সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

আব্দুল মালেক ও ছাত্র শিবিরের মিথ্যাচারের রাজনীতি

১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য 'এক্সক্লুসিভ' নূর খান শিক্ষ...

মোঃ‌ মোস্তাকিম
মোঃ‌ মোস্তাকিম মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 4 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 1,041 বার পড়েছে
আব্দুল মালেক ও ছাত্র শিবিরের মিথ্যাচারের রাজনীতি

১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য 'এক্সক্লুসিভ' নূর খান শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাবনা প্রকাশের পরই ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয় । ইয়াহিয়া খানের মনে হলো পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষাপদ্ধতি ' পাকিস্তান ' - এর জাতীয় সংহতি ধরে রাখতে পারছে না। তাই আরেকটু বেশি ' ইসলামিক ' শিক্ষাব্যবস্থা করলেই হয়তো বাঙালিরা নিজেদের পাকিস্তানি মনে করবে।তার হয়তো জানা ছিল না হাজার মাইল দূরের দুইটি ভূখন্ডকে স্রেফ ধর্মের ভিত্তিতে এক জাতিতে পরিণত করা যায় না। ভূখণ্ডের দূরত্বের কারণে স্বভাবতই যে সামাজিক - রাজনৈতিক - অর্থনৈতিক টানাহেঁচড়া হয়, তা ক্ষমতাপ্রেমী পাঞ্জাবিরা কখনোই পাত্তা দেয় নাই।

নূর খান শিক্ষা কমিশনকে বাংলার জনগণ সন্দেহের চোঁখেই দেখেছে। সে সময়ের পত্রিকা খুঁজলে দেখা যায় শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, নারী অধিকারকর্মীসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনসমূহ এই শিক্ষানীতির সমালোচনা করেছে। অপরদিকে , বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া " ইসলামী ছাত্রসংঘ" ব্যাপক উৎসাহে বিনা সমালোচনায় এই শিক্ষানীতির দালালি করেছে।এরই ধারাবাহিকতায় ১২ই আগষ্ট, ডাকসু কর্তৃক আয়োজিত শিক্ষানীতির উপর সেমিনার চলাকালে বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে টিএসসিতে হট্টগোল বাঁধায় তারা।ডাকসুর আয়োজিত সেমিনারে প্রথম আলোচকের বক্তব্য শুরু হতেই ছাত্রসংঘের সন্ত্রাসীরা লাফালাফি হট্টগোল শুরু করে। সংঘর্ষ বাঁধে ছাত্র ইউনিয়ন ও অপরাপর সংগঠনের কর্মীদের সাথে। সংঘর্ষে আহত হন বেশ কয়েকজন - আব্দুল মালেক, ছাত্রলীগ কর্মী,ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী, বহিরাগত মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ছাত্রসংঘের একাধিক কর্মী।আহত আব্দুল মালেক তিনদিন পর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

মালেকের মৃত্যুতে তৎকালীন ভিসি, শেখ মুজিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ শোক প্রকাশ করে।তারপর সবার চোঁখ আবার ফিরে যায় স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও সংগ্রামের দিকে।

দেড় বছর পর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, সেই ছাত্র সংঘের নেতাকর্মীরা দলে দলে যোগ দেয় আল - বদর , আল - শামসসহ পাকিস্তানিদের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনে।পুরো নয়মাস জুড়ে লুটপাট, ধর্ষণ আর দালালি করে একপর্যায়ে পরাজিত হয়ে ভুলে যান তাদের সংগঠনের নাম।এরপর প্রকাশ্যে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকে এই জুনিয়র রাজাকারদের কার্যক্রম।হুট করে একদিন এক সংগঠনের জন্ম হয়, " ইসলামী ছাত্রশিবির ", সেই সাত - আট বছর আগের পুরোনো নেতাদের নিয়ে, পুরাতন লোগোকে আরেকটু ব্রাইট করে আর অবশ্যই - জামাতে ইসলামীর ছায়াতলে।মাত্র কয়েকবছর আগের দগদগে পাপের বোঝা শুধুমাত্র নাম পরিবর্তন করে মুছে ফেলতে চায় মুনাফিকের দল।২০২৬ সালে এসেও যখন মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে শিবির ঘায়েল হয়ে যায়, তখন আস্তে করে বলে উঠে " সংঘ - শিবির এক না , আমরা ১৯৭৭ এ জন্ম নিয়েছি।"

পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলতে চাইলেও শেকড়ের টানে বারবার তাদের ফিরে যেতে হয় অতীতে। ঠিক যেমন আব্দুল মালেককে রাজনৈতিক পুঁজি বানিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার সুযোগ কখনও হাতছাড়া করেনা শিবির। আব্দুল মালেকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শিবিরের বটফোর্স তার সকল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায় দেয়। সদ্য প্রয়াত তোফায়েল আহমেদ নাকি ড্রিল মেশিন দিয়ে আব্দুল মালেকের মাথা ছিদ্র করেছেন - এমন অভিযোগও শুনতে হয় ।

শুধু তোফায়েল আহমেদ নন - মতিউর রহমান , মাহফুজ আনাম, মহিউদ্দিন আহমেদ, হাসানুল হক ইনু, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, রাশেদ খান মেনন, কাজী জাফর আহমেদসহ রং- বেরঙের লোকদের দায় দেওয়া হয় মালেককে প্রহার করার । মিথ্যাচারে যে শিবিরের আশেপাশে কেউ যেতে পারে না, গত বছর আলোচনায় আসা " শহীদ নজির ও নাজিরাবাজার " তার আরেকটা প্রমাণ। নিজেদের সন্ত্রাসী ও মুনাফেকি কাজকে ঢাকতে ফেইক হিরো বানানোর কাজ শিবিরের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকর্মীরা বহুদিন ধরে করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বিগত দুই বছরের "আংশিক প্রকাশ্য" রাজনীতি তাদের নোংরা রূপ জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। মিথ্যাচারের উপর ভর করে স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতিকে তারা বলছে " আদর্শিক রাজনীতি " ।

বাংলাদেশের দেশপ্রেমী জনতা একদিন শিবিরের মুনাফেকি বুঝে যাবে, চিনে যাবে তাদের সন্ত্রাসী হায়েনার রূপ। তাদের ধর্মাশ্রয়ী ধান্দাবাজি স্পষ্ট হয়ে যাবে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে।

ছাত্র ইউনিয়ন নেতা শহীদ শাহাদাত, শহীদ সঞ্জয় তলাপাত্র, শহীদ তপন সরকার থেকে শুরু করে রাজশাহীর শহীদ জুবায়ের রিমু, শহীদ ডাক্তার জামিল রতন - সাক্ষ্য দেবে। তাদের পুনর্জাগরণ হবে শীঘ্রই - সেদিন শিবির নামক সন্ত্রাসী , মুনাফিক আর মিথ্যুকদের কোনো অস্তিত্ব এই বাংলার পবিত্র মাটিতে থাকবে না।

মোঃ‌ মোস্তাকিম

About the Author

মোঃ‌ মোস্তাকিম

মজদুরের নিয়মিত লেখক

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast