সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

মৌলবাদ কেন ক্ষতিকর?

মৌলবাদ মানুষকে প্রশ্নহীন অন্ধ আনুগত্যের দিকে ঠেলে দিয়ে প্রকৃত অধিকারের লড়াই থেকে বিচ্যুত করে। এটি ধর্ম বা পরিচয়ের নামে বিভাজন তৈরি করে শোষকদের আড়াল করে রাখে।

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি
চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 2 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 167 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 1 জন পাঠক পড়েছেন
মৌলবাদ কেন ক্ষতিকর?

মৌলবাদের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো, এটি মানুষকে ভাবতে শেখায় না, মানতে শেখায়। প্রশ্ন করতে নিরুৎসাহিত করে, যুক্তির বদলে অন্ধ আনুগত্যকে বড় করে তোলে। আর মানুষ যখন প্রশ্ন করা বন্ধ করে, তখন অন্যায়ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।

একজন শ্রমিকের আসল লড়াই তো তার ন্যায্য মজুরি, কাজের অধিকার আর সম্মানের জন্য। একজন কৃষকের লড়াই তার ফসলের ন্যায্য দাম নিয়ে। কিন্তু মৌলবাদ বারবার সেই লড়াইকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। ধর্ম, জাত বা পরিচয়ের নামে মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়। তখন শোষকের দিকে আঙুল ওঠে না, বরং শোষিতরাই নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, মানুষ যখন বিভক্ত হয়, তখন লাভবান হয় ক্ষমতাবানরা। যারা মানুষের শ্রম থেকে মুনাফা তোলে, তারা চায় মানুষ যেন নিজের আসল সমস্যাগুলো ভুলে থাকে। তাই অনেক সময় ধর্মীয় উন্মাদনা, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কিংবা কুসংস্কার সাধারণ মানুষের দৃষ্টি ঘুরিয়ে দেয় বেকারত্ব, বৈষম্য, দুর্নীতি আর শোষণের মতো বাস্তব সংকট থেকে।

তবে একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলা দরকার, ধর্ম পালন আর মৌলবাদ এক জিনিস নয়। অসংখ্য মানুষ আছেন, যারা নিজের বিশ্বাস নিয়ে চলেন, আবার একই সঙ্গে অন্যের মতকেও সম্মান করেন। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন কোনো বিশ্বাসকে একমাত্র সত্য ঘোষণা করে অন্য সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

একটা সমাজ তখনই এগিয়ে যায়, যখন সেখানে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা থাকে, বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, শিল্প-সংস্কৃতি বিকশিত হয় এবং মানুষ তার পরিচয়ের জন্য নয়, তার শ্রম ও মানবিকতার জন্য মূল্যায়িত হয়।

তাই মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই মানে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই নয়। এটি অন্ধবিশ্বাস, বিভাজন, ঘৃণা এবং শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই। এই লড়াইয়ের লক্ষ্য একটাই; এমন একটি সমাজ গড়া, যেখানে মানুষ মানুষকে সন্দেহ করবে না; কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজের অধিকার আদায়ের জন্য দাঁড়াবে।

মানুষের পরিচয় তার ধর্ম নয়, তার মানবিকতা।
মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি বিভাজন নয়, ঐক্য।
আর যে সমাজ প্রশ্ন করতে শেখে, সেই সমাজই একদিন সত্যিকার অর্থে মুক্ত হয়।

#মৌলবাদ #অন্ধবিশ্বাস #সামাজিক_বিশ্লেষণ #মুক্তচিন্তা #মানবিকতা #বাংলাদেশ #সমাজ_সংস্কার #অধিকার
চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

About the Author

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

মজদুরের নিয়মিত লেখক

ছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

সাধারণ সম্পাদক - সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ময়মনসিংহ জেলা শাখা।

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast