সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

প্রশ্নটি
80
বার দেখা
হয়েছে

ডিওলি থিসিস কি?

ডিওলি থিসিস সম্পর্কে সহজে বিস্তারিত জানতে চাই। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের সমর্থন কেন দিয়েছিলো? আমি থাকলে অবশ্যই লেনিনের মত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে সাম্রাজ্যবাদীদের যুদ্ধ বলে নিন্দা করতাম। নিরপেক্ষভাবে জানতে চাই।

4 মাস আগে

Toaha

জানতে চেয়েছেন

Toaha

Student

2 টি উত্তর

অনেকেই বলেন, এই থিসিসের মাধ্যমেই ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি ব্রিটিশদের পক্ষ নিয়েছিল। আবার অন্যদের মতে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। আসলে পুরো ঘটনাটি বুঝতে হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা এবং সেই সময়ের কমিউনিস্ট রাজনীতিকে একসঙ্গে দেখতে হয়।

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি যুদ্ধটিকে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর নিজেদের মধ্যে আধিপত্যের লড়াই হিসেবে দেখেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, ব্রিটেন, ফ্রান্স বা জার্মানি কেউই উপনিবেশবাদ থেকে মুক্ত ছিল না। তাই ভারতীয়দের এমন যুদ্ধে কোনো পক্ষ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং সেই সুযোগে স্বাধীনতার আন্দোলন আরও জোরদার করা উচিত।

কিন্তু ১৯৪১ সালে হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণ চালানোর পর পরিস্থিতি পুরো বদলে যায়। আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের বড় অংশ মনে করল, যুদ্ধের চরিত্র আর আগের মতো নেই। এখন এটি শুধু সাম্রাজ্যবাদীদের লড়াই নয়, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানবতার লড়াইও। এই পরিবর্তিত মূল্যায়নের প্রভাব পড়ে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ওপরও। রাজস্থানের ডিওলি বন্দিশিবিরে আটক কয়েকজন কমিউনিস্ট নেতা নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের যে খসড়া তৈরি করেছিলেন, সেটিই পরে "ডিওলি থিসিস" নামে পরিচিত হয়।

এরপর CPI তাদের আগের অবস্থান বদলে জানায়, এই মুহূর্তে নাৎসি ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে তারা ব্রিটিশদের যুদ্ধপ্রচেষ্টায় বাধা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শ্রমিকদেরও অপ্রয়োজনীয় ধর্মঘট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায়। তাদের দাবি ছিল, এটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে সমর্থন নয়; বরং ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি সাময়িক কৌশল।

কিন্তু এখানেই বিতর্কের শুরু। সমালোচকদের মতে, যুক্তি যা-ই হোক, বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ শাসনেরই সুবিধা করেছিল। বিশেষ করে ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সময় CPI আন্দোলনে যোগ না দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রবল সমালোচনা হয়। অনেকের মতে, স্বাধীনতার লড়াইয়ের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সিদ্ধান্ত ছিল বড় রাজনৈতিক ভুল।

অন্যদিকে, CPI-এর সমর্থকেরা বলেন, যদি নাৎসি জার্মানি সোভিয়েত ইউনিয়নকে পরাজিত করত, তাহলে বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের ভবিষ্যৎই বিপদের মুখে পড়ত। তাই তাদের কাছে সেই সময় ফ্যাসিবাদকে থামানোই ছিল সবচেয়ে জরুরি কাজ।

সব দিক মিলিয়ে বলা যায়, ডিওলি থিসিস ছিল এমন এক সিদ্ধান্ত, যেখানে দুটি কঠিন বাস্তবতার মধ্যে একটি বেছে নিতে হয়েছিল। একদিকে ভারতের স্বাধীনতার সংগ্রাম, অন্যদিকে নাৎসি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ। তাই কেউ একে বাস্তববাদী রাজনৈতিক কৌশল বলেন, আবার কেউ মনে করেন এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে আপস। ইতিহাসের এই অধ্যায়কে বুঝতে হলে কোনো একপক্ষের আবেগ দিয়ে নয়, বরং সেই সময়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধের বাস্তবতা এবং কমিউনিস্ট আন্দোলনের চিন্তাধারা সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়।

3 মাস আগে

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

উত্তর দিয়েছেন

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

ছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

একটা প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায় — ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি নাকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের সমর্থন দিয়েছিল! এইটা কি বিশ্বাসঘাতকতা ছিল, নাকি কোনো যুক্তি ছিল পেছনে?
গল্পটা শুরু হয় দুইটা আলাদা মুহূর্ত থেকে।
প্রথমটা ১৯৩৬ সাল। রজনী পাম দত্ত আর বেন ব্র্যাডলি নামের দুই ব্রিটিশ কমিউনিস্ট নেতা একটা থিসিস লেখেন — "The Anti-Imperialist People's Front in India"। এটাই "ডাট-ব্র্যাডলি থিসিস" নামে পরিচিত। এর কথা ছিল সহজ — কংগ্রেস বুর্জোয়া নেতৃত্বাধীন হলেও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে তার ভূমিকা আছে, তাই কমিউনিস্টদের উচিত কংগ্রেসকে "শ্রেণিশত্রু" না ভেবে তার সাথে মিলে একটা ব্যাপক ইউনাইটেড ফ্রন্ট গড়া। এই থিসিস কিন্তু যুদ্ধ নিয়ে না — এটা কংগ্রেসের সাথে সম্পর্ক নিয়ে, যুদ্ধ শুরুরও আগের কথা।
আসল টুইস্ট আসে এর পরে, ১৯৪১ সালে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম দুই বছর CPI এই যুদ্ধকে বলছিল "সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ" — দুই পক্ষই (ব্রিটেন-ফ্রান্স বনাম জার্মানি) সাম্রাজ্যবাদী, শ্রমিকশ্রেণির এতে কোনো স্বার্থ নেই। কিন্তু ২২ জুন ১৯৪১-এ নাৎসি জার্মানি যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ করলো, মস্কোর হিসাব পুরো বদলে গেল। এখন এটা শুধু দুই সাম্রাজ্যবাদী ব্লকের লড়াই না — এটা সমাজতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্র বাঁচানোর লড়াই। CPI নেতা পি.সি. যোশী এই নতুন লাইন ব্যাখ্যা করে লিখলেন বিখ্যাত প্রবন্ধ "Imperialist War into People's War" (১৯৪২)। যুক্তি ছিল — সোভিয়েত ইউনিয়ন এখন ব্রিটেনের মিত্র, তাই ব্রিটেনের যুদ্ধপ্রচেষ্টাকে সমর্থন করা মানে আসলে সোভিয়েত ইউনিয়নকে সমর্থন করা, তাই এটা এখন আর "সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ" না, বরং "জনযুদ্ধ" (People's War)।
এইখান থেকেই বিতর্কের শুরু। এই লাইনের কারণে CPI ১৯৪২ সালের "ভারত ছাড়ো" আন্দোলনকেও সমর্থন করেনি — উল্টো একে ব্রিটিশ যুদ্ধপ্রচেষ্টায় বাধা হিসেবে দেখেছিল। ভারতীয় রাজনীতিতে তখন থেকে অনেকদিন CPI-কে "ব্রিটিশদের দালাল" তকমা বহন করতে হয়েছে। ফরওয়ার্ড ব্লক, RSP আর ট্রটস্কিপন্থীরা তখনই তীব্র সমালোচনা করেছিল — যুক্তি ছিল, লেনিন প্রথম বিশ্বযুদ্ধকে "সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ" বলে নিন্দা করে "সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধকে গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত করো" স্লোগান দিয়েছিলেন — নিজের শাসকশ্রেণির পরাজয় কামনা করাই বিপ্লবীর কর্তব্য। সেই মানদণ্ডে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে সমর্থন দেওয়াটা স্পষ্ট নীতিগত বিচ্যুতি।
আর CPI-এর পক্ষে যুক্তি ছিল — এটা সুবিধাবাদ না, আন্তর্জাতিকতাবাদী দায়িত্ব। সোভিয়েত ইউনিয়ন পড়ে গেলে গোটা বিশ্ব শ্রমিক আন্দোলনের জন্যই বিপর্যয় হতো, তাই তাৎক্ষণিক কৌশল হিসেবে এই সমর্থন জরুরি ছিল।
দুই থিসিস, দুই মুহূর্ত, কিন্তু একই প্রশ্ন যেটা আজও প্রাসঙ্গিক — নীতি বনাম বাস্তবতা, আন্তর্জাতিকতাবাদ বনাম জাতীয় সংগ্রাম, কোনটার জায়গা কোথায়?
আপনার কী মনে হয়?

3 মাস আগে

Lazim Mustahab Adib

উত্তর দিয়েছেন

Lazim Mustahab Adib

student

উত্তর দিন

উত্তর দিতে লগইন করুন

Reading

Font size