Searching…

পহেলা মে: মুক্তির জন্য রাজনীতি নাকি রাজনীতির জন্য মুক্তি?

Sakib Bin Rofik
40 3 মিনিট লাগতে পারে পড়তে
পহেলা মে: মুক্তির জন্য রাজনীতি নাকি রাজনীতির জন্য মুক্তি?

আমি না কোনো রাজনীতিবিদ, না আমি বিশ্লেষক, আমি নিজেকে একজন “পর্যবেক্ষক” মনে করি। কিছু প্রাম্ভিক কথা দিয়ে আজকের আলাপ শুরু করি, কেমন?র যদি আপনি বিপ্লব-নির্ভরশীল আদর্শ হয়ে থাকেন, তবে তো কোন কথাই নেই

বাংলাদেশের বাম রাজনীতি বলতে আপনার চোখে কি ভাসে? একটু চোখ বন্ধ করে বলুন তো? সাংস্কৃতিক পুনর্জন্মের আন্দোলন, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আন্দোলন, এছাড়াও নানা বিমূর্ত বিষয়বস্তু নিয়ে আলাপন তৈরি করা। এই কথা দ্বারা আমি কি বোঝানোর চেষ্টা করছি? খুব সহজ, ডানপাড়ার চরম অপপ্রচারের শিকার একটি রাজনৈতিক আদর্শ বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌছতেই পারছে না। আমি একমত যে বাম দলগুলো নানা সময় শ্রমিক অধিকার নিয়ে সরব থাকে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট?

রাজনীতি করতে হয় মানুষের কাছে পৌছনোর জন্য, রাজনীতির কাছে মানুষ ছুটে কমই আসে, আ। মানুষ যদি আপনার প্রতি আকর্ষিতবোধ না করে, আপনি কোনদিনও তাদের দ্বারে পৌছতে পারবেন না।

স্টালিনবাদের মৌলিক চাহিদা হল একটি “অগ্রগামী দল”। অগ্রগামী দল মানে এমন একটি সংগঠিত শক্তি যারা ছড়িয়ে থাকা শ্রমজীবী মানুষকে একত্র করে কার্যকর রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ দেয়। যারা মানুষকে এক ছাতায় আনতে পারবে, এবং তাদের শক্তিকে এক করে বিপ্লব ঘটাবে, দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশের ট্রেড ইউনিয়ন গুলো বামদল চালায় না, চালায় সব ক্ষমতাসীন ডানপন্থী দলের পেশীশক্তিধারী সব বাক্তিবর্গ। তাতে লাভ কি জানেন? সরকার দল (সরকার নিজে না কিন্তু) চাঁদা, জনবল থেকে শুরু করে সব কিছুর একছত্র আধিপত্য তৈরি করে ফেলে। আর আমার শ্রমিক ভাইরা? চাঁদা না দিলে প্রানের হুমকি, কাজ না করতে দেয়ার হুমকি ইত্যাদি। আমার সাধারণ শ্রমিক ভাইটা কি পেল? তার মুক্তির জন্য কোথায় রাজনীতি হচ্ছে? কোথায় আমার সেই “অগ্রগামী দল”? কেও কি নেই, “দুনিয়ার মজদুর এক হও” স্লোগানের বাইরে এসে সত্যি কিছু করার জন্য?

বাম দলের এমন প্রতীকী রাজনীতিই তাদেরকে মানুষ থেকে অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছে। আমি বলছি না বাম দল শ্রমিক অধিকারে একদম নীরব, কিন্তু যার মুল দায়িত্বই এই গোষ্ঠীকে এক করে পরিবর্তন আনার, তাদের সাথে আরও গভীর সম্পর্ক গড়তে হবে। দলগুলোর উচিত, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের দিক থেকে নিজেদের মনোযোগ কিছুটা হলেও সরিয়ে এনে এই দিকে মনোযোগ দেয়া। সাংস্কৃতিক আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা যদি শ্রমজীবী মানুষের বাস্তব সংগ্রামের সাথে সংযুক্ত না হয়, তবে তা বিচ্ছিন্নতায় রূপ নেয়। লেখক প্রমথ চৌধুরীর একটা কথা মনে পড়ে দেশের দিকে তাকালে। এই দেশের মানুষ বর্তমানে ঐ অবস্থায় নাই যে তারা বসে সাহিত্য উপভোগ করবে।

আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে, বহু পথ পাড়ি দেয়া বাকি, বহু পরিবারের ঘরে আলো জ্বালা বাকি, উঠে পড় কমরেড। নইলে মুক্তি আসবে না। এমন চলতে থাকলে আমার শ্রমিক ভাইরা ৩৬৪ দিন শোষণ-নিষ্পেষণের পর একদিনের প্রতীকী আধা বেলা ছুটিই কাটাবে।

Sakib Bin Rofik

About the Author

Sakib Bin Rofik

Student

A theistic person, looking for the way of social justice through revolution and developing social framework for all.

প্রোফাইল দেখুন

আলোচনায় অংশ নিন

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

সাইন ইন করুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast