Searching…

প্রতিযোগিতামূলক সমাজের নিষ্পেষণের শিকারঃ ক্ষুদ্র উদাহরণ

জিনিসটা কেমন অদ্ভুত তাই না? একই সমাজে বসবাস করি অথচ এক দিকে উচু দালানে টাকায় গড়াগড়ি খায় বিত্তবান শ্রেণি যারা সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রতিপত্তি সবই কন্ট্রোল করে, আরেক দিকে মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত শ্রেণি যারা চায় স্ট্যাটাস ধরে রেখে যতটুকু সম্ভব প্রতিদিন অতিবাহিত করা।

Golam Rabbi
Written by Golam Rabbi
41 4 মিনিট লাগতে পারে পড়তে
প্রতিযোগিতামূলক সমাজের নিষ্পেষণের শিকারঃ ক্ষুদ্র উদাহরণ

ভাবুন তো!

একটা সমাজে যখন সবাই মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করে, তখন সবাই মৌলিক চাহিদা, প্রবৃত্তি, প্রয়াস, আশা নিয়ে জন্মায়। এসব কিছু আরো বেশি করে বাড়তে থাকে চলমান তথাকথিত স্বাধীন সমাজের নিত্যকার কর্মযজ্ঞ ও অ্যাচিভমেন্ট দিয়ে।

তো নরমালি সেই সমাজে একই সময়ে দুইটা মানুষ জন্মগ্রহণ করলো, ভাগ্যক্রমে একজনের জন্ম হলো ধনী ও বিত্তবান শ্রেণির ঘরে, আরেকজনের জন্ম হলো দিন এনে দিন খাওয়া দিনমজুরের ঘরে যা নিম্ন মধ্যবিত্তের ক্যাটাগরিতে পড়ে। হ্যাঁ মাঝখানে অবশ্যই আরো একটা শ্রেণি আছে নাম তার "মধ্যবিত্ত"। তবে আমি মধ্যবিত্ত শ্রেণি বলতে আর কোনো শ্রেণিই দেখি না, চলমান সমাজব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত শ্রেণির অবস্থা শুধু দিন দিন খারাপ ই হয়, অবনতিই হয়, উন্নতি আর হয় না। অনেকটা নিম্নবিত্তদের অবস্থা। তফাতটা শুধু এই জায়গায় যে মধ্যবিত্তদের কষ্ট প্রকাশ পায় না, নিম্নবিত্তদের কষ্ট খুব সহজেই প্রকাশ পায়। তথাকথিত স্বাধীন সমাজব্যবস্থার কড়াল থাবার নিশ্চুপ শিকার হচ্ছে এই মধ্যবিত্ত শ্রেণি। সমাজের মধ্যে অর্থ, বিত্ত, শিক্ষা, সাম্য, ন্যায়বিচার ইত্যাদিকে বন্টনের সুবিধার্থে পুঁজিবাদী শ্রেণি সমাজকে এই তিন ভাগে ভাগ করে শাসন-শোষণ করার সুবিধার্থে।

এবার বিত্তবানের ঘরে জন্ম নেয়া মানুষটা মেধা-জ্ঞান-দক্ষতা-যোগ্যতার দিক দিয়ে একটু কম। অপরদিকে নিম্নবিত্তের ঘরে জন্ম নেয়া মানুষটার মেধা-জ্ঞান-দক্ষতা-যোগ্যতা তুলনামূলক বেশি। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে, পুঁজিবাদী তথাকথিত স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক আর্থ-সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মৌলিক অধিকার থেকে বিত্তবানের চেয়ে বহুগুণে পিছিয়ে থাকবে নিম্নবিত্তের সেই মানুষ। হিউম্যান রিসোর্স এর এত সম্ভাবনা তার মাঝে থাকা সত্ত্বেও আর্থিক প্রতিযোগিতায় সে হেতে গিয়ে সমাজের সবচেয়ে নিচুস্তরে পড়ে নিষ্পেষিত হতে থাকবে। আমি বলছি না যে বিত্তবানদের ঘরে মেধাবী জন্ম নেয় না, অবশ্যই নেয় কিন্তু তারা তাদের আইডেন্টিটি রিসোর্সকে কাজে লাগাতে ও লাইফের মেইনস্ট্রিম এ আসতে, এলিট লাইফ কাটাতে যতটুকু না পরিশ্রম, কষ্ট, বাধাবিপত্তি ও ঝড়ঝাপটার সম্মুখীন হয় সেটা মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্তের কষ্ট ও পরিশ্রমের কাছে কিছুই না।

ভালো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কারা পড়ে? ভালো প্রাইভেট ওয়ার্কপ্লেস গুলোতে কারা চাকরি করে? এডমিনিস্ট্রেটিভ চাকরি গুলোতে কারা চান্স পায়? স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশ যায় কারা? এদের ৭৫% ই বিত্তবানদের ছেলেমেয়েরা জুড়ে থাকে কারণ লক্ষ লক্ষ টাকাপয়সা খরচ করে স্ট্যাটাস বজায় রেখে লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো সেই সক্ষমতা তাদের আছে। সেই সেম ব্যাক্তিই সবসময় আর্থিক স্বচ্ছলতার ছত্রছায়ায় থেকে স্ট্যাটাস বজায় রেখে মাস্টার্স-ডিগ্রী অর্জন করে এয়ার-কন্ডিশনড রুমে চাকরি পায়। এক্সপিরিয়েন্স নিতে নিতে একসময় লাখ টাকার বেতনে জিএম হয়। গাড়ি দিয়ে চলাফেরা করে। অথচ তারই অধীনে কাজ করা নরমাল ওয়ার্কার কিংবা তার বাসার পাশে দিনমজুরের একটা সন্তান যে সেই জিএম এর চেয়েও কয়েকগুন মেধাবী যোগ্য, দক্ষ হতে পারে সেটা রিভেল করার কোনো সুযোগ তার জীবনে আসে না। সারাজীবন নিম্নবিত্ত ক্যাটাগরিতে থাকায় তারা এমনিতেও লাইফের মেইনস্ট্রিম এ আসতে পারে না আর এর কারণ হচ্ছে উপরের পুঁজিবাদী কন্ট্রোলার শ্রেণি। তারা নিজেরা অর্থ-বিত্ত নিয়ে মত্ত থাকে চিরকাল, সমাজের কাঠামো সাজায়, সিস্টেম সাজায় এমনভাবে যাতে নিম্নশ্রেণি থেকে উঠে আসা ছেলেটা বা মেয়েটা যাতে জীবনে সাকসেস ও টাকার পিছনে ছুটতে ছুটতেই অর্ধেক বয়স পার করে ফেলে।তারপর সময় হয়ে গেলে সংসার জীবনের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেলে পরিবারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে আর সাফল্য ছিনিয়ে আনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলস্বরূপ অনেকে পাড়ি জমায় বিদেশের মাটিতে।

জিনিসটা কেমন অদ্ভুত তাই না? একই সমাজে বসবাস করি অথচ এক দিকে উচু দালানে টাকায় গড়াগড়ি খায় বিত্তবান শ্রেণি যারা সমাজ, অর্থনীতি, রাজনীতি, প্রতিপত্তি সবই কন্ট্রোল করে, আরেক দিকে মধ্যবিত্ত বা নিম্নবিত্ত শ্রেণি যারা চায় স্ট্যাটাস ধরে রেখে যতটুকু সম্ভব প্রতিদিন অতিবাহিত করা। জিনিসপত্রের দাম বাড়লে তাদের আর্তনাদ শোনার কেউ নেই, অন্যদিকে গরিব-বাস্তচ্যুত শ্রেণি যাদের কোনো ঠাই নেই, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়, ভিক্ষা করে, তাদের জন্য না আছে কোনো কর্মসংস্থান না আছে কোনো সোশ্যাল হেলপিং। তারা জন্ম নেয়, এভাবেই দারিদ্রতায় জীবন কাটায়, বিত্তবানদের জীবন দেখে, আফসোস করে, ক্ষোভ, আক্ষেপ, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার অভাব, সামাজিকীকরণের অভাব, সুস্থ বিনোদনের অভাবে স্বভাব বিগড়ে যায়, সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, বিচ্ছিন্ন এক জীবন কাটিয়ে কোনো একদিন কোথাও অচেনা জায়গায় গিয়ে মৃত্যুবরণ করে। ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা হওয়ায় শুধু দাফন-কাফনটা দেয়া হয় কোনোরকম। এছাড়া তাদের জীবনের আফসোস-আক্ষেপ টা শোনার মতো কেউ নেই। কেউ এগিয়ে আসে না।

Golam Rabbi

About the Author

Golam Rabbi

Student of Political Science in Honours (2026-2030). Progressive.

প্রোফাইল দেখুন

আলোচনায় অংশ নিন

আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন

সাইন ইন করুন

Reading

Font size

Auto scroll
Slow Fast