দুটো শিশু জন্মগ্রহণ করলো। একজন ধনী পরিবারে, আরেকজন গরিব পরিবারে। আর সমাজটা হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও প্রতিপত্তিই প্রধান। তো এবার সামনের জীবন টা কার জন্য সবচেয়ে বেশি সহজ বলতে পারবেন?
এটা নিঃসন্দেহে ধনী পরিবারে জন্মগ্রহণ করা শিশুটির জন্য। এবং এটাই হয়ে আসছে ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরের গভর্নিং কালচারে।
ধনী পরিবারে মানুষ করা শিশুটা কোনোরকম অভাব বা বাধাবিপত্তি ছাড়াই খুব সহজেই মৌলিক চাহিদা গুলো মিটিয়ে, টাকাপয়সা ভেঙে, মজমাস্তি করে স্ট্যাটাস বজায় রেখে মাস্টার্স কমপ্লিট করে নামিদামি একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি নিবে কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ড সাপোর্ট নিয়ে বা ব্যাংকের জমানো রিসোর্স থেকে নিয়ে বিজনেস দিবে! তার অবস্থার আরো বেশি উন্নতি হতে থাকবে।
অন্যদিকে গরিব পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুটা কোনো রকম সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ ও মৌলিক চাহিদার অভাব গুলো নিয়েই বড় হতে থাকবে। তার কথা কেউ জিজ্ঞেস ও করবে না। সে কখনো তার ভেতরকার সুপ্ত দক্ষতা ও যোগ্যতা গুলোকে পরিমার্জনা-পরিস্ফুটন ঘটানোর কোনো সুযোগ ই পাবে না। কারণ এমন কোনো সুযোগ সমাজে আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ তথাকথিত স্বাধীন সমাজের পুরো অংশ উচ্চবিত্ত শ্রেণির কন্ট্রোলে থাকে। আর তারা চায় না নিম্নশ্রেণির মানুষ গুলো কোনোভাবে ফ্রন্টলাইনে আসুক। কারণ এসব মানুষ শিক্ষা-দীক্ষা, যোগ্যতা অর্জন করে ফ্রন্টলাইনে আসলে সমাজের বিত্তবান শ্রেণির ভুয়া সিস্টেমের চেয়ারে ঘুণ ধরাবে। অতীতের আক্ষেপগুলো থেকে তাদের মনে তৈরি হবে নবজাগরণের। এমনটাই হয়ে এসেছে উপমহাদেশীয় ও আন্তর্জাতিক সকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির নির্মূল আন্দোলনে। তাই বর্তমান স্বাধীন যুগের দড়ি হাতে নেয়া মহাজনেরা কখনোই চায় না যে সমাজে সাম্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা হোক, তারা কখনোই চায় না যে সমাজের একচ্ছত্র আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত হোক, তাদের হাত থেকে চলে যাক। ফলস্বরূপ দরিদ্র ঘরে জন্ম নেয়া শিশুটা বড় হয়ে খুব বেশি একটা আর্থিক স্বচ্ছলতা নিয়ে আসতে পারে না। তারা জীবনের সকল বাধাবিপত্তিগুলো পার হতে হতে ধৈর্য হারিয়ে একসময় থেমে যায়, ভাগ্যের উপর দোষ দিয়ে বসে থাকে।
দোষ টা কি আসলেই ভাগ্যের নাকি সিস্টেমের?
About the Author
Golam Rabbi
Student of Political Science in Honours (2026-2030). Progressive.
প্রোফাইল দেখুন
মন্তব্য মুছবেন?
এটা বাতিল করা যাবে না।
আলোচনায় অংশ নিন
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন
সাইন ইন করুন