয়। এবার জাস্ট একবার আপনার আশেপাশের বিভিন্ন ভালনারেবল কমিউনিটিগুলোর অ্যাক্টিভিটি লক্ষ্য করুন; দেখবেন শোষিত, সুবিধাঝঞ্চিত মানুষগুলো কীভাবে তাদের এক্সপ্লয়টেশনকে ‘ভাগ্যের লিখন’ বলে মেনে নিচ্ছে। মার্ক্সের এই অবজারভেশন আজকেও কতটা রিয়েলিস্টিক, তা সহজেই রিলেট করা যায়।

​যাইহোক, কট্টর মার্ক্সীয় ধারা ধর্মকে প্রাতিষ্ঠানিক শোষণের একটা ইনস্টিটিউশনাল টুল বা হাতিয়ার মনে করলেও, সামগ্রিক বামপন্থী দর্শনের হিস্ট্রি পর্যালোচনা করলে ধর্মের সাথে এর একটি গভীর মেলবন্ধনও দেখা যায়। রিয়ালিটি হচ্ছে, পৃথিবীতে এমন বহু লেফট-উইং মুভমেন্ট গড়ে উঠেছে, যার মূল ভিত্তিই ছিল ধর্মীয় চেতনা। এর সবচেয়ে ক্লাসিক উদাহরণ লাতিন আমেরিকার "লিবারেশন থিওলজি" বা মুক্তি তত্ত্ব। সেখানে ক্যাথলিক যাজকরা বাইবেলের সমাজচিন্তা এবং মার্ক্সীয় ইকোনমিকসের একটা চমৎকার কম্বিনেশন ঘটিয়ে দরিদ্র ও শোষিত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এখানকার পুরোহিতরা যিশু খ্রিস্টকে রিপ্রেজেন্ট করেছিলেন একজন বিপ্লবী বা রেভোলিউশনারি লিডার হিসেবে—যিনি শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের অধিকার আদায়ের লড়াই করেছিলেন।

​একইভাবে মুসলিম বিশ্বেও "ইসলামিক সমাজতন্ত্র"-এর ধারণা বেশ পপুলার হয়েছিল। যেখানে ইসলামের জাকাত ব্যবস্থা ও সম্পদের সুষম বণ্টনকে সাম্যবাদের মূল সুরের সাথে মিলিয়ে দেখা হয়। অন্যদিকে, বর্তমান যুগের আধুনিক গণতান্ত্রিক বামপন্থা বা সোশ্যাল ডেমোক্রেসির দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা ধর্মবিরোধী নয়, বরং প্রোপারলি ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার। তারা স্রেফ রাষ্ট্র ও ধর্মকে আলাদা রাখার কথা বলে এবং প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মাইনরিটি বা সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকে। ল্যাটিন আমেরিকার মডার্ন সোশ্যালিস্ট লিডার হুগো চ্যাভেজ বা ইভো মোরালেসরা তো প্রতিনিয়ত তাঁদের পলিটিক্যাল স্পিচে যিশু খ্রিস্টকে শোষিতের একমাত্র নেতা হিসেবে স্মরণ করতেন।

​সুতরাং, বামপন্থার আলটিমেট গোল যেহেতু সামাজিক ও অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা, তাই এই পুরো ন্যারেটিভটা আসলে একটা সিস্টেমেটিক প্রোপাগান্ডা। কোনো ব্যক্তি ব্যক্তিগত জীবনে গভীর ধার্মিক বা প্র্যাকটিসিং স্পিরিচুয়াল হয়েও অনায়াসে একজন একনিষ্ঠ বামপন্থী হতে পারেন। কারণ দিনশেষে, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং শোষণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর লড়াইটা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং একটা করাপ্টেড এবং বুলশিটমার্কা সিস্টেমের বিরুদ্ধে।

#বামপন্থা_ও_ধর্ম #সমাজতন্ত্র #রাজনীতি #কার্ল_মার্ক্স #বাংলাদেশ #ধর্ম #সাম্যবাদ #দর্শন
Neelmoy Hridoy

About the Author

Neelmoy Hridoy

-BHK- Baper Hotel e Khai

just highly motivated by systemic growth,strategic ambition for the future with a strong grounding in our cultural heritage, classic literature, and community service.

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast