সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

বুলবুলের বিসিবি অধ্যায়: এলেন, দেখলেন, ধ্বংস করলেন

১৯৯৯ সালের বীর অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল ক্ষমতার মোহে নিজের হাতেই ধ্বংস করেছেন নিজের গৌরবোজ্জ্বল অতীত। বিসিবি সভাপতির পদ হারিয়ে তিনি নিজের দেশকে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার মুখে ঠেলে দিতে চেয়েছিলেন। অথচ একসময় আইসিসিতে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতায় তিনি ছিলেন ক্রিকেটের উজ্জ্বল নক্ষত্র।

mustafa kemal atarturk
পড়তে 5 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 180 বার পড়েছে
বুলবুলের বিসিবি অধ্যায়: এলেন, দেখলেন, ধ্বংস করলেন

আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই অধিনায়ক। এরপর ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষে দেশের অভিষেক টেস্টে প্রায় নয় ঘণ্টা ক্রিজে লড়ে খেলেছিলেন ১৪৫ রানের সেই অবিস্মরণীয় মহাকাব্যিক ইনিংস। খেলোয়াড় হিসেবে তার এই অবদান দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে তাকে এক কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছিল। কিন্তু সময়ের নিষ্ঠুর পরিহাসে মানুষ কখনো কখনো ক্ষমতার মোহে নিজের হাতেই নিজের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ধূলিসাৎ করে দেয়।

২০২৫ সালের মে মাসে যখন তাকে বিসিবির সভাপতি করা হয়, তখন দেশের ক্রিকেটে এক নতুন আশার আলো জেগেছিল। আইসিসিতে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং ক্রিকেটের রাজনীতিতে তার গভীর জ্ঞান থাকায় সবাই ভেবেছিল এবার হয়তো ভালো কিছু হবে। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি নিজে বলেছিলেন, বেশিদিন থাকবেন না; একটা সংক্ষিপ্ত 'টি-টোয়েন্টি ইনিংস' খেলে চলে যাবেন। কিন্তু ক্ষমতার চাদর গায়ে জড়াতেই সেই সিদ্ধান্ত বদলে গেল। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন তিনি। অনিয়মের অভিযোগ তুলে ৭২টি ক্লাবের মধ্যে ৪৫টিই সেই নির্বাচন বয়কট করলেও, তিনি জয়ী হয়ে নিজের সেই পদটিকে 'সম্পূর্ণ বৈধ' বলে দাবি করলেন।

এর পরের অধ্যায়টি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ছিল চরম হতাশার। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন করল। যে মানুষটা ১৯৯৯ সালে দেশকে প্রথম বিশ্বকাপে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার নেতৃত্বেই দেশ বিশ্বকাপ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল যখন প্রকাশ্য ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ ভারতে যাবে না, বুলবুল তখন নিজের চেয়ার বাঁচাতে চুপ করে থাকলেন। তিনি যদি তখন দৃঢ়তার সাথে প্রতিবাদের খাতিরে পদত্যাগ করতেন, তবে ইতিহাস তাকে চিরকাল নায়ক হিসেবে মনে রাখত। অথচ পরবর্তীতে যখন বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে গেল, তখন সরকার দায় এড়িয়ে একে বিসিবি ও খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্ত বলে চালিয়ে দিল।

এই রাজনৈতিক মারপ্যাঁচে পাকিস্তান যখন বাংলাদেশের সাথে একাত্মতা দেখিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার ঘোষণা দিল, বুলবুল তখন সেই ফাঁদে পা দিলেন। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সাথে বৈঠক করতে তিনি লাহোরে ছুটে গেলেন এবং দেশে ফিরে কৃতিত্ব দাবি করলেন। অথচ পর্দার আড়ালের সত্যটা ছিল ভিন্ন; শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট সরাসরি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে মূল মধ্যস্থতা করেছিলেন, যেখানে বুলবুল ছিলেন কেবলই একজন সাধারণ অতিথি। তথাকথিত সেই বন্ধুত্বের আসল মূল্য যে কতটা ঠুনকো ছিল, তা পরবর্তীতে সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়।

অবশেষে ২০২৬ সালের এপ্রিলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত শেষে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিতর্কিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয় এবং তামিম ইকবালকে অ্যাডহক কমিটির প্রধান করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে 'সাংবিধানিক অভ্যুত্থান' আখ্যা দিয়ে বুলবুল আইসিসির কাছে নালিশ করতে ছুটলেন। কিন্তু আইসিসি তার এই দ্বিমুখী আচরণে সাড়া দিল না। কারণ কিছুদিন আগেই তিনি আইসিসিকে বলেছিলেন যে তিনি সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছেন, আর পদ হারানোর পর হঠাৎই সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হলেন। আইসিসির কর্মকর্তারা তার এই অবস্থানকে দ্বিমুখী আচরণ হিসেবেই গণ্য করলো ।

এরপর এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) একটি বড় পদে বসার সুযোগ এলেও এশিয়ার দুটি বড় দেশের ভেটোতে তা ভেস্তে যায়। নিজের হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে মরিয়া বুলবুল জুন ২০২৬-এ আইসিসির কাছে ১৪ পৃষ্ঠার একটি চিঠি পাঠান, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত করতে, তহবিল বন্ধ করতে এবং আইসিসি টুর্নামেন্ট থেকে দেশকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। নিজের চেয়ার ফিরে না পাওয়ার ক্ষোভে দেশের ক্রিকেটকে ধ্বংস করার এই চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত তিনি ভিডিও বার্তায় অস্বীকার করলেও, চিঠিতে তার নিজের স্বাক্ষরই সত্যটা ফাঁস করে দেয়।

আইসিসিতে ২০ বছর ধরে তাজিকিস্তান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার যে নীরব ও মহান কাজ তিনি করেছিলেন, আজ তা আড়ালে পড়ে গেছে। যদি তিনি সেই সম্মানজনক অবস্থান থেকে বিদায় নিতেন, তবে মানুষ তাকে চিরকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করত। ক্ষমতার লোভ আর জেদের বশে তিনি নিজের সাজানো ক্যারিয়ারে নিজেই কালি লেপে দিলেন। আজ তার আইসিসির চাকরি, বিসিবির পদ, এসিসির সুযোগ এবং জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ—জনগণের শ্রদ্ধা, সব হারিয়ে গেছে। মেলবোর্নে পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে এখন তিনি 'হায়ার কনশাসনেস' বা উচ্চতর চেতনা নিয়ে গবেষণার কথা বলছেন। ১৯৯৯ সালের সেই বীর অধিনায়ক আর ২০২৬ সালে নিজের দেশকে নিষিদ্ধ করতে চাওয়া ব্যক্তিটি যে একই মানুষ—এই নিষ্ঠুর সত্যটি মেনে নেওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য সত্যিই এক চরম বেদনার।

বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে আইসিসিতে চিঠি সাবেক বিসিবি সভাপতির - বিডিনিউজ২৪

photocard courtesy : cricketangon

#আমিনুল_ইসলাম_বুলবুল #বিসিবি #বাংলাদেশ_ক্রিকেট #ক্রিকেট_রাজনীতি #তামিম_ইকবাল #ক্রিকেট_সংবাদ #বিসিবি_বিতর্ক
mustafa kemal atarturk

About the Author

mustafa kemal atarturk

Financial analyst

মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় আর বেঁচে থাকলে বদলায়

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast