প্রশ্নটি
196
বার দেখা
হয়েছে
Islam, Social Justice, and Leftist Perspectives: A Question
কিন্তু ইসলাম নিজেই জুলুম, অন্যায়, শোষণ ও শ্রমিকের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে কথা বলে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, দরিদ্রের অধিকার, যাকাত, সামাজিক ন্যায়বিচার—এসব ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এক হাজার চারশো বছরেরও বেশি সময় পরেও কোটি কোটি মানুষ ইসলামকে সম্মান করে এবং অনুসরণ করে। যদি ইসলামও সামাজিক ন্যায়বিচার ও শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে, তাহলে কিছু বামপন্থী কেন ইসলাম বা ইসলামপন্থীদের প্রতি সন্দেহ বা বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন? এটি কি ধর্মকে ভুলভাবে বোঝার কারণে, নাকি বামপন্থা ও ইসলামপন্থার মধ্যে কিছু মৌলিক মতাদর্শগত পার্থক্য রয়েছে?
4 মাস আগে
জানতে চেয়েছেন
Yousuf1 টি উত্তর
এখন একটা জিনিস ভেবে দেখেন, বামপন্থীরাও যদি সমতা চায় আবার ধর্মবাদীরাও যদি সমতা চেয়ে থাকে, তাহলে বারবার এই দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে ক্ল্যাশ লাগে কেন? এর মূল কারণ হচ্ছে ধর্মীয় রাজনীতি বেশিরভাগ সময়েই ধর্মের নাম দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী-ফ্যাসিবাদী কৃষক-শ্রমিকবিরোধী রাজনীতি করে। যদিও এই ক্ষেত্রে কিছু exception থাকে যেমন লিবারেশন থিওলোজি। কিছু ক্ষেত্রে উপনিবেশিক শক্তি ও দাসপ্রথার বিরুদ্ধে খিস্টান ধর্ম, ইসলাম ধর্ম এবং ইহুদি ধর্মের মানুষরাও তাদের নিজ নিজ ধর্মের ধর্মীয় রাজনীতির মাধ্যমে শোষণ নিপীড়ন থেকে কিছু জাতিকে মুক্ত করতে পেরেছে, কিন্তু এইসব শক্তি long term এ সাধারণত টিকে থাকতে পারে না, আর এর মূল কারণ হচ্ছে পুঁজি। কারণ পুজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদসহ সকল শোষণমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সঠিক রাজনৈতিক লাইনটা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিগুলা ধরে রাখতে পারে না, যার কারণে বেশিরভাগ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক শক্তিই পুজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদের দালালি করেই টিকে থাকে। বাংলাদেশের তথাকথিত "ইসলামপন্থী"রাও ঠিক সেই রাজনীতিই করে।
বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলাম বলেন আর হেফাজতে ইসলামই বলেন, বাংলাদেশের বড় সকল ইসলামপন্থীশক্তিই পুজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালি করে এবং আধিপত্যমূলক রাজনীতি করে টিকে থাকে। আর পুজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের দালালি করা শক্তি কখনোই কৃষক-শ্রমিকের পক্ষের রাজনীতি করতে পারে না। তারা সবসময়েই কৃষক-শ্রমিকবিরোধী রাজনীতিই করে আসছে। আর বাংলাদেশের ৯৯% তথাকথিত ইসলামপন্থীরাও তেমনই। ইসলাম ধর্ম কখনোই বাঙালী জাতির গণহত্যা সাপোর্ট করবে না, ইসলাম ধর্ম কোনোভাবেই নারীবিদ্বেষী রাজনীতি সাপোর্ট করে না, ইসলাম ধর্ম মাজার ভাঙা কিংবা অন্য ধর্মালম্বীদের উপর আক্রমণ করা কখনোই সাপোর্ট করে না, পুজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের দালালিও ইসলাম ধর্ম সাপোর্ট করে না, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে আদিবাসীদের উপর তথাকথিত ইসলামপন্থীদের আধিপত্যমূলক রাজনীতিও ইসলাম ধর্ম সাপোর্ট করে না। কিন্তু এই সকল কাজই বাংলাদেশের তথাকথিত ইসলামপন্থীরা করে থাকে,তাই এই " ইসলামপন্থীরা" সত্যিকার অর্থে ইসলামবিরোধী শক্তি। ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের আগের ইসলাম যদি দেখি এই অঞ্চলে, তবে দেখতে পারি যে এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মুসলিম ছিল সুফিবাদী ধাঁচের, যা ছিল ধর্মীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। তাই বাংলার ধর্মপ্রাণ এবং স্বাধীনতাকামী জনগণের উচিত এই আমলা পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদী কৃষক-শ্রমিকবিরোধী "ইসলামপন্থী" শক্তিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে, কৃষক-শ্রমিকের পক্ষের রাজনীতি করা।
4 মাস আগে
উত্তর দিয়েছেন
Afnanউত্তর দিন
উত্তর দিতে লগইন করুন