7 টি উত্তর
ধরো একটা কারখানায় শ্রমিকরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছে। তাদের পরিশ্রমে মাল তৈরি হচ্ছে, কোম্পানি লাভ করছে। কিন্তু লাভের বড় অংশ যাচ্ছে মালিকের কাছে। শ্রমিক শুধু মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন পাচ্ছে। মার্ক্সের মতে, শ্রমিক আসল মূল্য তৈরি করলেও সে তার পরিশ্রমের পুরো মূল্য পায় না। এই জায়গাটাকেই তিনি শোষণ বলতেন।
মার্ক্সবাদ মনে করে সমাজে সবসময় একটা শ্রেণির সাথে আরেকটা শ্রেণির স্বার্থের সংঘর্ষ থাকে। আগে ছিল রাজা-প্রজা, জমিদার-কৃষক; এখন অনেক ক্ষেত্রে সেটা মালিক-শ্রমিক। তাই মার্ক্সবাদীরা চায় এমন একটা সমাজ, যেখানে শুধু অল্প কয়েকজনের হাতে সব সম্পদ থাকবে না, বরং সাধারণ মানুষেরও অর্থনীতি ও সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে।
তবে মার্ক্সবাদ শুধু অর্থনীতি না, এটা রাজনীতি, সমাজ, এমনকি মানুষের জীবনযাত্রাকেও ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করে। কেউ এটাকে গরিব মানুষের অধিকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা মনে করে, আবার কেউ বলে বাস্তবে অনেক মার্ক্সবাদী রাষ্ট্র স্বৈরাচারী হয়ে গিয়েছিল। তাই মার্ক্সবাদকে শুধু ভালো বা খারাপ বলে শেষ করা যায় না; এটা মূলত সমাজকে বোঝার একটা বড় তত্ত্ব।
তুমি সারাদিন কাজ করো, তবু গরিব কেন?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই মার্ক্স পুরো একটা দর্শন দাঁড় করিয়ে ফেললেন।
ব্যাপারটা এরকম
তুমি গার্মেন্টসে কাজ করো। শার্ট বানাও। সেই শার্ট বিকোয় ১০০০ টাকায়। তুমি পাও ২০০।
বাকি ৮০০ কোথায়?
মালিক নিয়ে যায়। কেন? কারণ কারখানাটা তার।
মার্ক্স বললেন — এটাই সমস্যার গোড়া। কারখানা, জমি, মেশিন — এগুলো যার, ক্ষমতাও তার। তুমি যতই খাটো, সিস্টেমটাই এমনভাবে বানানো যে সম্পদ উপরে যাবেই।
এটার নাম দিলেন Exploitation — শোষণ।
তাহলে ইতিহাসটা কী?
মার্ক্স বললেন, ইতিহাস মানে রাজা-বাদশাহর গল্প না।
ইতিহাস মানে —
দাসমালিক vs দাস, জমিদার vs কৃষক, এখন মালিক vs শ্রমিক।
সবসময় দুইটা দল। একটা খাটে, একটা খায়।
সমাধান?
কারখানা, জমি, উৎপাদনের সব মাধ্যম — এগুলো মুষ্টিমেয় কারো না হয়ে সবার হোক।
কেউ কাউকে শোষণ করবে না। যে যতটুকু পারে কাজ করবে, যতটুকু দরকার পাবে।
এটাই Communism-এর স্বপ্ন।
এক লাইনে?
যে বানায় সে পায় না, যে পায় সে বানায় না — এই সিস্টেমটাই ভাঙতে হবে।
প্রয়োগ ছাড়া মার্ক্সবাদ অসম্পূর্ণ। মার্ক্সবাদ সবচেয়ে অগ্রসর এবং বৈজ্ঞানিক মতাদর্শ এর প্রায়োগিক চরিত্রের কারণে।
মহান কমরেড লেনিন এবং মাও সে তুং মার্ক্সবাদকে আরো বিকশিত করেন ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে এর সফল প্রয়োগ এর মাধ্যমে।
4 মাস আগে
উত্তর দিয়েছেন
Asadআর এই সূত্রমালা দিয়ে যখন বস্তুবাদী পদ্ধতিতে সমাজের যাবতীয় বিষয়ের বিকাশকে বিশ্লেষণ ও সুত্রবদ্ধ করা হয় আমরা পাই ঐতিহাসিক বস্তুবাদ। এটি আমাদের বলে একটি সমাজ ভিত্তি (base) ও উপরকাঠামো( super structure) নিয়ে গঠিত। ভিত্তি (base) - অর্থনীতি উৎপাদন, পুনঃ উৎপাদন, উৎপাদন সম্পর্ক ও উৎপাদকী শক্তি। এগুলা চূড়ান্ত চালিকা শক্তি। উপরকাঠামো( super structure) - আইন,বিজ্ঞান, ধর্ম, শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতি। এটি ভিত্তিকে সাপোর্ট করে। এভাবে সমাজের বস্তুগত ভিত্তি হলো অর্থনীতি, উৎপাদন ও পুনঃউৎপাদন।
২) এভাবে একটি সমাজকে বুঝতে অর্থনীতিকে বোঝার প্রয়োজনীয়তা আসে। তখন মার্ক্স-এঙ্গেলস ক্ল্যাসিকাল ব্রিটিশ অর্থনীতির দিকপাল এডাম স্মিথ ও ডেভিড রিকার্ডের দ্বারস্থ হন। তাদের লেবার থিওরি অব ভ্যালু কে আরো বিকশিত করেন ও বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তির উপর দাড় করান। এই থিওরি আমাদের বলে সমগ্র মানব সভ্যতা শ্রম দিয়ে বিকশিত। মনে রাখতে হবে মার্ক্সবাদ সম্পূর্ণ আলদা চিন্তাপদ্ধতি তাই এটি শ্রমকে অন্যভাবে দেখে , তাই এটি বুদ্ধির অবদানকে খাটো করে দেয় না। বরং বুদ্ধি-মানসিক শ্রম ও কায়িক শ্রমকে ঐক্য স্থাপন করে। এরপর পণ্য কী, পন্য’র লাভ, মজুরি, পুজি, পুজির সার্কুলেশন এইসব নিয়ে আলোচনা আরো বিস্তৃতি হয়। এটি দেখায় মালিক কীভাবে শ্রমিককে শোষণ করছে, কীভাবে একদিক চরম দারিদ্র্য এবং অন্যদিকে সম্পদ ও সেবার নহর বইছে। এটি মার্ক্সবাদের ২য় অংশ।
4 মাস আগে
উত্তর দিয়েছেন
নাজমুল হাসান ফাহিমবি দ্রঃ
১) মার্ক্সবাদ নিজে কোনো সমাজব্যবস্থা নয় বরঞ্চ এটি বিশ্লেষনের মাধ্যমে নতুন সমাজ ব্যবস্থা (ব্যাক্তি মালিকানা ও রাষ্ট্র বিলোপ) কমিউনিজম এর ধারণা দেয়।
২) পুজিবাদ পৃথিবীর শেষ সমাজ ব্যাবস্থা নয়। এর আগেও যেমন অনেক সমাজের উত্থান ও পতন হয়েছে তেমনি এরপরে মানুষের লড়াই সঠিক দিকে থাকলে কমিউনিজম নির্মান করতে হবে। এঢ় অন্যতম নীতি - from each according to their ability , to each according to their need
৩) মার্ক্সবাদকে scientific socialism বলা হয়। তবে অর্থনীতি, উৎপাদন সম্পর্ককে প্রধান চালিকা শক্তি গণ্য করা হয় বলে, অনেকে একে অর্থনীতির উপর একতরফা নির্ভরশীল ব্যাখা বলে চালিয়ে দেন। কিন্তু মার্ক্সবাদে অর্থনৈতিক উৎপাদন, পুনঃউতপাদনকে একমাত্র চালিকা শক্তি বলা হয়নি। বরঞ্চ এটি শেষ মূহুর্তে চূড়ান্ত নির্ধারক হয়ে উঠে। যেমনঃ জুলাই অভ্যুথানে অর্থনীতি নিয়ে লড়াই শুরু হয়নি, তবে চূড়ান্তভাবে আমরা অর্থনীতির কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারিনি। তাই কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।
4 মাস আগে
উত্তর দিয়েছেন
নাজমুল হাসান ফাহিমইতিহাসের চালিকাশক্তিও এই দ্বন্দ্ব। ইয়োরোপের প্রেক্ষিতে দাস ও দাসমালিক, ভূমিদাস ও সামন্তপ্রভু, শ্রমিক ও পুঁজিপতি— উৎপাদনকারী ও শোষক শ্রেণির সংঘাতই সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি। উৎপাদনশক্তির বিকাশের এক পর্যায়ে বিদ্যমান উৎপাদন সম্পর্ক তারই বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন পুরোনো সমাজের ভেতরেই নতুন সমাজের উপাদান জন্ম নেয় এবং সংগ্রাম ও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নতুন সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। পুঁজিবাদ এই প্রক্রিয়ার সর্বাধিক উন্নত রূপ। এখানে উৎপাদনের প্রকৃত স্রষ্টা শ্রমিক শ্রেণি এবং মুনাফাভোগী পুঁজিপতি শ্রেণির মধ্যে দ্বন্দ্ব ক্রমাগত তীব্র হয়। মার্কসবাদ দেখায় কীভাবে শ্রমিক শ্রেণি সংগঠিত সংগ্রামের মাধ্যমে ব্যক্তিমালিকানা ও মুনাফাকেন্দ্রিক এই ব্যবস্থাকে অতিক্রম করে শ্রেণিবিভক্ত সমাজের ভিত্তি বিলোপ করতে পারে।
তবে এই পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয় নয়। সমাজের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নতুন সমাজের বস্তুগত ভিত্তি তৈরি করলেও, সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয় সংগঠিত মানুষ। তাই শ্রমিক শ্রেণিকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হতে হয় এবং রাষ্ট্রক্ষমতার জন্য সংগ্রামে অবতীর্ণ হতে হয়। সমাজে বহু দ্বন্দ্ব একইসঙ্গে কাজ করে। কোন পরিস্থিতিতে কোন দ্বন্দ্ব প্রধান হয়ে ওঠে এবং তার সঙ্গে অন্যান্য দ্বন্দ্বের সম্পর্ক কী, তা বোঝার পদ্ধতিও মার্কসবাদ দেয়। কোনো কিছুকে তার সামগ্রিক সম্পর্ক ও বিকাশের প্রক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে বোঝা যায় না। এই বৈজ্ঞানিক, ঐতিহাসিক ও সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির নামই মার্কসবাদ।
উত্তর দিন
উত্তর দিতে লগইন করুন