আরে ভাই! গতকালকের জার্মানি বনাম কুরাসাও ম্যাচটা দেখে তো আমার হাসতে হাসতে, বিছানায় গড়াগড়ি খেতে খেতে পাগল হয়ে যাবার মতো অবস্থা! ২০১৪ সালে জার্মানি যখন ব্রাজিলের জালে একে একে সাতটা গোল ঢুকিয়েছিল, তখন ভেবেছিলাম ঐটা বুঝি ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র 7up এর মহোৎসব। কিন্তু গতকাল কুলাসাওয়ের কাণ্ড দেখে বুঝলাম, জার্মানি আসলে কোনো ফুটবল দল না। ওরা হলো ইন্টারন্যাশনাল কোল্ড ড্রিংকস সাপ্লাইয়ার্স লিমিটেড, বিশেষত 7up সাপ্লাইয়ার্স। এদের কাজই হচ্ছে মাঠে নেমে প্রতিপক্ষকে ধরে পাইকারি দরে বোতল খুলে দেওয়া। এদের জার্সিতে কিংবা লোগোর নিচে 'ম্যানুফ্যাকচারড বাই সেভেন-আপ' লিখে দেওয়া উচিত। যাই হোক, গতকালকের এই ৭ঃ১ কাণ্ডের পর দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছে কারা জানেন? আমাদের পাড়ার আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। ২০১৪ সালে ব্রাজিল ওই ৭ গোল খাওয়ার পর থেকে জার্মানি যেন রাতারাতি আর্জেন্টিনার আপন 'জ্যাঠা' বা বড় চাচায় পরিণত হয়েছে। আর্জেন্টিনা ফ্যানদের লজিক খুব সিম্পল, ‘শত্রুর শত্রু আমার পরম জ্যাঠা’। ব্রাজিলকে যে দল ঐভাবে ধোলাই করতে পারে তারা তো আর্জেন্টিনার কলিজার টুকরা হবেই। তো, গতকাল কুলাসাও ৭ গোল খাওয়ার পর আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা পাড়ার মোড়ে পটকা ফুটিয়ে বলতেছে, ‘দেখছিস! আমাদের জ্যাঠা জার্মানি কিন্তু চরম সাম্যবাদী, ওরা সমাজে কোনো বৈষম্য পছন্দ করে না। ব্রাজিল পাঁচটা স্টার নিয়ে ৭ গোল খাইছে বলে কুলাসাওরে কম দেবে? কক্ষনও না! জ্যাঠার কাছে ব্রাজিলের যা দাম, কুলাসাওয়েরও তাই দাম। জ্যাঠা সবাইকে সমান চোখে দেখে, সমান মাপে সেভেন-আপ খাওয়ায়। একেই বলে সত্যিকারের সমাজতন্ত্র।’ এদিকে ব্রাজিলের সমর্থকেরা মুখ লুকিয়ে বলতেছে, ‘ভাইরে, কুলাসাও গোল খাইছে তাতে আমাদের টেনে আনো কেন?’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! আর্জেন্টিনার ফ্যানরা তখন জ্যাঠার জয়গানে মত্ত। আসলে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই দেখা যায় যে, এই জার্মান জাতটার রক্তেই বোধহয় এই সমস্যা আছে। এরা এভাবে মাঝে মধ্যেই খেপে ওঠে আর কোনো কারণ ছাড়াই কাউকে না কাউকে ধরে ইচ্ছেমতো ভরে দেয়। এদের ডিকশনারিতে 'দয়া' বা 'সহমর্মিতা' বলে কোনো শব্দই নেই। আর শুধু জাতীয় দল কেন? এদের ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ এর কথাই চিন্তা করেন। ২০২০ সালের ১৪ আগস্টের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা বার্সেলোনা সমর্থকেরা কি জীবনেও ভুলতে পারবে? চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সাকে ধরে এক হালি, দুই হালি করে গুনে গুনে ৮টা গোল দিয়েছিল। মেসি-সুয়ারেজরা সেদিন মাঠে দাঁড়িয়ে শুধু বল জাল থেকে কুড়িয়েছে, আর বার্সা সমর্থকেরা টিভির সামনে বসে তসবিহ জপেছে যেন গোলসংখ্যা ডাবল ডিজিটে না পৌঁছায়। জার্মানদের এই এক স্বভাব, এরা মাঠে নামলে দয়া-মায়া, এথিক্স, সব ড্রেসিংরুমে লকফাস্ট করে চাবিটা ড্রেনে ফেলে দিয়ে আসে। এদের সামনে কে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, কে মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ, আর কে কুলাসাও সেসব দেখার টাইম নাই। এদের একটাই মিশন, মাঠে নামো, গোল উৎসব করো। তারপর প্রতিপক্ষকে ফ্রি তে কোল্ড ড্রিংকস খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দাও। কালকের পর থেকে তো আমার মনে হচ্ছে, ফিফার উচিত জার্মানির ম্যাচে একটা নতুন নিয়ম করা। যেই দলই জার্মানির বিপক্ষে খেলবে, তারা ম্যাচ শুরুর আগেই গোলকিপারের পাশাপাশি এক্সট্রা দু'জন 'বল কুড়ানি' লোক রাখবে। তাহলে গোল খাওয়ার পর বলটা দ্রুত জাল থেকে তুলে এনে খেলাটা তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে।
About the Author
Fazle Rabby Rashed
মজদুরের নিয়মিত লেখকActivist
ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন শিল্প-সংস্কৃতিমনা, প্রগতিশীল, উদারপন্থী ও মুক্তচিন্তার মানুষ। আমি বিশ্বাস করি শিল্প-সংস্কৃতিই মানুষের আসল পরিচয়। রাজনীতি, সমাজ, শিল্প-সাহিত্য নিয়ে আড্ডা আর কাটাছেঁড়া করতে ভালো লাগে। তবে চলচ্চিত্রের দুনিয়াটা আমার একটু বেশিই প্রিয়। তাই চলচ্চিত্র নিয়ে লেখালেখি, আলোচনা-সমালোচনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন