সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

জুলাই গণঅভ্যুথান-২০২৪; স্বাধীনতা নাকি মুক্তি?

জুলাই গণঅভ্যুথান-২০২৪ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বন্দিদশা থেকে জনগণের মুক্তির দলিল। কিছু গোষ্ঠী একে দ্বিতীয় স্বাধীনতা হিসেবে আখ্যায়িত করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অথচ প্রকৃত অর্থে এটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত বিজয়।

মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত
মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত মজদুরের নিয়মিত লেখক
পড়তে 4 মিনিট লাগতে পারে
এই লেখাটি 115 বার পড়েছে এ মাসে লেখকের লেখা 1 জন পাঠক পড়েছেন
জুলাই গণঅভ্যুথান-২০২৪; স্বাধীনতা নাকি মুক্তি?

এই মেঘাচ্ছন্ন সূর্য অস্ত গিয়ে আগামীকাল নতুন একটি দিনের সূচনা হবে। দিনটি ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ০৫ই আগস্ট হলেও ৩৬ দিনব্যাপী 'জুলাই গণঅভ্যুথান-২০২৪' এর কারণে বাংলাদেশের মানুষের কাছে '৩৬শে জুলাই' হিসেবে স্বরণীয়। রাজনৈতিক ভিন্নতার প্রেক্ষিতে এই দিনটিকে পরিচয় সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে ২ টি পক্ষ; একটি পক্ষের কাছে এটি দ্বিতীয় স্বাধীনতা; অন্য একটি পক্ষের কাছে এটি মুক্তি (জাতির ফ্যাসিবাদ মুক্তি দিবস)।

স্বাধীনতা বলতে কি বুঝায়?

আক্ষরিক অর্থে স্বাধীনতা বলতে কারো অধীনস্ততা না থাকা। কিন্তু যখন নাগরিক হিসেবে স্বাধীনতা উল্লেখ করা হবে তখন স্বাধীনতা বলতে বুঝায়; একটি ভূখণ্ড, একটি পতাকা ও একটি সংবিধান। যে রাষ্ট্রের অন্য কোনো রাষ্ট্রের অধীন না থেকে নিজস্ব ভূখন্ডে নিজস্ব সংবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় সেটা স্বাধীন রাষ্ট্র। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই সংবিধান আবার জনগণের সম্মতিক্রমে গঠিত হয় এবং সংশোধনের প্রয়োজনে সংশোধিত হয়। অনেকটা অদৃশ্য দেওয়ালের মত। অর্থাৎ, যাকে শাসন করা হবে সে নিজেই সেই শাসনের বলয় তৈরি করবে এবং শাসককে স্বীকৃতি দিবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে ১৯৭১ সালেই পাকিস্তানের থেকে। তারপর আর কেউ আমাদের ভূখন্ড দখল করতে আসেনি।

মুক্তি বলতে কি বুঝায়?

মুক্ত বলতে বুঝায় যার চতুর্দিকে দৃশ্যমান কোনো বলয় নেই কিংবা কোনো বাধা নেই। রাষ্ট্রের নাগরিকেরা যা খুশি করতে পারে। চিন্তার স্বাধীনতা, কথা বলার স্বাধীনতা, সিদ্ধান্ত প্রয়োগের ক্ষমতা ইত্যাদিতে রাষ্ট্র কখনো বাধা দেয় না। যার ফলশ্রুতিতে তারা নিজেদেরকে সুপার পাওয়ার মনে করে। এর প্রভাবে অনেকসময় মবের শিকার করে ফেলে অপরাধীদের কিংবা নির্দোষদের। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে একটা ফ্যাসিবাদী সরকারের চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম অথবা দীর্ঘদিনের একটি সাংবিধানিক বন্দী জীবন থেকে বের হতে পারা অবশ্যই মুক্তি শব্দটাকে ইঙ্গিত করে।


২য় স্বাধীনতা কাদের ব্যখ্যা? কেন?


জুলাই গণঅভ্যুথান-২০২৪ একটি ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিপরীতে জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও ঘৃণা প্রকাশের এক দৃষ্টান্তমূলক রূপ। অর্থাৎ, একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশের সরকার তার জনগণের উপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার প্রামাণিক দলিল এই অভ্যুথান। যার মূল সুবিধাভোগী জামাত-শিবির।

রাজনীতিতে ভাষার প্রয়োগ-অপপ্রয়োগে উপমহাদেশের রাজনীতিবিদেরা প্রজ্ঞাবান নয়। যে কারণে তারা বিচার-বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে শব্দ প্রয়োগ করে ফেলেন। যার ফলশ্রুতিতে জনরোষের শিকার হয়ে যান। তেমনি এতোজন মুক্তিযোদ্ধা বেঁচে থাকা অবস্থায়, বেনিয়া মিলিটারিদের সহযোগিতা করে আসা জামাত-শিবির এই অভ্যুথান পরবর্তী বিজয়কে ২য় স্বাধীনতা বলে উল্লেখ্য করে। জামাতের জোটসঙ্গী এবি পার্টির 'ব্যারিস্টার ফুয়াদ" আমাদের ২য় স্বাধীনতা বলার পর তারা ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে 'প্রতিরোধ যুদ্ধ' বলে আখ্যায়িত করে। তাঁদের মতে, ১ম স্বাধীনতা ১৯৪৭ সালের সেই ব্রিটিশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে অর্জিত হয়েছে। মূলত, ১৯৭১ এর ইতিহাসকে এবং তাঁদের জাতির সাথে গাদ্দারি করাকে ঢেকে দিতে চায় এই পাকিস্তানপ্রেমী অপশক্তি। তারা একে একে মুক্তিযুদ্ধের সকল বিষয়কে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সারাদেশে বীরশ্রেষ্ট, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলছে বিভিন্নভাবে।

আমরা যারা ১৯৭১ কে শ্রদ্ধা করে ২০২৪ এর অভ্যুথানকে স্বীকার করতে চাই, তাদেরকে এই বিজয়কে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জনগণের বিজয় এবং চাপিয়ে দেওয়া সাংবিধানিক বন্দিদশা থেকে মুক্তি হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। কোনো মিলিটারিদের সহযোগীদের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৩০ লক্ষ শহিদকে সর্বদা সম্মান করবো।

অতএব, আমাদের কাছে ০৫ই আগস্ট কে '৩৬শে জুলাই' এবং 'জাতীয় ফ্যাসিবাদ মুক্তি দিবস' হিসেবেই বিবেচনা করব।

#জুলাই_গণঅভ্যুথান_২০২৪ #৩৬শে_জুলাই #বাংলাদেশ_রাজনীতি #মুক্তিযুদ্ধ #বাংলাদেশ #রাজনৈতিক_বিশ্লেষণ #ফ্যাসিবাদ_বিরোধী #ইতিহাস
মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত

About the Author

মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত

মজদুরের নিয়মিত লেখক

শিক্ষার্থী

"জগতের যত মাজলুম আমরা তোমাদেরই কণ্ঠস্বর" আমি মোফাজ্জেল হোসাইন বরকত। জন্ম গোপালগঞ্জ জেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। নিজেকে সবসময় ডানপন্থীদের রাজনীতির বাহিরে রাখতে চেয়েছি।কারণ রাজনৈতিক প্রহসনের রাষ্ট্রে সরাসরি ডানপন্থী রাজনীতিতে যোগদান করার অর্থ- স্বচক্ষে ভাইয়ের খুন হতে দেখার পরেও পুতুলের মতো বসে থাকা। একমাত্র সাংগঠনিক পরিচয় "আমি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একজন সদস্য।" বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া বিপ্লবীদের একটি সংগঠন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুথানে সর্বাত্মক সহযোগীতার পরেও অন্যান্য দলগুলোর মতো গোগ্রাসে গিলে ফেলেনি সাধারণের অধিকার। এই অনুপ্রেরণায় আমি এই সংগঠনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। নিয়মের বেড়াজালে আমাদের বন্দী করে, অন্যায়ভাবে যারা মাজলুমের ঘাড়ে কুঠারের আঘাত করে, তাদের বিরুদ্ধে সদা সর্বদা জাগ্রত আমরা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জিন্দাবাদ

প্রোফাইল দেখুন

মতামত

এখনও কোনো মতামত নেই।

প্রথম মতামতটি আপনিই দিন।

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast