অ্যাঞ্জেলা ডেভিসের জবানবন্দি:
সবাই আমাকে একটা প্রধান প্রশ্ন করে—“অ্যাঞ্জেলা ডেভিস কেন কমিউনিস্ট?” এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন, কারণ আমি মনে করি কমিউনিজমের প্রকৃত অর্থ আমাকে কখনো শেখানো হয়নি।
... আমি যখন ইউসিএলএ-তে আমার চাকরি রক্ষার আন্দোলন করছিলাম, তখন একটি বিষয় আমাকে খুব মুগ্ধ করেছিল। আমি যখনই কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, দেখেছি খুব কম মানুষেরই কমিউনিজম নিয়ে কোনো ভীতি বা সংকোচ আছে। অনেকবার এমন হয়েছে যে রাস্তায় হাঁটার সময় কেউ আমাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করেছে, “আপনি কি অ্যাঞ্জেলা ডেভিস?” আমি হ্যাঁ বললে তারা সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, “আমরা আসলে কমিউনিজম কী, তা পুরোপুরি জানি না। কিন্তু আমরা জানি, এতে নিশ্চয়ই ভালো কিছু আছে। নইলে ক্ষমতাবানরা আপনার বিরুদ্ধে এত কঠোর হতো না।”
তাই আমি মনে করি, কমিউনিজমকে বোঝার প্রতি অনীহা কৃষ্ণাঙ্গ সমাজে ততটা নেই, যতটা পুরো দেশে আছে। আমি মনে করি না যে অন্তত কৃষ্ণাঙ্গ সমাজে কমিউনিজমের প্রতি ব্যাপক শত্রুতা আছে। বরং আছে জানার আগ্রহ ও কৌতূহল।
... কেন আমি কমিউনিস্ট! মূলত একই কারণ, যে কারণে আমি নিজেকে বিপ্লবী বলি।
আমি নিপীড়িত মানুষের প্রতি, আমার নিজের জনগণের প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করি। আমি তাদের মুক্ত দেখতে চাই। আমি চাই পৃথিবীর সব নিপীড়িত মানুষ মুক্ত হোক। আর আমি উপলব্ধি করেছি যে এটি সম্ভব কেবল তখনই, যখন আমরা এমন একটি বিপ্লবী সমাজের দিকে এগোব, যেখানে সকল মানুষের চাহিদা, স্বার্থ এবং আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করা হবে।
পাবলো পিকাসোর জবানবন্দি:
কমিউনিস্ট পার্টিতে আমার যোগ দেওয়াটা আমার জীবন ও কাজের একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ, যা আমার জীবন ও কাজকে অর্থপূর্ণ করে তুলেছে। রেখাচিত্র ও রঙের মাধ্যমে আমি জগৎ এবং মানুষের জ্ঞানকে আরও গভীরভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি, যাতে এই জ্ঞান আমাদের মুক্ত করতে পারে। আমি নিজস্ব উপায়ে সবসময় সেটাই বলেছি যা আমার কাছে সবচেয়ে সত্য, সবচেয়ে ন্যায়সঙ্গত, সেরা এবং ফলস্বরূপ সবচেয়ে সুন্দর মনে হয়েছে। কিন্তু নিপীড়ন ও গণ-অভ্যুত্থানের দিনগুলোতে আমার মনে হয়েছিল যে শুধু সেটুকুই যথেষ্ট নয়; আমাকে এখন কেবল চিত্রকর্ম দিয়ে নয়, আমার সমগ্র সত্তা দিয়ে লড়াই করতে হবে।
আমি একজন কমিউনিস্ট হয়েছি কারণ আমাদের দল অন্য যেকোনো দলের চেয়ে জগৎকে জানতে ও গড়ে তুলতে এবং মানুষকে আরও স্পষ্ট চিন্তাশীল, আরও স্বাধীন ও আরও সুখী করতে সবচেয়ে বেশি সচেষ্ট।
আমি কমিউনিস্ট হয়েছি কারণ ফ্রান্সে, সোভিয়েত ইউনিয়নে এবং আমার দেশ স্পেনেও কমিউনিস্টরাই সবচেয়ে সৎসাহসী। কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদানের আগে আমি কখনও এত মুক্ত এত পূর্ণবোধ করিনি। স্পেন আমাকে কবে আবার ফিরিয়ে নেবে সেই অপেক্ষায় যতদিন আছি ততদিন ফ্রেঞ্চ কমিউনিস্ট পার্টিই আমার জন্য পিতৃভূমি। এখানেই আমি আবার ফিরে পেয়েছি আমার সকল প্রিয় বন্ধুদের - মহান বিজ্ঞানী পল ল্যাঞ্জভাঁ ও ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরি, মহান লেখক লুই অরাগঁ আর পল এলুয়ার, প্যারিসের বিদ্রোহীদের আরও কত প্রিয় মুখেরা। আমি আবার আমার ভাইবোনদের মাঝে এসে গেছি।
পরিচিতি:
অ্যাঞ্জেলা ডেভিস (১৯৪৪) একজন মার্কিন রাজনৈতিক কর্মী, লেখক, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ। ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে কৃষ্ণাঙ্গ মুক্তি আন্দোলন, নাগরিক অধিকার আন্দোলন এবং বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি আন্তর্জাতিক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিউনিস্ট আন্দোলনের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব এবং দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবাদ, কারাগারব্যবস্থা, লিঙ্গবৈষম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজ করে আসছেন। তাঁর রাজনৈতিক চিন্তা ও লেখালেখির কেন্দ্রে রয়েছে নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং মুক্তির রাজনীতি।
পাবলো পিকাসো (১৮৮১–১৯৭৩) ছিলেন স্পেনীয় চিত্রশিল্পী, ভাস্কর ও আধুনিক শিল্পকলার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি কিউবিজম ধারার অন্যতম প্রবর্তক এবং বিংশ শতাব্দীর শিল্পবিপ্লবের প্রধান নির্মাতাদের একজন। ১৯৪৪ সালে তিনি ফরাসি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এর সদস্য ছিলেন। স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধ, ফ্যাসিবাদ ও যুদ্ধবিরোধী অবস্থান তাঁর শিল্পকর্মে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যার সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ ‘গুয়ের্নিকা’। শিল্প ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে তাঁর চিন্তা আজও বিশ্বজুড়ে আলোচিত।
তথ্যসূত্র:
১.https://liberationschool.org/angela-davis-on-why-shes-a-communist/
২. https://www.youtube.com/watch?v=cGQCzP-dBvg
৩.https://blogs.library.columbia.edu/schapiro/2010/02/24/picasso-and-communism/
About the Author
Md. Belal Hosain Bidda
Lawyer
“জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ, মৃত্যুই সেখানে শেষ কথা নয়।”
প্রোফাইল দেখুন
মন্তব্য মুছবেন?
এটা বাতিল করা যাবে না।
আলোচনায় অংশ নিন
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন
সাইন ইন করুন