প্রশ্নটি
289
বার দেখা
হয়েছে
1 টি উত্তর
বামপন্থার উৎপত্তি বুঝতেই ফরাসি বিপ্লবের আলোচনা দরকার। চলুন, ইতিহাসে ফরাসি দেশের ঘটনাটা একটু দেখে আসি। বিপ্লবের আগে ফ্রান্সে ক্ষমতা রাজা (monarchy), চার্চ, অভিজাত শ্রেণি (aristocracy) এদের মধ্যেই ছিলো, বিশেষ করে রাজতন্ত্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। অন্যদিকে অবস্থান ছিলো সাধারণ জনগনের, কৃষক, ভূমিহীন জনতার। ছিলো ক্ষমতা কাঠামোর বৈষম্য, ছিলো সাধারন জনতার কাছে জবাবদিহিতার অভাব। ফ্রান্সের বিপ্লবের আগে এখনকার মতো রাজনৈতিক পার্টি ছিলো না, ছিলো বিভিন্ন ক্লাব। বিপ্লবের পর এই ক্লাবগুলো ডিবেট-আলোচনা করতে জাতীয় পরিষদ স্থাপন করে, যাকে আজকের দিনে পার্লামেন্ট বলি। সেখানে প্রধান ক্লাব (group) হলো-
১) রয়ালিস্ট - এরা রাজতন্ত্র, চার্চের ক্ষমতা, পুরাতন অভিজাতদের (aristocracy) সামাজিক স্টাটাস ও heirarchy রক্ষার পক্ষে। এরা ধর্মের অথরিটির রাজনৈতিক ক্ষমতার পক্ষে। এরা far right। এরা চায় বিপ্লব থেমে যাক।
২) ফুয়েলান্তস (Feuillants) - এরা রাজতন্ত্র বিলোপের পক্ষে নয় তবে রাজতন্ত্র-চার্চ ক্ষমতা কমানোর পক্ষে। সাংবিধানিক রাজতন্ত্র চায় । এরা ডানপন্থী।
৩) মারাইস (marais) - মধ্যমপন্থী,দোদুল্যমান, এরা পরিস্থিতি বুঝে নিজেরদের রাজনৈতিক অবস্থান বদল করতো। এরা নির্দিষ্ট কোনো কঠোর ideological (মতাদর্শ) অবস্থানে ছিল না।
৪) জিরোন্ডিনস (girondins) - মধ্য-বামপন্থী উদারপন্থী (liberal republican) গোষ্ঠী। এরা রাজতন্ত্র উৎখাত ও প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা চায়, তবে তুলনামূলকভাবে র্যাডিকাল সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধী ছিলো। এরা মূলত বুর্জোয়া ও প্রাদেশিক মধ্যবিত্ত রাজনৈতিক স্বার্থ প্রতিনিধিত্ব করতো।
৫) জ্যাকোবিন (Jacobien) - এরা রাজতন্ত্র উচ্ছেদ, চার্চের সাংবিধানিক ক্ষমতা উচ্ছেদ চায়। ধনী-গরিবের বৈষম্য কমাতে চায়, সামাজিক ক্ষমতা ও স্ট্যাটাস কমিয়ে আনতে চায়। এরা চায় ফ্রান্স centrally organized radical republic এ ক্লাবের আরো বেশি র্যাডিকাল অংশটির নাম মন্টেগনার্ড (Montagnards)। এরা বিপ্লবের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ।
বিঃদ্রঃ কর্ডেলিয়ার্স (Cordeliers)- রা সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজতন্ত্র ও চার্চের ক্ষমতা বিলোপ এবং জনপ্রিয় সার্বভৌমত্ব (popular sovereignty) প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলো। এরা আম জনতার গণতন্ত্রের ধারণার দিকে বেশি ঝুঁকেছিলো এবং বিপ্লবের র্যাডিকাল অংশের (জ্যাকোবিন) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলো। এরা elite, royalist, aristocrat বিরোধী।
জাতীয় পরিষদে (national assembly) জিরোন্ডিনস, জ্যাকোবিন স্পীকারের বামদিকে, মারাইসরা মাঝখানে এবং মনার্কিয়ান-রয়ালিস্টরা বসত ডানদিকে। এখান থেকে বামপন্থী কথার উৎপত্তি। তাহলে বুঝা যাচ্ছে বামপন্থা (একটি umbrella term) মূলত একটি রাজনৈতিক অবস্থান। এর অধীনে নানান রকম রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে।
বিঃদ্রঃ ১) আধুনিক রাজনৈতিক অর্থে যারা প্রচলিত সামাজিক ক্ষমতা কাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধর্মের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে চায় এবং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে চায়—তাদের সাধারণভাবে বামপন্থী বলা হয়। এর ভেতরে বিভিন্ন ধারা আছে—কেউ উদার গণতান্ত্রিক বামপন্থী, কেউ সমাজতন্ত্রী/কমিউনিস্ট ধারা পর্যন্ত যায়। সমাজতন্ত্র (socialism) ও কমিউনিজম (communism) মূলত পরবর্তী ১৯শ শতকের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মতাদর্শ, যা বামপন্থার বিস্তৃত ঐতিহাসিক ধারার মধ্যে বিকশিত হয়েছে।
২) মনে রাখা দরকার ধর্ম এবং ধর্মের রাজনৈতিক দিক সম্পর্কযুক্ত হলেও এক বিষয় না। ধর্ম পালন অধিকার(rights) কিন্তু ধর্মের/ দ্বীনের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা (power capture/ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ) প্রসংগ আর অধিকার থাকে না। যেমন একটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাষ্ট্রে হিন্দুরা ধর্ম চর্চার অধিকার পেতে পারেন, কিন্তু রামরাজ্য নির্মাণের বিষয়টা ধর্ম সম্পৃক্ত হলেও অধিকার নয় বরং ক্ষমতার চ্যালেঞ্জ।
১) রয়ালিস্ট - এরা রাজতন্ত্র, চার্চের ক্ষমতা, পুরাতন অভিজাতদের (aristocracy) সামাজিক স্টাটাস ও heirarchy রক্ষার পক্ষে। এরা ধর্মের অথরিটির রাজনৈতিক ক্ষমতার পক্ষে। এরা far right। এরা চায় বিপ্লব থেমে যাক।
২) ফুয়েলান্তস (Feuillants) - এরা রাজতন্ত্র বিলোপের পক্ষে নয় তবে রাজতন্ত্র-চার্চ ক্ষমতা কমানোর পক্ষে। সাংবিধানিক রাজতন্ত্র চায় । এরা ডানপন্থী।
৩) মারাইস (marais) - মধ্যমপন্থী,দোদুল্যমান, এরা পরিস্থিতি বুঝে নিজেরদের রাজনৈতিক অবস্থান বদল করতো। এরা নির্দিষ্ট কোনো কঠোর ideological (মতাদর্শ) অবস্থানে ছিল না।
৪) জিরোন্ডিনস (girondins) - মধ্য-বামপন্থী উদারপন্থী (liberal republican) গোষ্ঠী। এরা রাজতন্ত্র উৎখাত ও প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা চায়, তবে তুলনামূলকভাবে র্যাডিকাল সামাজিক পরিবর্তনের বিরোধী ছিলো। এরা মূলত বুর্জোয়া ও প্রাদেশিক মধ্যবিত্ত রাজনৈতিক স্বার্থ প্রতিনিধিত্ব করতো।
৫) জ্যাকোবিন (Jacobien) - এরা রাজতন্ত্র উচ্ছেদ, চার্চের সাংবিধানিক ক্ষমতা উচ্ছেদ চায়। ধনী-গরিবের বৈষম্য কমাতে চায়, সামাজিক ক্ষমতা ও স্ট্যাটাস কমিয়ে আনতে চায়। এরা চায় ফ্রান্স centrally organized radical republic এ ক্লাবের আরো বেশি র্যাডিকাল অংশটির নাম মন্টেগনার্ড (Montagnards)। এরা বিপ্লবের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ।
বিঃদ্রঃ কর্ডেলিয়ার্স (Cordeliers)- রা সাধারণ জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, রাজতন্ত্র ও চার্চের ক্ষমতা বিলোপ এবং জনপ্রিয় সার্বভৌমত্ব (popular sovereignty) প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিলো। এরা আম জনতার গণতন্ত্রের ধারণার দিকে বেশি ঝুঁকেছিলো এবং বিপ্লবের র্যাডিকাল অংশের (জ্যাকোবিন) সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলো। এরা elite, royalist, aristocrat বিরোধী।
জাতীয় পরিষদে (national assembly) জিরোন্ডিনস, জ্যাকোবিন স্পীকারের বামদিকে, মারাইসরা মাঝখানে এবং মনার্কিয়ান-রয়ালিস্টরা বসত ডানদিকে। এখান থেকে বামপন্থী কথার উৎপত্তি। তাহলে বুঝা যাচ্ছে বামপন্থা (একটি umbrella term) মূলত একটি রাজনৈতিক অবস্থান। এর অধীনে নানান রকম রাজনৈতিক মতাদর্শ আছে।
বিঃদ্রঃ ১) আধুনিক রাজনৈতিক অর্থে যারা প্রচলিত সামাজিক ক্ষমতা কাঠামো, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ধর্মের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ কমাতে চায় এবং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে চায়—তাদের সাধারণভাবে বামপন্থী বলা হয়। এর ভেতরে বিভিন্ন ধারা আছে—কেউ উদার গণতান্ত্রিক বামপন্থী, কেউ সমাজতন্ত্রী/কমিউনিস্ট ধারা পর্যন্ত যায়। সমাজতন্ত্র (socialism) ও কমিউনিজম (communism) মূলত পরবর্তী ১৯শ শতকের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মতাদর্শ, যা বামপন্থার বিস্তৃত ঐতিহাসিক ধারার মধ্যে বিকশিত হয়েছে।
২) মনে রাখা দরকার ধর্ম এবং ধর্মের রাজনৈতিক দিক সম্পর্কযুক্ত হলেও এক বিষয় না। ধর্ম পালন অধিকার(rights) কিন্তু ধর্মের/ দ্বীনের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠা (power capture/ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ) প্রসংগ আর অধিকার থাকে না। যেমন একটি খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাষ্ট্রে হিন্দুরা ধর্ম চর্চার অধিকার পেতে পারেন, কিন্তু রামরাজ্য নির্মাণের বিষয়টা ধর্ম সম্পৃক্ত হলেও অধিকার নয় বরং ক্ষমতার চ্যালেঞ্জ।
4 মাস আগে
উত্তর দিয়েছেন
নাজমুল হাসান ফাহিম document.getElementById('answers-list')?.scrollIntoView({ behavior: 'smooth', block: 'start' }), 150)">
উত্তর দিন
উত্তর দিতে লগইন করুন