প্রশ্নটি
105
বার দেখা
হয়েছে
My question of Islamic Socialism
4 মাস আগে
জানতে চেয়েছেন
Yousuf2 টি উত্তর
তবে মৌলিক পার্থক্যও রয়েছে। ঐতিহ্যগত সমাজতন্ত্র সাধারণত উৎপাদনের উপকরণের সামষ্টিক মালিকানা এবং অনেক ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষ বা বস্তুবাদী দর্শনের উপর দাঁড়ায়। অন্যদিকে ইসলাম ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তবে সেই সম্পদের ব্যবহারে নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আরোপ করে। ইসলামে অর্থনীতি কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের সঙ্গেও সম্পর্কিত।
তাই আমার মতে, “ইসলামী সমাজতন্ত্র” বলতে যদি সামাজিক ন্যায়বিচার, দরিদ্রের অধিকার এবং সম্পদের দায়িত্বশীল বণ্টনকে বোঝানো হয়, তাহলে ইসলাম ও সমাজতন্ত্রের কিছু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক দর্শনকে প্রচলিত সমাজতন্ত্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ অভিন্ন বলা সঠিক হবে না, কারণ তাদের ভিত্তি, উদ্দেশ্য ও দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।
4 মাস আগে
উত্তর দিয়েছেন
Talha Mohammad Chowdhury২) ইসলাম এর প্রাথমিক উত্থান ঐশী বাণী ভিত্তিক এবং মার্ক্সবাদ (আগের সমাজতন্ত্রগুলোর কথা ধরছি না) আলাদা দর্শন। তাই আলাদা বিশ্ববীক্ষা, আলাদাভাবে জগতকে দেখা ও লক্ষ্য স্থির করা। এর ফলে মজুরি কি, শ্রম কি, উৎপাদন এত ঐতিহাসিক পর্যায় কিভাবে পেরিয়ে এলো এইসব ব্যাখা আলাদা।
৩) যেহেতু আলাদা দর্শন তাই আলাদাভাবে সমাজের সমস্যাকে চিহ্নিত করে এবং উত্তর দেয়। ইসলাম ও সমাজতন্ত্রের(সকল সমাজতন্ত্রের কথাই ধরছি) মধ্যে কিছু নীতিগত মিল আছে—যেমন দরিদ্রের অধিকার, সম্পদের অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের বিরোধিতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সুদের বিরোধিতা। তাই এই দিক থেকে ইসলাম মার্ক্সবাদের সাথে কিছু মিল আছে। তবে, অমিল বেশী যেমন মার্ক্সবাদ তথা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র রাষ্ট্র, উৎপাদনের ব্যাক্তিমালিকানা বিলোপ চায়, ইসলাম তা চায় না।
৪) সবশেষে, ইসলামী সমাজতন্ত্র নামে আলাদা বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো বড় কোনো আন্দোলন গড়ে উঠেনি। তবে মিশর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইরাক, সোমালিয়া, ইরান এবং উপমহাদেশে কিছু নেতা বাম রাজনীতি চর্চা ,ইসলামী শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু রাজনৈতিক তত্ত্ব চর্চা ও প্রয়োগ করেন। যেমন মিশরের গামাল আবদেল নাসের, লিবিয়ার মুয়াম্মার গাদ্দাফি তিনি গ্রীন মেনিফেস্টো লিখেছেন। আবার সিরিয়া এবং ইরাকে বাথ পার্টি (Baathism) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো, যার লক্ষ্য ছিলো ঐক্যবদ্ধ আরব (Pan-arabism), ইসলামী শিক্ষা, কিছুটা সমাজতান্ত্রীক অর্থনৈতিক কর্মসূচি ইত্যাদি। আর ইরানে আলী শরিয়াতি যিনি একই সাথে প্রভাবশালী শিয়া এবং বাম ঘরানার স্কলার ছিলেন তিনিও অনেকটা ইসলামী সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত। উপমহাদেশে, মওলানা হাসরত মোহানী, মওলানা ওবায়দুল্লাহ সিন্ধী, তাদের অনুসারী হয়ে মওলানা ভাসানী এরা ইসলামী ঘরানার ও সমাজতন্ত্র লাইনের লোক। তবে ইসলামী সমাজতন্ত্র এর একেবারে গোড়ায় আসে আবু জর গিফারী যিনি খলিফা উসমানের আমলে ধনী শ্রেণী কর্তৃক সম্পদ জমাকরণের বিরোধীতা করেন। আবার পাকিস্তনের পিপলস পার্টি এবং নেতা ভূট্টোকেও ইসলামী সমাজতান্ত্রিক ঘরানার দাবী করা হয়।
4 মাস আগে
উত্তর দিয়েছেন
নাজমুল হাসান ফাহিমউত্তর দিন
উত্তর দিতে লগইন করুন