সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

ওরা মানুষ, নাকি হিন্দু-মুসলমান?

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মনুষ্যত্বকে প্রাধান্য দেওয়াই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নৈতিক শিক্ষার অভাব ও ধর্মীয় ভণ্ডামির কারণে সমাজ আজ জাতিভেদে বিভক্ত।

Md shimul Hossain
পড়তে 2 মিনিট লাগতে পারে 1
এই লেখাটি 96 বার পড়েছে
ওরা মানুষ, নাকি হিন্দু-মুসলমান?

প্রতিভার কোনো ধর্ম হয়না, প্রতিভা নিজ গুণেই মূল্যায়িত হওয়া উচিত। কিন্তু কোনো প্রতিভাবান ব্যাক্তির সন্ধান পেলে আমরা আগে খুঁজি তার ধর্ম কি? নিজ ধর্মের অনুসারী হলে আমরা খুশি হই; ক্ষেত্রবিশেষে আমরা তখন তার প্রতিভার প্রচার করি।

কোনো রাষ্ট্রে যদি কখনও সে দেশের সংখ্যালঘুরা ভূলে কিংবা অনিচ্ছায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম প্রশ্ন তোলে তখন তাকে ধর্ম অবমাননার দ্বায়ে পিটিয়ে হত্যা করা সহজ। কিন্তু নিজ ধর্মের অনুসারী যখন অন্যদেশে অন্য ধর্মের সংখ্যাগরিষ্ঠদের ধর্ম নিয়ে অবমাননা করে তখন সে দেশে তাকে হত্যা করলে কিংবা নির্যাতন করলে তখন আমাদের হ্রদয়ে আগুন ধরে। তখন অপরাধকে আর অপরাধী মনে হয়না তখন মনে হয় সে তো মানুষ।

তখন তাকে মানুষ বলে মনে হয়।

এই যে আমাদের মানসিকতার বিপর্যয়! এই বিপর্যয়ই আমাদের পেছনে ফেলে রেখেছে। বিশেষ করে পাক-বাংলা-ভারত এই দেশগুলোতে ধর্ম রাজনীতির প্রধান কাঁচামাল।

এখানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রচলন নেই, আছে ধর্মের নামে বিচারহীনতা ও কপট— ভন্ডামি। এই দেশগুলোতে সংখ্যালঘুদের হত্যা করা জায়েজ ও বীরপুরুষত্ব্যের কাজ।

কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরুদ্ধে কথা বলা অপরাধ।

এখানে ধর্মের দোহায় দিয়ে সাত— খুন মাফ হয়, কিন্তু ধর্মের দোহায় দিয়েই আবার ভুক্তভোগী বিচারহীনতায় ভোগে। এখানে ধর্ম অপরাধীর শাস্তি বাড়াতে-কমাতে পারে। এখানে ধার্মিক নামের ভন্ডদের আদরে লালনপালন করা হয়। ধর্মীয় উগ্রতা এখানে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু এখানে মনুষত্ব্যের চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়। মনুষত্ব্যের চর্চা করতে গেলে নাকি এদেশগুলোতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে।

এদেশগুলোতে সর্বপ্রথম মনুষত্ব্যের চর্চা হওয়া উচিত। নৈতিক শিক্ষাই মানুষকে মূল শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলে। যখন একজন মানুষ নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে তখন তার ধর্মীয় শিক্ষা সমাজে কাজে লাগবে। নৈতিক শিক্ষাই পারে কুশিক্ষা-কুসংস্কার দূর করে মনুষত্ব্যের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। নৈতিক শিক্ষা মনুষত্ব্যের শিক্ষা দেয় এবং একজন মানুষ যখন নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তখন সে কে হিন্দু কে মুসলমান এই বিবেচনা করবেনা। সে বিবেচনা করবে সকলেই মানুষ কি না।

আর আমাদের দেশ, জাতি, সমাজ তখনই উপকৃত হবে যখন জাতিভেদ থাকবেনা।

যখন মানুষ হিন্দু-মুসলমানের ভেদাভেদ করবেনা বরং সকল মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।

শিমুল হোসাইন

সাভার,ঢাকা।

#মনুষ্যত্ব #ধর্মীয়_উগ্রতা #নৈতিক_শিক্ষা #সাম্প্রদায়িক_সম্প্রীতি #বাংলাদেশ #সামাজিক_অবক্ষয় #মানবিকতা #ধর্মীয়_রাজনীতি
Md shimul Hossain

About the Author

Md shimul Hossain

তোমরা নাহয় পূষ্প— পাখির কাব্য পড় আমি বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করি। Fb: > https://www.facebook.com/Shimulhossain134

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

1
Anindya Shuvro ·

আদিম মানুষের অন্ধ আদিম কল্পনাকেই ধর্ম বলে। ধর্মের দ্বারা আজ পর্যন্ত মানুষের কোন উপকার হয়নি, শুধু ক্ষতিই হয়েছে। এখন সময় এসেছে ধর্মীয় পরিচয়কে ছুঁড়ে ফেলে বিজ্ঞানমনস্ক / যুক্তিবাদী হওয়ার।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast