সম্প্রতি ভারতের সিপিআই(এমএল) — মাস লাইন পার্টি, বিপ্লবী কমিউনিস্ট কেন্দ্রর সাথে এক পার্টিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে তাদের পশ্চিমবঙ্গ শাখা একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
ভারতের বিপ্লবী কমিউনিস্ট আন্দোলনে এক নব অধ্যায়ের সূচনা হল। দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পর, গত ২রা জুলাই, ২০২৬ তারিখে বিপ্লবী কমিউনিস্ট কেন্দ্র (RCC) এবং সিপিআই (এম-এল) মাস লাইন নিজেদের একীভূত করে একটি একক সর্বভারতীয় পার্টি গঠনে সম্মত হয়েছে। ঐক্যবদ্ধ এই পার্টি ‘সিপিআই (এম-এল) মাস লাইন’ নামেই পরিচালিত হবে। এই ঐক্য প্রক্রিয়াটি দেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের একটি সংগঠনে একীভূত করার ধারাবাহিক প্রয়াসের ফসল।
উল্লেখ্য, বিগত ৫ই মার্চ, ২০২৪ তারিখে পিসিসি সিপিআই (এম-এল), সিপিআই (এম-এল) আরআই এবং সিপিআই (এম-এল) প্রজাপন্থা—এই তিন ধারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘সিপিআই (এম-এল) মাস লাইন’ গঠন করেছিল। পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের সক্রিয় সংগঠন এসওসি সিপিআই (এম-এল)-এর একীকরণও এই পার্টির সাথে সম্পন্ন হয়। আরসিসি-র অন্তর্ভুক্তির ফলে এই ঐক্যবদ্ধ সর্বভারতীয় পার্টি গঠনের প্রক্রিয়া আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গেল।
উভয় সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষরিত ঐক্য বিবৃতিতে বর্তমান ভারতীয় সমাজকে প্রধানত ‘নির্ভরশীল পুঁজিবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং বিপ্লবের বর্তমান স্তরকে ‘জনগণের গণতান্ত্রিক বিপ্লব’ (PDR) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। দলিলে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে ভারতের জনগণ এবং বিপ্লবী আন্দোলন আরএসএস-বিজেপি (RSS-BJP) ফ্যাসিবাদী শক্তির তরফ থেকে এক মারাত্মক বিপদের সম্মুখীন। এই কর্পোরেট-ফ্যাসিবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই গড়ে তোলাই বর্তমান সময়ের প্রধান সমকালীন কাজ। এই লক্ষ্যে দীর্ঘস্থায়ী জনযুদ্ধ এবং সংসদ সর্বস্বতা—উভয় পথকেই প্রত্যাখ্যান করে দেশব্যাপী রাজনৈতিক গণঅভ্যুত্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আমরা মনে করি, এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দেশের বিপ্লবী বামপন্থী শিবিরকে এক নতুন আশা জোগাবে। বিচ্ছিন্নভাবে লড়াই না করে সমস্ত কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা যদি একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শ ও লাইনের ভিত্তিতে একক শক্তিতে পরিণত হতে পারে, তবেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সদর্থক আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সিপিআই (এম-এল) মাস লাইন দেশের বাকি সমস্ত কমিউনিস্ট বিপ্লবী শক্তিগুলোর প্রতি ঐক্যের এই আহ্বান প্রসারিত করছে এবং আগামী দিনেও এই লাগাতার প্রচেষ্টা জারি রাখার অঙ্গীকার করছে।
এর উত্তরে আমার প্রতিক্রিয়া:
সিপিআই (এম-এল) মাস লাইন – পশ্চিমবঙ্গের বিবৃতি অনুযায়ী, আরসিসি ও সিপিআই (এম-এল) মাস লাইনের একীকরণ "দেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের একটি সংগঠনে একীভূত করার ধারাবাহিক প্রয়াসের ফসল" এবং "দেশের বাকি সমস্ত কমিউনিস্ট বিপ্লবী শক্তিগুলোর প্রতি ঐক্যের এক আহ্বান"। ভারতের ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিপ্লবী বাম আন্দোলনে দীর্ঘদিনের অন্তহীন ভাঙন, ক্ষুদ্র গোষ্ঠীবাদ ও গণভিত্তিহীন বিভাজনের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের সংগঠনগত ঐক্যের প্রচেষ্টাকে অবশ্যই স্বাগত জানানো উচিত।
তবে সংগঠনগত ঐক্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল—ঐক্য কোন রাজনৈতিক কর্মসূচির ভিত্তিতে হচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতকে "প্রধানত ‘নির্ভরশীল পুঁজিবাদী’" সমাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং "বিপ্লবের বর্তমান স্তরকে ‘জনগণের গণতান্ত্রিক বিপ্লব’ (PDR) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে"। অর্থাৎ সেই পুরনো মেনশেভিক-স্তালিনবাদী "দ্বিস্তরীয়" বিপ্লবের তত্ত্ব, যা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত রেখে আজকের সংগ্রামকে একটি পৃথক "গণতান্ত্রিক" পর্যায়ে আবদ্ধ করে। বস্তুত আজকের বিশ্বে এই তত্ত্বের কোনো মার্কসবাদী ভিত্তি নেই।
ভারতের মতো দেশে গণতান্ত্রিক কর্তব্যসমূহ ও সমাজতান্ত্রিক কর্তব্যসমূহকে পৃথক পৃথক বিপ্লবী স্তরের ক্ষেত্র হিসবে দেখা যায় না। জাতীয় বুর্জোয়া শ্রেণি নিজস্ব শ্রেণিস্বার্থ ও সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত যে তারা গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পারে না। তাই গণতান্ত্রিক দাবিগুলিও কেবল শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতা দখলের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হতে পারে। ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণি বহু আগেই দেখিয়েছে যে জমির প্রশ্ন, জাতীয় প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক অধিকার কিংবা ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রাম—কোনোটির সমাধানেই সে শেষ অবধি সক্ষম নয়। এই সমস্ত কাজই শ্রমিক শ্রেণির ক্ষমতা দখল ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অতএব, এই সংগঠনগত ঐক্য নিঃসন্দেহে গোষ্ঠীবাদের বিরুদ্ধে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু ঐক্যের রাজনৈতিক ভিত্তি মৌলিকভাবে মেনশেভিক-স্তালিনবাদী কর্মসূচিরই পুনরাবৃত্তি। প্রকৃত বিপ্লবী ঐক্যের ভিত্তি হওয়া উচিত শ্রমিক শ্রেণির স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নিরন্তর বিপ্লবের দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কর্মসূচি।
আমার, "আশার কথা বটে, কিন্তু ভারত রাষ্ট্রকে "পুঁজিবাদী" হিসেবে চিহ্নিত করার পরেও "জনগণের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের" মতন ভ্রান্ত লাইন কেন? বুর্জোয়া গণতন্ত্র থেকে গণঅভ্যুত্থান করে আবার বুর্জোয়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে লাভ কী?" মন্তব্যের উত্তরে ওনারা লেখেন, " রাষ্ট্রের চরিত্রকে পুঁজিবাদী নয়, সাম্রাজ্যবাদের উপর নির্ভরশীল পুঁজিবাদী হিসাবে আমরা বিশ্লেষণ করেছি। বর্তমানে তার নেতৃত্ব একচেটিয়া পুঁজিবাদীরা। এই পুঁজিবাদের একটি নিজস্ব পরিচিত ও দরাদরির ক্ষমতা থাকলেও এরা প্রধানত সাম্রাজ্যবাদের উপর নির্ভরশীল প্রকৃতির। সেকারণে এখনও উৎপাদনে বিক্ষিপ্তভাবে সামন্ততান্ত্রিক অবশেষও টিকে আছে। তাই বর্তমানে ভারতের প্রধান দ্বন্দ্ব হল সাম্রাজ্যবাদ, একচেটিয়া পুঁজিবাদ ও সামন্ততন্ত্রের অবশেষের জোট বনাম ভারতীয় জনগণ। একারণেই এখনও আমরা গণতান্ত্রিক বিপ্লব সম্পন্ন করার কথা বলছি।"
তার উত্তরে আমি লিখেছি, "মানে জনগণ বলতে শ্রমিক, কৃষক, ক্ষুদ্র-বুর্জোয়া বাদেও এক ধরণের প্রগতিশীল জাতীয় বুর্জোয়া রয়েছে যাদের ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন রোখা ও প্রাক-পুঁজিবাদী অবশেষের নির্মূলীকরণ সম্ভব হবে। কিন্তু এই প্রগতিশীল জাতীয় বুর্জোয়ারা কি একচেটিয়া পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে? অনেক নকশালপন্থীদের ধারণা থেকে বুঝেছি তারা আদপে জাতীয় বুর্জোয়া বলতে পেটি-বুর্জোয়া শ্রেণিকেই বোঝাতে চায়।
এই ক্ষেত্রে লম্বা বিতর্কে অবতীর্ণ হওয়া যায় দুটি প্রেক্ষিৎ মাথায় রেখে। এক, ইতিহাসে এরকম প্রাক-পুঁজিবাদী অবশিষ্ট থাকা, সাম্রাজ্যবাদের উপর নির্ভরশীল পুঁজিবাদী ব্যসবস্থার বিরুদ্ধে "জনগণের বিপ্লবের" অভিজ্ঞতা, (যেমন রাশিয়ায় তা প্রলেতারীয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবেই উত্তীর্ণ হয় শেষমেশ, চীনে জাতীয় পুঁজিপতিদের দখলে থাকা উৎপাদনের উপকরণকে শ্রমিক রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করতে বাধ্য হয়, তো মাও সেতুংয়ের নয়া গণতান্ত্রিক জোট সরকারের ধারণা বাস্তবায়িত হতে পারে না, কিউবাতেও পুঁজিবাদী ব্যাবস্থাকে উচ্ছেদ করতে বাধ্য হয় অভ্যুত্থানকারী মধ্যবিত্ত বিপ্লবীরা, হো চি মিনের মার্কিন সংবিধানের মডেলে সরকার স্থাপনের আশাভঙ্গ হয় ভিয়েতনামে) থেকে শিক্ষা গ্রহণ। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদের যুগে প্রতিটি বিপ্লব, প্রতিবিপ্লব, বা বিপথে যাওয়া বিপ্লবী সম্ভাবনা (যেমন, ভারত, বাংলাদেশ, ইত্যাদি) নিরন্তর বিপ্লবের তত্ত্বকেই পুনঃ পুনঃ সত্য বলে প্রমাণ করেছে।
দুই, বর্তমানে ভারতের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা, শ্রেণি সম্পর্কগুলির বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিচার করা যে সাম্রাজ্যবাদী পুঁজির চাপে অসম পুঁজিবাদী বিকাশ হওয়া একটি কৃষি প্রধান দেশ রাশিয়াতে প্রলেতারীয় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অভিজ্ঞতা আজ আমাদের সামনে কোন শিক্ষা হাজির করছে। "জনগণের বিপ্লব" শব্দের দুটি অর্থ হয়; আমার ধারণা আপনারা এর অর্থ করেছেন (যা স্তালিনবাদী রাজনীতিতে বহুল প্রচলিত) শ্রমিক শ্রেণির বা শ্রমিক কৃষকের নেতৃত্বে, (এই নেতৃত্ব দিনের শেষে সকল স্তালিনবাদী নেতৃত্বে হওয়া বিপ্লবে বা বিপ্লবী পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব না ফলিয়ে, বুর্জোয়াদের সাথে আপোষ করেছে) জাতীয় বুর্জোয়াদের সাথে নিয়ে সমগ্র জনগণের এক বিপ্লব যা একটি বুর্জোয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র স্থাপন করে সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করবে এবং তারপর শ্রমিক শ্রেণি ও সমগ্র বুর্জোয়া শ্রেণির মধ্যে আরেক দফা সংগ্রাম চলবে দীর্ঘদিন ধরে যা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবে উত্তীর্ণ হবে।
এই তত্ত্ব আদপেই খুবই অচল বা backdated। ভারতে আজ যেই পরিমাণে পুঁজিবাদী বিকাশ হয়েছে তারও অনেক আগেই, ঔপনিবেশিক শাসনকালেই বিপ্লবী ভগত সিংরা, এমনকি প্রথম যুগের ভারতীয় কমিউনিস্টরা (স্তালিনবাদী আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বৃদ্ধির আগে) যেমন, অধঃপতনের আগে এমএনরায়, সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনী মুখার্জি (স্তালিনের গ্রেট পার্জের শিকার), বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় (ইনিও গ্রেট পার্জের শিকার হন), ব্রিটেনে জন্মানো ও বেড়ে ওঠা ক্লেমেন্স পাম দত্ত (রজনী পাম দত্তের ভাই), এছাড়া আরএসপি দলটি এবং বিভিন্নভাবে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ত্রৎস্কিপন্থী গোষ্ঠী ও শেষমেশ বিএলপিআই ভারতীয় বিপ্লবের সমাজতান্ত্রিক চরিত্র বুঝতে পেরেছিলেন। নিজ নিজ দেশে চে গেভারা ও ফ্রানৎস ফ্যাননের মতন মানুষেরাও এটা উপলব্ধি করেছিলেন।"
উদাহরণস্বরূপ, কমরেড ভগৎ সিংয়ের এই উক্তি: "The question is if today, in 1928, should we learn any lesson from, and make our ideal, the French Revolution or the Russian Revolution, replete with new ideas in this new environment? Does Lalaji want that now we should rebel against only the English rulers and hand over the reins into the hands of the rich? Crores of people should stay not just in this condition, but in an even worse one, die and then after hundreds of years of bloodshed again arrive at this path and then rebel against the capitalists all over again? This would be first rate folly." ... "All right, let us assume that this revolution happens, then according to Lalaji, who should get the reins of the government? To Maharaja Vardhman or the Maharaja of Patiala? Or a bunch of capitalists? Are crores of workers in America and France not dying of hunger? Why should we fall into this well with eyes wide open?
Lalaji says that our socialist ideas will cause the capitalists to join forces with the government. Great! And where were they earlier? How many capitalists have become harbingers of change? In a revolution, anyone who fears his wealth and property may be harmed will always oppose it. In such a situation, to abandon one’s principles to appease them and damage our own cause is not appropriate. Another thing is that the capitalists should ponder which situation is gainful for them?
Today the English will certainly use them for their own selfish gain, but gradually they will snatch away all their wealth and transfer them into the hands of their own capitalists. Then these destitute [erstwhile wealthy] people will join the ranks of the crores of labourers and eke out a miserable life. They will again find injustice in the social system.
But the revolution of the workers cannot stop for them, nor can it wait for them. The youth need not worry. There are a lot of teething troubles at the beginning of a task; one must face them with fortitude. Lalaji and the other kinds of leaders with capitalist values are gradually withdrawing from the field as Surendranath Bannerjee did first; as Sapru and Chintamani are doing now. In the end it is the revolution of the working class that will emerge victorious. Hail the Socialists! May the Revolution endure!” [“Lala Lajpat Rai and the Youth”; 1928 (Originally in Punjabi.)]
“We want a socialist revolution, the indispensable preliminary to which is the political revolution. That is what we want. The political revolution does not mean the transfer of state (or more crudely, the power) from the hands of the British to the Indian, but to those Indians who are at one with us as to the final goal, or to be more precise, the power to be transferred to the revolutionary party through popular support. After that, to proceed in right earnest is to organize the reconstruction of the whole society on the socialist basis. If you do not mean this revolution, then please have mercy. Stop shouting “Long Live Revolution.” The term revolution is too sacred, at least to us, to be so lightly used or misused. But if you say you are for the national revolution and the aim of your struggle is an Indian republic of the type of the United State of America, then I ask you to please let known on what forces you rely that will help you bring about that revolution. Whether nationalist or socialist, peasantry or the labour, the Congress leaders do not dare to organize those forces. Congress leaders do not dare to organize those forces.” … “What we need to keep in mind is that no revolution can succeed or is to be desired, but the proletariat revolution.” [“To Young Political Workers”; 2 February 1931 (Originally in English.)]
এছাড়াও নানান লেখাপত্র রয়েছে। কমরেড ভগৎ সিংয়ের এই দুটি লেখা আমরা বাংলায় প্রকাশ করেছি নয়া দিশা পত্রিকা থেকে, নির্বাচিত রচনাবলীর একটি পুস্তিকাতে।
এর উত্তরে ওনারা লেখেন, "ভারতবর্ষের প্রধান দ্বন্দ্ব কী? পুঁজিবাদের প্রকৃতি কীরূপ এবং সমাজে শ্রেণিগুলির অবস্থা কী? এইগুলোর কোনটার মধ্যেই না ঢুকে বিপ্লবের স্তর সম্পর্কে কী করে মন্তব্য করা সম্ভব? আপনি অনেক কিছু লিখেছেন কিন্তু এই বিষয়গুলোতে স্পষ্ট করে আপনার বক্তব্য লেখেননি। তাই আপনার কথাগুলোতে বহু প্রসঙ্গ এসে গেছে। আপনি এই বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষেপে আপনার বক্তব্য জানান তবেই আলোচনাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে।"
আমার উত্তর: "ধন্যবাদ। আমারও মনে হয়, বিপ্লবের চরিত্র নিয়ে আলোচনায় পৌঁছতে হলে ভারতের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, শ্রেণি সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রের প্রকৃতি নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখা প্রয়োজন। সংক্ষেপে আমার অবস্থান এই—
আমি ভারতকে একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে দেখি, যার বিকাশ অবশ্যই অসম ও সংযুক্ত (uneven and combined) এবং যা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এদেশে পুঁজিবাদী বিকাশের বৈশিষ্ট্য হল প্রথম থেকেই সাম্রাজ্যবাদের ওপর নির্ভরশীলতা। একই সঙ্গে গ্রামীণ সমাজে বিভিন্ন প্রাক-পুঁজিবাদী অবশেষ টিকে থাকলেও সেগুলি আজ স্বতন্ত্র কোনো উৎপাদন পদ্ধতির ভিত্তি নয়; বরং সামগ্রিক পুঁজিবাদী অর্থনীতির অধীনস্থ ও তার প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্গঠিত।
শ্রেণি সম্পর্কের প্রশ্নে আমি মনে করি, ভারতের বুর্জোয়া শ্রেণির বিভিন্ন অংশের মধ্যে স্বার্থগত পার্থক্য থাকলেও, এমন কোনো ঐতিহাসিকভাবে প্রগতিশীল "জাতীয় বুর্জোয়া" শ্রেণি আজ আর নেই, যারা সাম্রাজ্যবাদ, বৃহৎ পুঁজি বা প্রাক-পুঁজিবাদী অবশেষের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। স্বাধীনতার আগে এবং বিশেষত স্বাধীনতার পরে ভারতীয় বুর্জোয়া শ্রেণির বিকাশই দেখিয়েছে যে জমির প্রশ্ন, জাতীয় প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক অধিকার বা ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে তারা শেষ পর্যন্ত নিজেদের শ্রেণিস্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়। এই কারণেই শ্রমিক শ্রেণি ও দরিদ্র কৃষকদের স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্বই নির্ণায়ক।
এই কারণেই আমি মনে করি না যে ভারতে একটি স্বতন্ত্র "জনগণের গণতান্ত্রিক বিপ্লবের" পর্যায় রয়েছে, যা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব থেকে পৃথক। সাম্রাজ্যবাদের যুগে গণতান্ত্রিক কর্তব্য ও সমাজতান্ত্রিক কর্তব্যকে যান্ত্রিকভাবে দুই ঐতিহাসিক স্তরে ভাগ করা যায় না। ভূমি সংস্কার, গণতান্ত্রিক অধিকার, জাতিগত ও জাতীয় নিপীড়নের অবসান, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম—এসব গণতান্ত্রিক কর্তব্য শ্রমিক শ্রেণির রাষ্ট্রক্ষমতা প্রতিষ্ঠা ও সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রক্রিয়ার সঙ্গেই অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত।
তবে এখানেই আমার একটি পাল্টা প্রশ্নও রয়েছে। যদি ভারতকে আপনারা পুঁজিবাদী—যদিও "নির্ভরশীল পুঁজিবাদী"—রাষ্ট্র হিসেবেই চিহ্নিত করেন, তাহলে সেই বিশ্লেষণ থেকে কীভাবে একটি পৃথক "জনগণের গণতান্ত্রিক বিপ্লব" পর্যায়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছচ্ছেন? বিশেষ করে, সেই বিপ্লবে রাষ্ট্রক্ষমতা কোন শ্রেণির হাতে যাবে, উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার প্রশ্ন কীভাবে সমাধান হবে, এবং যদি শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বেই রাষ্ট্রক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে সমাজতান্ত্রিক রূপান্তরকে একটি পরবর্তী পৃথক স্তরে স্থগিত রাখার তাত্ত্বিক ও বাস্তব ভিত্তি কী? আমার মতে, এখানেই আমাদের মৌলিক মতপার্থক্য নিহিত, এবং এই প্রশ্নগুলির ওপরই ফলপ্রসূ আলোচনা এগিয়ে যেতে পারে।
আমার মতে সাংগঠনিক স্তরে, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় যদি আপনারা ইচ্ছুক হন। অবশ্যই আজকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও জনগণকে সংগঠিত করার মূল কর্তব্যের থেকে সরে এসে নয়, বরং আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই তা প্রয়োজন।"
এর উত্তরে ওনাদের শেষ প্রতিক্রিয়া: "ধন্যবাদ। আমরাও মনে করি, এই বিতর্ক তাত্ত্বিক পত্রিকায় হওয়াই বেশি ফলপ্রসূ। আপনি যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, সে বিষয়ে আমরা বিস্তারিত লেখা প্রকাশ করব উত্তরণ পত্রিকায়। ইংরেজিতে মাস লাইন পত্রিকাতেও এবিষয়ে লেখা বেরোবে।"
তাই এই প্রশ্নগুলিকে ব্যক্তিগত আক্রমণের দৃষ্টিতে নয়, বরং ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনের কৌশলগত প্রশ্ন হিসেবে দেখা উচিত। ইতিহাসের অভিজ্ঞতা, সমকালীন ভারতের শ্রেণি-বাস্তবতা এবং চলমান শ্রমিক শ্রেণির সংগ্রামের আলোকে একটি নীতিগত, তথ্যভিত্তিক ও কমরেডসুলভ বিতর্কই আজ সবচেয়ে প্রয়োজন। যদি সকল পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে বাস্তব অভিজ্ঞতা, মার্কসবাদী পদ্ধতি এবং শ্রেণিসংগ্রামের গতিপ্রকৃতির ভিত্তিতে যাচাই করতে প্রস্তুত থাকে, তবে সেই বিতর্ক গোটা বিপ্লবী আন্দোলনকেই সমৃদ্ধ করবে। আমাদের উদ্দেশ্য কোনো বিশেষ সংগঠনকে খণ্ডন করা নয়; বরং এমন একটি কর্মসূচি ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধান করা, যা ভারতের শ্রমিক শ্রেণির স্বাধীন নেতৃত্বকে শক্তিশালী করবে এবং সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের বাস্তব সম্ভাবনাকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলবে। সেই কারণেই আমরা নীতিগত মতপার্থক্যকে আড়াল না করে, পারস্পরিক কমরেডসুলভ শ্রদ্ধা বজায় রেখে, বর্তমান শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রেণিসংগ্রামের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উন্মুক্ত বিতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের পক্ষে।
About the Author
Sankalpa
মজদুরের নিয়মিত লেখকশিক্ষার্থী
বই পড়ি, প্রশ্ন করি, তর্ক করি। সাহিত্য, ইতিহাস আর রাজনীতি নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি। বিশেষ করে সমাজকে তার অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব, পরিবর্তন ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে বোঝার চেষ্টা করি। জটিল বিষয়কে সহজ করে বোঝার চেয়ে, তাকে গভীরভাবে বোঝার চেষ্টাটাকেই বেশি মূল্য দিই।
প্রোফাইল দেখুন
মতামত
এখনও কোনো মতামত নেই।
প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন